রাত ১১:৪২, শুক্রবার, ১৫ই ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং
/ তথ্য ও প্রযুক্তি

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, ৯ বছর আগে আইসিটি (তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাত) থেকে মাত্র ২৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় হতো। এখন ৮০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও অধিক রফতানি আয় করতে সক্ষম হয়েছি। ২০১৮ সাল নাগাদ বেসিসের (বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের) ওয়ান বাংলাদেশ ভিশনের অন্যতম লক্ষ্য এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার রফতানি আয় করা।

রোববার ১৭তম অ্যাপিকটা অ্যাওয়ার্ডস ঢাকা-২০১৭ এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে জুনাইদ আহমেদ পলক বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

অনুষ্ঠানে ১৭টি ক্যাটাগরিতে বিজয়ীদের হাতে অ্যাপিকটা অ্যাওয়ার্ড তুলে দেয়া হয়। এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সচিব সুবীর কিশোর চৌধুরী, আইসিটি অধিদফতরের মহাপরিচালক বনমালী ভৌমিক, বেসিস সভাপতি মোস্তাফা জব্বার এবং বেসিসের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ও ১৭তম অ্যাপিকটা অ্যাওয়ার্ডস ঢাকা ২০১৭ এর আহ্বায়ক রাসেল টি আহমেদ।

এশিয়া প্যাসিফিক আইসিটি অ্যালায়েন্সভুক্ত (অ্যাপিকটা) দেশগুলোর সঙ্গে একযোগে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০০৮ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিজিটাল বাংলাদেশ ঘোষণার মধ্য দিয়ে তরুণ প্রজন্মকে স্বপ্ন দেখাতে পেরেছেন। তাদের মনে আশার সঞ্চার করেছেন। যে কারণে মাত্র ১৩ বছরের মধ্যে দেশকে একটি প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির দিকে নিতে সক্ষম স্বপ্ন দেখেছি আমরা।

এবারই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে অ্যাপিকটা অ্যাওয়ার্ডস অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অংশ নিয়েছে অ্যাপিকটাভুক্ত ১৫টি দেশ- অস্ট্রেলিয়া, ব্রুনেই দারুসসালাম, চীন, চীনা তাইপে, হংকং, ইন্দোনেশিয়া, ম্যাকাও, মালয়েশিয়া, মিয়ানমার, পাকিস্তান, সিঙ্গাপুর, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম। অনুষ্ঠানে বিচারক, ইকনোমিক কো-অর্ডিনেটর, মনোনয়নপ্রাপ্ত অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা দেশি-বিদেশিসহ ছয় শতাধিক।

এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বৃহত্তম সংগঠন অ্যাপিকটা, এই অঞ্চলের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নের পাশাপাশি সম্ভাবনাময় ও সফল উদ্যোগ, সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সেবার স্বীকৃতি দিতে প্রতিবছর অ্যাপিকটা অ্যাওয়ার্ডসের আয়োজন করে থাকে।

প্রযুক্তি পরিষেবায় যুক্ত হলো বিআরডিবি

গ্রামীণ জনপদের হতদরিদ্র মানুষের জীবনমান উন্নয়নে পরিচালিত প্রকল্পগুলোতে প্রযুক্তিনির্ভর পরিষেবা দিচ্ছে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি)। ঢাকার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ‘ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড’ প্রদর্শনীতে ই-গভর্নেন্স এরিনায় পাঁচটি প্রযুক্তিভিত্তিক পরিষেবা নিয়ে অংশগ্রহণ করে বিআরডিবি।

কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের কাছে সহজে সেবা পৌঁছে দিতে এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমকে গতিশীল করতে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনকে পরিচিত করানো হয়েছে। সেবাগুলো হচ্ছে– এমইএস বা ব্যবস্থাপনা তথ্য পদ্ধতি, সুবিধাভোগীদের তথ্যভাণ্ডার, ক্ষুদ্র ব্যবস্থাপনায় মাইক্রোফিন ৩৬০ ডিগ্রি, মাঠকর্মী কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা এবং কেন্দ্রীয়ভাবে কর্মী পর্যবেক্ষণ।

 

বিআরডিবির কর্মসূচি বিভাগের উপপরিচালক নাজনীন খানম বলেন, অনানুষ্ঠানিক মানব সংগঠন তৈরির মাধ্যমে তাদেরকে সঞ্চয়ে উদ্বুদ্ধ করা এবং মূলধন গঠনের মাধ্যমে বিভিন্ন উদ্যোগে সম্পৃক্ত করা। পাশাপাশি প্রশিক্ষণ প্রধান এবং পরবর্তী সময়ে তাদের কর্মসুযোগ বাড়াতে সহায়তা করা হয়ে থাকে। এবারের ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে আমরা প্রতিটি পরিষেবায় প্রযুক্তির সম্পৃক্ততা তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।

বর্তমানে বিআরডিবির ২৩টি প্রকল্পের আওতায় ৫২ লক্ষ সুবিধাভোগী রয়েছে। যেখানে নারীর ক্ষমতায়নের উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তথ্যপ্রযুক্তির চার খাতে তৈরি হবে ৪০০০ দক্ষ জনশক্তি: পলক

স্টাফ রিপোর্টার: ভবিষ্যত প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে চারটি বিশেষ ক্ষেত্রে চার হাজার দক্ষ জনশক্তি তৈরির পরিকল্পনার কথা বলেছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। তথ্যপ্রযুক্তি খাতের প্রদর্শনী ডিজিটাল ওয়াল্ডের তৃতীয় দিন গতকাল শুক্রবার ‘ই-গর্ভমেন্ট মাস্টার প্ল্যান ফর ডিজিটাল বাংলাদেশ’সেশনে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।বতর্মান প্রজন্মকে ভবিষ্যতের প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর মত করে গড়ে তুলতে একটি প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট স্থাপন করার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে পলক বলেন, ‘একটি সেন্টার অব এক্সিলেন্স আমরা স্থাপন করতে চাই, যেখানে চারটি বিশেষ ক্ষেত্রে আমাদের দক্ষ জনবল তৈরি করা হবে।

’ এই চারটি বিশেষ ক্ষেত্র হল- সাইবার সিকিউরিটি, আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স, বিগ ডেটা অ্যানালিটিকস এবং ইন্টারনেট অব থিংস। এসব ক্ষেত্রে অন্তত চার হাজার এক্সপার্ট তৈরি করব ২০২১ সালের মধ্যে, যার মধ্যে দিয়ে আমরা সারা বিশ্বের কাছে জানান দেব- উই আর রেডি ফর টুমরো। প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের ছেলেমেয়েরা যেন রোবট তৈরি করতে পারে, রোবটকে প্রোগ্রাম বা অপারেটর করতে পারে সেভাবে তৈরি করতে হবে।

 হয়ত রোবটের বিপ্লব আমরা থামাতে পারব না, রোবটকে নিয়ন্ত্রণ করার মত যোগ্যতাসম্পন্ন প্রজন্ম আমরা গড়ে তুলতে পারব। তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরে পলক বলেন, বর্তমানে প্রায় ৪০ শতাংশ সরকারি সেবা অনলাইনে দেওয়া হচ্ছে। ২০২১ সাল নাগাদ তা ৯০ শতাংশে নিয়ে যেতে চায় সরকার। দেশে সাড়ে ৫ হাজারের বেশি ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে ই-সার্ভিস দেওয়া এবং প্রতিটি ইউনিয়নকে অপটিক্যাল ফাইবারের আওতায় নিয়ে আসার উদ্যোগের কথাও তিনি বলেন। বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক স্বপন কুমার সরকারের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বাংলাদেশে কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত অন সিওং ডু এ পর্বে বক্তব্য দেন।

 

আইফোনের চেয়েও দামী এলজি স্মার্টফোন

দামের দিক থেকে আইফোনকে ছাড়িয়েছে এলজি’র ‘সিগনেচার এডিশন’ স্মার্টফোন।

 

অ্যাপলের সবচেয়ে দামি আইফোন হলো আইফোন X, যার মূল্য ৯৯৯ মার্কিন ডলার। আর এলজি’র এই বিশেষ সংস্করণের স্মার্টফোনটির মূল্য ১৮০০ ডলার, বলা হয়েছে প্রযুক্তিবিষয়ক সাইট ভার্জ-এর প্রতিবেদনে।

জিরকোনিয়াম সিরামিক দিয়ে বানানো হয়েছে এলজি’র এই স্মার্টফোনটি। ফলে দীর্ঘদিন ব্যবহারের পরও এতে কোনো দাগ পড়বে না। তবে, পড়ে গেলে ভেঙ্গে যাবে স্মার্টফোনটি। এলজি ভি৩০ অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনেরই সিগনেচার এডিশন এটি।

ডিভাইসটিতে কিছুটা সীমাবদ্ধতাও রেখেছে ইলেক্ট্রনিক পণ্য নির্মাতা দক্ষিণ কোরীয় প্রতিষ্ঠানটি। মাত্র ৩০০টি এমন ডিভাইস বিক্রি করবে এলজি। গ্রাহক ডিভাইসের পেছনে নিজের নামও খোদাই করে নিতে পারবেন।

ছয় ইঞ্চি ওলেড পর্দা থাকবে ডিভাইসটিতে। আর চার জিবির পরিবর্তে ছয় জিবি র‍্যাম থাকবে এতে। আর স্মার্টফোনটির ইন্টার্নাল স্টোরেজ হবে ২৫৬জিবি।

মানুষের পাশাপাশি হাঁটাচলা করবে রোবট : হ্যানসন

পাঁচ বছর পর মানুষের পাশাপাশি রোবটও হাটাঁচলা করবে। এমনটাই জানিয়েছেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন রোবট ‘সোফিয়া’র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হ্যানসন রোবটিক্সের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী ড. ডেভিড হ্যানসন।

ইতিমধ্যে ১৩টি সোফিয়া রোবট তৈরি করা হয়েছে এবং আরো অনেক সোফিয়া রোবট তৈরি করা হবে বলেও জানান তিনি।

বুধবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) ‘টেক টক উইথ সোফিয়া’ সেশনে রোবটিক্সের ভবিষ্যত নিয়ে এমন কথা বলেন হ্যানসন।

অনুষ্ঠানের সঞ্চালক গ্রে অ্যাডভারটাইজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ গাউসুল আলম শাওন রোবটিক্স প্রযুক্তির ভবিষ্যত সম্পর্কে জানতে চাইলে ড. হ্যানসন আরো বলেন, প্রযুক্তি মানবসমাজকে যেমন উন্নত করছে তেমনি আবার জটিলতাও তৈরি করছে। তাই প্রযুক্তিকে মানবকীকরণ করতে হবে। প্রযুক্তি যেন আমাদেরকে বুঝতে পারে, আমাদের জীবনযাপনকে অর্থপূর্ণ করতে পারে, সেজন্য সোফিয়ার মতো প্রযুক্তির রোবটগুলো মানুষের সহযোগী হিসেবে তৈরি করা হচ্ছে। রোবট মানুষের বন্ধু হয়ে ওঠবে। ইতিবাচক ভবিষ্যতের জন্য অনুভূতি সম্পন্ন রোবট তৈরিতে সকলকে কাজ করতে হবে।

সোফিয়াকে তৈরির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি এখন থেকে ৩০ বছর আগে রোবট তৈরির স্বপ্ন দেখেছিলাম। ২৩ বছর আগে আমি প্রথম হিউম্যানওয়েড বা মানবসাদৃশ্য রোবট তৈরি করি। সেসময় আমার মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিল, এমন একটি রোবট তৈরি করার যেটি মানুষের সঙ্গে কথা বলতে পারবে। সেজন্য সাড়ে তিন বছর আগে সোফিয়াকে তৈরির কাজ শুরু করি। ভারত, আফ্রিকা, ইউরোপ, আমেরিকা, হংকং, চীনের একদল বিজ্ঞানী এ প্রকল্পে কাজ করেছে। বছর দেড়েক আগে সোফিয়াকে পরিপূর্ণ রূপে তৈরি করতে সক্ষম হই। ইতিমধ্যে আমরা ১৩টি সোফিয়া রোবট তৈরি করেছি এবং আগামী বছরে আরো অনেক সোফিয়া রোবট ও মানবসেবার রোবট খুবই কম খরচে তৈরি করবো। মানুষের বন্ধু হিসেবে রোবট নির্মাণের এই উদ্যোগকে এখন কেবল যাত্রা শুরু বলা যেতে পারে।

