রাত ১১:৩৪, শুক্রবার, ১৫ই ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং
/ রংপুর

গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি : রোপা আমন ধান কাটা-মাড়াইকে ঘিরে যখন রংপুর অঞ্চলে কৃষক পরিবারে চলছে উৎসবের আমেজ, তখনও ভূমিহীন অভাবি পরিবারগুলোর একবেলা খাবার জোটে না। এসব পরিবারের শিশু-কিশোররা খুঁজে বেড়াচ্ছে কৃষকের কেটে নেওয়া ধান ক্ষেতে ইঁদুরের গর্ত। ইঁদুরের সংগৃহীত ধান উদ্ধার করে একবেলা খাবার কিংবা বছরে অন্তত একদিন পিঠা খাওয়ার স্বপ্ন দেখে তারা। অনেকে তাই বর্তমান ধান কাটার মৌসুমে স্কুলে না গিয়ে দিন পার করছে ফসলের মাঠে ইঁদুরের গর্তের ধান সংগ্রহে।  রংপুরের অভাবি এলাকা বলে পরিচিত তিস্তা কুলবর্তী গঙ্গাচড়া, পীরগাছা ও কাউনিয়া উপজেলা। এসব এলাকাতেও বর্তমানে চলছে রোপা আমন ধানের কাটা-মাড়াই। স্বপ্নের ধান ঘরে তুলতে গৃহস্তরা যেমন ব্যস্ত ঠিক তেমনি অভাবি পরিবারের শিশু-কিশোররাও মাঠের পর মাঠ চষে বেড়াচ্ছে ক্ষেতে ঝরে পড়া কিংবা ইঁদুরে কেটে নিয়ে যাওয়া ধান সংগ্রহ করতে। ইঁদুরের গর্ত কিংবা ঝরেপড়া ধান দেখলেই ওদের চোখেমুখে সোনালী হাসি ফুটে উঠে। কৃষকের ক্ষেত থেকে ইঁদুর ধানের শীষ কেটে নিয়ে আপদকালীন খাদ্য হিসাবে গর্তে মজুদ রাখে। আর এসব শিশু-কিশোর সেই গর্ত খুঁড়ে ইঁদুরের খাদ্য বের করে নেয়। ধান কাটার মৌসুমকে ঘিরে এ কাজের সাথে অভাবি পরিবারের লোকজনও জড়িয়ে পড়েছেন।

বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ঘাড়ে কোদাল-শাবল ও হাতে ব্যাগ নিয়ে ক্ষেত থেকে ক্ষেতে ছুটে বেড়াচ্ছে শিশু-কিশোরের দল। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হতদরিদ্র পরিবারের এসব শিশু কুড়ানো ধানে শখ পূরণ করে। মৌসুমে অন্তত একদিন নতুন ধানের পিঠার স্বাদ গ্রহণ করে। পীরগাছা উপজেলার কল্যানী এলাকায় একটি বিরাণ ভূমিতে দীর্ঘক্ষণ ইঁদুরের গর্ত থেকে ধান উদ্ধারে চেষ্টা করছিল সুমন ও নাট্টু নামের দুই কিশোর। তারা স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। স্কুল ছেড়ে ধান কুড়াতে আসা প্রসঙ্গে সুমন বলে, ‘বাবায় কইছে দুই-চারদিন স্কুলোত না গেইলে কী হইবে বাহে! তার চায়া ভূঁইয়োত (জমিতে) ধান কুড়ান, অভাবের সময় কয়দিন খায়া থাকা যাইবে।’ ওই কথার সঙ্গে যোগ করে নাট্টু বলে, আর কয়দিন পরতো ভূঁইয়োত ধান থাইকপার নয়, তখন স্কুলোত যামো। বর্তমানে প্রতিদিন তারা ইঁদুরের গর্ত থেকে দশ কেজির বেশি ধান সংগ্রহ করতে পারে বলে জানায় তারা। তাদের মত রংপুরের ওই তিন উপজেলার বিশেষ করে তিস্তার চরাঞ্চলের শিশুরা এখন স্কুলঘর ফাঁকা করে মাঠে নেমেছে। যোগ দিয়েছে ধান কুড়ানির দলে।

