সকাল ৮:১২, বুধবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০১৭ ইং
/ তথ্য ও প্রযুক্তি

চলতি বছরেই বাংলাদেশ থেকে নিজেদের পুরোপুরি গুটিয়ে নিচ্ছে অনলাইনে হোটেল বুকিংয়ের মার্কেটপ্লেস জোভাগো ডটকম। রকেট ইন্টারনেটের সপ্তম ভেঞ্চার হিসেবে ২০১৫ সালের ৩০ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করেছিল তারা।

প্রতিষ্ঠানটির কান্ট্রি ম্যানেজার মেহরাজ মুয়ীদ জানিয়েছেন, বর্তমানে বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম বন্ধ আছে। তবে স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে কিনা সে সিদ্ধান্ত নেবেন রকেট ইন্টারনেটের কর্মকর্তারা।

এদিকে জোভাগো ডটকমের ওয়েবসাইট এখনও চালু থাকলেও এতে কোনো হোটেল বুকিং করা যাচ্ছে না। কাস্টমার কেয়ারের নম্বরও অচল। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে তাদের কার্যক্রম গুটিয়ে নেবে জানা গেছে।

বন্ধ হওয়ার আগে দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ১ হাজার হোটেল বুকিংয়ের সুবিধা ছিল জোভাগোয়।

‘ডাবল লকার’ আসলে ম্যালওয়্যার

অ্যান্টিভাইরাস নির্মাতা ইসেটের একদল নিরাপত্তা গবেষক ‘ডাবল লকার’ নামে এমন একটি ম্যালওয়্যারের সন্ধান পেয়েছেন যা ডাউনলোড করলেই অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনের সব তথ্য এনক্রিপ্ট করার পাশাপাশি পিন কোডও পরিবর্তন করতে পারেন হ্যাকাররা।

ফলে চাইলেও কোনো তথ্য ব্যবহার করতে পারেন না ফোনের মালিক। আর এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে ফোনের তথ্য সচল রাখতে অর্থ দাবি করে সাইবার অপরাধীরা। এ অবস্থায় দাবিকৃত অর্থ পরিশোধ করা হলেই কেবল ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়া যায়।

 

নিরাপত্তা গবেষকদের মতে, অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমে আঘাত হানা বিভিন্ন ম্যালওয়্যারের মধ্যে একমাত্র ‘ডাবল লকার’ একই সঙ্গে তথ্য এনক্রিপ্ট করার পাশাপাশি ডিভাইস লক করতে পারে। ফলে দূর থেকেই ব্যবহারকারীদের ডিভাইস চালু বা বন্ধ করতে পারে সাইবার অপরাধীরা

সরে দাঁড়ালেন স্যামসাংয়ের সিইও

স্যামসাংয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ওউন ওহিউন পদত্যাগ করেছেন। ‘অভূতপূর্ব সংকটে’র কারণে তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন বলে জানিয়েছেন। ওহিউন বলেন, ‘আমি অনেক দিন ধরে এটা নিয়ে ভাবছিলাম। অবশেষে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছি।’

 

স্যামসাংয়ের তিন জন সিইও’র একজন ওহিউন। আগস্টে গোটা স্যামসাং কোম্পানির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর শুক্রবার (১৩ অক্টোবর) তার এই পদত্যাগের ঘোষণা এলো। তবে একই দিনে স্যামসাং তাদের এ বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে রেকর্ড মুনাফার ঘোষণা দিয়েছে।

ওউন ওহিউন ২০১২ সাল থেকে স্যামসাংয়ের প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব পালন করে আসছেন। দুর্নীতির অভিযোগে স্যামসাং গ্রুপের উত্তরাধিকারী জে ইয়ং লির কারাদণ্ডের পর স্যামসাং ইলেকট্রনিকসের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি।

দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘আমরা অনেক সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছি। আমি মনে করি, দ্রুত পরিবর্তনশীল আইটি খাতে টিকে থাকার জন্য তরুণ নেতৃত্বের সাহায্যে নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করতে হবে।’

প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেও ওউন ওহিউন ২০১৮ সালের মার্চ পর্যন্ত স্যামসাং ইলেকট্রনিক্সের বোর্ড সদস্য হিসেবে থাকবেন।

এদিকে, শুক্রবারেই চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) এ বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে রেকর্ড মুনাফার ঘোষণা দিয়েছে স্যামসাং। দক্ষিণ কোরিয়ার এই টেক জায়ান্ট জানিয়েছে, এই তিন মাসে এক হাজার ২৮০ কোটি ডলার মুনাফা করতে পারে স্যামসাং, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৩শ শতাংশ বেশি।

মাইক্রোসফট পার্টনার অ্যাওয়ার্ড জিতেছে বাংলাদেশের ৫ প্রতিষ্ঠান

সম্প্রতি মাইক্রোসফটের আয়োজনে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল দ্বিতীয় বার্ষিক সাউথইস্ট এশিয়া নিউ মার্কেটস পার্টনার সামিট। উক্ত সামিটে বাংলাদেশ, ভূটান, ব্রুনাই, কম্বোডিয়া, লাওস, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, নেপাল, শ্রীলংকাসহ মোট ৯টি মার্কেটের ১৩৮জন প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ডের পার্টনার লিডাররাও এতে অংশ নিয়েছেন। মাইক্রোসফটের বিভিন্ন পণ্যের ওপর ভিত্তি করে গ্রাহকদের সঙ্গে যোগযোগ রক্ষা, কর্মীদের ক্ষমতায়ন, নিজেদের কর্ম-পরিচালনায় দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘কানেক্ট, কোলেবোরেট অ্যান্ড উইন টুগেদার’ শ্লোগানকে সামনে রেখে আলোচনা, জ্ঞানার্জন ও সহযোগিতা করার মাধ্যমে ব্যবসায়িক মডেল নতুনভাবে ঢেলে সাজানোর প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে দিয়েছে এই সামিট।

মাইক্রোসফটের পার্টনার মিশন ‘ওয়ান টিম’ এদিন সাফল্য উদযাপন করাসহ মাইক্রোসফট সল্যুশনসের ওপর ভিত্তি করে একে অপরকে সহযোগিতায় ব্যাপক গুরুত্ব দিয়েছে, যাতে করে গ্রাহকদের কার্যকর সেবা প্রদান করা যায়। দুদিনের সেশনে পার্টনাররা মাইক্রোসফটের অ্যাপাক লিডারশিপ টিমের সঙ্গে বিভিন্ন ধারনা আদান-প্রদান করার সুযোগ পেয়েছেন।

পার্টনার সামিট আয়োজনের মূল অংশ ছিল শেরাটন গ্র্যান্ড সুখুমভিত হোটেলে পার্টনার অ্যাওয়ার্ড সেলিব্রেশন নাইট। এদিন উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার নিউ মার্কেটসের জেনারেল ম্যানেজার মাইকেল সিমন্স, ক্ষুদ্র ও মাঝারি মার্কেট পার্টনারস সল্যুশনস গ্রুপের জেনারেল ম্যানেজার ভ্যালেরি বিউলেসহ মাইক্রোসফটের আরো অনেক অ্যাপাক লিডার।

সামিটে মাইকেল সিমন্স বলেন, ‘আমাদের পার্টনারদের প্রদানকৃত সেবায় নতুনত্ব ও ইতিবাচক প্রভাব দেখে আমি সত্যিই মুগ্ধ এবং কৃতিত্বের জন্য আমি বিজয়ী সকল পার্টনারকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। আমরা আমাদের গবেষণায় দেখেছি যে, এশিয়ার বিজনেস লিডারদের শতকরা ৪৪ ভাগ পুরো কৌশলগত পরিকল্পনায় ডিজিটালের ব্যবহার নিশ্চিত করেছে।

এছাড়া শতকরা ৯১ ভাগ লিডার মনে করেন যে তথ্যভিত্তিক ব্যবসায়িক মডেল বেশ গুরুত্বপূর্ণ। চতুর্থ শিল্প বিপ্লব দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার সার্বিক অর্থনীতিতে যুগান্তকারী পরিবর্তন নিয়ে আসবে। আর আমরা বিশ্বাস করি পার্টনারদের সঙ্গে মিলে মাইক্রোসফট বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাগুলোকে ডিজিটালে রূপান্তরের ব্যাপারে সহায়তা করার সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে। এতে করে এ অঞ্চলে বিপুল সংখ্যক মানুষের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত হবে।’

অন্যান্য দেশের পার্টনার ছাড়াও বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশের পাঁচটি মাইক্রোসফট পার্টনার উক্ত অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত হয়েছে। বাৎসরিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করায় ডিস্ট্রিবিউটর অ্যাওয়ার্ড ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত হয়েছে মাল্টিমোড লিমিটেড, সর্বোচ্চ আয় নিশ্চিত করে রিসেলার অ্যাওয়ার্ড জিতেছে কর্পোরেট প্রযুক্তি লিমিটেড, টেলিফোন শিল্প সংস্থা (টেশিস) লি. পেয়েছে ওইএম অ্যাওয়ার্ড এবং ক্লাউড সেবা প্রদানের জন্য বেস্ট ক্লাউড সল্যুশন পার্টনার ও ডিজিটাল বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক অবকাঠামো তৈরি করায় ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন অ্যাওয়ার্ড ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত হয়েছে আমরা টেকনোলজিস লিমিটেড।

এ প্রসঙ্গে মাইক্রোসফট বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোনিয়া বশির কবির বলেন, ‘পার্টনারদের সাফল্যে আমি তাদের অভিনন্দন জানাই। মূলত বিশ্বব্যাপী মানুষ ও বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পার্টনারদের সঙ্গে মিলে মাইক্রোসফটে থেকে আমরা কাজ করে থাকি। বিশ্বকে প্রযুক্তির ক্ষমতায় রূপান্তরের যে লক্ষমাত্রা মাইক্রোসফটের রয়েছে তা অর্জনে পার্টনার প্রতিষ্ঠানগুলো বিশেষ ভূমিকা রাখে, আর এভাবেই প্রতিটি পার্টনার প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফটকে প্রতিনিধিত্ব করে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর এমন সাফল্য দেখে আমি সত্যিই গর্বিত। পার্টনারদের সঙ্গে মিলে সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে এক হয়ে কাজ করার ব্যাপারে আমরা দৃঢ়-প্রতিজ্ঞ।

আপনার চিকিৎসক কেন নারী হওয়া প্রয়োজন

পুরুষদের তুলনায় নারী সার্জনের হাতে রোগীর মৃত্যুহার কম- একটি গবেষণায় এই তথ্য জানা গেছে। গবেষকরা বলেন, নারী চিকিৎসকদের মনে করা হয় বেশি দক্ষ, গাইডলাইন ফলো করায় ভালো এবং সহকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষায় উন্নত। গবেষকরা দেখতে পেয়েছেন যে, নারী সার্জনদের দ্বারা পরিচালিত অস্ত্রোপচারে রোগীর মৃত্যুহার ১২ শতাংশ কম।

এই গবেষণায়, মহিলা সার্জন কর্তৃক ২৫টি অস্ত্রোপচারের প্রক্রিয়া চলাকালীন রোগীর ফলাফল বিশ্লেষণ এবং একই অস্ত্রোপচারের ফলাফল পুরুষ চিকিৎসকের ক্ষেত্রেও বিশ্লেষণ করা হয়। কানাডার অন্টারিওর একটি হাসপাতালে ২০০৭ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে মোট ১,০৪,৬৩০ জন রোগী এবং ৩,৩১৪ জন সার্জনের ওপর এই গবেষণা সম্পন্ন করা হয়।

ফলাফলে দেখা যায়, পুরুষদের তুলনায় নারী সার্জনদের হাতে রোগীর মৃত্যুহার কম ছিল। যদিও অস্ত্রোপচারে নারী-পুরুষ সার্জনদের মানের এই পার্থক্য খুবই কম। পুরুষ সার্জনদের ২৩০টি অস্ত্রোপচারের মধ্যে নারীদের তুলনায় মাত্র ১টি অতিরিক্ত মৃত্যু ছিল। শুধু তাই নয়, পুরুষ চিকিৎসককর্তৃক যেসব রোগীরা চিকিৎসাগ্রহণ করেছিলেন, তাদের ভবিষ্যতে জটিলতা বা আবারো হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে এমনও দেখা যায়নি।

টরন্টো ইউনিভার্সিটির নতুন এই গবেষণাপত্রের লেখকরা ধারণা করছেন যে, নারী সার্জনদের যত্ন রোগীকেন্দ্রীক বেশি ছিল, গাইডলাইনেও সচেতনা বেশি ছিল এবং সহকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষায় তারা সব সময় দারুণ। গবেষণায় আরো প্রমাণ মিলেছে যে, নারীরা পুরুষদের তুলনায় কম ঝুঁকি নিয়ে থাকে এবং যদি কোনো ভুল হয় সহকর্মীদের কাছ থেকে সাহায্য চাইতে বেশি আগ্রহী থাকে।

রয়াল কলেজ অব সার্জনস এর প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ক্লেয়ার মার্কস এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ডেরেক অ্যালডারসন বলেন, এই গবেষণা রোগীদের এবং স্টাফদের নারী ডাক্তারদের বিরুদ্ধে একপেশে মনোভাব পরিবর্তনে সহায়ক হবে। তারা গবেষণাপত্রের সম্পাদকীয়তে লিখেছেন: ‘এই গবেষণা পুরুষ সহকর্মীদের তুলনায় দীর্ঘদিন ধরে নারীদের দক্ষতা, নিরাপদ ও অভিজ্ঞতা নিয়ে ভুল একপেশে ধারণা মোকাবেলায় সাহায্য করবে।’ তবে তারা এটাও উল্লেখ করেন যে, ‘রোগীদেরকে তাদের চিকিৎসক নারী না পুরুষ তা নিয়ে ভীত হবার প্রয়োজন নেই।’