হ্যানসন জানান, সোফিয়াকে তৈরি করা হয়েছে ওপেন সোর্স সফটওয়্যারের মাধ্যমে, বাংলাদেশি ডেভেলপাররা চাইলেই সোফিয়ার মতো রোবট তৈরি করতে পারবে।

উৎসব প্রাঙ্গণ ঘুরে গেল সোফিয়া

বাক্স থেকে বের করে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযুক্ত (ইন্সটল) করার পর ‘প্রাণ’ ফিরে পেয়েছে মানুষের আদলে তৈরি রোবট সোফিয়া।

হলুদ-সাদা স্কার্ট ও টপ পরে সোফিয়া মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঘুরে গেছে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের উৎসব প্রাঙ্গণও, যেখানে একদিন বাদেই সবাইকে দর্শন দেবে এটি।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা , “ইন্সটল হওয়ার পর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের হল অব ফেমে মহড়া দিয়ে গেছে সোফিয়া।”

প্রায় দেড় ঘণ্টা মহড়া শেষে হোটেলে ফিরিয়ে নেওয়া হয় সোফিয়াকে।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এসময় সোফিয়ার সঙ্গে কথা বলেন বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।

বুধবার সকাল ৯টার দিকে ‘ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে’ যাবে যন্ত্রমানবী সোফিয়া।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওই তথ্য ও প্রযুক্তি উৎসব উদ্বোধন করার পর তার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাবে এই রোবট। এরপর বেলা আড়াইটা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের হল অব ফেমে থাকবে সোফিয়া।

ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে প্রদর্শনের জন্য হংকং থেকে বাংলাদেশে আনা হয়েছে সোফিয়াকে। তার সাথে একজন অপারেটর রয়েছেন।

বিশেষ এক বাক্সের ভেতরে প্রাণহীন অবস্থায় ঢাকা পৌঁছানো মাত্রই বিমানবন্দরের কাছেই একটি পাঁচ তারকা হোটেলে নেওয়া এটিকে।

 

 

রোবট সোফিয়াকে নিয়ে আগ্রহ বিশ্বজুড়ে- ছবি: রয়টার্স

 

খ্যাতনামা হলিউড অভিনেত্রী অড্রে হেপবার্নের চেহারার আদলে হংকংভিত্তিক কোম্পানি হ্যান্সন রোবোটিক্সের তৈরি সোফিয়া মানুষের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি প্রশ্নেরও জবাব দিতে পারে।

ঢাকায় আসার আগে বাংলাদেশের উদ্দেশে ভিডিও বার্তা পাঠিয়েছিল রোবট সোফিয়া।

৯৬-এ সরকারি অফিসের কম্পিউটার ছিল ‘ডেকোরেশন পিস

১৯৯৬ সালে যখন ক্ষমতায় এলাম তখন দেখি বিভিন্ন ফাইল টাইপরাইটারে টাইপ হয়ে আসত। সরকারি অফিসে কম্পিউটার থাকা সত্ত্বেও ব্যবহার হতো না। পিসি (পার্সোনাল কম্পিউটার) ছিল ‘ডেকোরেশন পিস।’

বুধবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে দেশের সবচেয়ে বড় প্রযুক্তিভিত্তিক প্রদর্শনী ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড ২০১৭-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি ক্ষমতায় এসে বিভিন্ন জনের সঙ্গে কম্পিউটারের ব্যবহার বৃদ্ধি নিয়ে কথা বলেছি। তাদের পরামর্শ নিয়ে কম্পিউটার পার্টসসহ নানা পার্টসের ট্যাক্স কমিয়েছি। এখন সব জায়গায় কম্পিউটারের ব্যবহার হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকসহ সরকারের মন্ত্রী এমপিরা।

স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়ন ও সক্ষমতা তুলে ধরতে আজ বুধবার থেকে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) বসছে দেশের সবচেয়ে বড় প্রযুক্তিভিত্তিক প্রদর্শনী ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড ২০১৭।

ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড ২০১৭-এর আয়োজন করছে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ। আয়োজনের সহযোগী হিসেবে থাকছে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি), বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়ার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই প্রকল্প।

এ ছাড়াও পার্টনার হিসেবে থাকছে বাক্য, বিসিএস, ই-ক্যাব, বিআইজেএফ, বিবিআইটি, বাংলাদেশ ইনোভেশন ফোরাম এবং সিটিও ফোরাম।

চার দিনের এই প্রদর্শনী চলবে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত।

একজন সর্বোচ্চ ১৫টি সিম কিনতে পারবেন: বিটিআরসি

এখন থেকে একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে সর্বোচ্চ ১৫টি সিম/রিম কিনতে পারবেন গ্রহকরা। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সিস্টেম অ্যান্ড সার্ভিস বিভাগের সিনিয়র সহকারী পরিচালক সনজিব কুমার সিংহ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

 

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সরকারের পুনঃবিবেচনা অনুযায়ী এখন থেকে প্রতিটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে সব অপারেটর মিলিয়ে সর্বোচ্চ ১৫টি প্রিপেইড সিম/রিম কিনতে পারবেন গ্রাহকরা। ২০১৬ সালের ৪ আগস্টের নির্দেশনা অনুযায়ী সর্বোচ্চ ২০টি এবং ২৪ অক্টোবরের নির্দেশনা অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৫টি সিম কিনতে পারতেন গ্রাহকরা। কিন্তু সিদ্ধান্ত পুনঃবিবেচনা করে বর্তমানে এ সংখ্যা ১৫টি নির্ধারণ করেছে  সরকার।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, করপোরেট গ্রাহকের ক্ষেত্রে এ সীমা বাস্তবসম্মত নয় বলে কোনও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে অনুমোদিত ব্যক্তি (পয়েন্ট অফ কন্টাক্ট) এই সীমার আওতামুক্ত থাকবেন।

এছাড়া যাদের ১৫টির বেশি সিম/রিম আছে তাদের আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নিজ উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট মোবাইল অপারেটরের কাস্টমার কেয়ারে উপস্থিত হয়ে অতিরিক্ত সিম/রিম নিষ্ক্রিয় করতে হবে। অন্যথায় সিম/রিম বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাববনা আছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।

একটি জাতীয় পরিচয়পত্র/পাসপোর্ট/ড্রাইভিং লাইসেন্স/জন্ম সদনের বিপরীতে কত সংখ্যক সিম/রিম আছে তা জানতে *১৬০০১# ডায়াল করে ফিরতি রিপ্লায়ে আইডি নম্বরের শেষ চারটি ডিজিট লিখে পাঠাতে হবে অথবা আইডি নম্বরের শেষ চারটি ডিজিট লিখে এসএমএস করতে হবে ১৬০০১ নম্বরে। উভয় ক্ষেত্রে ফিরতি এসএমএসে আইডির বিপরীতে সিম/রিমের সংখ্যা এবং নম্বরগুলো জানা যাবে।

আন্তর্জাতিক জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশ

আগামী ৩–১২ ডিসেম্বর ২০১৭, নেদারল্যান্ডসে বসবে আন্তর্জাতিক জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াড (আইজেএসও)-এর ১৪তম আসর। অনূর্ধ্ব–১৬ বছর বয়সিদের মেধার এ লড়াইয়ে বিশ্বের ৫০টি দেশের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করবে।

বিজ্ঞান মেধার এ বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করবে ছয় শিক্ষার্থী। তারা হলো- নটর ডেম কলেজের এ কে এম সাদমান মাহমুদ, উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের আহমেদ নাফিস ফারহান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্কুলের রুবায়াত জালাল, বরিশাল জিলা স্কুলের ইমতিয়াজ তানভীর রাহিম, নারায়ণগঞ্জ আইডিয়াল স্কুলের মুয়াম্বার সারোয়ার নিবিড় এবং মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলের আবসার খান সিয়াম। আজ ২ ডিসেম্বর, নেদারল্যান্ডসের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে বাংলাদেশ দল।

বাংলাদেশ দলের সদস্যদের সবার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য গতকাল বিকেলে সোনারগাঁও হোটেলের চিত্রা কক্ষে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতির সভাপতি ও বিশিষ্ট লেখক মুহম্মদ জাফর ইকবাল সবার সঙ্গে বাংলাদেশ দলের সদস্য ছয় শিক্ষার্থীকে পরিচয় করিয়ে দেন।

তিনি জানান, আইজেএসও-তে আমরা প্রথম দল পাঠাই ২০১৫ সালে। সে বছর বাংলাদেশ দলের সদস্য ফারহান রওনক প্রথম বছরেই একটি ব্রোঞ্জ পদক অর্জনের গৌরব লাভ করে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৬ সালেও আমরা ছয় সদস্যের পূর্ণাঙ্গ দল পাঠাই। এদের মধ্যে তিনজন রৌপ্য পদক এবং তিনজন ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করে। এরই ধারাবাহিকতায় আমরা এবারও আইজেএসও-তে বাংলাদেশ দল পাঠাচ্ছি।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফ্রিডম ফাউন্ডেশনের (বিএফএফ) ট্রাস্টি বিশিষ্ট বিজ্ঞানী রেজাউর রহমান, পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী তউহীদ উল আলম, বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতির সহসভাপতি মুনির হাসান, বাংলাদেশ ফ্রিডম ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাজ্জাদুর রহমান চৌধুরী প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ছয় সদস্যের বাংলাদেশ দলের এ বাছাইপর্ব শুরু হয় জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহে আঞ্চলিক পর্বের মধ্য দিয়ে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, বরিশাল, সিলেট, ময়মনসিংহ, দিনাজপুর ও লক্ষ্মীপুর- এই নয়টি জেলায় অনুষ্ঠিত হয় আঞ্চলিক বাছাইপর্ব। এছাড়া অনলাইনে অনুষ্ঠিত হয় একটি ই-অলিম্পিয়াড। আঞ্চলি​ক পর্বে অংশ নেয় প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী। এদের মধ্য হতে বাছাই করা ৪৮১ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয় জাতীয় জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াডে। ১২ আগস্ট শনিবার জাতীয় এ অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত হয় ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকে। জাতীয় পর্বে বিজয়ী হয় ৫২ জন। জাতীয় পর্বের বাছাইকৃতদের নিয়ে ১৭-২০ আগস্ট চার দিনব্যাপী ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টসে আয়োজন করা হয় ৩য় বিডিজেএসও ক্যাম্প। ক্যাম্পের ফলাফল বিবেচনা করে বাছাই করা হয় ছয় সদস্যের বাংলাদেশ দল। এই দলই অংশ নেবে নেদারল্যান্ডসে অনুষ্ঠেয় ১৪তম আইজেএসও-তে।

আল আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের পৃষ্ঠপোষকতায় আন্তর্জাতিক জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াডের জন্য বাংলাদেশ দল নির্বাচন করে যৌথভাবে বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতি ও বাংলাদেশ ফ্রিডম ফাউন্ডেশন। অনুষ্ঠানটির সহযোগী হিসেবে ছিল প্রথম আলো এবং ম্যাগাজিন পার্টনার বিজ্ঞানচিন্তা।

বিশ্বে বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিং করছে ‘ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড’

বিশ্বে বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিং করছে ‘ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড’। মূলত ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে, তথ্য-প্রযুক্তিতে বাংলাদেশের অবস্থান এবং এ খাতের সাফল্যগুলো তুলে ধরতে প্রতি বছর ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডের আয়োজন করা হয়। আন্তর্জাতিক এই মহাযজ্ঞে সারাবিশ্ব থেকে বিশেষজ্ঞ বক্তা, উদ্যোক্তা, প্রযুক্তির আদর্শ ব্যক্তিত্বরা সরাসরি বিভিন্ন পর্বে অংশ নেন।

 