গঙ্গাচড়া উপজেলার ছালাপাক চরে গিয়ে দেখা যায়, আমনের বিরান ক্ষেতে কৃষকের ফেলে যাওয়া ধান কুড়াতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে শিশুর দল। ব্যাগ হাতে নদী পেরিয়ে এসেছে মোনালিসা, আরমান ও নুরবানু। তারা সবাই স্থানীয় স্কুলে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। স্কুলের কথা জানতে চাইলে ফ্যাল ফ্যাল করে মুখের পানে তাকিয়ে থাকে তারা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিস্তার চরাঞ্চলের কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, মাঠে ধান কুড়াতে ব্যস্ত থাকার কারণে প্রতি বছর এই সময়টাতে অভাবি পরিবারের সন্তানদের উপস্থিতির হার কম থাকে।

কাউনিয়া উপজেলাধীন গদাই চরের বাসিন্দা ফজলুল হক বলেন, ‘ছাওয়ারা বায়না ধরে শীতোত পিঠা খাওয়ার। তয় ভাতে জোটে না, সেই সামত্ত নাই হামার। ওমার (সন্তানদের) কুড়ানি ধান দিয়া একদিন পিঠা খাওয়ার শখ মিটপে। আর বেশি পাইলে ঠেকার (অভাবের) সময় ভাত খাওয়া যাইবে।’ একই এলাকার ষাটোর্ধ আকলিমা বলেন, ‘বছরের বারো মাসে চাউল কিনি ভাত খাই। বছরে অন্তত ঠান্ডার সময় পিঠা-মুড়ি খাবার শক হয়, তয় ধান পামো কোনটে! সেই জন্যে এই সময় মাইনষের ভূঁইয়োত ধান কুড়াই।’

 

 

রসিক নির্বাচনে সেনা চায় বিএনপি

রংপুর সিটি করপোরেশন (রসিক) নির্বাচনের প্রচারণায় এখনো সকল প্রার্থীর মাঠ সমতল হয়নি দাবি করে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি এবং বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়েছে বিএনপি।  বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই দাবি জানান। তিনি বলেন, রসিক নির্বাচনে সব প্রার্থীর সমান সুযোগ তৈরি হয়নি।

নির্বাচন কমিশন এখনো সেখানে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারেনি। ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবে ভোটাররা এখনো ভয়-ভীতির মধ্যেই রয়েছেন। সুতরাং নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে কি-না, এ ব্যাপারে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। রিজভী আরো বলেন, নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী বার বার আচরণবিধি লঙ্ঘন করলেও নির্বাচন কমিশন তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। কিন্তু বিএনপি তথা ধানের শীষের যিনি প্রার্থী তাকে হরহামেশা কমিশন থেকে সর্তক করা হচ্ছে। এমনকি ক্ষমতাসীনদের প্রভাবে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীকে শুরু থেকে যেভাবে হয়রানি করা হচ্ছে, তাও নজিরবিহীন। আমরা স্পষ্টভাষায় ইসিকে বলতে চাই, ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীকে পেছনের দরজা দিয়ে জেতানোর কোনো চেষ্টা করলে জনগণ সেটির উপযুক্ত জবাব দেবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নেতৃত্বে¡ কমিশনের ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিদের মানসিকতা স্বাধীন না হলে কমিশনের আইনি স্বাধীনতা কোনো কাজে আসবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বর্তমান দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) সরকারের ‘রাবার স্ট্যাম্প’ প্রতিষ্ঠান আখ্যা দিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, ব্যাংক লুটের লাখ লাখ কোটি টাকা দেশ থেকে পাচার হয়ে গেলেও দুদক এসব বিষয়ে নির্বিকার।