২০১৫ সালের একটি গবেষণায় দেখানো হয় যে, পুরুষের তুলনায় নারী চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ আড়াই গুণ কম ছিল। বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন যে, নারী চিকিৎসকরা কঠোর পরিশ্রম করে কারণ তারা নিজেদের প্রমাণ করার জন্য মন থেকে তাড়া অনুভব করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নারীরা সার্জন হতে কম আগ্রহী থাকে কারণ তারা কম আত্মবিশ্বাসী হয় যে তারা সফল হবে। একজন সার্জন হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করার জন্য অন্তত ১০ বছর সময় লাগে এবং আরো ৬ বছরের বেশি সময় লাগে কনসালটেন্ট হওয়ার যোগ্যতা অর্জনে। ২০১৩ সালে ইউনিভার্সিটি অব এক্সেটারের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, নারীরা বিশ্বাসী ছিলেন যে, অস্ত্রোপচারের ক্যারিয়ার আসলে পুরুষের জন্য।

ইথিক্যাল হ্যাকারদের নিরাপত্তা সম্মেলন অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশের হ্যাকারদের নিয়ে অতিসম্প্রতি রাজধানীর একটি হোটেলে দেশীয় সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান বিটলস সাইবার সিকিউরিটি লিমিটেডের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো ইথিক্যাল হ্যাকারদের সিকিউরিটি কনফারেন্স ‘হ্যাকট্যাগ ২০১৭।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ফাইবার অ্যাট হোমের চিফ স্ট্র্যাটেজিক অফিসার সুমন আহমেদ সাবির, বিটলসের প্রধান নির্বাহী মো. মুকিত হালিম, পরিচালক নাহিদুল কিবরিয়া, শাহী মির্জা, তারেক সিদ্দিকী-সহ আরও অনেকে।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া ইথিক্যাল হ্যাকারদের একটি প্রতিযোগিতায় (সিটিএফ) অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হয়। ওই প্রতিযোগিতায় হ্যাকারদেরকে সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক সমস্যা সমাধান করার পাশাপাশি সিস্টেমের নিরাপত্তা ত্রুটি বের করতে বলা হয়। সেখান থেকে বিজয়ী সেরা তিনজন হ্যাকারকে পুরস্কৃত করে বিটলস।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন,বাংলাদেশে সাইবার নিরাপত্তার জন্য অনেকেই কাজ করছেন। ভবিষ্যতে এ দেশের সাইবার সিকিউরিটি ইন্ডাস্ট্রিকে শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার জন্য এখনই কাজ করতে হবে। যাতে এ দেশের দক্ষ সাইবার নিরাপত্তা কর্মী তৈরি হয়। তাদের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে দেশের সাইবার স্পেসের নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হয়।

ধূমপান ছাড়ার বিজ্ঞানসম্মত উপায়

ধূমপান ত্যাগ করা খুব সহজ কোনো ব্যাপার নয়।

তামাকের ব্যবহার প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। কিন্তু বেশ কিছু সমীক্ষায় দেখা গেছে, সম্পূর্ণ ধূমপান ত্যাগের জন্য ৩০বার পর্যন্ত চেষ্টা করা লাগতে পারে।

গত জুলাইতে যুক্তরাষ্ট্রের এফ.ডি.এ. (ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) সিগারেটে নিকোটিনের এর পরিমাণ কমিয়ে আনার পরিকল্পনা করে যাতে ব্যাবহারকারীদের এর প্রতি আসক্তি কমে। গবেষকরা মনে করেন সিগারেটে নিকোটিন এর পরিমান কমিয়ে আনা গেলে ধূমপায়ীদের জন্য ধূমপান ছাড়াও সহজ হবে, একই সঙ্গে নতুন ধূমপায়ীদের ধূমপানে আসক্তি থেকে বিরত রাখাও সহজ হবে।

ধূমপান ত্যাগের সহায়ক হিসেবে আছে চমৎকার কিছু বৈজ্ঞানিক উপায়। উইসকনসিন ইউনিভার্সিটির টোবাকো রিসার্চ অ্যান্ড ইন্টারভেনশন সেন্টারের ডিরেক্টর ড. মাইকেল ফিওরে ধূমপান ত্যাগের জন্য বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন।

* ধূমপান ত্যাগ করার আগে প্রস্তুতি
প্রথমেই এটা মনের রাখা জরুরি যে, ধূমপান ছাড়ার জন্য বিশেষ কোনো উপায় নেই, প্রকৃতপক্ষে ধূমপান ত্যাগ করা বেশ কষ্টসাধ্য কাজ কিন্তু আপনি চাইলে বেশ কিছু কৌশল অবলম্বন করতে পারেন যাতে করে প্রক্রিয়াটা সহজ হয়।

যদি আপনি ধূমপানে অভ্যস্ত হয়ে থাকেন, হুট করেই সিগারেট ছেড়ে দেয়া প্রায় অসম্ভব এক কাজ। তাই ধূমপান ছাড়ার আগে প্রথমেই কিছু পরিকল্পনা করে নেয়া ভালো। প্রথমেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে কেন আপনি ধূমপান ছাড়তে চাচ্ছেন? এটা হতে পারে আপনার নিজের স্বাস্থ্যের জন্য অথবা পরিবারের ভালোর জন্য। এর মাধ্যমে আপনি আপনার পরিবার এবং বন্ধুবান্ধবদের জানিয়ে দিতে পারেন যে, আপনি ধূমপান ছেড়ে দিতে চাচ্ছেন এবং ওই সকল প্রভাবকগুলো চিহ্নিত করুন যেগুলো আবার আপনার ধূমপান শুরুতে ভূমিকা রাখতে পারে।

* নিকোটিন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি
ধূমপান ছাড়ার প্রক্রিয়ায় নিকোটিনের বিকল্প হিসেবে নিকোটিন প্যাচ বা গাম ব্যাবহার করা যেতে পারে। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ এর মতে, এসব নিকোটিন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি খুব অল্প পরিমাণ নিকোটিন এর সাহায্যে আপনার ধূমপান ত্যাগের কিছু উপসর্গকে প্রশমিত করে। নিকোটিন হচ্ছে, টোবাকোর মধ্যে থাকা অত্যন্ত ক্ষতিকারক একটি উপাদান।

* ধূমপান ত্যাগের ওষুধ গ্রহণ
ধূমপান ছাড়ার জন্য কিছু নিকোটিনবিহীন উপায় ব্যাবহার করতে পারেন। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন, ভারেনিক্লাইন নামক ওষুধ যা বাজারে চেনটিক্স নামেও পরিচিত, ধূমপান ছাড়ার প্রথম কয়েক মাস এটা ব্যবহার করে দেখতে পারেন। জাইবান হচ্ছে, এ ধরনের আরেকটি কার্যকরী ওষুধ। এগুলো আপনার দেহের রিসেপ্টর এর নার্ভকে ব্লক করে নিকোটিনকে আপনার ব্রেনে ক্রিয়া করতে বাধা দেয়।

* কাউন্সেলিং
অন্যান্য সকল পদ্ধতির সঙ্গে সঙ্গে কাউন্সেলিং করাও ধূমপান ত্যাগে সহায়ক হিসেবে কাজ করে। এটা হতে পারে পরিবার, বন্ধুবান্ধব বা কাছের কোনো মানুষের সঙ্গে অথবা কোনো প্রফেশনাল এর সঙ্গে।

* মেডিটেশন
যদিও এটা নতুন একটা পদ্ধতি কিন্তু এরই মধ্যে ধূমপান ত্যাগে মেডিটেশনের ভূমিকার কথা জানা গেছে। ২০১৩ সালের এক গবেষণায় দুই দল মানুষের মধ্যে যারা নিয়মিত মেডিটেশনে অংশগ্রহন করেছিল তারা নিজেদের ধূমপানের পরিমাণ ৬০% পর্যন্ত কমাতে সক্ষম হয়েছিল। অন্য দলের ধূমপানের পরিমাণে কোনো পার্থক্য দেখা যায়নি। সুতরাং ধূমপান ত্যাগে আপনার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মেডিটেশনকেও রাখতে পারেন।

* ব্যায়াম
নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়ামের ফলে আপনার ধূমপানের ইচ্ছা হ্রাস পাবে। ধূমপান ছাড়ার উপসর্গ ব্যায়ামের মাধ্যমে কমানো যায়। বিশেষ করে জোরে হাঁটা বা দৌড়ানো, সাতার এবং সাইক্লিং এই ব্যায়ামগুলো বিশেষ উপকারী। ব্যায়ামের মাধ্যমে সিগারেট খাওয়া ছেড়ে দেয়ার ফলে মাঝে মাঝে যে ওজন বৃদ্ধি লক্ষ করা যায় তা কমানো যায়।

* অর্থের প্রলোভন
কথায় বলে টাকায় বাঘের চোখও মিলে। বেশ কয়েকটা সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, টাকার বিনিময়ে ধূমপান ত্যাগ কার্যকর এক উপায়। প্রায় আড়াই হাজার ধূমপায়ীর ওপর এক গবেষণায় বলা হয়েছিল, ৬ মাস ধূমপান না করলে তাদের ৮০০ ডলার করে দেয়া হবে। ওই সমীক্ষার রেজাল্ট দেখে পরে সমীক্ষাচালনাকারী প্রতিষ্ঠান নিজেদের কর্মীদের জন্যেও একই সুবিধা চালু করেছিল!

* ধূমপান ছাড়ার দিন নির্ধারণ
কেমন হবে যদি একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে ঠিক করলেন অনেক হয়েছে, আজ থেকে ধূমপান আর না। এভাবে হুট করে ছাড়া যদিও বেশ কষ্টকর, কিন্তু উপরে উল্লেখিত নিয়মগুলো মেনে চললে সারাজীবনের জন্যে ধূমপান ছাড়তে পারবেন আশা করা যায়। আরেকটা উপায় হতে পারে, একটা ডেট ঠিক করে সেদিন থেকে পুরোপুরি ধূমপান ছেড়ে দেয়ার মনস্থির করা। তবে আপনি যেটাই করেন না কেন, জরুরি ব্যাপার হচ্ছে একটা সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা করে এগুতে হবে। হুট করে ধরলাম আর হুট করে ছেড়ে দিলাম এমন চিন্তাভাবনা নিয়ে কখনোই এই বদভ্যাস ছাড়া যাবে না। হঠাৎ করে ভীষণ অবসাদের একটা দিন আসতে পারে। আবার হঠাৎ করেই সেলিব্রেট করার কোনো উপলক্ষ্য চলে আসতে পারে, পরিকল্পনা নিয়ে না এগুলে ঘুরেফিরে আবার পুরোনো বদ-অভ্যাস এ ফিরে যেতে পারেন।

* ই-সিগারেট
যদি সব কিছুই বিফলে যায় তাহলে শেষ উপায় হিসেবে বেছে নিতে পারেন ই-সিগারেট। ই-সিগারেটে নিকোটিন থাকে কিন্তু কোনো ক্ষতিকারক উপাদান নেই, যা আপনার ধূমপান ত্যাগে সিড়ি হতে পারে। যদিও এটা কিছুটা নতুন ধারণা এবং এটার ব্যাপারে খুব বেশি গবেষণা করা হয়নি তবুও এদের মধ্যে ক্যানসারের জন্য দায়ী কেমিক্যাল নেই। তবে এটাকে অবশ্যই ধূমপান ত্যাগের সিড়ি হিসেবে দেখতে হবে। তবে এ সিগারেটের সঙ্গে বাজারের সিগারেট ব্যবহার করা যাবে না।

বাম্প স্টক’ ভিডিও সরালো ফেসবুক

বন্দুকে কিভাবে ‘বাম্প স্টক’ ব্যবহার করতে হয়- এ ধরনের সব ভিডিও মুছে দিচ্ছে ইউটিউব। বন্দুকে বাম্প স্টক ব্যবহার করে দ্রুত গুলি করা যায়। মূলত আধা স্বয়ংক্রিয় বন্দুকে এই ডিভাইস ব্যবহারে করে দ্রুততম সময়ে অধিক সংখ্যক বার গুলি করা যায়।

গত ১ অক্টোবর আমেরিকার লাস ভেগাস শহরে একটি মিউজিক ফেস্টিভ্যালে আসা দর্শকদের ওপর পাশ্ববর্তী মান্দালে বে হোটেলের ৩২ তলার জানালা থেকে গুলি চালায় ঘাতক স্টিভেন প্যাডক। এ ঘটনায় ৫৮ জন নিহত হয় এবং আহত হয় পাঁচ শতাধিক মানুষ।

ঘাতক প্যাডক তার বন্দুকে বাম্প স্টক ব্যবহার করে এই ভয়াবহ বন্দুক হামলা চালায়। প্যাডকের বন্দুকে বাম্প স্টক থাকার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই বন্দুক বিশেষজ্ঞরা অনলাইনে বাম্প স্টকের ভিডিও সরানোর দাবি তোলে। এরই প্রেক্ষিতে বন্দুকে ‘বাম্প স্টক’ ব্যবহারের উপায় সংক্রান্ত ভিডিওগুলো মুছে ফেলছে ইউটিউব।

বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় এই ভিডিও প্লাটফর্মটির একজন মুখপাত্র ইন্ডিপেন্ডেন্টকে বলেন, ‘ক্ষতিকারক ও বিপজ্জনক কনটেন্টের বিরুদ্ধে আমরা দীর্ঘ সময় ধরে নীতিমালা করেছি। লাস ভেগাসের সাম্প্রতিক এই দুঃখজনক ঘটনার পরে, আমরা পর্যবেক্ষণে দেখতে পেয়েছি বন্দুকে কিভাবে বাম্প স্টক ব্যবহার করে বন্দুক আরো শক্তিশালী করা যায় এ ধরনের ভিডিওগুলো নীতিমালা বিরোধী। তাই এগুলো আমরা সরিয়ে ফেলছি। সহিংসতা উসকে দেয় অথবা বিপজ্জনক বা বেআইনী কার্যকলাপগুলোকে উৎসাহিত করে এমন সামগ্রী, যা গুরুতর শারীরিক ক্ষতি বা মৃত্যুর ঝুঁকি রয়েছে, সেগুলোর টিউটোরিয়াল প্রদর্শন করা হবে না।’

বাম্প স্টক ডিভাইসটি ১০০ ডলারে বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে কেনা যায় এবং এটি বিভিন্ন ধরনের রাইফেলে সহজেই ব্যবহার করা যায়।

গুগল আনছে ছোট আকৃতির বিশেষ ক্যামেরা

ছোট আকৃতির বিশেষ ক্যামেরা বাজারে আনতে কাজ করে যাচ্ছে গুগল। সম্প্রতি বিশ্বের সবচেয়ে বড় সার্চ ইঞ্জিন গুগল তাদের এই ডিভাইসের কথা গণমাধ্যমকে জানিয়েছে। আকারে ছোট হলেও ক্যামেরাটি হবে বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন।

 

গুগল জনিয়েছে, তাদের ক্যামেরাটির নাম হবে গুগল ক্লিপস। এই ক্যামেরা মানুষের চেহারা চিনতে সক্ষম হবে। এছাড়া, চালু করার পর ডিভাইসটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করবে। অর্থাৎ কখন থেকে ভিডিও রেকর্ড করতে হবে, তার জন্য কোনও কমান্ডের প্রয়োজন হবে না। নিজ থেকেই ভিডিও করা শুরু করবে এই ডিভাইসটি।

গুগলের এই ক্যামেরাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। যার মাধ্যমে একজন ব্যবহারকারী ক্যামেরার সঙ্গে তার পরিবারের সদস্যদের পরিচয় করিয়ে দিতে পারবেন। পরবর্তীতে সব সময় ক্যামেরাই তাদের চিনে নেবে। পরবর্তীতে ডিভাইসটি পরিবারের সদস্য চিহ্নিত করা মাত্রই ছবি তুলে রাখবে। এসব ছবি গুগলের পিক্সেল ফোনের একটি অ্যাপে দেখা যাবে।

গুগলের এই নতুন ক্যামেরা ব্যবহারকারীদের বেশ আনন্দ দেবে বলে মনে করছেন অনেকেই। তবে কারও কারও মতে, ক্যামেরাটি যেকোনও মুহূর্তের ছবি তুলে রাখার মাধ্যমে বিব্রতকর অবস্থার জন্ম দিতে পারে। এমনকি এটা মানুষের একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়গুলোও প্রকাশ করে দিতে পারে।

গুগল ক্লিপসের দাম হবে ২৪৯ ডলার। ক্যামেরাটি প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ছাড়া হবে। তবে ঠিক কোন সময়ের মধ্যে ডিভাইসটি বাজারে আসবে, তা এখনও জানায়নি গুগল কর্তৃপক্ষ।

বাংলা সাইটে সরাসরি গুগলের বিজ্ঞাপন: বাড়বে দেশীয় অ্যাপসের বাজার

সরাসরি বাংলায় গুগলে অ্যাড দেওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত হওয়ার খবরে দেশীয় অ্যাপসের বাজারে সুবাতাস বইতে শুরু করেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই সুবিধা চালু হওয়ায় বাংলা কনটেন্ট বাড়বে, সেখানে অ্যাডসেন্সের অ্যাড থাকবে। ফলে অ্যাপস নির্মাতাদের বিজ্ঞাপনের জন্য আর বসে থাকতে হবে না। তাদের মতে, দেশের তথ্যপ্রযুক্তি পণ্য ও সেবার বাজার আকার ৮০০ মিলিয়নের মতো। এরমধ্যে ২০ ভাগ অ্যাপস, ওয়েবভিত্তিক পণ্য ও সেবার। সেই বাজার বড় হতে শুরু করেছে। গুগলে বাংলা অন্তর্ভুক্তির ফলে আগামী দিনে এই বাজার আরও বড় হবে।

ইন্টারনেট পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বিশ্বে বর্তমানে ৫ মিলিয়নের বেশি তথা ৫০ লাখের বেশি যোগাযোগভিত্তিক ও সেবাধর্মী অ্যাপস রয়েছে। এর মধ্যে গুগল প্লে-স্টোরে ২৮ লাখ ও অ্যাপল (আইওএস) স্টোরে রয়েছে ২২ লাখ অ্যাপস রয়েছে। এর বাইরে আরও অ্যাপস রয়েছে কিছু জায়গায়।

এদিকে অ্যাপস জিনি পোর্টাল জানাচ্ছে, ২০১৬ সাল পর্যন্ত প্লে-স্টোরগুলোয় বাংলাদেশের ডেভেলপারদের তৈরি অ্যাপ ছিল ৩ লাখ। যদিও বর্তমানে তা বেড়েছে বলে জানা গেছে।
দেশীয় অ্যাপসের বাজার, সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সভাপতি মোস্তাফা জবব্বার গুগলে সরাসরি বাংলা অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘সব ধরনের ডিজিটাল পণ্য ও সেবার জন্য এটি ভালো হলো।’ আর অ্যাপসের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যে অ্যাপের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক তৈরি হয় না, তা কখনও সফল হতে পারে না। অ্যাপস তৈরির আগে মানুষের সমস্যা ও প্রয়োজনটা বুঝতে হবে। আমাদের দেশে এসব বিশ্লেষণ করে অ্যাপস তৈরি করা হচ্ছে না বলে সেই মাপের সফলতা আসছে না। অথচ বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।’

মোস্তাফা জব্বার আরও বলেন, ‘দেশে অ্যাপস বানানোর সময় দেশের মানুষকে অগ্রগণ্য না ভেবে বিদেশকে টার্গেট করা হয়। অথচ দেশে ১৩ কোটি মানুষ মোবাইলফোন ব্যবহার করে। এটাই বিশাল একটা বাজার। নিজেদের বাজার ধরতে পারলেও বড় অভিজ্ঞতা অর্জন হয়। এ ক্ষেত্রে বাংলা অনেক সহায়তা করতে পারে।’ 

দেশের অ্যাপস বিষয়ে জানতে চাইলে অ্যাপস নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এমসিসি লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী আশরাফ আবীর বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ‘দেশের বেশ কিছু অ্যাপস ভালো করছে। আগামীতে অ্যাপসগুলো আরও ভালো করবে।’ এর পেছনে স্মার্টাফোনের ব্যবহার, ইন্টারনেট গ্রাহক বৃদ্ধিকে কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করে বলেন, ‘দেশে এখনও অ্যাপসের ইকোসিস্টেম তৈরি হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্যায়ে অ্যাপস নিয়ে পড়াশোনা শুরু করতে হবে, শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানের মানসিকতা থাকতে হবে। ইনোভেটিভ হতে হবে। তাহলেই অ্যাপস নিয়ে ভালো কিছু করা যাবে।’ 

এমসিসি এ পর্যন্ত দুই শতাধিক অ্যাপ তৈরি করেছেন। এর মধ্যে মীনা, লেট’স ইট, রূপকথা, পুলিশ স্টেশন (থানা) নামের অ্যাপগুলো বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। এর মধ্যে মীনা গেমস তো বেশ কিছুদিন গুগলের টপচার্টে ছিল। আশরাফ আবীর জানালেন, ‘এখন পর্যন্ত গেমটি প্লে স্টোর থেকে সাড়ে চার লাখ বার ডাউনলোড হয়েছে। ব্র্যান্ডনেম, ইউনিসেফের পণ্য, চকচকে ঝকঝকে দৃশ্য, চমৎকার আর্টওয়ার্ক ইত্যাদির কারণে মীনা জনপ্রিয়তা পেয়েছে বলে তিনি জানান। আগামীতে চিলড্রেন প্রোফাইল ও মিট মিনা নামে অ্যাপস আসার কথাও জানা গেল। 


শুধু অ্যাপ তৈরি করাই নয়, নিয়মিতভাবে অ্যাপ ডেভেলপ করা, বিপণন করা, গ্রাহকদের বাজেট বরাদ্দ রাখা এবং এর জন্য পৃথক উইং খোলা না হলে সংশ্লিষ্ট অ্যাপ থেকে সুফল পাওয়া যাবে না। বরং এগুলো করা হয় না বলেই অ্যাপ শিল্পটা প্রকৃত অর্থে এখনও শিল্প হয়ে উঠতে পারছে না। 
গবেষণা প্রতিষ্ঠান প্রেনিউর ল্যাবের প্রধান নির্বাহী আরিফ নেজামী বলেন, দেশের অ্যাপস বাজারের অবস্থা ভালো। এখন থেকে আরও ভালো হবে। গুগলে সরাসরি বাংলা এসে গেছে। বাংলায় প্রচুর কনটেন্ট তৈরি হবে। গুগল অ্যাডসেন্স থেকে আয়ও হবে। আরিফ নেজামী জানালেন, কিছুদিনের মধ্যে দেশীয় অ্যাপের বাজার আকার দ্বিগুণ হয়ে যাবে। যুক্তি হিসেবে তুলে ধরেলেন বাংলার কারণে বাজার বড় হবে। আর ভারতের পশ্চিম বঙ্গের বাজার ধরলে তা এক লাফে দ্বিগুণ হয়ে যাবে। 
তবে প্রেনিউর ল্যাবের প্রধান জানালেন, গুগলের সঙ্গে অ্যাপস বিষয়ক মনেটাইজেশন সমস্যা বড় একটা জটিলতা তৈরি করেছে। গুগল বাংলাদেশে অপারেটর বিলিংয়ের সঙ্গে কানেক্টেড নয়। ফলে অ্যাপ ডেভেলপারদের কোনও মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট নেই। এজন্য অ্যাপস বিক্রিও করা যায় না। আর এ কারণে দেশের ডেভেলপাররা প্লে-স্টোর থেকে কোনও অ্যাপ ডাউনলোড হলে অর্থ পায় না। এই সমস্যা দূর হয়ে গেলে বাংলাদেশের অ্যাপসই একদিন বিশ্ব মাতাবে। 
ইন্টারনেট পর্যালোচনায় দেখ গেছে, দেশীয় প্রতিষ্ঠান রাইজ আপ ল্যাবসের তৈরি ট্যাপ ট্যাপ অ্যান্ট এরই মধ্যে কয়েক কোটিবার ডাউনলোড হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানের তৈরি হাইওয়ে চেজ ছাড়াও অ্যান্ট সিরিজের অন্যান্য অ্যাপও দেশ-বিদেশে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

সম্প্রতি মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় অ্যাপ ‘মুসলিম প্রো’ বিক্রি হয়েছে ৮ ডিজিটের আমেরিকান ডলার অংকে। ধারণা করা হচ্ছে কয়েক কোটি ডলারে বিক্রি হয়েছে অ্যাপটি। সিঙ্গাপুরের সিআইএমএ ক্যাপিটাল পার্টনারস এবং মালয়েশিয়ার আফিন হং অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট যৌথভাবে অ্যাপটি কিনে নিয়েছে।

প্রেনিউর ল্যাব জানায়, বর্তমানে বাংলাদেশে সর্বাধিক ব্যবহৃত অ্যাপগুলো হলো—ফেসবুক, ভাইবার, আইএমও, শেয়ার ইট, ক্ল্যাশ অব ক্ল্যান, হোয়াটসঅ্যাপ, ইউসি ব্রাউজার, অপেরা মিনি, 

বিলম্ব নয়, তিন মাসের মধ্যেই ফোর-জি : তারানা

ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেছেন, বিলম্বিত হওয়ার কোনো কারণ 

নেই, তিন মাসের মধ্যেই ফোর-জি চালু হচ্ছে। অপারেটররা ইতোমধ্যে ফোর-জি চালু করার সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করেছে।

বুধবার সকালে ফোর-জি সেবা কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাইলে জাগো নিউজকে তিনি এসব কথা বলেন।

 

তারানা হালিম বলেন, ‘ফোর-জি নীতিমালায় গ্রাহকের ব্রাউজিং কার্যক্রমসহ বিভিন্ন তথ্য এক যুগ সংরক্ষণ রাখার ধারাসহ ২৩টির মত বিষয়ে আপত্তির কথা জানায় অপারেটরগুলো। যে ২৩টি আপত্তির কথা বলেছে তার অধিকাংশই তারা ভুলভাবে ব্যাখ্যা করছে। এর বেশিরভাগই ভুল ব্যাখ্যার কারণে সেগুলো বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘যত ভুল বুঝাবুঝি হোক ফোর-জি চালুর বিষয়ে বিলম্বিত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এ বছরের অবশিষ্ট ৩ মাসের মধ্যেই ফোর-জি চালু হবে। অপারেটররা সেটা করবে। ইতোমধ্যে অপারেটররা ফোন-জি চালু করার সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করেছে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ফোর-জি গাইড লাইনের কয়েকটি জায়গায় এখন কিছু ব্যাখ্যা সংযোজন করা হবে। ব্যাখ্যা সংযোজনের কাজ কয়েকদিনের মধ্যেই শেষ হবে এবং যেকোনোভাবেই হোক ডিসেম্বরের মধ্যেই দেশে ফোর-জি চালু হবে। এটা হবে আমাদের প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন।’

সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে ফোর-জি নীতিমালায় অনুমোদন দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর এই অনুমোদনই ছিল দেশে ফোর-জি চালুর প্রক্রিয়ায় অনত্যম অগ্রগতি। ফোর-জি এর নীতিমালা অনুযায়ী ২১০০ মেগাহার্জ, ১৮০০ মেগাহার্জ এবং ৯০০ মেগাহার্টজ তরঙ্গ নিলাম হবে। যার মধ্যে ২১০০ ব্যান্ডের প্রতি মেগাহার্জের নিলামের ফ্লোর মূল্য হবে ২ কোটি ৭০ লাখ ডলার। আর ১৮০০ ও ৯০০ ব্যান্ডের প্রতি মেগাহার্ডজ স্পেকট্রামের নিলামের ভিত্তি মূল্য হবে তিন কোটি ডলার।

এর বাইরে প্রযুক্তি নিরপেক্ষতার জন্য দিতে হবে প্রতি মেগাহার্জে ৭৫ লাখ ডলার। স্পেকট্রামের দামের তারানা হালিম বিষয়ে বলেন, নির্ধারণ করা দামের বিষয়ে অপারেটরদের কোনো আপত্তি আসেনি। এ দাম সহনীয় বলে আমরা মনে করি।

স্টিভ জবসের মৃত্যুর পর কেমন চলছে অ্যাপল

 অ্যাপলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবস এর মৃত্যুর প্রায় ছয় বছর পর, তার নিজ হাতে গড়া সিলিকন ভ্যালির অন্যতম বৃহৎ এই প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি দিন দিন বড় এবং শক্তিশালীই হচ্ছে। যদিও স্টিভ জবসের মৃত্যুর পর অনেকেই সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন যে, এত বড় একজন স্বপ্নদর্শী নেতার মৃত্যুর পর আদৌ অ্যাপল ভবিষ্যতে কতদূর যেতে পারবে।

প্রায় এক দশক ধরে অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের সঙ্গে লড়াইয়ের পর ২০১১ সালের ৫ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন স্টিভ জবস।

স্টিভ জবস তার দূরদৃষ্টি ও দৃষ্টিভঙ্গির জন্য বিখ্যাত ছিলেন। অ্যাপল এর সাবেক কিছু কর্মচারীদের মতে, প্রাক্তন এই প্রধান কর্মকর্তার মৃত্যুর পর অ্যাপল এর আভ্যন্তরীণ অফিস সংস্কৃতি অনেকটাই বদলে গেছে।

সাবেক অ্যাপল কর্মচারীদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কোম্পানিটি খুব কাছ থেকে তার অনুপস্থিতি অনুধাবন করতে পারছে।

স্টিভ জবসের অধীনে অ্যাপল মূল ম্যাক, প্রথম ভর-উৎপাদিত কম্পিউটার মাউস, আইপড, আইফোন এবং আইপ্যাডের মতো ল্যান্ডব্রেকিং পণ্যগুলো বাজারে এসেছিল এবং শতভাগ ভোক্তা সন্তুষ্টি অর্জন করেছিল।

স্টিভ জবস জীবিত থাকাকালেই শারীরিক অসুস্থতাজনিত কারণে সিইও পদ থেকে সরে দাঁড়ান। সেই সময়েই সিওও থেকে সিইও পদে উন্নীত হন টিম বুক।

কিন্তু বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান কোম্পানিটির দায়িত্ব গ্রহণ করার পর থেকেই, তার অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের কারণে টিম কুক অ্যাপলে তার নতুন উদ্ভাবনী চিন্তা ধারা হারিয়ে ফেলে। ২০১১ সালের মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ দুটোই দেখে ফেলেন তিনি। তার সময়েই অ্যাপল শেয়ারের দাম হয় ৭০২.১ ডলার, যা এখন পর্যন্ত অ্যাপলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ। এরপর থেকে অবশ্য অ্যাপলের শেয়ারের মূল্য পতন হতে শুরু করে। তবে বর্তমানে খুব ভালোই চলছে অ্যাপল।

আর্থিক ক্ষেত্রে অ্যাপল তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন শুরু করে ২০১৫ সাল থেকে। ২০১৫ অর্থবছরের কোম্পানিটি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে ২৪৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং তাদের মোট আয় দাঁড়ায় ৫৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। উভয় পরিসংখ্যানই স্টিভ জবস চাকরির ছাড়ার পর থেকে ২০১১ সালের অক্টোবরে অগ্ন্যাশয় ক্যানসারের কারণে মৃত্যু হওয়ার আগ পর্যন্ত চূড়ান্ত নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা এবং আয়ের দ্বিগুণ। বর্তমানে অ্যাপল কোম্পানিটির বাজার মূল্য ৬০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যদিও তা ২০১৫ সালের বাজার মূল্যের চেয়ে অনেক কম, কিন্তু ২০১১ সাল এর তুলনায় তা দ্বিগুণেরও বেশি এবং বর্তমানে এটি বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান কর্পোরেশন হিসেবে অধিষ্ঠিত।

এছাড়াও অ্যাপল এ বছর যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজিত তাদের ডব্লিউডব্লিউডিসি অনুষ্ঠানে ভোক্তাদের জন্য বেশ কিছু চমকপ্রদ পণ্য নিয়ে আসে।

অ্যাপল সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্ট্রিমিং মিউজিক এবং মোবাইল পেমেন্ট এর মতো নতুন সেবাগুলোতে নিজেদের ব্যবসাকে প্রসারিত করেছে। ভার্চুয়াল রিয়েলিটি এবং অটো ড্রাইভিং টেকনোলজি নিয়েও কাজ করতে যাচ্ছে। তবে এখনও পর্যন্ত এর রাজস্ব এবং মুনাফার বড় অংশ আসে আইফোন থেকে।

স্টিভ জবসের হাত থেকে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে টিম কুক কোম্পানিটির গবেষণা ও উন্নয়ন খাতে ব্যয়ও দ্বিগুণ করেছেন। তাই সার্বিক বিবেচনায় এ কথা বলাই যায় যে, টিম কুক এখনো পর্যন্ত অ্যাপলকে সঠিক ট্র্যাকেই এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। যদিও এ কথা বলার এখনই উপযুক্ত সময় নয়, কারণ স্টিভ জবসের ছায়া থেকে অ্যাপলকে বের করে নিয়ে আসতে তাকে আরো অনেক কাঠখড় পোড়াতে হবে, পাড়ি দিতে হবে অনেক বন্ধুর পথ।
 

গুগলের কাছে ৯ অ্যাকাউন্টের তথ্য চেয়েছে সরকার

গত ছয় মাসে গুগলের কাছে ৯টি অ্যাকাউন্টের তথ্য চেয়েছে সরকার। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত এ অনুরোধগুলো জানানো হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার গুগলের ট্রান্সপারেন্সি প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

গুগলের ট্রান্সপারেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, এবার গুগলের কাছে বাংলাদেশ থেকে আটটি অনুরোধ যায়। আটটি অনুরোধে নয়টি অ্যাকাউন্টের তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে। গুগল তার মধ্যে ২৫ শতাংশ তথ্য সরবরাহ করেছে।

 

গুগলের তথ্য অনুযায়ী, তাদের কাছে বাংলাদেশ সরকারের তথ্য চাওয়ার হার বেড়েছে। ২০১৫ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বরে প্রথমবার ৭টি অনুরোধে ১৩টি অ্যাকাউন্টের তথ্য চাওয়া হয়েছিল।

এরপর ২০১৬ সালে জানুয়ারি থেকে জুন এ ছয় মাসে দুটি অনুরোধে তিনটি অ্যাকাউন্টের তথ্য চাওয়া হয়। ২০১৬ সালের শেষ ছয় মাসে তিনটি অনুরোধে তিনটি অ্যাকাউন্টের তথ্য চাওয়া হয়েছিল। এবার মোট আটটি অনুরোধ গেছে।

বিভিন্ন দেশের আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা, আদালত গুগলের কাছ থেকে তথ্য চেয়ে থাকে। গুগল কর্তৃপক্ষের দাবি, তারা পর্যালোচনা করে তাদের নীতিমালা অনুয়ায়ী সংশ্লিষ্ট দেশকে সেসব তথ্য দিয়ে থাকে। ২০০৯ সাল থেকে গুগল এ ট্রান্সপারেন্সি প্রতিবেদন প্রকাশ করা শুরু করেছে।

তাদের তথ্য অনুযায়ী, এ বছরের প্রথমার্ধে বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন দেশের সরকারের পক্ষ থেকে তথ্য চাওয়ার হার আগের তুলনায় বেড়েছে। জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত গুগলের কাছে ৮৩ হাজার ৩৪৫টি অ্যাকাউন্ট সম্পর্কিত তথ্য চেয়ে ৪৮ হাজার ৯৪১টি অনুরোধ পেয়েছে। এর মধ্যে ৬৫ শতাংশ ক্ষেত্রে তথ্য দিতে হয়েছে গুগলকে।

সাইবার অ্যাটাক থেকে রক্ষা পেতে জরুরি জনসচেতনতা

শুধু টেকনোলজি দিয়ে নিজেদের সাইবার অ্যাটাক থেকে রক্ষা যাবে না, এজন্য জনসচেতনতা সৃষ্টি সবচেয়ে জরুরি বলে জানিয়েছে সাইবার ক্রাইম অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশন নামক একটি সংগঠন।

শুক্রবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতা মাস অক্টোবর-২০১৭ উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে সাইবার ক্রাইম অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশন নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। এবারের সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতা মাস ২০১৭ এর মূল প্রতিপাদ্য ‘থামুন! ভাবুন! যুক্ত হোন!’।

 

২০০৪ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র, ২০১১ থেকে নরওয়ে এবং ২০১২ থেকে ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে অক্টোবর মাসকে সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতা মাস হিসেবে পালন করে আসছে। সাইবার দস্যুতা থেকে নিরাপদে থাকতে ম্যাসব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি নেয়া হয় এ মাসে।বাংলাদেশে ২০১৬ সাল থেকে সাইবার নিরাপত্তা মাস হিসেবে পালন করে আসছে সাইবার ক্রাইম অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশন নামের এ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটি।

বক্তারা বলেন,আমরা সচেতন থাকলে অনেক ধরনের ম্যালওয়্যার থেকে সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব। শুধু ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরাই নয়, প্রত্যেক মানুষ সাইবার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। আমাদের নিজেদের সাইবার সুরক্ষার জন্য স্ট্যান্ডার্ডগুলো কীভাবে ব্যবহার করব তা জানতে হবে। অপরাধীরা আমাদের দুর্বল পয়েন্টগুলোতে অ্যাটাক করে, এর সুরক্ষার জন্য অ্যাওয়ারনেস দরকার। ই-মেইলের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের ম্যালওয়্যার আসে, সেগুলো ক্লিক করলে ডিভাইসে স্টোর হয়।শুধু ইন্টারনেট ব্যাবহারকারী নয়, প্রত্যেক মানুষই সাইবার ঝুঁকিতে আছে। রিকশা আছে জানলে আমরা ম্যালওয়্যার অ্যাটাক থেকে মুক্ত হতে পারি। অনেক সময় আকর্ষণীয় ইমেজ দিয়ে হ্যাকাররা মেইল পাঠায়, ক্লিক করলেই অ্যাটাক করে। সচেতন থাকলে এগুলো থেকে সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব।

এসময় সাইবার নিরাপত্তার জন্য বিভিন্ন সুপারিশ উপস্থাপন করা হয় সংগঠনের পক্ষ থেকে। এর মধ্যে রয়েছে জনসচেতনতা তৈরি, এ ধরনের সামাজিক উদ্যোগে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা, সাইবার নিরাপত্তায় দক্ষ জনশক্তি তৈরি, গণসেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোর সাইবার ঝুঁকি চিহ্নিত করা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ হাসান,আইসাকা ঢাকা চ্যাপ্টারের সেক্রেটারি ওমর ফারুক খন্দকার, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক প্রকৌশলী সৈয়দ জাহিদ হোসেন প্রমুখ।

মহাকাশে আরো এক স্টেশন!

পৃথিবীতে বসে মহাকাশ নিয়ে যে গবেষণাগুলো করা সম্ভব নয়, সেই গবেষণাগুলো করা হয়ে থাকে মহাকাশে অবস্থিত আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে বসে। এটি মহাকাশচারীদের জন্য একটি বাসযোগ্য কৃত্রিম উপগ্রহ। এখানে অবস্থান করে মহাকাশের অজানা বিষয়ের রহস্য ভেদ করার গবেষণা করে থাকেন মহাকাশচারীরা।

ভূপৃষ্ঠ থেকে ৩৫৪ কি.মি ওপরে অবস্থিত আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন পৃথিবীর কক্ষপথে ঘুরপাক করে। এটি প্রতিদিন ১৫.৭ বার পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে।

এসব তথ্য আমাদের সকলেরই জানা। নতুন খবর হচ্ছে, মহাকাশে স্থাপিত হতে যাচ্ছে বসবাসযোগ্য আরো একটি স্টেশন। সঙ্গে বিস্ময়কর তথ্য হচ্ছে, নতুন মহাকাশ স্টেশনটি পৃথিবী নয়, বরঞ্চ চাঁদকে প্রদক্ষিণ করবে!