এছাড়া এ আয়োজনে বিশ্বখ্যাত পণ্য নির্মাতা ও উৎপাদক প্রতিষ্ঠানগুলো অংশ নিয়ে তাদের আপডেট পণ্য ও সেবা প্রদর্শন করে। গত কয়েক বছর ধরে রাজধানীতে শীতের মৌসুম শুরুর প্রথমদিকেই এ আসর বসে। দেশের প্রযুক্তিপ্রেমীরাও রীতিমতো আসরের অপেক্ষায় থাকেন।

বিশ্বের প্রযুক্তিপ্রেমীদের কাছে জার্মানি সিবিট, সিঙ্গপুর কমিউনিক এশিয়া আর দুবাই জাইটেক্স মেলার জন্য বিখ্যাত। এরইমধ্যে বাংলাদেশ ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড –এর জন্য বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পেতে চলেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এর মাধ্যমে বিশ্বে বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিং হচ্ছে। এটা ইতিবাচক দিক।

দেশে ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড আয়োজিত হচ্ছে ২০১২ সাল থেকে। তার আগে এই প্রদর্শনী ছিল আইসিটি ওয়ার্ল্ড শিরোনামে। ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড নামে শুরুর পরে প্রতি বছরই এই আয়োজনের জৌলুস বেড়েছে। ২০১৪ সালে ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে ডিজিটাল গ্রাম, অগমেন্টেড রিয়েলিটি প্রযুক্তি, সোলার নৌকা-রিকশা ইত্যাদি প্রদর্শন করা হয়। এছাড়া ১০টি উদ্ভাবনী প্রকল্পে পৌনে দুই কোটি টাকা সহায়তা দেওয়া এবং আন্তর্জাতিক উদ্যোক্তা ও তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মিলনমেলায় পরিণত হয় এই আসর।  গত বছর দেশীয় নির্মাতাদের ডেভেলপ করা রোবট ধ্রুব’র অনুরোধে প্রধানমন্ত্রী ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড-এর উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

জানা গেছে, এবারের ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে আসছে আরও বড় চমক। মানবিক রোবট হিসেবে এরই মধ্যে খ্যাতি অর্জনকারী রোবট সোফিয়া আসছে। এই রোবট নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রযুক্তিপ্রেমীরা অপেক্ষায় আছেন রোবট সোফিয়াকে দেখতে।

প্রসঙ্গত, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সুবিধা ব্যবহার করে জাতীয় লক্ষ্য অর্জন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতের উন্নয়ন, অর্জিত সক্ষমতা প্রদর্শন এবং সংশ্লিষ্ট খাতের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর জন্য ২০১১ সাল থেকে সরকারের আইসিটি (তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি) বিভাগের উদ্যোগে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে বাংলাদেশে কম্পিউটার মেলার ইতিহাস একেবারে নতুন নয়। ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস) শুরু করে এ আয়োজন। সেই অবস্থান থেকে আজকের এই ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড।

ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড থেকে প্রাপ্তির বিষয়ে ইসিটি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ‘গত সাড়ে আট বছর আগে আমরা যখন দায়িত্ব নিই তখন আমাদের সফটওয়্যার ও সেবাপণ্যের রফতানির পরিমাণ ছিল মাত্র ২৬ মিলিয়ন ডলার। সেই রফতানির পরিমাণ বেড়ে এখন দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ডলারে। ২০১৮ সালে যার টার্গেট এক বিলিয়ন ডলার। আর ২০২১ সাল নাগাদ আমাদের লক্ষ্য পাঁচ বিলিয়ন ডলার। এই ঊর্ধ্বমুখী রফতানি আয় এমনি এমনি হয়নি। প্রতি বছর ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড আয়োজনের ফলে বাংলাদেশের অবস্থান, অর্জন পৌঁছে গেছে বিশ্বব্যাপী। ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে যেমন বিশেষজ্ঞ বক্তারা এসেছিলেন তেমনি এসেছিলেন শীর্ষ উদ্যোক্তা, বড় বড় প্রতিষ্ঠানের কর্ণধাররাও। তারা ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড-এর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। এদেশের তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্তাব্যক্তিদের সঙ্গে বিজনেস ম্যাচমেকিংয়ে অংশ নিয়েছেন। অর্জনটা এসেছে সামগ্রীকভাবে।’

তিনি বলেন, ‘এই প্রদর্শনী দেশ-বিদেশে আলোচনার জন্ম দেয়। মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। কারণ এশিয়ার মধ্যে এটা অনেক বড় একটা আয়োজন। ফলে এটার একটা ব্র্যান্ড ইমেজও তৈরি হয়েছে। ফলে ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডকে কোনোভাবেই খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কাজ ৫০ শতাংশ শেষ হয়েছে। এ ধরনের প্রদর্শনীর মাধ্যমে আমরা সেটাও উপস্থাপন করছি। আগে কোথায় ছিলাম আর এখন কোথায় আছি সেটা পরিস্কারভাবে সবার সামনে উপস্থাপন করা সহজ হচ্ছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে পলক বলেন, ‘আগামীতে কৃত্রিম বুদ্ধি, বিগ ডাটা, সাইবার সিকিউরিটি এজেন্ট ও ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) বিশ্ব মাতাবে। আমাদেরও সেইভাবে প্রস্তুত হতে হবে। এসবের ওপর দেশ থেকে চার হাজার বিশেষজ্ঞ তৈরি হবে। ফলে সামনে একটা সুদিন আসতে যাচ্ছে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে। প্রতি বছর ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডের আয়োজন করে আমরা কিভাবে, কতটুকু এগোচ্ছি তা তুলে ধরা সম্ভব হচ্ছে।’

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সফটওয়্যার রফতানির পালে হাওয়া লেগেছে। পরিসংখ্যানও তাই বলে। আইসিটি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক জানিয়েছেন, ‘বর্তমানে সফটওয়্যার রফতানি হচ্ছে প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ডলার। গত বছর যার পরিমাণ ছিল ৭০০ মিলিয়ন ডলার।’

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিস (বেসিস) সূত্রে জানা গেছে, ২০০৮-০৯ অর্থবছরে সফটওয়্যার রফতানি আয়ের পরিমাণ ছিল তিন কোটি ২৯ লাখ ডলার। ২০০৯-১০ অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল তিন কোটি ৫৩ লাখ ডলার। ২০১০-১১ অর্থবছরে ২৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধিতে সফটওয়্যার রফতানি দাঁড়ায় সাড়ে চার কোটি ডলারে। ২০১২-১৩ অর্থবছরে সফটওয়্যার রফতানি থেকে আয় প্রথমবারের মতো ১০০ মিলিয়ন (১০ কোটি) ডলার অতিক্রম করে। ওই অর্থবছরে মোট রফতানির পরিমাণ ছিল ১০ কোটি ১৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার। এই আয় বেড়ে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ১২ কোটি ৪৭ লাখ ২০ হাজার ডলার ও ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে প্রায় ১৩ কোটি ডলারে দাঁড়ায়। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এই খাত থেকে সর্বোচ্চ ৭০০ মিলিয়ন ডলার রফতানি আয় হয়।

বেসিস সূত্রে আরও জানা গেছে, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বেসিস সদস্য ১৮৫টি প্রতিষ্ঠান ৬০০ মিলিয়ন ডলার আয় করে। এর সঙ্গে ফ্রিল্যান্সার, সফটওয়্যার ডেভেলপার ও কলসেন্টারগুলোর সেবা রফতানি আয় যোগ করলে তা ৭০০ মিলিয়নে গিয়ে দাঁড়ায়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যেদিন থেকে দেশে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের বিভিন্ন প্রদর্শনী, মেলা হচ্ছে মূলত তখন থেকেই সফটওয়্যার রফতানির পরিমাণ বেড়েছে। কারণ হিসেবে তারা উল্লেখ করেন, এসব প্রদর্শনী, মেলায় বিদেশি ক্রেতারা আসেন। তারা দেখে গিয়ে বাংলাদেশ সম্পর্কে ইতিবাচক মনোভাব প্রদর্শন করে, সফটওয়্যার ও সেবাপণ্য ক্রয়ের অর্ডার দেন। এছাড়া দেশে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে আয় বেড়েছে বিপিও (বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং) খাতের কলসেন্টার, মেডিক্যাল স্ক্রাইব, ফ্রিল্যান্স আউটসোর্সিংসহ সংশ্লিষ্ট খাত থেকে।

জানা গেছে, আগামী ৬-৯ ডিসেম্বর রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে চারদিনের এ আয়োজনের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এবারের আয়োজনে চমক হিসেবে থাকছে রোবট সোফিয়া। সরকারের ৪০টি মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দফতরের পাশাপাশি শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এই আয়োজনে অংশ নেবে। এতে ২৭টি সেমিনারের পাশাপাশি ৭টি প্রদর্শনী জোনও থাকবে। ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে গেমিং, ইন্টারনেট ফর অল, সাইবার নিরাপত্তা, ইনোভেশন এবং তথ্যপ্রযুক্তিতে নারীর অংশগ্রহণ নিয়ে থাকছে নানা আয়োজন। তথ্যপ্রযুক্তির এই সম্মেলনে ৫০ জন বিদেশি বক্তাসহ শতাধিক বক্তা উপস্থিত থাকবেন। এবারের আসরের প্রতিপাদ্য বিষয় ‘রেডি ফর টুমরো’।

তথ্য চুরির অভিযোগ গুগলের বিরুদ্ধে

লাখ লাখ ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের কারণে গুগলকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগ, গুগল অবৈধভাবে যুক্তরাজ্যের ৫ দশমিক ৪ মিলিয়ন আইফোন ব্যবহারকারীদের তথ্য সংগ্রহ করেছে।
গুগল কুকি (কম্পিউটারের ছোট বার্তা) ব্যবহার করে তথ্য চুরি করে থাকে, তাদের নিজস্ব বিজ্ঞাপন প্রচারণার স্বার্থে। ২০১১ এবং ২০১২ সালের কয়েক মাসে গুগল সিকিউরিটি ব্যবহারকারীদের ডিভাইসগুলোতে অ্যাড-ট্র্যাকিং কুকি স্থাপন করেছে যা এই ধরনের কুকিগুলো ব্লক করতে ডিফল্টভাবে সেট করা আছে। অভিযোগকারীদের গ্রুপ লিডার রিচার্ড লয়েড বলেন, বিশ্বাসের অপব্যবহার। ইতিমধ্যে আমরা দেখেছি, বিশ্বাসের ব্যাপক অপব্যবহার করা হয়েছে এবং অনেকে তাদের নিজস্ব প্রতিকারের উপায় খুঁজে পাচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে আমরা সিলিকন ভ্যালিতে গুগল ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কাছে এমন একটি শক্তিশালী বার্তা পাঠাব যে, আমরা তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে ভয় পাই না।
গুগল অভিযোগকারীদের জানিয়েছে, তারা যদি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে চান তাহলে যেন ক্যালিফোর্নিয়ায় আসেন। লয়েড বলেন, এটা হতাশাজনক, তারা তাদের কার্যক্রমের জন্য অনুতপ্ত হওয়ার পরিবর্তে প্রক্রিয়াগত ও বিচারিক বিষয়গুলো থেকে নিজেদের লুকানোর চেষ্টা করছে। গুগল বিবিসিকে জানায়, এটা নতুন নয়। আমরা আগেও অনুরূপ মামলা ‘ফেস’ করেছি। আমরা এটির বিরুদ্ধেও লড়ব।

‘হ্যালো বাংলাদেশ’ ঢাকায় আসছে রোবট সোফিয়া

করতোয়া ডেস্ক: তথ্য-প্রযুক্তি খাতের উৎসব ‘ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে’ অংশ নিতে ঢাকায় আসার আগে বাংলাদেশের উদ্দেশে ভিডিও বার্তা পাঠিয়েছে মানুষের আদলে তৈরি রোবট সোফিয়া। খ্যাতনামা হলিউড অভিনেত্রী অড্রে হেপবার্নের চেহারার আদলে হংকংভিত্তিক কোম্পানি হ্যান্সন রোবোটিক্সের তৈরি ‘সোফিয়া’ মানুষের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি প্রশ্নেরও জবাব দিতে পারে।