কিন্তু জনগণ তাদের ক্ষমা করবে না। লুটেরাদের একদিন জনতার কাঠগড়ায় দাঁড়াতেই হবে। দেশে গুম আতঙ্ক থামছে না দাবি করে রিজভী বলেন, সারা দেশে নিখোঁজ বেআইনি গুম-আতঙ্ক থামছেই না। সমাজের কোনো স্তরের মানুষই আজ নিরাপদ নয়। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, ছাত্র, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার অনেক মানুষের আর খোঁজ মিলছে না। বর্তমানে রাষ্ট্রের ছত্রছায়ায় এ সকল গুম সংঘঠিত হচ্ছে, যা ক্ষমাহীন ও মানবতাবিরোধী ঘৃণ্য অপরাধ। বিএনপি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবিব-উন নবী খান সোহেল, যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাকে মিথ্যা দাবি করে এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে তা প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন-দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিব, আবদুস সালাম আজাদ, আবদুল আউয়াল খান, মুনির হোসেন, অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম, কাজী রফিক প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

 

নির্বাচিত হলে রংপুর নগরীকে মডেল করার অঙ্গীকার ৩ মেয়র প্রার্থীর

রংপুর প্রতিনিধি : রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থীরা অঙ্গীকার করলেন রংপুর নগরীকে একটি সুন্দর পরিচ্ছন্ন এবং সবুজ নগরী হিসেবে গড়ে তুলবেন। নগরীতে থাকবে না সন্ত্রাস, মাদক, শব্দ দূষণ, যানজট নিরসন সহ সকল বিষয়কে অগ্রাধিকার দেবেন। নির্বাচন উপলক্ষে  বুধবার সকালে নগরীর একটি কনভেনশন হলে ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল আয়োজিত নাগরিক অধিকার শীর্ষক সংলাপে এসব অঙ্গীকার করেন এই তিন রাজনৈতিক দলের মেয়র প্রার্থী। ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের থমসন হেপের সভাপতিত্বে সংলাপে রংপুর নগরীর নানা সমস্যা নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ।

সংলাপে অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগের মনোনীত মেয়র প্রার্থী সরফ উদ্দিন আহাম্মেদ ঝন্টু বলেন, তিনি সিটি করপোরেশনের প্রথম মেয়র নির্বাচিত হবার পর বিগত ৫ বছরে অনেক কাজ করেছেন। যদিও মেয়র পদের দায়িত্ব অনেক অনেক অসুবিধার মধ্যে চলতে হয়। তার পরেও এবারের নির্বাচনে আবারও মেয়র নির্বাচিত হলে রংপুরকে একটি পরিচ্ছন্ন মডেল নগরীতে পরিণত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

বিএনপির মেয়র প্রার্থী  কাওছার জামান বাবলা বলেন, রংপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করার জন্য আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সকলে সহযোগিতা করলে নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে তিনি জয়ী হয়ে রংপুরকে মডেল নগরীতে পরিণত করবেন। সেই সাথে নগরবাসীর স্বাস্থ্য সেবায় বিশেষ ব্যবস্থা নিবেন। কি ধরনের ব্যবস্থা নেবেন এই বিষয়ে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা তার কাছে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কোন উত্তর দেননি। অপরদিকে জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা আলোচনায় অংশ নিয়ে বলেন, মেয়র নির্বাচিত হলে নগরবাসী এবং সুশীল সমাজের সাথে কথা বলে তাদের অভিমত নিয়ে নগরীকে বাসযোগ্য সবুজ নগরীতে পরিণত করা হবে। সেই সাথে নগরীর যানজট নিরসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করন, বস্তিবাসীদের স্যানিটেশন, পয়ঃনিষ্কাসনের ব্যবস্থা নিবেন। নগরবাসী  যেন নাগরিক সেবা সহজে পায় তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। সংলাপে বিভিন্ন পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