রাশিয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যৌথ উদ্যোগে তৈরি করছে ‘ডিপ স্পেস গেটওয়ে’ নামক নতুন এই স্টেশন, যা চাঁদের কক্ষপথে স্থাপন করা হবে। এটি মানুষকে সুযোগ দেবে পৃথিবীর বাইরে অতীতের তুলনায় আরো বেশি দূরে যাওয়ার।

বাসযোগ্য এই স্থান চাঁদের চারপাশে কক্ষপথে ঘুরবে এবং মহাকাশে আরো গভীরে গবেষণা করার সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি চাঁদ থেকে পৃথিবীতে ফিরতি মিশন এবং মঙ্গল গ্রহে মিশন পরিচালনা করা যাবে।

 

 


চাঁদের কক্ষপথে স্টেশন স্থাপনের প্রথম মডিউল ২০২৪ সালে সম্পন্ন হতে পারে এবং মডিউলটির নির্মাণ শুরু হবে ২০২২ সালে। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের মতো নতুন এই স্টেশনটি বিশ্বব্যাপী মহাকাশচারীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

বুধবার, অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক মহাকাশচারী সম্মেলনে এক বক্তব্যে রাশিয়ার মহাকাশ সংস্থার প্রধান কর্মকর্তা রসকসমস ইগোর কোমারোভ বলেন, ‘আমরা একমত হয়েছি যে আমরা যৌথভাবে এই প্রকল্পে অংশগ্রহণ করবো এবং আন্তর্জাতিক চন্দ্র কক্ষপথ স্টেশন ডিপ স্পেস গেটওয়ে নির্মাণ করবো।’

স্পুটনিক নিউজকে তিনি বলেন, ‘প্রথম পর্যায়ে আমরা চাঁদের কক্ষপথে বসবাস করা যায় এমন একটি অংশ তৈরি করবো, যেটির ভবিষ্যত লক্ষ্য হবে চাঁদে পূর্ণ প্রযুক্তির বাস্তবায়ন। পরবর্তীতে আমরা মঙ্গলের কক্ষপথেও বাসযোগ্য স্টেশন নির্মাণ করবো।’

এই প্রকল্পে ভারত, চীন ছাড়াও বিআরআইসিএস দেশগুলোর (ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা) অন্য সদস্যরাও যোগ দিতে পারে।

২০১৬ সালে চাঁদের কক্ষপথে স্টেশন স্থাপনের পরিকল্পনা প্রথম প্রকাশ করা হয়েছিল, দীর্ঘ অপেক্ষা শেষে যেটির বাস্তবায়নের ঘোষণা এবার দেওয়া হলো। ২০২২ সালে নাসার স্পেস লঞ্চ সিস্টেম (এসএলএস) ব্যবহার করে ডিপ স্পেস গেটওয়ে লঞ্চ করা হতে পারে। গেটওয়েতে এমন একটি সিস্টেম ব্যবহার করা হবে যা বাণিজ্যিক মহাকাশ যানগুলোকে স্টেশনে অবস্থান করার করার সুবিধা দেবে। পাশাপাশি ডিপ স্পেস যানগুলো সেখান থেকে মানুষকে মঙ্গল গ্রহে যাওয়ার সুযোগ দেবে। এছাড়াও ডিপ স্পেস যানগুলো মহাকাশচারীদের সৌর সিস্টেমের কাছাকাছি যাওয়ার জন্য উপযোগী করে তৈরি করা হচ্ছে।

 


এই স্টেশন থেকে ভবিষ্যতে ক্রুরা মঙ্গল গ্রহের পৃষ্ঠে ল্যান্ডার অবতরণ করতে সক্ষম হতে পারে। চাঁদের কক্ষপথে থাকাকালীন অন্যান্য বৈজ্ঞানিক ও রোবটিক মিশন পরিচালনা করতে পারে।

চাঁদের কাছাকাছি অবস্থান করার পরিকল্পনার নেতৃস্থানীয় মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা চলতি বছরের মার্চ মাসে এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল, সেখানে মহাকাশচারীগণ মঙ্গলের পাশাপাশি অন্যান্য গভীর স্থানগুলোর গন্তব্যস্থলে চ্যালেঞ্জিং মিশনের জন্য প্রয়োজনীয় সিস্টেমগুলো পরীক্ষা করবে।’

নাসার সাম্প্রতিক বিবৃতিতে জানানো হয়, ‘চাঁদের কাছাকাছি অবস্থানের জায়গাটি এমন, যা সত্যিকার অর্থে গভীর স্থানের পরিবেশ। যেটিতে মানুষ পাঠানো ছাড়াও ধীরে ধীরে সৌর জগতের আরো গভীরে প্রবেশ করাটা সম্ভব হবে। চাদেঁর পৃষ্ঠে রোবটিক মিশন পরিচালনার সুযোগ দেবে এবং প্রয়োজনে মাস কিংবা সপ্তাহের পরিবর্তে ১ দিনে পৃথিবীতে ফেরত আসা সক্ষম হবে।’

সেখানে যাওয়ার বাহনগুলোর অভ্যন্তর খুবই সুরক্ষিতভাবে ডিজাইন করা হচ্ছে যেন ডিপ স্পেসের কঠোর পরিবেশে মহাকাশচারীরা সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকতে পারে। গেটওয়েটি নিজস্ব একটি সোলার ইলেকট্রিক প্রপুলেশন (এসইপ) সিস্টেম দ্বারা চালিত হবে, নতুন এই প্রযুক্তি ডেভেলপ করছে নাসা।

গুগল অ্যাডসেন্সে যুক্ত হলো বাংলা ভাষা

বিশ্বের প্রধান সার্চ ইঞ্জিন গুগলের অ্যাডভার্টাইজমেন্ট ওয়েব-অ্যাপ্লিকেশন অ্যাডসেন্সে যুক্ত হয়েছে বাংলা ভাষা। এর ফলে বাংলা ভাষার ওয়েবসাইটগুলোও এখন থেকে সুবিধা নিতে পারবে অ্যাডসেন্সের।

মঙ্গলবার (২৬ সেপ্টেম্বর) এক ব্লগপোস্টের মাধ্যমে বিষয়টি জানায় যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গুগল। তার আগে সিঙ্গাপুরে গুগলের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় ‘টপ কন্ট্রিবিউটর সামিট’। সেখানে প্রাথমিকভাবে বিষয়টি জানানো হয়।

অ্যাডসেন্সের ব্লগে দেওয়া পোস্টে বলা হয়, আমরা অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, বাংলাদেশ, ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কোটি কোটি মানুষের ভাষা বাংলা গুগল অ্যাডসেন্সে যুক্ত হয়েছে।

এতে জানানো হয়, গত কয়েক বছরে বাংলা ভাষার কনটেন্টে মানুষের আগ্রহ ক্রমেই বেড়েছে। এই বাংলায় তৈরি কনটেন্ট থেকে নগদ অর্থ আয় এবং ক্রমবর্ধমান বাংলাভাষী অডিয়েন্সের কাছে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞাপন পৌঁছে দিতে বিজ্ঞাপনদাতাদের সহায়তা করছে অ্যাডসেন্স।

অ্যাডসেন্স হলো গুগলের সহায়তায় ওয়েবসাইট থেকে সহজে আয়ের মাধ্যম। বিশ্বের ওয়েবসাইটের মালিকেরা এ ওয়েব-অ্যাপ ব্যবহারের মাধ্যমে হাজারো ডলার আয় করছেন। সাধারণত ভিজিটর বেশি থাকে, এমন ওয়েবসাইটগুলো থেকে অ্যাডসেন্সের আয় বেশি হয়।

সরাসরি কোনো প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন পাওয়া অনেক দুরূহ বিধায় অনেক ওয়েবসাইট কর্তৃপক্ষ অ্যাডসেন্স ব্যবহারে আগ্রহী হন। এক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বিজ্ঞাপন সংগ্রহ করে থাকে গুগল। এরপর তারা সেগুলো অ্যাডসেন্স ব্যবহারী ওয়েবসাইটগুলোতে প্রদর্শন করে।

বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছ থেকে যে অর্থ পাওয়া যায়, তা কনটেন্টের ক্ষেত্রে ৬৮ শতাংশ এবং সার্চের ক্ষেত্রে ৫১ শতাংশ সাইট কর্তৃপক্ষকে দিয়ে দেয় গুগল। ওয়েবসাইটের পাশাপাশি ইউটিউব এবং মোবাইল অ্যাপেও ব্যবহার করা যায় অ্যাডসেন্স।

বাংলা ভাষায় গুগল অ্যাডসেন্সের ব্যবহার সম্পর্কে জানতে এবং গুগল অ্যাডসেন্সের ব্যবহারকারী হতে ক্লিক করতে হবে তাদের ওয়েবব্লগে।

দৈনিক করতোয়া অনলাইন সংস্করণে যুক্ত হলো এইচটিটিপিএস!!

দৈনিক করতোয়া অনলাইন সংস্করণে  হাইপারটেক্সট ট্রান্সফার প্রটোকল সিকিউরড(এইচটিটিপিএস) লেয়ার যুক্ত করা হয়েছে। ফলে এখন থেকে দৈনিক করতোয়া’র তথ্য অধিকতর নিরাপদ থাকবে এবং পাঠকের গোপনীয়তা রক্ষা হবে।

এইচটিটিপিএস হল হাইপার টেক্সট ট্রান্সফার প্রটোকলের নিরাপদ ভার্সন। ডিজিটালভাবে ডেটাগুলো একত্র করে গোপনীয়তা বজায় রেখে ইউজার ডিভাইস থেকে অনলাইন সার্ভারে স্থানান্তর করে, যা তথ্যগুলো অন্যদের নজরদারি থেকে রক্ষা করে। যেসব সাইটের অ্যাড্রেস এইচটিটিপিএস (https://www.karatoa.com.bd)  দিয়ে শুরু হয়, সেগুলোতে তথ্য অধিকতর নিরাপদ থাকে। এই সিকিউরিটি লেয়ার যুক্ত ওয়েবসাইটটির ওয়েব ঠিকানার বাঁ পাশে একটি সবুজ তালার চিহ্ন ও পাশে এইচটিটিপিএস লেখা দিয়ে ঠিকানা শুরু হয়। এখন থেকে দৈনিক করতোয়া অনলাইন সংস্করণের ওয়েব অ্যাড্রেসেও সবুজ তালার চিহ্ন দেখা যাবে।

ওয়েবসাইট সুরক্ষার বিষয়টিই এখন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য এখন বেশিরভাগ ওয়েবসাইটেই এইচটিটিপিএস (হাইপার টেক্সট ট্রান্সফার প্রটোকল সিকিউরড) ব্যবহার করা হয়। এ সিকিউরিটি যুক্ত হওয়ায় আমাদের পাঠকদের কার্যক্রম কেউ পর্যবেক্ষণ করতে পারবে না।

 

অপ্পোর স্মার্টফোনে ফোরজি সুবিধা দেবে রবি

গ্রাহকদের সুবিধার কথা চিন্তা করে মোবাইল ব্র্যান্ড অপ্পোর সঙ্গে সম্প্রতি একটি ক্যাম্পেইন চালু করেছে রবি। ‘সেলফি এক্সপার্টের সঙ্গে উপভোগ করুন ২৩ জিবি ডাটা’ শীর্ষক এ ক্যাম্পেইনে রবি ও এয়ারটেলের গ্রাহকরা অপ্পো এ থার্টি সেভেন, এ ফিফটি সেভেন, এফ ওয়ান এস (রেগুলার ও নিউ) মডেলের মধ্য থেকে পছন্দমতো ফোরজি স্মার্ট ফোন কিনতে পারবেন গ্রাহকরা। পাশাপাশি সার্ভিসিং সেবাও পাবেন তারা।  এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

 

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অপ্পো ফোরজি স্মার্টফোনে থাকছে ৫ থেকে ৫ দশমিক ৫ ইঞ্চির স্কিন, ১২৮ থেকে ২৫৬ জিবি পর্যন্ত মেমরি, ২,৬৩০ থেকে ৩,০৭০ এমএএইচ ব্যাটারি, ৫ থেকে ১৬ মেগাপিক্সের ফ্রন্ট ক্যামেরা এবং ৮ থেকে ১৬ মেগা পিক্সেলের রেয়ার ক্যামেরা। সর্বনিম্ন ১৩ হাজার ৫শ’ টাকায় শুরু হয়েছে এসব ফোরজি স্মার্টফোনের দাম। উল্লিখিত যে কোনও একটি বান্ডেল কিনলে ১৫ দিনের জন্য পাওয়া যাবে ৩ জিবি ডাটা।  

ফোর জি’র এ ব্যান্ডেল কিনলে রবি ও এয়ারটেল গ্রাহকরা মাত্র ১৮৩ টাকায় ১৫ দিন মেয়াদের ২ জিবি ডাটা প্যাকও উপভোগ করতে পারবেন এবং *১২৩*৪৪৫# কোডটি ( ইউএসএসডি) ডায়াল করে পাবেন অতিরিক্তি ২জিবি ডাটা। বিভিন্ন মডেলের অপ্পো’র ফোন কেনা একজন গ্রাহক তিন মাসে সর্বোচ্চ ১০ বার বিশেষ দামের এই ফোরজি ডাটা প্যাক কিনতে পারবেন। এর মানে উল্লিখিত যেকোন বান্ডেল কিনলে একজন গ্রাহক ২ হাজার ১শ’ টাকা বোনাস ডাটা উপভোগ করতে পারবেন।