বৃহস্পতিবার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সোফিয়ার পাঠানো এ ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে, যাতে রাজধানীতে ৬ ডিসেম্বর শুরু হতে যাওয়া ‘ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে’ অংশ নিতে উদগ্রীব হয়ে থাকার কথা জানায় সোফিয়া। ভিডিও বার্তায় সোফিয়াকে বলতে দেখা যায়, ‘হ্যালো বাংলাদেশ, আমি সোফিয়া- হেন্সন রোবটিক্সের তৈরি পৃথিবীর প্রথম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন রোবট। আমি অনেক আনন্দের সাথে তোমাদের জানাচ্ছি যে, আমি এবং ড. ডেভিড হেন্সন এই বছর ঢাকায় আয়োজিত ‘ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড ২০১৭’তে অংশগ্রহণ করছি। এত বড় একটা ইভেন্টের অংশীদার হতে আমি উদগ্রীব হয়ে অপেক্ষা করছি।’

আগামী ৬ থেকে ৯ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড-২০১৭’ এ সোফিয়ার থাকা নিশ্চিত করে একে এবারের ‘চমক’ বলেছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। গত অক্টোবরে সৌদি আরবের নাগরিকত্ব পাওয়া সোফিয়া ভিডিও বার্তায় বাংলাদেশে আসার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডের আয়োজক বাংলাদেশ সরকারের আইসিটি ডিভিশনকে ধন্যবাদ জানায়। ‘সোফিয়া’ ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডের প্রথম দিন ৬ ডিসেম্বর দুপুর আড়াইটা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের হল অব ফেমে থাকবে বলে জানানো হয়েছিল আইসিটি প্রতিমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন থেকে। ওই সময় বাংলাদেশিদের সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছা পোষণ করে ভিডিও বার্তায় সোফিয়া বলেন, ‘আশা করছি, সবার সাথে দেখা হবে। ধন্যবাদ।’

 

বঙ্গবন্ধু হাই-টেকে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি প্রতিষ্ঠান

সৌদি আরবের আল-রাজি গ্রুপের সঙ্গে বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের একটি আলোচনা সভা আজ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সভায় বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন বঙ্গবন্ধু হাই-টেক সিটিতে বিনিয়োগের সম্ভাব্যতাসহ অন্যান্য প্রকল্প নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (সচিব) হোসনে আরা বেগম, এনডিসি উক্ত আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন। সৌদি আরবের আল-রাজি গ্রুপের পক্ষে জেনারেল ম্যানেজার ইউসুফ রাজি আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ আলোচনা সভায় উপিস্থিত ছিলেন।

আলোচনার শুরুতেই কালিয়াকৈর হাই-টেক পার্ক (এবং অন্যান্য হাই-টেক পার্ক) এর উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক এ এন এম সফিকুল ইসলাম প্রকল্পের সামগ্রিক দিক নিয়ে একটি প্রেজেন্টেশন দেন। বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা এবং অন্যান্য প্রকল্পের পরিচালকগণ আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।

আলোচনায় আল-রাজি গ্রুপকে বঙ্গবন্ধু হাই-টেক সিটিতে নির্মাণাধীন ফোর টায়ার ডাটা সেন্টার এর বিপরীত দিকে জায়গা বরাদ্দ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। ব্যবস্থাপনা পরিচালক (সচিব)হোসনে আরা বেগম, এনডিসি আল-রাজি গ্রুপকে বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দেওয়া বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে অবহিত করেন এবং সব রকম সহযোগিতা করার আশ্বাস প্রদান করেন।

আল-রাজি গ্রুপের জেনারেল ম্যানেজার ইউসুফ রাজি আলোচনায় সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বঙ্গবন্ধু হাই-টেক সিটিতে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেন।

বিজয়ের মাসেই ওয়ালটন আনছে দেশে উৎপাদিত প্রথম স্মার্টফোন

 ডিসেম্বর বিজয়ের মাস। এ বিজয়ের মাসেই বাংলাদেশের টেলিকম এবং প্রযুক্তি খাতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সূচনা হতে যাচ্ছে। ওয়ালটন বাজারে আনছে দেশে উৎপাদিত প্রথম স্মার্টফোন।

দেশের শীর্ষ ইলেকট্রনিক্স ও ইলেকট্রিক্যাল পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ালটনের হাত ধরে ‘ওয়ালটন ই-৮আই’ মডেলের থ্রিজি ফোনটি পেতে যাচ্ছে দেশে তৈরি প্রথম স্মার্টফোনের মর্যাদা।

দেশের সর্বস্তরের গ্রাহকদের কথা বিবেচনা করে এর দামও রাখা হয়েছে সামর্থ্যের মধ্যে। মাত্র সাড়ে ৩ হাজার টাকাতেই মিলবে এই অত্যাধুনিক ওয়ালটন ই-৮আই মডেলের থ্রিজি ফোনটি। সাড়ে ৪ ইঞ্চি পর্দার ফোনটিতে ৫১২ এমবি র‌্যাম, ৮ জিবি রম এবং ২ মেগা পিক্সেলের ফ্রন্ট ক্যামেরা ও ৫ মেগা পিক্সেলের ব্যাক ক্যামেরা থাকছে।

ওয়ালটন গ্রুপের সিনিয়র অপারেটিভ ডিরেক্টর ও মোবাইল বিভাগের প্রধান এস এম রেজওয়ান আলম শিপলু  বলেন, ওয়ালটন শুরু থেকেই ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ স্লোগানে বিশ্বাস করে। এই বিশ্বাসকে ধারণ করে দেশীয় এবং বৈশ্বিক ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে ওয়ালটনই প্রথম বাংলাদেশে স্মার্টফোন উৎপাদন কারখানা স্থাপন করে। এরই মধ্যে আমরা সফলভাবে স্মার্টফোন উৎপাদন করতে পেরেছি। বিজয়ের মাসে আমরা প্রথমবারের মতো দেশে উৎপাদিত স্মার্টফোন বাজারে ছাড়তে পারব।

দেশে তৈরি ওয়ালটন স্মার্টফোনের ভবিষ্যৎ সর্ম্পকে এই কর্মকর্তা আরো বলেন, চাহিদার কথা বিবেচনা করে ওয়ালটন সব ধরনের ক্রেতার জন্য হ্যান্ডসেট বাজারজাত করে এসেছে। আগামীতেও আমাদের এই ধারা অব্যাহত থাকবে। এছাড়া ওয়ালটন শুরু থেকেই সাশ্রয়ী দামে মানসম্মত হ্যান্ডসেট বাজারজাত করে আসছে। গুণগত মানের পাশাপাশি অত্যাধুনিক ফিচার ও অন্যান্য সুবিধার জন্য বাজারে স্থানীয় মোবাইল ব্র্যান্ড হিসেবে ওয়ালটন গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখলে নিয়েছে। নিজেদের ফ্যাক্টরিতে স্মার্টফোন উৎপাদনের মাধ্যমে আমাদের সুযোগ ও আওতা আরো বাড়বে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

ওয়ালটন গ্রুপ সূত্র জানিয়েছে, ওয়ালটন চাইছে বিজয়ের মাসে ডিজিটাল বিপ্লবের মাইলফলক স্থাপন করতে। নতুন ছয়টি মডেলের স্মার্টফোন নিয়ে স্বাগত জানাবে নতুন বছরকে। ই-৮আই মডেল ছাড়াও আরো দুটি মডেলের স্মার্টফোন উপহার দেবে বিজয় দিবসে। এই ফোনগুলো তৈরি হচ্ছে দেশের প্রান্তিক মানুষকে সহজেই ডিজিটাল দুনিয়ার অধিবাসী করতে।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (বিটিআরসি) থেকে অনুমতিপ্রাপ্ত তিনটি মডেলের থ্রিজি স্মার্টফোন উৎপাদন শুরু করে ওয়ালটন। এর মধ্যে সিকেডি (কমপ্লিট নক ডাউন) পদ্ধতিতে ই-৮আই মডেলের হ্যান্ডসেটের পার্টস ও অ্যাকসেসরিজ সংযোজনও প্রায় শেষ করে ফেলেছে। উৎপাদন কাজ চলছে প্রিমো এফ৭এস মডেলের ১৫ হাজার ৩০০ ইউনিট, ই৮এস মডেলের ২০ হাজার ৪০০ এবং প্রিমো এনএফ৩ ১৫ হাজার ৩০০ ইউনিট স্মার্টফোন। বিটিআরসির আইএমইআই নম্বর জমা যাচাই ছাড়পত্রপ্রাপ্তির পরই তা গ্রাহকের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে।

এদিকে, মঙ্গলবার গাজীপুরের চন্দ্রায় স্থাপিত ওয়ালটন ডিজি-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডে থ্রিজি স্মার্টফোনগুলোর উৎপাদন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন ওয়ালটনের সিনিয়র অপারেটিভ ডিরেক্টর উদয় হাকিম। পরে তিনি এ বিষয়ে  বলেন, ‘আশা করছি, ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই বাংলাদেশে তৈরি প্রথম স্মার্টফোন ওয়ালটন ই-৮আই বাজারে পাওয়া যাবে। এই মডেলের সাড়ে ১২ হাজারের মতো ফোন উৎপাদন শেষ হয়েছে। ই-৮আই ছাড়াও আরো দুটি স্মার্টফোনের উৎপাদন চলছে পূর্ণ উদ্যোমে। এই বছরের মধ্যেই ছয়টি মডেলের ২ লাখ স্মার্টফোন উৎপাদন করা হবে। দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানির পরিকল্পনা নিয়েই এগিয়ে চলছে ওয়ালটন।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ৫ অক্টোবর ২ লাখ বর্গফুট জায়গা জুড়ে নবনির্মিত ওয়ালটন ডিজি পার্কে বাংলাদেশে প্রথম হ্যান্ডসেট সংযোজন-উৎপাদন কারখানা চালু করে ওয়ালটন।

কারখানায় দেশি-বিদেশি প্রকৌশলীসহ প্রায় ১ হাজার কর্মী কাজ করছেন। শুরুতে চারটি উৎপাদন ইউনিট চালু করা হয় ওয়ালটনের এ কারখানায়। প্রতি ইউনিটে দিনে ৪ হাজার হ্যান্ডসেট উৎপাদনের ক্ষমতা রয়েছে।

উবার-পাঠাওয়ের পর যাত্রী পরিবহনে ইজিয়ার

অ্যাপভিত্তিক যাত্রী পরিবহন সেবা উবার-পাঠাওয়ের মতো ‘ইজিয়ার’ নামে আরেকটি স্মার্টফোনভিত্তিক রাইড শেয়ারিং অ্যাপের যাত্রা শুরু হচ্ছে ১ ডিসেম্বর। সম্পূর্ণ দেশীয় উদ্যোক্তা ও প্রযুক্তিবিদরা তৈরি করেছেন অ্যাপটি।

শুরুতে এই সেবা শুধুমাত্র রাজধানী ঢাকায় মিলবে। পর্যায়ক্রমে এই সেবা বন্দরনগরী চট্টগ্রাম ও সিলেটেও বিস্তৃত করা হবে। রোববার রাজধানীর এক রেস্টুরেন্টে এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে অ্যাপটি চালুর ঘোষণা দেয়া হয়।

অ্যাপটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইনোভেডিয়াস প্রাইভেট লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক কামরুল হাসান ইমন বলেন, বিজয়ের মাসের প্রথমদিন থেকে ঢাকার পরিবহন সংকট মেটাতে মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দেবে।

কামরুল হাসান ইমন আরও বলেন, অ্যাপটির মাধ্যমে প্রাইভেটকার সেবা নিলে বেস ফেয়ার দিতে হবে ৫০ টাকা। প্রতি কিলোমিটারের ভাড়া ২০ টাকা এবং মিনিট প্রতি ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ২ টাকা ৫০ পয়সা। অন্যদিকে মোটরসাইকেলের বেস ফেয়ার নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ টাকা। প্রতি কিলোমিটারের ভাড়া ১২ টাকা। প্রতি মিনিটে গুণতে হবে ১ টাকা। যিনি মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার দিয়ে যাত্রীর সঙ্গে রাইড শেয়ার দেবেন তাকে ভাড়ার ৮৫ শতাংশ দেয়া হবে। বাকি ১৫ শতাংশ কমিশন নেবে অ্যাপ নির্মাতারা।