 

রসিক নির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দ প্রার্থীদের উচ্ছ্বাসের প্রচারণা

হুমায়ুন কবীর মানিক/সাজ্জাদ হোসেন বাপ্পী, রংপুর :  প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দেয়ার পর রংপুর সিটি করর্পোরেশন নির্বাচনী প্রচারণা  সোমবার দুপুরের পর থেকেই শুরু হয়েছে। এর আগে সকাল থেকে ৭ মেয়র প্রার্থী, ৩৩টি ওয়ার্ডের ৬৫ সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থী ও ২১১ সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থীর প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। নির্বাচন সুষ্ঠু করতে  সোমবার থেকে নগরীতে ১১ জন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঠে নেমে পড়েছে। এই ভ্রাম্যমাণ আদালত নগরীর ৩৩টি ওয়ার্ডে দায়িত্ব পালন করবে। আর ভোট গ্রহণ করা হবে ২১ ডিসেম্বর।

প্রতীক বরাদ্দ পেয়ে দুপুরের পর থেকে প্রার্থীরা মাইকে তাদের প্রচারণা শুরু করেন। ব্যাটারীচালিত অটোবাইক ও রিকসায় করে নগরীর ৩৩টি ওয়ার্ডের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা প্রচারণা চালাচ্ছেন। বিভিন্ন প্রার্থী দেয়ালে প্রতীক সংবলিত তাদের পোস্টার সাঁটিয়েছেন। এর আগে সকালে নগরীর কাচারী বাজার এলাকায় আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসের সামনে সংরক্ষিত ও সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থী ও তার সমর্থকরা ভিড় জমান। সকাল ৮ টা থেকে শুরু হয় ৩৩টি ওয়ার্ডের প্রতীক বরাদ্দ। মধ্যাহ্ন বিরতির পর বিকেল ৪ থেকে ফের শুরু হয় মেয়র প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ। এসময় সেখানে উৎসব মুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। নির্বাচন কর্মকর্তারা আচরণ বিধি লংঘন না করতে মাইকে দফায় দফায় ঘোষণা দেয়া হলেও কেউকেই তা মানতে দেখা যায়নি।

নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবার মেয়র প্রার্থীর জন্য প্রতীক রয়েছে ৪০টি। এর মধ্যে স্বতন্ত্র রয়েছে ১০টি। এছাড়াও সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১২টি ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ১২টি প্রতীক রয়েছে। বিশেষ করে সাধারণ কাউন্সিলরদের চাহিদা বেশি ছিল ঘুড়ি, লাটিম ও ঠেলাগাড়ি। সংরক্ষিত কাউন্সিলরদের আনারস।

মেয়র পদে আওয়ামী লীগের সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু (নৌকা), জাতীয় পার্টির মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা (লাঙ্গল), বিএনপির কাওসার জামান বাবলা (ধানের শীষ), ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের এটিম গোলাম মোস্তফা (হাতপাখা), বাসদের আব্দুল কুদ্দুস (মই), এনপিপির সেলিম আক্তার (আম), জাতীয় পার্টির বিদ্রোহী আসিফ শাহরিয়ার (হাতী) প্রতীক পেয়েছেন।

সকাল থেকেই শত শত উৎসুক জনতার সমাগমে নির্বাচন কমিশন কার্যালয় প্রাঙ্গন মুখরিত ছিল। মেয়র ও কাউন্সিলররা প্রতিক পাওয়ার পর পরই নগর জুড়ে শুরু হয় মাইকে প্রচারণা। নানা প্রকার নির্বাচনী শ্লোগানে সরগরম হয়ে ওঠে মহানগরের অলি-গলি ও পাড়া-মহল্লা।