‘স্মার্ট গ্লাস’ বানাচ্ছে অ্যামাজন

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ই-কমার্স সাইট অ্যামাজন পরিধেয় প্রযুক্তিপণ্য আনতে কাজ করছে। মার্কিন ই-কমার্স জায়ান্ট এ প্রতিষ্ঠানটি ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যালেক্সা চালিত ‘স্মার্ট গ্লাস’ বানাচ্ছে। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

অ্যামাজনের এ পরিধেয় স্মার্ট ডিভাইসটি দেখতে সাধারণ চশমার মতোই হবে, যা অ্যামাজনের ডিজিটাল অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যালেক্সা সমর্থন করবে। ব্যবহারকারী যেকোনো অবস্থায় বা যেকোনো স্থানে অ্যালেক্সার সহায়তা নিতে পারবেন। এতে বিশেষ ধরনের অডিও সিস্টেম ব্যবহার করা হয়েছে, যা হেডফোন যুক্ত না করেই অ্যালেক্সা কী নিদের্শনা দিচ্ছে তা শুনতে পারবেন ব্যবহারকারী।

গত মাসে অ্যামাজন ও মাইক্রোসফট একটি অংশীদারিত্বে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। এ চুক্তির আওতায় উভয় প্রতিষ্ঠানের ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট যাতে একসঙ্গে কাজ করতে পারে, সে বিষয়ে উদ্যোগ নেয়ার তথ্য জানানো হয়েছিল।

সম্প্রতি অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জেফ বেজোস জানান, তারা ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যালেক্সার কার্যক্রম প্রসারে কাজ করছেন। অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর কৃত্রিম বৃদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্টের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়াতে এ উদ্যোগ। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আপতত শুধু মাইক্রোসফটের সঙ্গে অংশীদারিত্ব সম্পন্ন করা হয়েছে।

গুগলের বৃহত্তম ১০ অধিগ্রহণ

সম্প্রতি ১১০ কোটি মার্কিন ডলার খরচ করে তাইওয়ানের এইচটিসির পিক্সেল স্মার্টফোন বিভাগ অধিগ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের টেক জায়ান্ট গুগল।

পিক্সেল স্মার্টফোন বিভাগের অনেক প্রকৌশলী বহু আগে থেকেই গুগলের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে, গুগলের পিক্সেল স্মার্টফোন তৈরিতে কাজ করেছে। এই দলটিকে এবার গুগলের দলের সঙ্গে যুক্ত করার অর্থ হচ্ছে, স্মার্টফোন ও হার্ডওয়্যার ব্যবসায় গুগল দ্বিগুণ শক্তি নিয়ে নামছে। এই অধিগ্রহণের ফলে এইচটিসির ২০০০ কর্মী যুক্ত হয়েছে গুগলের রিসার্চ এবং ডেভেলপমেন্ট টিমে।

২০০১ সাল থেকে এখন পর্যন্ত দুই শতাধিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অধিগ্রহণ করেছে গুগল। স্ট্যাটিসটার প্রকাশিত তথ্যানুসারে, এর মধ্যে অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান বেশ বড় অংকের অর্থের বিনিময়ে কিনেছে গুগল।

পিক্সেল স্মার্টফোনের জন্য গুগল এবার এইচটিসির একটি অংশ কিনলেও, স্মার্টফোন প্রতিষ্ঠান কেনার অভিজ্ঞতা গুগলের জন্য এর আগে কিন্তু মোটেও সুখকর হয়নি।

এইচটিসির আগে মটোরোলাকে কেনার অভিজ্ঞতা ছিল গুগলের। ২০১১ সালে ১,২৫০ কোটি মার্কিন ডলারে মটোরোলা মোবিলিটিকে কিনলেও গুগলের জন্য তা লাভজনক হয়নি। দুই বছর পরে মাত্র ৩০০ কোটি মার্কিন ডলারে মটোরোলাকে চীনের প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান লেনোভোর কাছে বিক্রি করে দেয় গুগল।

তবে বর্তমানে গুগল তাদের পিক্সেল স্মার্টফোন নিয়ে খুবই আশাবাদী। গুগল এবং এইচটিসির প্রকৌশলীরা (গুগলে নতুন যুক্ত) আশা করছেন, নতুন এই অধিগ্রহণ মটোরোলার মতো করুণ পরিণতির মধ্যে দিয়ে শেষ হবে না।

নিচের চার্টে দেখে নিন, যে ১০টি প্রতিষ্ঠান অধিগ্রহণে সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করেছে গুগল।

বিশ্বে প্রথমবারের মতো দন্ত চিকিৎসক রোবট!

 চীনে একটি রোবট দন্ত চিকিৎসক বিশ্বে প্রথমবারের মতো সফলভাবে একজন মানুষের দাঁতের চিকিৎসা সম্পন্ন করেছে।

দ্য সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, চিকিৎসা কার্যক্রমটি প্রায় ১ ঘণ্টা স্থায়ী ছিল এবং একজন নারী রোগীর মুখে দুইটি দাঁত স্থাপন করে। থ্রিডি প্রিন্টারে তৈরি দুইটি কৃত্রিম দাঁত, রোবটটি প্রয়োজনীয় ত্রুটি মার্জিনের মধ্যে সফলভাবে স্থাপন করে।

চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করার আগে চিকিৎসকরা রোগীর কাছে রোবটটির সরঞ্জাম যুক্ত করে। এরপর রোবটটির নড়াচড়া সহ কত অ্যাঙ্গেলে এবং গভীরতায় রোগীর মুখে কাজ করবে, তা নির্ধারণ করে দেয়। এরপর রোবটটি নিজ থেকেই স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে সফলভাবে মানুষের মুখে দাঁত প্রতিস্থাপনে সক্ষম হয়। রোবটটি নিজ থেকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করতে সক্ষম হলেও, সেটআপের জন্য মানুষের সাহায্যের প্রয়োজন পড়ে।

চীনা এই রোবট দন্ত চিকিৎসককে তৈরি করা হয়েছে, দক্ষ মানব দন্ত চিকিৎসকের অভাব এবং মানব দন্ত চিকিৎসকদের ভুলের সংখ্যা কমানোর উদ্দেশ্যে।

দ্য সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের মতে, একটি জরিপে দেখা গেছে ৪০০ মিলিয়নের বেশি মানুষের নতুন দাঁতের প্রয়োজন হয় এবং এর মধ্যে প্রতিবছর ১ মিলিয়ন মানুষের দাঁত প্রতিস্থাপন করা হয়ে থাকে যেখানে নিম্ন মানের দাঁতের চিকিৎসা রোগীর জন্য আরো বেশি সমস্যা কারণ হতে পারে।

রোবট দন্ত চিকিৎসকের এই সাফল্যের ফলে এ ধরনের রোবটিক্সের উন্নয়নের পথ আরো সুগম হবে এবং অদক্ষ চিকিৎসার ফলে সৃষ্ট সমস্যাগুলোর সংখ্যা কমবে।

বিগত কয়েক বছর ধরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং রোবটিক অ্যাসিস্ট্যান্ট, দন্ত চিকিৎসকদের সঙ্গে রুটক্যানেল সার্জারি এবং ওথোডন্টিক অপারেশনে সহায়তা এবং শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণে ব্যবহার হয়ে আসছে।

চলতি বছরের মার্চ মাসে, ‘ইয়োমি’ নামক রোবটিক ডেন্টাল অ্যাসিস্ট্যান্ট যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের কাছ থেকে অনুমোদন পেয়েছে, যেটি ডেন্টাল কার্যক্রমে আরো সাফল্য যোগ করবে বলে আশা করা হয়েছে।

দন্ত চিকিৎসা ছাড়াও, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং রোবট সফলভাবে মানুষের মস্তিষ্কের অপারেশন এবং চোখের অভ্যন্তরে কাজ করার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে।

চিকিৎসা ক্ষেত্রে যদিও এসব রোবটিক অ্যাসিস্ট্যান্ট পরিচালনার জন্য মানুষের সহায়তার প্রয়োজন হয় কিন্তু একবার সেটআপ করার পরে এ ধরনের রোবটগুলোর হাতে চিকিৎসার দায়িত্ব দিয়ে নিশ্চিন্তে থাকা যাচ্ছে।

যেসব কারণে স্মার্টফোনের গতি কমে

অনেক শখ করে বেশি দাম দিয়ে স্মার্টফোন কিনেছেন। কিন্তু কিছুদিন চালানোর যখন দেখেন শখের স্মার্টফোন স্লো হয়ে গেছে তখন মেজাজটাই খিটখিটে হয়ে যায়। কিন্তু আগে থেকেই কিছু নিয়ম মেনে স্মার্টফোন ব্যবহার করলে এর গতি থাকে নতুন ফোনের মত। চলুন জেনে নেয়া যাক সেসব নিয়ম।

 

১. স্মার্টফোনে বেশি ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন মেমরি কার্ড ব্যবহার করা উচিত। কম ধারণ ক্ষমতার মেমরি কার্ড ব্যবহার করলে অল্পদিনের মধ্যে তা ভরে যায়। ফলে গতি কমে আপনার শখের ফোনটির।

২. মানুষের যেমন বিশ্রামের প্রয়োজন হয় তেমনি স্মার্টফোনেরও বিশ্রাম প্রয়োজন। কিন্তু অনেকেই এ বিষয়টি জানেন না, তারা ফোনটি কখনো শাট ডাউন বা রিবুট করেন না। ফলে ফোনের ক্যাশে ফাইল জমে গতি কমে। ফোনে ভালো গতি ধরে থাকতে সপ্তাহে অন্তত একদিন শাট ডাউন অথবা রিবুট করা উচিত।

৩. স্মার্টফোনে ইন্টারনেট ব্যবহার করার ফলে বিভিন্ন সোর্স থেকে ভাইরাস ঢুকে। এসব ভাইরাস বিভিন্নভাবে ফোনকে অকেজো করার চেষ্ট করে। তাই আগে থেকেই ফোনে অ্যান্টিভাইরাস বা কোনো সিকিউরিটি অ্যাপ ব্যবহার করুন।

৪. প্রত্যেক স্মার্টফোন নির্মাতা কোম্পানি তাদের নিজস্ব কিছু সফটওয়্যার বাদে অন্য কোম্পানির সফটওয়্যার ইনস্টল করতে দেন না। কিন্তু অনেকেই জোর করে অন্য কোম্পানির সফটওয়্যার ইনস্টল করেন। ফলে স্লো হয়ে যায় ফোন।

রোহিঙ্গা নিধনের পোস্ট সরিয়ে ফেলছে ফেসবুক

করতোয়া ডেস্ক: রোহিঙ্গা গণহত্যা সংক্রান্ত পোস্টগুলো সরিয়ে ফেলছে ফেসবুক। শুধু ছবি বা ভিডিও নয়; এমনকি এ বিষয়ক টেক্সট’ও মুছে দেওয়া হচ্ছে। মানবাধিকার কর্মীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ফেসবুকও এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে। একইসঙ্গে ‘আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মি’ (এআরএসএ)-কেও ‘বিপজ্জনক সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। নিজস্ব পর্যালোচনার ভিত্তিতে ফেসবুক এসব সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন প্রতিষ্ঠানটির একজন মুখপাত্র। একইসঙ্গে এআরএসএ-এর প্রশংসা করা হয় এমন যে কোনও পোস্ট মুছে ফেলতে প্রতিষ্ঠানটির মডারেটরদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ২০ সেপ্টেম্বর বুধবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।

মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নিষ্ঠুর ও বর্বর হামলা সংক্রান্ত পোস্ট সেন্সর করছে ফেসবুক। এরপরই জানা যায়, এটা ফেসবুকের দাফতরিক সিদ্ধান্ত। মিয়ানমার সরকারের অনুরোধের ভিত্তিতে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে ফেসবুক। তারা বলছে, এটা সম্পূর্ণভাবে আরাকান আর্মির তৎপরতার বিশ্লেষণ করে নেওয়া হয়েছে। কারণ সন্ত্রাস, সহিংসতা বা গণহত্যার মতো অপরাধে যুক্ত সংগঠনের পক্ষে পোস্ট করা তাদের নীতিমালার লঙ্ঘন। অন্য যে পক্ষটির কারণে চার লক্ষাধিক রোহিঙ্গা মুসলিমকে নিজ বাড়িঘর ফেলে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে হয়েছে তাদের ব্যাপারে কোনও মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ফেসবুক। এই পক্ষটিকে ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে আখ্যায়িত করা বা তাদের কোনও পোস্ট মুছে দিতে রাজি নয় ফেসবুক।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটির এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে মিয়ানমার। দেশটির ক্ষমতাসীন দলের নেত্রী অং সান সু চি’র মুখপাত্র জাও হাতা তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে আরাকান আর্মি বিষয়ক ফেসবুকের একটি বার্তা শেয়ার করেছেন। ২৬ আগস্টের ওই পোস্টে তিনি আরাকান আর্মি’র পক্ষে যায় এমন যে কোনও পোস্ট নিষিদ্ধ করতে বার্মিজদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তার ওই পোস্ট প্রায় সাত হাজার বার শেয়ার হয়েছে। সমালোচকরা বলছেন, এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণের মধ্য দিয়ে ফেসবুক আসলে মানবাধিকার লঙ্ঘন সংক্রান্ত প্রতিবেদনের ওপরই সেন্সর আরোপ করেছে। বিষয়টি নিয়ে দ্য গার্ডিয়ানের সঙ্গে কথা বলেন সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী মোহাম্মদ আনওয়ার। তিনি বলেন, ফেসবুক মত প্রকাশের স্বাধীনতা দমনের চেষ্টা করছে।