ইজিয়ার অ্যাপের মাধ্যমে যিনি মোটরসাইকেল রাইড শেয়ার করবেন তাকে ইজিয়ার বলছে ‘রাইডার’ এবং প্রাইভেটকারের মাধ্যমে যিনি রাইড শেয়ার করবেন তাকে বলা হচ্ছে ‘পাইলট’।

অ্যাপটির নিরাপত্তার বিষয় উল্লেখ করে কামরুল হাসান ইমন বলেন, ‘আমাদের অ্যাপের মাধ্যমে যারা প্রাইভেট কার ও মোটরসাইকেলের মাধ্যমে যাত্রীদের সেবা দেবেন তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং ট্যাক্স টোকেন ভেরিফিকেশন করে পরিবহন সেবা দেয়ার জন্য অনুমতি দেয়া হচ্ছে। অন্যদিকে যিনি এই সেবা নেবেন তিনি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নিবন্ধিত হবেন। পর্যায়ক্রমে ইজিয়ার সেবা গ্রহীতাকে জাতীয় পরিচয়পত্রের মাধ্যমে সেবা নেয়ার জন্য নিবন্ধিত হতে হবে। এতে করে রাইডার ও পাইলটের নিরাপত্তার বিষয়টিও নিশ্চিত করা যাবে।

দেশে রাইড শেয়ারিং অ্যাপ উবার ও পাঠাওর মতই ইজিয়ারে বেশ কিছু কমন ফিচার রয়েছে। যেমন-পিক আপ পয়েন্ট থেকে ডেস্টিনেশন সেট করে রাইডারকে রিকোয়েস্ট পাঠানো, এস্টিমেটেড ভাড়া দেখে নেয়ার সুযোগ। রাইডার চাইলে তার রিকোয়েস্ট ক্যানসেলও করতে পারবেন। এছাড়াও রাইড শেষে সেবাদাতাও গ্রহীতা উভয়ই একে অপরকে রেটিং দেয়ার পাশাপাশি কমেন্টস করার সুযোগ পাবেন। তবে উবারের মত মোটরসাইকেল ও গাড়ির মডেল, সিসি এবং এয়ারকন্ডিশন ও নন-এয়ারকন্ডিশন পৃথক করে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়নি। এটি পাঠাওয়ের মতোই শুধু গাড়ি ও মোটরসাইকেলকে আলাদা করা হয়েছে।

প্লে স্টোর থেকে উধাও ইউসি ব্রাউজার

মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে ইউসি ব্রাউজার জানিয়েছিল, প্লে স্টোর থেকে এই অ্যাপ প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডাউনলোডের বিশাল মাইলফলক অর্জন করেছে।

অবিশ্বাস্য ঘটনা হচ্ছে, প্লে স্টোরে জনপ্রিয় ইউসি ব্রাউজার এখন আর নেই। গুগল প্লে স্টোর থেকে হঠাৎ করে এই অ্যাপ উধাও হয়ে গেছে এবং কেউ জানে না কি কারণে। ইউসি ব্রাউজার সরিয়ে নেওয়ার কারণ সম্পর্কে ইউসি কিংবা গুগল- কেউই মুখ খোলেনি।

চীনের ইন্টারনেট জায়ান্ট আলিবাবার মালিকানাধীন ইউসি ওয়েবের জনপ্রিয় পণ্য হচ্ছে, ইউসি ব্রাউজার। চীনে গুগল ক্রোম ব্রাউজারের বিকল্প হিসেবে জনপ্রিয় এই ব্রাউজার। বিশ্বে চীনের পর ইউসি ব্রাউজার সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয়ে থাকে ভারতে।

ভারতে সবচেয়ে বেশি ডাউনলোড হওয়া ছয়টি অ্যাপের একটি ইচ্ছে, ইউসি ব্রাউজার। কিন্তু এই মোবাইল ব্রাউজারের বিরুদ্ধে অ্যাডাল্ট নিউজের লিংক প্রদর্শন এবং ব্যবহারকারীদের তথ্য চুরির অভিযোগ দীর্ঘ দিনের।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, ব্রাউজারের মাধ্যমে গ্রাহকদের তথ্য চুরির অভিযোগে অ্যাপটিকে প্লে স্টোর থেকে সরিয়ে ফেলেছে ভারত এবং তথ্য চুরির তদন্ত শুরু করছে দেশটির মিনিস্ট্রি অব ইলেক্ট্রনিকস অ্যান্ড ইনফরমেশন টেকনোলজি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ভারতে নিষিদ্ধ করা হতে পারে ইউসি ওয়েবের কার্যক্রম। মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বলেন, ইউসি ব্রাউজার অ্যাপটি ফোন থেকে মুছে ফেলার পরও তথ্য চুরির ঝুঁকি থাকে।

গত বছরে ইউসির তথ্যানুযায়ী, বিশ্বব্যাপী ইউসি ব্রাউজারের ব্যবহারকারী ৪২০ মিলিয়ন, যার মধ্যে ১০০ মিলিয়ন ভারতে। এ বছরের আগস্টে এক রেডডিড ব্যবহারকারী জানিয়েছিল, ইউসি ব্রাউজার ব্যবহারকারীদের স্পর্শকাতর তথ্যগুলো চুরি করে চীনের সার্ভারে প্রেরণ করে।

ব্রাউজারটি বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ ২০১৫ সালে প্রথম এনেছিল কানাডার একদল গবেষক। ইউনিভার্সিটি অব টরেন্টোর গবেষকরা জানিয়েছিলেন, ইউসি ব্রাউজারের চীনা এবং ইংরেজি সংস্করণটি তৃতীয় পক্ষের কাছে ব্যবহারকারীর লোকেশন, সার্চ হিস্টোরি, ডিভাইস নম্বর পাওয়া সহজলভ্য করে দেয়।

প্লে স্টোর থেকে এখন হঠাৎ উধাও হয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে, ইউসি ব্রাউজারে সঙ্গে কাজ করেন মাইক রোজ নামক একজন টুইটারে জানিয়েছেন, তিনি একটি মেইল পেয়েছেন, যেখানে বলা হয়েছে গুগল প্লে স্টোর থেকে ৩০ দিনের জন্য সাময়িক ভাবে ইউসি ব্রাউজার অ্যাপ সরিয়ে ফেলা হয়েছে বিতর্কিত কনেন্ট প্রদর্শন এবং তথ্য পাচারের অভিযোগে।

অ্যান্ড্রয়েড পুলিশের প্রতিষ্ঠাতা আর্টেম রুশাকোভেস্কি কিছুদিন আগে একটি ইমেইল পান, যেখানে বলা হয়েছিল ইউসি ওয়েব এর সহযোগীরা ইউসি ব্রাউজারের ডাউনলোড বৃদ্ধি করার জন্য প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন ব্যবহার করছে।

প্লে স্টোর থেকে ইউসি ব্রাউজার অ্যাপ সরিয়ে ফেলা হলেও, ইউসি ব্রাউজার মিনি অ্যাপটি রয়েছে।
 

আইফোনের ফেস আইডি হ্যাক!

বায়োমেট্রিক নিরাপত্তা ফিচার হিসেবে টাচ আইডির পরিবর্তে আইফোন ১০-এ ব্যবহার করা হয়েছে ফেস আইডি। তবে এই ফিচার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, সহজেই এটি বাইপাস করা সম্ভব। যদিও অ্যাপল এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে প্রতিবারই।

এবার তা প্রমাণ করে দেখিয়েছে ভিয়েতনামের সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ‘বিক্যাভ’। প্রতিষ্ঠানটি ১৫০ ডলারেরও কম মূল্যের থ্রিডি প্রিন্টেড মুখোশ ব্যবহার করে খুব সহজেই ফেস আইডি আনলক করে দেখিয়েছে।

পুরো ব্যাপারটি নিয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে বিক্যাভ। এতে দেখা গেছে, এই মুখোশে চোখের জায়গায় দুটো চোখের ছবি বসানো আছে। একইভাবে আছে নাক ও মুখের ছবি। মুখোশের মাধ্যমে আনলক করার পর প্রতিষ্ঠানটির ভাইস প্রেসিডেন্ট নিজের চেহার দিয়েও ফোনটি আনলক করেছেন।

ফেস আইডি হ্যাকিংয় বিষয়ে অ্যাপল জানিয়েছে, ফোনের সামনে মুখের ছবি ধরে ফেস আইডি আনলক করা সম্ভব নয়। কারণ আনলক করার সময় আইফোন ইনফ্রারেড রশ্মি ব্যবহার করে যা থ্রিডি ইমেজ স্ক্যান করার মাধ্যমে আনলকের কাজটি করে থাকে। থ্রিডি ইমেজ না হলে কোনোভাবেই ফোন আনলক করা সম্ভব নয়।

তবে ফেস আইডি হ্যাকিংয়ে বিক্যাভের পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ফোনটির ফেস আইডি যদি শুরুতেই ওই মুখোশ ব্যবহার করে নিবন্ধন করা হয়ে থাকে, তাহলে মুখোশ দিয়ে আনলক করা যাবে, এমনটাই স্বাভাবিক। তবে এ বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু জানায়নি বিক্যাভ।

অন্যদিকে ভিডিওতে প্রথমবারেই মুখোশের মাধ্যমে ফেস আইডি আনলক করার বিষয়টি দেখানো হলেও একবার নাকি একাধিকবার চেষ্টা করে বাইপাস করা সম্ভব হয়েছে কিনা, তাও জানায়নি প্রতিষ্ঠানটি।

তবে এসব প্রশ্ন থাকলেও পুরো ব্যাপারটি নিয়ে চিন্তায় পড়েছে সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, কোন না কোনোভাবে ফেস আইডি হ্যাক করার আরও উন্নত প্রযুক্তি ঠিকই বের করে নেবে সাইবার অপরাধীরা।

বিক্যাভের মতে, সাধারণ ব্যবহারকারীরা নয়, এক্ষেত্রে প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারেন বড় ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ কিংবা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা।

স্মার্টফোন পানিতে পড়লে কী করবেন

অনেক সময় অসতর্কতাবশত প্রিয় স্মার্টফোনটি পানিতে পড়ে গেল। ভীষণ দুশ্চিন্তায় পড়ে গেলেন। কী করবেন তাৎক্ষণাৎ বুঝে উঠতে পারলেন না। চিন্তা না করে দ্রুত কিছু পদক্ষেপ নিতে পারলে ক্ষতি হওয়া থেকে বাঁচাতে পারবেন। এ জন্য আপনাকে দশটি ধাপ অনুসরণ করতে হবে।

 

১. দ্রুত ফোনটি পানি থেকে তুলে এনে সুইচ অফ করুন। স্মার্টফোনের সঙ্গে ইউএসবি কেবল, চার্জার, মাইক্রোফোন সংযুক্ত করার ছোট পোর্টগুলোর ভেতর দিয়ে পানি ঢুকে নিমিষেই ফোনের ক্ষতি হতে পারে। তাই দ্রুত ফোনটিকে পানি থেকে বের করুন। এরপর শর্ট সার্কিট এড়ানোর জন্যে ফোন সুইচ অফ করে দিন।


২. পানি থেকে ফোনটি তুলে এনে ব্যাটারি কাভার এবং ব্যাটারি খুলুন এবং পেপার টাওয়েল বা নরম কাপড়ের ওপর রাখুন। 


৩. সিম কার্ড খুলে রাখুন। যদিও পানিতে সিম কার্ডের তেমন কোনো ক্ষতি হয় না, তবু এটি খুলে ফেলাই ভালো। খোলার পর হালকাভাবে মুছে নিন। পুনরায় ফোনে লাগানোর শুকিয়ে নিন।


৪. ফোনের অন্যান্য আনুষঙ্গিক (যেমন- মেমোরি কার্ড, ইয়ার বাড, ফোন কেইস, প্রোটেকটিভ কাভার) অপসারণ করুন।