এবারের সিটি নির্বাচনে মেয়র প্রার্থীদের কাছে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছেন বর্ধিত এলাকার ভোটাররা। কারণ অনেক আশা ও স্বপ্ন নিয়ে তারা ইউনিয়ন থেকে রংপুর সিটি কর্পোরেশনে অন্তর্ভূক্ত হয়েছেন। সিটির সাথে যুক্ত হওয়ার জন্য অনেক ইউনিয়নের মানুষ তদবির করেছেন, আন্দোলনও করেছেন। তাদের ধারণা ছিল সিটিতে যুক্ত হলে তাদের নাগরিক সুবিধা বাড়বে, যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হবে, শিক্ষা ও চিকিৎসা সেবার মান বাড়বে, গ্রামের মধ্য দিয়ে পাকা রাস্তা আর বিদ্যুতের আলোয় ঝলমল করবে সড়ক। কিন্তু  তাদের সে আশা পূরণ হয়নি। নাগরিক সুবিধাতো বাড়েইনি, বেড়েছে করের বোঝা। এ নিয়ে বর্ধিত এলাকাবাসীর অভিযোগ ও ক্ষোভের শেষ নেই। তাদের এই ক্ষোভ ও বঞ্চনার সুযোগ নিচ্ছেন প্রার্থীরা। তাদের ভোট পক্ষে টানতে প্রার্থীরা বেশি সময় ব্যয় করছেন তাদের পেছনে। নানা রকম প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, তাদের সামনে তুলে ধরছেন ওই এলাকাগুলোর উন্নয়ন পরিকল্পনা।  কাউন্সিলর প্রার্থীরাও এক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই। তারা তাদের এলাকার ভোটারদের সময় ও ভোট চাচ্ছেন জোরেসরে।

১৫টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত রংপুর পৌরসভার আয়তন ছিল মাত্র ৫২ বর্গ কিলোমিটার। ২০১২ সালে সাবেক পৌরসভার ১৫টি ওয়ার্ডের সাথে সদর উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ও পার্শ্ববর্তী কাউনিয়া উপজেলার সারাই এবং পীরগাছা উপজেলার কল্যাণী ইউনিয়নসহ ১০টি ইউনিয়নের মোট ১১২টি মৌজাকে অন্তর্ভূক্ত করে রংপুর সিটি করপোরেশন গঠন করা হয়। ৩৩টি ওয়ার্ডে বিভক্ত রংপুর সিটি করপোরেশনের বর্তমান আয়তন ২০৩ দশমিক ৬৩ বর্গকিলোমিটার। এর মধ্যে ১৫১ বর্গকিলোমিটার বর্ধিত এলাকা। সিটির মোট ভোটারের অর্ধেকের বেশি বাস করে বর্ধিত এলাকায়। কাজেই, সিটি নির্বাচনে বর্ধিত এলাকার ভোট প্রধান ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রার্থীদের কাছে।

রিটার্নিং কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র সরকার জানান, নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে যা যা করার তাই করবো আমরা। দুপুর থেকে ১১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজ করছেন। নির্বাচনি আচরণ বিধি লংঘন করলে জেল জরিমানা পর্যন্ত হয়ে যেতে পারে। তিনি বলেন, নির্বাচনী আমেজ সৃষ্টি হয়েছে।

উল্লেখ্য, এবার রংপুর সিটি কর্পোরেশন এলাকায় মোট ভোটার রয়েছে ৩ লাখ ৯৩ হাজার ৯৯৪ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ৯৭ হাজার ৬৩৮ জন ও পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৯৬ হাজার ৩৫৬ জন। পুরুষের চেয়ে নারী ভোটারের সংখ্য বেড়েছে ১ হাজার ২৮২ জন। এবার  মোট ভোটার  বেড়েছে ৩৬ হাজার ২৫২ জন। ভোট কেন্দ্র রয়েছে ১৯৩টি।

 

রিমান্ড শেষে টিটু রায় আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দী প্রদান