তাদের কাছে বর্মী শাসকগোষ্ঠীর গণহত্যা যেন কৌতুক বা মজা করার মতো কোনও বিষয়। ফেসবুক কর্তৃক রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞ সংক্রান্ত পোস্ট মুছে দেওয়ার বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে আসে মোহাম্মদ আনওয়ার-এর মাধ্যমেই। তার অভিযোগের ভিত্তিতে এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে দ্য ডেইলি বিস্ট। এতে এমন বহু সংখ্যক স্ক্রিনশট উঠে আসে যেখানে কথিত নীতিমালা ভঙ্গের দায়ে রোহিঙ্গা গণহত্যা সংক্রান্ত ফেসবুক পোস্ট মুছে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এমনকি শুধু টেক্সট রয়েছে; এমন পোস্টও মুছে দেওয়া হচ্ছে। কুয়ালালামপুরভিত্তিক সাংবাদিক মোহাম্মদ আনওয়ার রোহিঙ্গা ব্লগার ডটকম নামের একটি সংবাদমাধ্যমে কর্মরত রয়েছেন। তিনি বলেন, রাখাইনের ৪৫ জন সংবাদকর্মীর একটি টিম তার পোর্টালের জন্য কাজ করছে। ফেসবুকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মোহাম্মদ আনওয়ার-এর পোস্টগুলো ভুল করে মুছে দেওয়া হয়েছে। তবে দ্য গার্ডিয়ানের অনুসন্ধানে জানা গেছে, ফেসবুকে রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞ সংক্রান্ত পোস্টের ক্ষেত্রে সেন্সরশিপ অব্যাহত রয়েছে।

আয়ারর‌্যান্ডভিত্তিক একজন রোহিঙ্গা অ্যাক্টিভিস্ট মোহাম্মদ রফিক। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা গ্রামগুলোতে হত্যাযজ্ঞের ছবি ও ভিডিও পোস্ট করার পর গত ২৮ আগস্ট তার অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে স্থগিত করে দেয় ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। মোহাম্মদ রফিক বলেন, আমি এখনও রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ছবি ও ভিডিও পাচ্ছি। তবে আমার অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে; এমন আশঙ্কায় সেগুলো ফেসবুকে পোস্ট করছি না।

আর্কিমিডিসের নাম বিভ্রাট এবং তার আবিষ্কার

কে না চেনে পৃথিবীখ্যাত বিজ্ঞানী আর্কিমিডিসকে? যারা স্কুলে অন্তত একবার গিয়েছে তারা সবাইই চেনেন এই বিজ্ঞানীকে। কিন্তু আর্কিমিডিস নামে যে বিজ্ঞানীকে আমরা চিনি তার প্রকৃত নাম কি আর্কিমিডিস ছিল?

আসলে আর্কিমিডিসের নাম নিয়ে এই বিভ্রান্ত্রি ছড়িয়েছে মূলত একটি গল্পকে কেন্দ্র করে। আর্কিমিডিস ২৮৭ সালে সিসিলি শহরের এক সম্ভ্রান্ত পরিবার জন্মগ্রহণ করে। তার পিতা ফিডিয়াস ছিলেন সে যুগের অন্যতম প্রখ্যাত জ্যোতির্বিদ। শৈশব থেকেই তাই এক বড়সড় পরিবারে বেড়ে উঠেছেন আর্কিমিডিস। ছোটবেলা থেকেই জ্ঞান বিজ্ঞানের চর্চা করার অভ্যাসটা শুরু হয়েছিল পরিবার থেকেই থেকেই। যে কারণে গল্পটি বিশ্বাসযোগ্যও মনে হয়।

গল্পটি এরকম- আর্কিমিডিস যেহেতু জন্মেছিলেন একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারে সেহেতু তার বাড়িতে দাসদাসীর অভাব ছিল না। আর্কিমিডিস যখন কৈশোর পেরিয়ে যৌবনে পদার্পণ করেছেন সে সময়ে গবেষণার মধ্যে ঝুঁকে পড়েন। এ সময় প্রায়ই বাড়ির একটি রুমে একাকী গবেষণায় নিয়জিত থাকতেন, যে কারণে স্ত্রীকেও সময় দেওয়ার জন্য যথেষ্ট সময় তার ছিল না। ফলে স্ত্রীর জন্য বেশকিছু দাসদাসী নিয়োগ করতে হয়েছিল। এই দাসদাসী প্রায়ই যখন উচ্চস্বরে হাসাহাসি করতো, আর্কিমিডিসের জন্য অসুবিধা হতো। তার চিন্তায় মাঝে মাঝে ছেদ পড়তো। যে কারণে প্রায়ই তিনি ঘর থেকে বেড়িয়ে এসে চিৎকার করে বলতেন ‘হার্ক-ই-মেইডস’(Hark Ye maids)। গ্রিসের প্রাচীন ডোরিক উপভাষায় এর অর্থ হল ‘চুপ করো, নইলে বের করে দেবো’। আর্কিমিডিসের চিৎকারে তারা কিছুক্ষণ চুপ থাকলেও পরবর্তীতে আবার হাসাহাসি করতো যে কারণে প্রায়ই আর্কিমিডিস ‘হার্ক-ই-মেইডস’ বলে চিৎকার করতে। এই চিৎকারের কারণে দাস-দাসীরা তাকে দেখলেই ফিসফিস করে বলতো, ‘চুপ ‘হার্ক-ই-মেইডস’ আসছেন।

এই ঘটনা থেকেই নাকি ধীরে ধীরে ‘হার্ক-ই-মেইডস’ আর্কিমিডিসে রুপান্তিত হন। অনেকেই আর্কিমিডিসের নামের সঙ্গে এই ঘটনার যৌক্তিকতা বিশ্বাসও করেন। তবে আর্কিমিডিসের আসল নাম কি ছিল বা না ছিল তার থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তার আবিষ্কার।

আর্কিমিডিসের অধিকাংশ গবেষণা-ই সুসম্পন্ন হয়েছিল প্রাচীন গ্রিসের সাইরাকিউজে বসে। আর্কিমিডিস সর্বকালের সেরা গণিতবিদদের একজন হলেও বলবিদ্যা, পদার্থ, জ্যোতির্বিদ্যাতেও তার অনেক বড় বড় অবদান রয়েছে। বিজ্ঞানের প্রায় সব শাখাতেই তার কিছু না কিছু আবিষ্কার আছেই। এই পর্যন্ত আর্কিমিডিসের লেখা বারোটি বইয়ের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। বাংলায় এগুলোর নাম এমন- ‘গোলক ও বেলন’, ‘সমতলে ভারসাম্য’, ‘বৃত্তের পরিমাপ’, ‘শঙ্কু সাদৃশ্য ও গোলক সাদৃশ্য’, ‘সর্পিল বস্তু সমূহ’, ‘ভাসমান বস্তু’, ‘অধিবৃত্তের পদসংস্থান’, ‘বালুকা গণনা’, ‘স্টমাকিয়ন’, ‘পদ্ধতি’, ‘লেখা সংক্রান্ত’ এবং ‘গরু সমস্যা বা ক্যাটেল প্রবলেম’। আর্কিমিডিস এই বইগুলো লিখেছিলেন গ্রিসের ডোরিক উপভাষায়। পরবর্তীতে এগুলো বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়।

বিভিন্ন বিষয়ের মধ্যে জ্যামিতিতে আর্কিমিডিসের সবচেয়ে বেশি উৎসাহ লক্ষ্য করা যায়। তিনি তার লেখা প্রতিটি বইয়েই জ্যামিতির কোনো না কোনো সমস্যা উল্লেখ করেছেন। জামিতি সংক্রান্ত তার সকল আবিষ্কার ছিল মৌলিক। এছাড়া গবেষণার প্রতি যার জিদও ছিল অত্যাধিক। একবার সারাকিউজের রাজা হিরোন স্বর্ণকারকে দিয়ে একটি মুকুট তৈরি করেছিলেন, এটি দেখতে অতি সুন্দর হয়েছিল। কিন্তু রাজার কাছের ব্যক্তিরা বলছিলেন এতে নাকি খাঁদ মেশানো হয়েছে। রাজা পড়লেন বিপাকে। এদিকে মুকুটটি সুন্দর হওয়ায় তিনি এটি ভাঙতেও চান না, যে কারণে তিনি আর্কিমিডিসকে দায়িত্ব দিলেন না ভেঙে এতে খাঁদ আছে কিনা সেটা প্রমাণ করতে। এরপর থেকে আর্কিমিডিস সবকিছু ভুলে লেগে যান গবেষণায়। শোনা যায়, স্নানরত অবস্থায় তিনি এটি প্রমাণের সূত্র আবিষ্কার করেন। তরল ও কঠিন বস্তুর মধ্যে সম্পর্ক নির্ণয় উদস্থিতিবিদ্যায় এটি ছিল তার যুগান্তকারী আবিষ্কার। সূত্রটি ছিল এমন- ‘তরল পদার্থে কোনো কঠিন বস্তু আংশিক বা সম্পূর্ণ নিমজ্জিত করলে সেই বস্তু কিছুটা ওজন হারায়, এই হারানো ওজন বস্তুটি দ্বারা অপসারিত তরলের ওজনের সমান।’ এটি আর্কিমিডিসের সূত্র নামে পরিচিত।

বিভিন্নি জ্যামিতিক আকৃতির বস্তুগুলো তরল পদার্থে কিভাবে ভাসমান থাকবে সে সম্পর্কে তিনি তার দুখণ্ডে লেখা ‘ভাসমান বস্তু’ বা ‘অন ফ্লোটিং বডিস’ বইয়ে প্রমাণসহ বিশদভাবে আলোচনা করেছেন। ভাসমান বস্তু সম্পর্কে ১৯টি প্রতিজ্ঞা তিনি এই বইয়ে যুক্ত করেছেন, যা তরল বস্তু সম্পর্কিত কোনো আবিষ্কারে এক বিশাল সহায়ক।

বৃত্তের ক্ষেত্র, গোলকের উপরিভাগের ক্ষেত্র এবং আয়তন নির্ণয়ের জন্য পাই (π) এর মানের প্রয়োজন হয়। নিঃশেষীকরণ পদ্ধতির (Method of Exhaustion) সাহায্যে আর্কিমিডিস তার ‘বৃত্তের পরিমাপ’ বইতে পাই (π) এর মান ও বৃত্তের ক্ষেত্র ও গোলকের আয়তনের সঙ্গে পাই ও ব্যাসার্ধের সম্পর্ক আবিষ্কার করেন এবং এর মান সম্পর্কে মতামত দেন। যা পরবর্তীকালের গণিতবিদদের জন্য এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে এবং পাই এর মান সম্পর্কে গণিতবিদগণ একটি মতামতে পৌঁছান। অনেক গণিতবিদ মনে করে এই ব্যাখ্যার মধ্য দিয়েই গণিতের আরেকটি শাখা ‘ইন্টিগ্রাল ক্যালকুলাস বা সমাকলন-আবিষ্কারের ধারণা পেয়েছিলেন গণিতবিদ লিবনিজ।

আর্কিমিডিসের যে বারোটি বইয়ের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে তার মধ্যে সর্ববৃহৎ হল ‘গোলক ও বেলন’ (On sphere and Cylinder)। বইটি দুইখণ্ডে বিভক্ত, এই বইতেই তিনি সর্বপ্রথম দেখান কোনো গোলকের গুরু বৃত্তের ব্যাসার্ধ যদি পাই একক হয় তবে গোলকের উপরিতলের ক্ষেত্রফল হবে ফর পাই আর স্কয়ার (4πr2)। এছাড়া সর্পিল বস্তু, অধিবৃত্ত, ত্রিভুজ প্রভৃতি বিষয়ে তিনি যেসব সূত্র আবিষ্কার করেছেন তা পরবর্তীতে গণিতকে দেখিয়েছে এক নতুন পথ।

এছাড়া পদার্থবিদ্যাতেও তার বেশ অবদান আছে। তিনি প্রথম হাইড্রোলিক স্ক্রু আবিষ্কার করেন। এছাড়া তিনিই প্রথম আবিষ্কার করেন ‘কপিকল’। কপিকল আবিষ্কারের কাহিনিটাও একটু অন্যরকম- একবার দ্রব্যসামগ্রীর বিশাল জাহাজকে বহু মানুষমিলে ডাঙা থেকে জলে ভাসাতে হিমশিম খাচ্ছে সে সময় আর্কিমিডিস কপিকল আবিষ্কার করে মিশ্র পুলির সাহায্যে কয়েকজনের সাহায্য নিয়ে জাহাজটিকে জলে ভাসিয়ে দেন। এই দেখে সেদিন সাইরাকিউজের রাজা ঘোষণা করেন, ‘আর্কিমিডিস যা বলবে দেশে সেভাবেই সবকিছু চলবে।’

কিন্তু রাজার সন্মানে নিজেকে বড় ভেবে বিলাসিতায় জীবন কাটিয়ে দেননি আর্কিমিডিস। দীর্ঘ দীর্ঘ গবেষণার পর আবিষ্কার করে করতে থাকেন নতুন নতুন সূত্র। যা পরবর্তীতে আধুনিক গণিতের নতুন রাস্তার সূচনা ঘটায়। তার নাম আর্কিমিডিস যেভাবেই হোক না কেন নিজের দক্ষতা, বুদ্ধি আবিষ্কার দিয়ে জায়গা করে নিয়েছে মহাকালে। সর্বকালের মানুষ তাকে স্মরণ করতে বাধ্য।