৫. ফোনের ভেতরের ভেজা অংশগুলো বরাবর বিশ মিনিট করে ভ্যাকুয়াম ক্লিনার ধরে রেখে অবশিষ্ট পানিটুকু শুকিয়ে নিতে হবে। খেয়াল রাখবেন ভ্যাকুয়াম ক্লিনার যেন ফোনের খুব কাছ থেকে না ধরা হয়। কারণ এটি স্থির তড়িৎ উৎপন্ন করে, যা ফোনের জন্য পানির চেয়েও বেশি ক্ষতিকর।


৬. ফোন শুকানোর কাজে হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার করবেন না।


৭. আর্দ্রতা শুষে নেয়, এমন কোনো পদার্থ ব্যবহার করুন। এক্ষেত্রে চালভর্তি থলে বা গামলার মধ্যে সারারাত ফোনটিকে রেখে দিতে পারেন। প্রতি ঘণ্টায় ফোনটিকে উল্টে পাল্টে দিতে হবে। কিছু বিশেষ আর্দ্রতা শোষণকারী পদার্থ (ডেসিক্যান্ট) আছে, যা চালের চেয়ে ভালোভাবে আর্দ্রতা শোষণ করতে পারে, যেমন- সিলিকা জেল।


৮. ফোনটিকে রোদযুক্ত জায়গায় তোয়ালে, ন্যাপকিন বা কাগজের ওপর রাখুন। এতে ফোনের সব পানি এবং আর্দ্রতা দূর হবে।


৯. চব্বিশ ঘণ্টা পার হওয়ার পর ফোনের প্রতিটি পোর্ট, কম্পার্টমেন্ট এবং সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম সব ফাঁকফোকরে পরীক্ষা করে দেখুন কোনো পানি বা ময়লা লেগে আছে কিনা।

১০. ফোন সম্পূর্ণ শুকিয়ে যাওয়ার পরও যদি কাজ না করে, তবে ব্যাটারি খুলে রাখা অবস্থায় ফোনটিকে চার্জারের সঙ্গে সংযুক্ত করুন।

এরপরও যদি আপনার ফোন কাজ না করে তাহলে বুঝতে হবে আপনা মন্দ ভাগ্য। দেরি না করে নিকটস্থ অনুমোদিত বিক্রয় কেন্দ্রে নিয়ে যেতে হবে।

২৮০ শব্দে টুইট!

পরীক্ষামূলক পর্ব শেষ হলো। এখন সবাই ১৪০ শব্দের পরিবর্তে ২৮০ শব্দে টুইট করতে পারবেন। টুইটার তার ব্লগ পোস্টে এই তথ্য জানিয়েছে। তবে জাপান, কোরিয়া ও চীনের ব্যবহারকারীরা ২৮০ শব্দে টুইট করতে পারবেন না। তাদের জন্য ১৪০ শব্দই বরাদ্দ থাকছে।
এর আগে টুইটার এক ব্লগ পোস্টে জানায়, অনেক ব্যবহারকারীর অভিযোগ ছিল ১৪০ শব্দের সীমাবদ্ধতা। তাদের সেই অভিযোগ বিবেচনা করে নতুন শব্দ সংখ্যা নির্ধারণ করা হলো। এতে গ্রাহকরা সাইটটি ব্যবহারে আগের চেয়ে বেশি আগ্রহী হবেন।
অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহারকারী সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়লেও টুইটারের চিত্র ভিন্ন। এর গ্রাহক বৃদ্ধির হার খুবই কম। ফলে নতুনদের আকৃষ্ট করতে নিজেদের কৌশল কিছুটা পরিবর্তন করলো তারা।

উন্মুক্ত হলো আইফোন ১০

দীর্ঘ প্রতীক্ষা শেষে অ্যাপলের নতুন ডিভাইস আইফোন ১০ বিশ্বব্যাপী উন্মুক্ত হয়েছে আজ। প্রথম দিনেই বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে নতুন এই ফোন সেটের প্রতি ক্রেতাদের ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায়।

প্রথমেই এ ফোন উন্মুক্ত হয় সিঙ্গাপুরে। স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩ নভেম্বর) সকাল ৮টায় সিঙ্গাপুরের অ্যাপল স্টোরে নতুন এ ফোনের বিক্রি শুরু হয়। তবে তার আগেই বৃহস্পতিবার রাত থেকে দোকানের সামনে ক্রেতাদের দীর্ঘ লাইন জমে যায়।

এর আগে গত সেপ্টেম্বরে সিঙ্গাপুরসহ বিশ্বব্যাপী আইফোন ৮ ও আইফোন ৮ প্লাস উন্মুক্ত করে অ্যাপল। আজ আইফোন ১০ কিনতে ক্রেতাদের ভিড় ছিল আইফোন ৮ ও আইফোন ৮ প্লাসের উদ্বোধনী দিনের চেয়েও বেশি।

আইফোন ১০ কিনতে নির্ধারিত সময়ের আগেই বৃহস্পতিবার রাত থেকে অ্যাপল স্টোরের বাইরে ভক্তদের ভিড়ের কারণে অ্যাপল দল সময় গণনা শুরু করে। ক্রেতারাও তাতে ব্যাপক সাড়া দেন।

সিঙ্গাপুরে অ্যাপল স্টোরের বাইরে দুটি লাইন করা হয়। যারা আগে থেকেই ফোনের অর্ডার দিয়েছিলেন, তারা একটি লাইনে এবং অন্যটিতে তাৎক্ষণিক ক্রেতারা দাঁড়ান।

আইফোন ১০ প্রথমে কেনার সুযোগ পান থাইল্যান্ডের দুই শিক্ষার্থী কিত্তীওয়াত ওয়াং ও সুপাকণ রিক্সিশিরি। গত ২৭ অক্টোবর তারা নতুন এ ফোনের জন্য অগ্রিম অর্ডার দিয়েছিলেন।

ডিজিটাল বাংলাদেশ আজ আর স্বপ্ন নয় : অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেছেন, ২০০৮ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনী ইশতেহারে ডিজিটাল বাংলাদেশের ধারণা যোগ করেন। যা আজ আর স্বপ্ন নয়, বাস্তবে রূপ নিয়েছে। দেশে আইসিটি খাতে অভাবনীয় উন্নতি হয়েছে। ফলে জ্ঞান আহরণ এখন অনেকটা সহজ হয়েছে।

বুধবার (১ নভেম্বর) ঢাকায় শুরু হওয়া জাতিসংঘের ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল কমিশন ফর এশিয়া অ্যান্ড দ্য প্যাসিফিক (এসকাপ) এর এশিয়া প্যাসিফিক ইনফরমেশন সুপার হাইওয়ে (এপিআইএস) এর স্টিয়ারিং কমিটির প্রথম অধিবেশনে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে দুই দিনব্যাপী এই অধিবেশনের উদ্বোধন করেন অর্থমন্ত্রী

 

মুহিত বলেন, এশিয়া প্যাসিফিক ইনফরমেশন সুপার হাইওয়ের (এপিআইএস) স্টিয়ারিং কমিটির প্রথম অধিবেশন আজ (বুধবার) ঢাকা থেকে শুরু হলো। আশা করি, এ অধিবেশনের মাধ্যমে এশিয়ান সুপার হাইওয়ের কানেক্টিভিটি বাড়াতে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা পাওয়া যাবে। এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে কানেক্টিভিটি যত বাড়বে এ অঞ্চলের দারিদ্রের হারও তত কমবে।

সভাপতির বক্তব্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, আজ আমি সত্যিই আনন্দিত। আমি সৌভাগ্যবানদের একজনও বটে। ভাবতেই ভালো লাগছে যে, আমি এশিয়ান হাইওয়ে ও ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ে নেটওয়ার্কের সঙ্গে আইসিটি ব্যাকবোনকে সম্পৃক্ত করার প্রস্তাব করেছিলাম। এসকাপ কমিটি অন আইসিটি আমার সে প্রস্তাব গ্রহণ করার মাধ্যমে এশিয়া প্যাসিফিক ইনফরমেশন সুপারহাইওয়ে (এপিআইএস) উদ্যোগ গ্রহণ করে এবং বাংলাদেশকে এই এপিআইএস-এর ওয়ার্কিং গ্রুপের সভাপতি নির্বাচিত করে।

অতিথির বক্তব্যে ইউএনএসকাপ-এর প্রোগ্রাম ইকোনমিকস অ্যান্ড ফাইন্যান্সিং এর ডেপুটি এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি হং জো হাম বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন বিশ্বের কাছে অনুকরণীয়। ডিজিটাল বাংলাদেশের ধারণা অনেক দেশই গ্রহণ করছে। ফলে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের অন্যান্য দেশের কাছে রাইজিং স্টারে পরিণত হয়েছে।

এপিআইএস ওয়ার্কিং গ্রুপের সভাপতি ও আইসিটি অধিদফতরের মহাপরিচালক বনমালী ভৌমিক স্বাগত বক্তব্যে বলেন, এপিআইএস-এর মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে তা মাথাপিছু ব্যান্ডউইথ ব্যবহারকারী স্বল্পোন্নত দেশের জন্য অপার সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে। এটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশে মাথাপিছু ব্যান্ডউইথ ব্যবহারের হার বৃদ্ধি পাবে এবং তা জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।

অধিবেশনে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের সভাপতিত্বে রোড ট্রান্সপোর্ট ডিভিশনের সচিব মো. নজরুল ইসলাম, রেলওয়ে মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মোফাজ্জল হোসাইন, এপিআইএস ওয়ার্কিং গ্রুপের সভাপতি ও আইসিটি অধিদফতরের মহাপরিচালক বনমালী, ইউএনএসকাপ এ বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও থাইল্যান্ডে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সাইদা মুনা তাসনিমসহ দেশ-বিদেশি প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, এপিআইএস এর মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে স্টিয়ারিং কমিটির এই অধিবেশনে জাতিসংঘের এসকাপভুক্ত ৫৬ দেশের প্রতিনিধিসহ দেশি-বিদেশি শতাধিক প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছে। অধিবেশনে এপিআইএস-এর মহাপরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত কানেক্টিভিটি, ইন্টারনেট ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট, ই-রেসিলিয়েন্স এবং ব্রডব্যান্ড ফর অল -এ চারটি স্তম্ভ এবং মধ্যবর্তী মেয়াদে (২০১৬-১৮) বাস্তবায়নের লক্ষ্যমাত্রা পূরণের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করা হবে।

২০১৬ সালে আগস্টে চীনের গুয়াংজুতে এপিআইএস ওয়ার্কিং গ্রুপের দ্বিতীয় সভায় বাংলাদেশকে এক বছরের জন্য ওয়ার্কিং গ্রুপের সভাপতি হিসেবে নির্বাচন করা হয়। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের আওতাধীন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদফতরের মহাপরিচালক বনমালী ভৌমিক এপিআইএস ওয়ার্কিং গ্রুপের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

গুগলের দুটি পুরস্কার পেল বাংলাদেশ

গুগল লোকাল গাইড সামিটে দুটি পুরস্কার অর্জন করেছে বাংলাদেশ। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যার্লিফোনিয়ায় গত ১০-১২ অক্টোবর গুগল লোকাল গাইড সামিট অনুষ্ঠিত হয়। এবারের সামিটে ৬২টি দেশের মধ্যে ১৬টি পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে বাংলাদেশ একমাত্র দেশ যারা একসঙ্গে দুটি পুরস্কার পেয়েছে।

সামিটের শেষ দিন ১২ অক্টোবর রাতে পুরস্কার ঘোষণা করা। বাংলাদেশের পক্ষে পুরস্কার গ্রহণ করেন বাংলাদেশ লোকাল গাইডের মডারেটর মাহাবুব হাসান এবং বেস্ট স্যুভিনিয়র অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করেন সোনিয়া বিনতে খোরশেদ।

মাহাবুব হাসান জাগো নিউজকে বলেন, পুরস্কারপ্রাপ্তির অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আমরা যেহেতু গুগল ম্যাপে দেশের পর্যটনকে বেশি ফোকাস করি তাই এ পুরস্কারপ্রাপ্তির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প আরো এক ধাপ এগিয়ে যাবে বলে আশা করছি। পুরস্কার ঘোষণার মঞ্চে যখন দুইবার বাংলাদেশের নাম ঘোষণা করা হয় তখন সবাই উন্মুখ হয়ে তাকিয়ে ছিল আমাদের দিকে।