রংপুর প্রতিনিধি : ফেস বুকে অবমাননাকর স্ট্যাটাস দেযার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া টিটু রায়কে দু’দফা ৮ দিনের রিমান্ড শেষে মঙ্গলবার দুপুরে রংপুর গোয়েন্দা পুলিশ (উত্তর) কঠোর গোপনীয়তায় চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নিয়ে আসে। পরে বিকেলে ডিবি পুলিশের কঠোর পাহারায় টিটু রায়কে আদালত থেকে বের করে একটি প্রিজন ভ্যানে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যায়। তবে ডিবি পুলিশের কোন কর্মকর্তাই এ ব্যাপারে কোন কথা বলতে রাজি হননি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডিবি পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, টিটু রায় রংপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করেছেন। পরে জবানবন্দী গ্রহণ শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

এদিকে টিটু রায়ের পক্ষে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ, পুজা উদযাপন পরিষদ, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটিসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষে ৭ সদস্যের আইনজীবী প্যানেলের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, তারা সকাল থেকে টিটু রায়ের পক্ষে জামিনের আবেদনসহ তার পক্ষে মামলা পরিচালনা করার জন্য ওকালত নামায় স্বাক্ষর নেবার জন্য অপেক্ষা করেও টিটু রায়ের সাক্ষাত পাননি। তাকে কখন আদালতে নিয়ে আসা হয়েছে তাও জানেন না। তারা বলেন, আমরা টিটু রায়ের পক্ষে আদালতে কথা বলারও সুযোগ পেলাম না।

 

একটি সেতুর অভাবে নৌকাই ভরসা

পীরগাছা (রংপুর) প্রতিনিধি : রংপুরের পীরগাছা উপজেলা ও কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলাকে বিভক্ত করে রেখেছে প্রমত্তা তিস্তা নদী। ওই দুই উপজেলার মাঝ দিয়ে বয়ে চলা তিস্তা নদীর দুই তীরের কয়েকটি গ্রামের মানুষের পারাপারের একমাত্র ভরসা নৌকা। আর দুই উপজেলার হাজারো মানুষের অপেক্ষার নাম একটি সেতু। তিস্তার পূর্ব তীরের জনগণকে সড়ক পথে কুড়িগ্রাম হয়ে রংপুরে আসতে পাড়ি দিতে হয় ৫০ কিলোমিটারের বেশি পথ। অথচ নদী পেরিয়ে ৩০ কিলোমিটার পাড়ি দিলেই রংপুর বিভাগীয় শহরে যাতায়াত করা যায়।

জানা গেছে, পীরগাছা উপজেলা ছাওলা ইউনিয়নের পানিয়ালের ঘাট দিয়ে খেয়া নৌকায় প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করছে। তিস্তার পূর্ব তীরে বসবাসকারী উলিপুর উপজেলার বেশীর ভাগ সাধারণ মানুষ এ পথে যাতায়াত করছে। বর্ষা মৌসুমে নৌকায় যাতায়াতের জীবনের ঝুঁকি থাকলেও নৌকায় সহজে যাতায়াত করা যায়। বর্তমানে নব্যতা সংকট দেখা দিয়েছে। তিস্তা নদীর বিভিন্ন স্থানে চর জেগে উঠেছে। ফলে নৌকাগুলো ঘুরে ঘুরে যাতায়াত করছে। এতে সময় বেশি লাগলেও মাত্র ৩০ টাকায় তিস্তানদী পাড়ি দিয়ে সহজেই গন্তব্যে পৌঁছতে পারায় যাতায়াতকারীরা খুশি। দীর্ঘদিন থেকে এলাকার সাধারণ মানুষ দুই উপজেলার মাঝে তিস্তা নদীতে একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছে। সেতু নির্মিত হলে দুই উপজেলার সাধারণ মানুষের যাতায়াতসহ ব্যবসার প্রসার হবে বলে তারা জানিয়েছেন।