তথ্য সহায়তা : বিজ্ঞানের ইতিহাস, সমরেন্দ্র নাথ সেন; সংখ্যা এলো কেমন করে, কমল বিকাশ বন্দ্যোপাধ্যায়; আর্কিমিডিস, বিবিসি হিস্টোরি; রিট্রিভড ২০১২-০৬-০৭, উইকিপিডিয়া।

পুরাতন স্লো কম্পিউটারকে নতুনের মত ফাস্ট করুন।

কম্পিউটার ব্যাবহারকারীদের মধ্যে হতাশার  যে জিনিসটি সবচেয়ে বেশি দেখা যায় সেটি হল কম্পিউটার স্লো হয়ে যাওয়া ।
 কিছু  অসতর্কতার কারনেই কম্পিউটার স্লো হয়ে যায় , বেশ কিছু নিয়ম মেনে চললে কম্পিউটারকে আবার  প্রায় নতুন অবস্থার    মত দ্রুত করা যায় ।

১) অধিকাংশ ব্যাবহারকারী যন্ত্রের প্রতি অযত্নশীল , মাসে অন্তত ১ বার আপনার কম্পিউটারটি পরিষ্কার করুন।
২) কোন প্রকার থার্ডপার্টি  থিম ইনস্টল করবেন না , কারন এতে কম্পিউটার তার পূর্বের  পার্ফরম্যান্স দেখাতে  পারে না।
৩) ঘড়ি-ক্যালেন্ডার-আবহাওয়াসংবাদ প্রদানকারী সফটওয়্যার থেকে বিরত থাকুন।
৪) বার বার রিফ্রেশ দেয়ার কোন প্রয়োজন নেই , তবে পিসি স্লো মনে হলে  স্টার্ট মেনুতে গিয়ে tree লিখে  enter প্রেস     করুন
৫)  মাঝে মাঝে বিভিন্ন ড্রাইভের প্রোপার্টিস এ গিয়ে ডিস্ক ক্লিন করুন।
৬) সি ড্রাইভ কখনো বেশি লোড দিবেন না , অপ্রয়োজনীয় জিনিস প্রয়োজনে অন্য ড্রাইভে রাখুন।
৭) রিসাইকেল বিন পরিষ্কার রাখুন এবং যে সফটওয়্যারের দরকার নেই সেগুলো আনইনস্টল করে দিন।
৮) স্টার্ট মেনু থেকে run এ যান  নিম্নোক্ত শব্দ গুলো একবার করে লিখে এন্টার দিন ,
নতুন উইন্ডে যা আসবে সব ডিলেট করে দিন ,যেগুলো ডিলেট হবে না স্কিপ করুন।

 temp , %temp%  , prefetch , recent , cookies

৯) ২ টি এন্টিভাইরাস কখনোই একসাথে ব্যাবহার করা যাবে না
১০)  মাঝে মাঝে ব্রাউজারের হিস্ট্রি কুকি রিমুভ করুন।

মাত্র ৮ হাজার টাকায় আইফোন

আইফোনের দশ বছর পূর্তি উপলক্ষে অ্যাপল চমক হিসেবে গত ১২ সেপ্টেম্বর বিশেষ আইফোন টেন (আইফোন এক্স) উন্মোচন করে। অ্যাপলের ফোনগুলোর মধ্যে এই আইফোনটি সবচেয়ে ব্যয়বহুল বলা হচ্ছিল। কিন্তু অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি একটি চাইনিজ কোম্পানি আইফোন টেন-এর মতো একটি ক্লোন ফোন তৈরি করেছে। ফোনটি দেখতে হুবহু আইফোন টেন-এর মতো। ফোনটির দাম মাত্র বাংলাদেশি টাকায় পড়বে ৮ হাজার তিনশ টাকা। খবর ইন্ডিয়া টাইমস।

চাইনিজ কোম্পানির তৈরি ফোনটির নাম গো-ফোন এক্স। আইফোন টেন-এর সব ফিচার এই ফোনটিতে রয়েছে। আইফোন টেন-এর প্রসেসর আর এই ফোনে ব্যবহৃত প্রসেসর প্রায় একইরকম। তাই ফোনটির গতি হবে ঠিক আইফোনের মতো।

 

গো-ফোন এক্স-এর ডিসপ্লে ৫ দশমিক ৫ ইঞ্চি। ১ জিবি র‌্যাম, ইন্টারনাল স্টোরেজ ১৬ জিবি। ফোনটির ক্যামেরা অনেক উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন। ফলে ছবি হবে ঝকঝকে।

গো-ফোনটিতে সেলফিও হবে আকর্ষণীয়। ফ্রন্ট ক্যামেরা ২ মেগাপিক্সেল এবং পিছনের ক্যামেরা ৮ মেগাপিক্সেল। এছাড়া ফোনটিতে বিশেষ ধরনের একটি চিপ ব্যবহার করা হয়েছে ফলে ফোনটি থাকবে সুরক্ষিত।

কম টাকায় আইফোন ব্যবহারের স্বাদ পেতে বাজারে এই ফোনটির বিকল্প নেই বলে কোম্পানিটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।

সেরা অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনের সঙ্গে নতুন আইফোনের পার্থক্য

অ্যাপল নতুন ৩টি মডেলের আইফোন বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে। মডেলগুলো হচ্ছে- আইফোন ৮, আইফোন ৮ প্লাস এবং আইফোন টেন (এক্স)।

নতুন আইফোনগুলো বাজারে কেমন প্রতিদ্বন্দ্বীতা করবে, তা আসলে হাতে না পাওয়া পর্যন্ত বলাটা কঠিন। তবে ফিচার দেখে ধারণা করা যায় যে, প্রতিদ্বন্দ্বীদের জন্য তুলনা করার জন্য আইফোন টেন (এক্স) যথোপযুক্ত, দামের বিষয়টি যদি দূরে সরিয়ে রাখা হয়।

ফিচারের দিকে তাকালে আইফোন ৭ এবং ৭ প্লাসের উন্নত সংস্করণ হিসেবেই তৈরি করা হয়েছে নতুন আইফোন ৮ এবং ৮ প্লাস। সবচেয়ে লক্ষণীয় পার্থক্য হলো, আইফোন ৮ এবং ৮ প্লাস মেটালের পরিবর্তে গ্লাস বডি সমৃদ্ধ, যাতে ওয়্যারলেস চার্জিং প্রযুক্তি সমর্থন করতে পারে।

আইফোন টেন (এক্স)-এর কিছু ফিচার আইফোন ৮ এবং ৮ প্লাসের মতোই। কিন্তু এই ফোনটি সম্পূর্ণ নতুন ডিজাইনে তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া অর্গানিক লাইট এমিটিং ডায়োড (ওএলইডি) প্রযুক্তির স্ক্রিন এবং ফোন লক ও আনলকে নতুন ফেসিয়াল রিকগনেশন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। এই ফোনটিও ওয়্যারলেস চার্জিং প্রযুক্তি সমর্থন করে।

যেহেতু এখনো বাজারে আসেনি, তাই আইফোন ৮, আইফোন ৮ প্লাস এবং আইফোন টেন (এক্স)-এর পারফরম্যান্স প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় কেমন, তা এখনই বলাটা খুব কঠিন। কিন্তু অন্যান্য ক্ষেত্রে যেমন ওয়্যারলেস চার্জিং এবং ডিসপ্লের ক্ষেত্রে নতুন আইফোনগুলোকে প্রিমিয়াম অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনগুলোর সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে

নিচের ছবিতে সেরা কিছু অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনের সঙ্গে নতুন আইফোনগুলোর তুলনা তুলে ধরা হলো।

 

 

চমক নিয়ে এল নতুন ৩ আইফোন

অবশেষে দীর্ঘ এক বছরের অপেক্ষার অবসান। যেমনটা ভাবা হয়েছিল তেমনি নতুন চমক দিল অ্যাপল। এবার একসঙ্গে নতুন ৩টি আইফোনের ঘোষণা দিল মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি।

মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাপল পার্কে নতুন স্টিভ জবস থিয়েটার অডিটোরিয়ামে অ্যাপলের নতুন আইফোনের উদ্বোধন করবেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী টিম কুক। নতুন আইফোনের নাম আইফোন ৮ ও ৮ প্লাস। এ ছাড়া আইফোনের দশ বছর পূর্তি উপলক্ষে অ্যাপল চমক হিসেবে বিশেষ আইফোন টেন (আইফোন এক্স) উন্মোচন করেছে।

অ্যাপল বলছে, বিশেষ এই আইফোন টেন-এ এমন কিছু ফিচার রয়েছে যা নতুন আইফোন ৮ এবং আইফোন ৮ প্লাসে নেই। এর নিজস্ব কিছু বৈশিষ্টের কারণে এটি অনন্য।

আইফোন ৮- এর স্টোরেজ হবে ৩২ জিবি, ২৫৬ জিবি ও ৫১২ জিবি। নতুন এই আইফোনগুলোতে অ্যাপল এই প্রথম ব্যবহার করেছে তাদের অত্যাধুনিক প্রসেসর এ১১ বায়োনিক চিপ। এই প্রসেসর ব্যবহারের ফলে আগের সব আইফোনের চেয়ে নতুন এই মডেলের আইফোনগুলো হবে সবচেয়ে দ্রুতগতির। আইফোন ৮ প্লাসে থাকছে ১২ মেগাপিক্সেল ডুয়াল সেন্সর ও ওআইএস সুবিধা। আইফোন ৮-এর ডিসপ্লে চার দশমিক সাত ইঞ্চি এবং আইফোন ৮ প্লাস-এর ডিসপ্লে সাড়ে পাঁচ ইঞ্চি।

আইফোন এক্স থেকে টাচ আইডি বাদ দেয়া হয়েছে। টাচ আইডি’র পরিবর্তে ফেইস আইডি যুক্ত করা হয়েছে। মুখ দিয়ে লক এবং আনলক করা যাবে।

এছাড়া আইফোন ৮ এবং আইফোন ৮ প্লাসে যুক্ত হয়েছে ওয়্যারলেস চার্জিং প্রযুক্তি। আইফোন ৮ এর দাম ৬৯৯ মার্কিন ডলার ও আইফোন ৮ প্লাসের দাম ৭৯৯ মার্কিন ডলার।

নতুন আইফোন ৮ এবং আইফোন ৮ প্লাস পাওয়া যাবে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে। তবে আইফোন টেন পেতে অপেক্ষা করতে হবে নভেম্বর মাস পর্যন্ত।

জরুরী অবস্থাতে ফোনের চার্জ বাঁচিয়ে রাখুন

স্মার্টফোনে বর্তমানে নানা অ্যাপ, গেম এবং অতিরিক্ত টেকনোলজির কারণের ফোনের চার্জ দীর্ঘস্থায়ি হওয়াটাই মূল সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফোনের চার্জ বেশিক্ষণ ধরে রাখা অনেকের প্রধান মাথা ব্যাথা। অনেক সময়েই দেখা যায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা ঘুরতে যাওয়ার মত জরুরি সময়ে ফোনের চার্জ ধরে রাখাটা কঠিন হয়ে পড়ে। এছাড়াও চরম লোডশেডিং এর সময় ফোনের চার্জ না থাকলে তো হয়ে গেল। আপনি চাইলে এমন জরুরি কিছু সহজ কিছু উপায়ে ফোনের চার্জ ধরে রাখতে পারবেন। এমনই কিছু উপায় তুলে ধরা হল-

ফোনের ব্লুটুথ এবং ওয়াই-ফাই সংযোগ বন্ধ করে রাখতে হবে। অনেক সময়ই দেখা যায়, ফোন ইন্টারনেট কানেকশানের মধ্যে না থাকলেও ওয়াই-ফাই কানেকশান অন অবস্থায় রয়ে যায়।

যতটা সম্ভব কম ফোনের বাটন চেপে ডিসপ্লে অন করুন। কেননা আপনি যতবার ফোনের ডিসপ্লে অন করছেন ততবার ব্যাটারি হ্রাস পাচ্ছে। পুরোপুরি ফোন বন্ধ না করতে চাইলে ফোনটিকে ‘এয়ারপ্লেন মোডে’ রাখতে পারেন। এতে করে ফোনে কল বা মেসেজ না আসলেও ফোনটি চালু থাকবে। বেশিরভাগ স্মার্টফোনে ইমেল এবং অন্যান্য অ্যাকাউন্ট সিংক করা থাকে। ফলে প্রতিনিয়ত পুশ নোটিফিকেশন আসতে থাকে। আর এই পুশ নোটিফিকেশন বন্ধ করে আপনি অনেকটাই চার্জ ধরে রাখতে পারেন।

জরুরি সময়ে ফোনে মিউজিক শোনা বা স্ট্রিমিং থেকে বিরত থাকুন। এটি আপনার ব্যাটারি ড্রেইনের অন্যতম কারণ। ডিসপ্লে’র ব্রাইটনেস ফোনের অনেকখানি চার্জ শেষ করার কারণ। তাই যতটা সম্ভব ব্রাইটনেস কমিয়ে রাখুন। প্রয়োজনে কল করার পরিবর্তে একেবারে শর্ট মেসেজ পাঠাতে পারেন। এই উপায়গুলোতে সহজে জরুরী অবস্থাতেও অনেকক্ষণ চার্জ ধরে রাখা যাবে।



Go Top