মাহাবুব হাসান আরো বলেন, সামিটে একটা পর্ব ছিল বিভিন্ন দেশের অংশগ্রহণকারীদের নিজ দেশের ঐতিহ্যবাহী কোনো খাবার বা পণ্য বিনিময় করা। আমরা নকশি পিঠা সবাইকে দিয়েছিলাম। এটি হাতে তৈরি পিঠা শুনে সবাই অবাক হয়েছিলেন এবং ব্যাপক প্রশংসা করেন।

তিন দিনব্যাপী এ সামিটে ছিল সামাজিক ও তথ্যপ্রযুক্তির বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে সেমিনার এবং গুগল ম্যাপভিত্তিক সমাজ সেবা বাড়ানোর কৌশল নিয়ে আলোচনা। এবারের সামিটের আলোচনার মূল বিষয়বস্তু ছিল আক্সেসেবিলিটিস, ফিজিক্যাল ডিজেবিলিটিস, ইমেজ প্রসেসিং, আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্ট ও ইউজার জেনারেটেড কন্টেন্ট।

সামিটে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন গুগল ম্যাপের ভাইস প্রেসিডেন্ট লুইস আন্দ্রে বেরোস। এছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন গুগলের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। সামিটে গুগলের কিছু প্রজেক্ট দেখানো হয় যা আগামী বছর সবার জন্য উন্মুক্ত করা হবে।

উল্লেখ্য, লোকাল গাইড হচ্ছে গুগলের ম্যাপভিত্তিক এক পরিসেবা। যার মাধ্যমে আপনি ম্যাপের বিভিন্ন স্থানের বিবরণ ও অন্যান্য সুবিধাগুলো তুলে ধরতে পারবেন। যেমন, কোন রেস্টুরেন্টের খাবারের মান কেমন, ওই রেস্টুরেন্টে হুইল চেয়ার প্রবেশ করতে পারে কি না, হুইল চেয়ার ব্যবহার উপযোগী টেবিল আছে কি না ইত্যাদি। এ ছাড়া এই ফোরামের মাধ্যমে নিজ নিজ দেশের ঐতিহ্য ও প্রযুক্তি সম্পর্কিত সমস্যাগুলো সবার সামনে তুলে ধরা যায়। পরে গুগল সেগুলো সমাধানের চেষ্টা করে থাকে।

আমাদের দেশে ২০১৩ সাল থেকে বাংলাদেশ লোকাল গাইড কাজ করে যাচ্ছে।

একবারেই তিন গন্তব্যে যাওয়া যাবে উবারে

এতদিন উবার অ্যাপ ব্যবহারের মাধ্যমে একবারে শুধু একটি গন্তব্যে যাওয়ার জন্য গাড়ি ভাড়া করার সুযোগ থাকলেও এখন সর্বোচ্চ তিনটি গন্তব্যে যাওয়া যাবে। এ জন্য মাল্টিপল স্টপ ফিচার নামে একটি নতুন পরিষেবা চালু করেছে উবার।

এই ফিচারের মাধ্যমে নিজের পাশাপাশি পরিচিতদেরও নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে দিতে পারবেন উবার ব্যবহারকারীরা।

জানা গেছে নতুন এই ফিচারের মাধ্যমে গাড়ি ভাড়া করার সময় আগে থেকেই সর্বোচ্চ তিনটি গন্তব্যের স্থান নির্বাচন করা যাবে। ফলে কোনো ব্যক্তি নির্দিষ্ট গন্তব্যে যাবার পথে চাইলে পরিচিতদেরও নির্দিষ্ট স্থানে নামাতে বা ওঠাতে পারবেন।

এ জন্য উবার অ্যাপের ‘হয়ার টু’ বক্সের পাশে যুক্ত হওয়া ‘+’ আইকনে ক্লিক করে একাধিক গন্তব্যের স্থান লিখতে হবে। এই ফিচার দিয়ে বর্তমানের মতই উবার গাড়িচালকরা সে তথ্য জানতে পারবেন। চাইলে গন্তব্যের ঠিকানাও পরিবর্তন করা যাবে।

এপিআইএস অধিবেশন ১ নভেম্বর

ইন্টারনেট ট্র্যাফিক ম্যানেজমেন্ট, কানেকটিভিটি, ই-রেসিলেন্স ও ব্রডব্যান্ড নিয়ে আলোচনার জন্যে এপিআইএস অধিবেশন শুরু হচ্ছে মঙ্গলবার। এপিআইএস হচ্ছে এশিয়া ও প্যাসিফিক সংক্রান্ত জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক ফোরামের এশিয়া প্যাসিফিক ইনফরমেশন সুপারহাইওয়ে। এপিআইএসর দুইদিনব্যাপী অধিবেশন ১ নভেম্বর রাজধানীতে শুরু হবে।

একটি মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে এ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। স্টিয়ারিং কমিটির এ সভায় ১০০টি দেশের প্রতিনিধিরা যোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

২০১৬ সালের ২৯ ও ৩০ আগস্ট চিনের গুয়াংজুতে অনুষ্ঠিত এপিআইএস-এর ওয়ার্কিং গ্রুপের দ্বিতীয় বৈঠকে বাংলাদেশ জাতিসংঘের এসকাপের এপিআইএস-এর সভাপতি নির্বাচিত হয়।

সভায় কানেকটিভিটি, ইন্টারনেট ট্র্যাফিক ম্যানেজমেন্ট, ই-রেসিলেন্স ও ব্রডব্যান্ড এ চার প্রধান বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হবে।

এ বিষযে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমদ পলক জানান, বাংলাদেশ এশিয়া প্যাসিফিক ইনফরমেশন সুপারহাইওয়ে (এপিআইএস)- এর ওয়ার্কিং গ্রুপের সভাপতি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে নির্বিঘ্ন যোগাযোগ নেটওয়ার্ক নিশ্চিত করতে এপিআইএস বাস্তবায়নেওয়ার্কিং গ্রুপ মহাপরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে। এপিআইএস-এর প্রথম অধিবেশন আমাদেরকে এপিআইএস মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কার্যকর পন্থার দিকে চালিত করবে।

ফ্রিল্যান্সার গ্র্যান্ড প্রাইজ জিতল বাংলাদেশ

অনলাইনে তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক কাজের ওয়েবসাইট ফ্রিল্যান্সার ডটকম কর্তৃক আয়োজিত লোগো এক্সপোজ প্রতিযোগিতায় গ্র্যান্ড প্রাইজ বিজয়ী হয়েছে বাংলাদেশি ‘টিম সানারাসা’। বিভিন্ন দেশ থেকে অংশ নেয়া ২৫৩টি দলকে পেছনে ফেলে এ প্রতিযোগিতায় জিতল বাংলাদেশি তরুণ-তরুণীরা। প্রাইজ হিসেবে তারা ১০ হাজার ডলার পুরস্কার জিতেছে।

২৭ অক্টোবর শুক্রবার সকাল ১১টায়, জাতীয় জাদুঘর সিনেপ্লেক্সে ইয়ুথ ইন টেক বাংলাদেশ ও মিডিয়া মিক্স কমিউনিকেশনসের পক্ষ থেকে তাদের এই সফলতার জন্য সংবর্ধনা দেয়া হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইয়ুথ ইন টেক বাংলাদেশের আহবায়ক আনিসুল ইসলাম সুমন, মিডিয়া মিক্স কমিউনিকেশনসের সিইও আবদুল্লাহ হাসান।

‘টিম সানারাসা’র চার সদস্য- সাকিব, নাসিমা, রাকিব ও সাগর। এদের প্রত্যেকের নামের অদ্যাক্ষর দিয়ে তৈরি দলের নাম ‘টিম সানারাসা’। এই চারজন স্বপ্নচারী ফ্রিল্যান্সার প্রত্যেকেই গ্রাফিক্স ডিজাইনার। তারা সবাই পড়াশুনার পাশাপাশি মুক্ত পেশাজীবী হিসেবে অনলাইনে কাজের মাধ্যমে আয় করছে। টিম লিডার সাকিব জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ছাত্র। নাসিমা পড়াশুনা করছে বেগম বদরুন্নিসায় বোটানি বিভাগে। রাকিব ও সাগর নিউ মডেল ডিগ্রি কলেজে যথাক্রমে ইংরেজি ও মার্কেটিং বিভাগে অধ্যায়নরত। টিম লিডার সাকিব গ্রাফিক্স ডিজাইনের ওপর প্রশিক্ষণ নেয় বাংলাদেশ সরকারের নেয়া লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং প্রজেক্ট থেকে। তারপর টিমের বাকি সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেয়। তারা প্রত্যেকেই এখন সফল ফ্রিল্যান্সার।

ফ্রিল্যান্সার ডটকম আউটসোর্সিংয়ের একটি বড় মার্কেটপ্লেস। ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হও্য়া অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক এই মার্কেটপ্লেসটি ২০১৭ সালে ২৫ মিলিয়ন ইউজারের মাইলফলক স্পর্শ করে। আর সে জন্য তারা একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। প্রতিযোগিতায় পুরস্কার দেয়া হয় দশটি ক্যাটাগরিতে মোট ২৫ হাজার ইউএস ডলার। সব দিক বিবেচনা করে গ্র্যান্ড প্রাইজ নির্ধারণ করা হয়। যার মূল্যমান ১০ হাজার ইউএস ডলার। বাকি ১৫ হাজার ডলার মোট নয়টি ক্যাটাগরিতে ভাগ করে দেয়া হয়।

এবারের প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে টিম সানারাসা মাসব্যাপী প্রোগ্রাম পরিচালনা করে ঢাকা, কক্সবাজার, ফেনী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায়। তাদের নেয়া পদক্ষেপগুলোর উদ্দেশ্য ছিল, তরুণদের আউটসোর্সিংয়ের প্রতি উদ্বুদ্ধ করা ও ফ্রিল্যান্সার ডটকমকে সবার মাঝে পরিচিত করিয়ে দেয়া। তারা মাসব্যাপী বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও ইউনিভার্সিটিতে সেমিনারের আয়োজন করে এবং দর্শনীয় স্থানে লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে জনসাধারণের মাঝে আউটসোর্সিংয়ের ধারণা ছড়িয়ে দেয়। এছাড়াও চাঁপাইনবাবগঞ্জে ফ্রিল্যান্সার ডটকমের বিশালাকৃতির পাজেল লোগো এক্সপোজ এবং সাইকেল র‌্যালির আয়োজন করে তারা। টিম সানারাসার উদ্দেশ্যে- দেশে বেকার সমস্যা দূরীকরণের জন্য আউটসোর্সিংয়ের ধারণা সবার মাঝে ছড়িয়ে দিয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়বনে সরকারকে সহায়তা করা।

উল্লেখ্য, ‘এক্সপোজ আওয়ার লোগো’ শীর্ষক এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ থেকে স্পেশাল অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে ‘ডিজাইনার বি টিম’। তারা ফ্লাসমুব ক্যাটাগরিতে ৩ হাজার ডলার পুরস্কার জিতেছে। এছাড়া অ্যাডভার্টাইজার ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছে কলম্বিয়া থেকে অংশ নেওয়া ইয়ামিরা এন, ‘সারপ্রাইজ মি’ ক্যাটাগরিতে ফিলিপাইনের ‘বেবি যে এল’, ট্রাভেলার ক্যাটাগরিতে ইন্দোনেশিয়ার ‘সুইওয়াগা পি’, সুপারস্টার ক্যাটাগরিতে ইন্দোনেশিয়া ‘ইকো পি’, পার্টি সোল ক্যাটাগরিতে ফিলিপাইনের ‘রেইন এফ’, ভ্লগার ক্যাটাগরিতে নেপালের ‘টিম ইয়ালা’। এছাড়া আরো দুইটি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার জিতেছে যুক্তরাষ্ট্র এবং আলবেনিয়ার দুইটি দল।

ফোরজি আসতে যত বাধা

চতুর্থ প্রজন্মের নেটওয়ার্ক তথা ফোরজি’র আগমন পদে পদে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। মোবাইলফোন অপারেটররা তাদের দাবির কথা জানিয়ে বলছে, ফোরজি নিলামের আগেই বিদ্যমান সমস্যার সমাধান হওয়া জরুরি। এদিকে সরকার বলছে, অপারেটরগুলোর উত্থাপিত ২৪টি দাবির মধ্যে ২২টিই সমাধান হয়ে গেছে। যে দুটো অবশিষ্ট রয়েছে, তারও সমাধান শিগগিরই হয়ে যাবে। যৌক্তিক সময়ের মধ্যে উদ্ভূত সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে বলে অপারেটররাও আশাবাদী।

 

প্রসঙ্গত, গত বছরের শুরুর দিকে জানা যায়, দেশে ফোরজি আসছে। কিন্তু ওই বছর তরঙ্গের নিলাম আয়োজনও করা সম্ভব হয়নি। একই বছরের অক্টোবর মাসে অনুষ্ঠিত ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড-২০১৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দেন, ২০১৭ সালে সারাদেশে ফোরজি চালু হবে। প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় গত বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর আগারগাঁওয়ের আইসিটি টাওয়ারে এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, ২০১৭ সালে দেশে ফোরজি চালুর পদক্ষেপ হিসেবে স্পেক্ট্রামের নিলাম অনুষ্ঠিত হবে এবং বর্তমান সরকারের মেয়াদের মধ্যেই এই সেবা চালু করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, থ্রিজি সেবা চালু করে মোবাইল অপারেটরগুলোর একটা অভিজ্ঞতা হয়েছে। বিশাল অংকের অর্থ বিনিয়োগ করে সেই অর্থ এখনও বিনিয়োগেই এক প্রকার আটকে আছে। আবারও প্রায় একই ধরনের ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে বলে তাদের আশঙ্কা, বিদ্যমান ইস্যুগুলোর সমাধান না করে আগের পথে হাটলে একই ধরনের জটিলতায় পড়তে পারে টেলিযোগাযোগ খাত।

উল্লেখ্য, থ্রিজিতে মোবাইলফোন অপারেটরগুলোর বিনিয়োগের পরিমাণ ৩২ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে এখনও পর্যন্ত মাত্র ছয় হাজার কোটি টাকা ফেরত পেয়েছে বলে অপারেটরগুলোর দাবি।

জানা গেছে, মোবাইল অপারেটররা, ১২ বছর ভয়েস কলের রেকর্ড সংরক্ষণ, সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিল খরচ করার আগে অনুমতি নেওয়া, উচ্চ তরঙ্গমূল্য, প্রযুক্তি নিরপেক্ষতা,কনটেন্ট ফিল্টারিং, লোকেশন পিন পয়েন্ট ইত্যাদি বিষয়ে তাদের আপত্তির কথা জানিয়েছে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগকে। টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি অপারেটরগুলোকে ব্যাখ্যা দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম।

প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, ‘আমরা তাদের (মোবাইলফোন অপারেটর) কনসার্ন (আপত্তির বিষয়গুলো) নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছি। এখনও সেই ধারাটা অব্যাহত আছে। বিটিআরসি তাদের বিষয়গুলো ‘এক্সপ্লেইন’ করেছে। সেটা নিয়েও আমরা অপারেটরগুলোর সঙ্গে বসবো। আমরা তাদের প্রতিটি কনসার্নের জায়গায় ‘অ্যাড্রেস’ করেছি। যেগুলো তাদের বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে বলে তারা মনে করছেন, সেগুলোর ব্যাখ্যা আমাদের কাছে এসেছে। আমরা তাদের নিয়ে বসবো।’

তিনি জানান, তারা (মোবাইলফোন অপারেটররা)যে কনসার্নগুলো আমাদের জানিয়েছেন, তার বেশিরভাগই সমাধান হয়ে গেছে। যে দুই-একটা বাকি রয়েছে সেসবও সমাধান হয়ে যাবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অপারেটরগুলো ২৪টি ‘কনসার্ন’ দিয়েছিল ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগকে। এর মধ্যে ২২টিরই সমাধান হয়েছে গেছে বলে বিভাগ থেকে দাবি করা হয়েছে।  

মোবাইলফোন অপারেটর গ্রামীণফোনের এক পদস্থ কর্মকর্তা নিজেকে উদ্ধৃত না করে  বলেন, ‘সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিলসহ (এসওএফ) যে বিষয়গুলো এখনও সমাধান হয়নি তা নিলামের আগেই হওয়া জরুরি।’ তিনি এসওএফ -এর অর্থ খরচ করার বিষয়ে অনুমতি নেওয়ার বিষয়ে বলেন,‘এটা জটিলতা তৈরি করবে এবং জটিলতা বাড়াবে। এটারও সমাধান হওয়া জরুরি।’

বাংলালিংকের জ্যেষ্ঠ পরিচালক তাইমুর রহমান বলেন, ‘আমরা আশাবাদী, যে দুই-একটি সমস্যা রয়েছে, সেগুলো সমাধান হয়ে যাবে।’ তার আশা, তরঙ্গমূল্য (স্পেক্ট্রাম) আরও কমবে। তিনি সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিল সম্পর্কে বলেন, ‘আমরা সব সময়ই জানিয়ে থাকি, কোথায় আমরা এই টাকা খরচ করছি। কিন্তু অনুমতি নিয়ে খরচ করার বিষয়টিতে জটিলতা দেখতে পাচ্ছে অন্য অপারেটররাও। এটার একটা যৌক্তিক সমাধান হবে বলে আমরা আশাবাদী।’

অ্যাকসেঞ্চারের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ দাবি

বহুজাতিক তথ্যপ্রযুক্তি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান অ্যাকসেঞ্চার বাংলাদেশের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছে 
অ্যাকসেঞ্চার ইমপ্লয়িজ।

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শাহিন আহমেদ বলেন, অ্যাকসেঞ্চার কমিউনিকেশন ইনফ্রাস্ট্রাকচার সলিউশন্স লিমিটেডে (এসিআইএসএল) গত ১৭ জুলাই বাংলাদেশস্থ সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একসাথে চাকরিচ্যুতির নোটিশ দিয়ে বাংলাদেশ থেকে তাদের সকল কার্যক্রম ৩০ নভেম্বরের মধ্যে গুটিয়ে নেয়ার ঘোষণা দেয়। ক্ষতিগ্রস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ ও পাওনাদি আদায়ের ব্যাপারে অ্যাকসেঞ্চার ইমপ্লয়িজ ইউনিয়ন সিবিএ ম্যানেজম্যান্টের সঙ্গে দ্বি-পাক্ষিক আলোচনা শুরু করে। কিন্তু ম্যানেজমেন্টের অনিচ্ছায় আলোচনা থমকে যায়।

তিনি বলেন, অ্যাকসেঞ্চার ও গ্রামীণফোন ক্ষতিগ্রস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে যথাসামান্য অর্থ প্রদান করে তাদের দায় থেকে মুক্তি নিতে চায়। এই উদ্দেশ্যে তারা কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে মাত্র ৩০ মাসের বেসিক বেতন দিতে চায়, যা সর্বসাকুল্যে ১ বছরের মূল বেতনের সমান নয়।

তিনি আরও বলেন, অ্যাকসেঞ্চার ইমপ্লয়িজ ইউনিয়ন সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে ক্ষতিগ্রস্ত কর্মকর্তা কর্মচারীদের জন্য অন্তত ৬০ মাসের বেসিক বেতন প্রদানের আহ্বান জানায় এবং সর্বশেষ দাবি উত্থাপন করে, যা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অার্থিক ও সামাজিক অবস্থান রক্ষায় যৎসামান্যই ভূমিকা রাখবে। অ্যাকসেঞ্চার বাংলাদেশ আগামী ৩০ নভেম্বর বাংলাদেশ থেকে তাদের সকল কার্যক্রম গুটিয়ে নেবে। ফলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ন্যায্য পাওনা ও ক্ষতিপূরণ প্রাপ্তিতে আরও উদ্বেগ বেড়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ইউনি গ্লোবাল ইউনিয়ন বাংলাদেশ লিয়াজো কাউন্সিলের সভাপতি আমজাদ আলী খান সহ অন্যান্যরা।

ইন্টারনেটে ধীর গতি থাকবে তিন দিন

দেশের প্রথম সাবমেরিন ক্যাবল ‘সি-মি-উই-৪’ সোমবার রাত ১২টা ১৯ মিনিটে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে ২৪-২৬ অক্টোবর এই তিন দিন ইন্টারনেট সেবা বিঘ্নিত হবে।

ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন আইএসপিএবি-এর সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুল হক মঙ্গলবার বাংলা ট্রিবিউনকে একথা জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘এরই মধ্যে ইন্টারনেটে প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। তবে কিছু আইআইজি (ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে) ভালো করায় এখনও পুরোপুরি সমস্যা হয়নি। তবে এরই মধ্যে আমাদের কাছে গ্রাহকদের অভিযোগ আসতে শুরু করেছে। বিভিন্ন জায়গায় ইন্টারনেটে গতি খুব কম পাওয়া যাচ্ছে বলে তারা জানিয়েছে।’

প্রসঙ্গত, সি-মি-উই-৪ সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে এখন বাংলাদেশ পাচ্ছে ৩০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ। এরমধ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে ২৫০ জিবিপিএস, যা সরবরাহ করছে বিএসসিসিএল। তবে দেশে মোট ব্যান্ডউইথ ব্যবহারের পরিমাণ ৪৪০ জিবিপিএস।

জানা গেছে, দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলের (সি-মি-ইউ-৫)  সক্ষমতা ১০০ জিবিপিএস। এতে করে প্রায় ১৫০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ ঘাটতিতে পড়বে দেশ। এই প্রয়োজন আইটিসির ব্যান্ডউইথ দিয়েও মেটানো সম্ভব হবে না বলে মনে করছেন ইন্টারনেট ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা।

নতুন প্রযুক্তিতে বাড়বে বাড়ির ইন্টারনেটের স্পিড

ব্রডব্যান্ড কানেকশনে আমরা অনেকেই বাড়িতে ইন্টারনেট ব্যবহার করি। তবে, বহু ক্ষেত্রেই দেখা যায়, ইন্টারনেট কানেকশন আমরা ব্যবহার করি তার স্পিড খুব কম। এমন ইন্টারনেট গতিকেই এবার বাড়ানো যেতে পারে নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে।

সম্প্রতি ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের গবেষকরা নতুন এক প্রযুক্তি আবিষ্কার করেছেন। যার মাধ্যমে অনায়াসেই বাড়ানো যাবে ইন্টারনেটের গতি। ব্রিটেনে কম খরচে ব্রডব্যান্ড কানেকশন ব্যবহৃত হয়। নতুন রিসিভার প্রযুক্তির মাধ্যমে সেই ব্রডব্যান্ড কানেকশনের স্পিড 36Mbps থেকে অনায়াসেই 10,000Mbps-এ বাড়িয়ে দিলেন গবেষকরা।

এই প্রসঙ্গে মুখ্য গবেষক সিজার এরকিলিঙ্ক বলেছেন, ‘সাধারণত ইউকে-তে ইন্টারনেট স্পিড গড়ে 36Mbps থাকে। কিন্তু, আলট্রা হাই ডেফিনেশন ভিডিও কিংবা অনলাইন গেম-সহ বেশ কিছু কাজ হাইস্পিড ইন্টারনেট ছাড়া করা যায় না। নতুন প্রযুক্তিতে সেই স্পিড ১০০ গুণ বেশি করা সম্ভব হয়েছে।’

কী এই রিসিভার? অপটিক্যাল অ্যাকসেস নেটওয়ার্কে ব্যবহার করা হয় রিসিভার। যা, ইন্টারনেট সাবস্ক্রাইবার এবং তাদের সার্ভিস প্রোভাইডরের মধ্যে সংযোগ তৈরি করে। আর এভাবেই স্পিড বাড়ে ইন্টারনেটের। কত সংখ্যক মানুষ একই সময়ে অনলাইন রয়েছেন, তার কোনও প্রভাব এর মধ্যে পড়ে না।



Go Top