উলিপুর উপজেলার ব্যবসায়ী হাসান আলী জানান, রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াতের জন্য কুড়িগ্রাম হয়ে সড়ক পথে ৫০ কিলোমিটার বেশী ঘুরে যেতে হয়। ফলে যাতায়াতসহ মালামাল পরিবহনে সময় ও অর্থ বেশী ব্যয় করতে হয়।

নদী পাড়ি দিয়ে স্কুলে যাতায়াতের ঝুঁকির কারণে চরাঞ্চলের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শিক্ষার্থী ঝরে পাড়ার হার আগের তুলনায় বেড়েছে। কৃষক আবুল হোসেন জানান, শিশু শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতে চায় না। ছাওলা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম জানান, তিস্তা নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের অপেক্ষায় দুই উপজেলার হাজারো মানুষ। সেতু নির্মিত হলে যাতায়াতসহ ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে।

হিন্দু বাড়িতে আগুন: আরও ১ ইউপি সদস্য গ্রেপ্তার

ফেইসবুকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে রংপুরে হিন্দুদের বাড়িঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা মামলায় আরও এক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার রাতে রংপুর কোতোয়ালি থানার ওসি ফেরদৌস আহমেদ এ কথা জানান। গ্রেপ্তার সিরাজুল ইসলাম রংপুর সদর উপজেলার মমিনপুর ইউনিয়নের পরিষদের ছয় নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে ওই ইউনিয়নের কুরশা বলরামপুর গ্রাম থেকে জয়নালকে ও মহেশপুর গ্রাম ফজলুল নামে দুই ইউপি সদস্যকে আটক করেছিল পুলিশ।

ওসি ফেরদৌস বলেন, হিন্দুদের বাড়ি ঘরে হামলা ও আগুন দেওয়ার ঘটনায় কোতোয়ালি থানার মামলায় রাত সোয়া ১১ টার দিকে মমিনপুর বাজার থেকে সিরাজুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এর আগে আটক দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতের মাধ্যমে শুক্রবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি। রংপুর সদর উপজেলার ঠাকুরপাড়া গ্রামের খগেন রায়ের ছেলে টিটুর বিরুদ্ধে ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগ তুলে গত শুক্রবার ঠাকুরপাড়া গ্রামে কয়েক হাজার মানুষের মিছিল থেকে হিন্দুদের বাড়িঘরে আগুন দেওয়া হয়।

এ সময় সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে একজন নিহত এবং ১০ জন আহত হন। আগুনে টিটু রায়ের তিনটি, সুধীর রায়ের ছয়টি, অমূল্য রায়, বিধান রায় ও কৌশল্য রায়ের দুটি করে ছয়টি, কুলীন রায়, ক্ষিরোধ রায় ও দীনেশ রায়ের একটি করে ঘর পুড়ে যায়।

হামলার ঘটনায় শনিবার গঙ্গাচড়া ও কোতোয়ালি থানায় দুই হাজারের বেশি লোককে আসামি করে দুটি মামলা দায়ের করে পুলিশ। সদরের খলেয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও শলেয়াশাহ জামে মসজিদের ইমাম সিরাজুল ইসলাম সিরাজুল ইসলামসহ ৫৩ জনকে ওই দুই মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে ফেইসবুকে ‘ধর্ম অবমাননার’ অভিযোগে তথ্য প্রযুক্তি আইনের এক মামলায় মঙ্গলবার নীলফামারী থেকে টিটুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। টিটু একজন গ্রাম্য কবিরাজ বলে তার মায়ের ভাষ্য।

 

রংপুরে ফেসবুকে স্ট্যাটাস নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় ২টি মামলা, আটক ৫৩

রংপুর  জেলা প্রতিনিধি : ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়া নিয়ে রংপুরের সদর উপজেলার ঠাকুরবাড়ি গ্রামে হামলা চালিয়ে ৩০টি বাড়ি ভাঙচুরসহ তান্ডবের ঘটনায় দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৫৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো খোলা আকাশের নিচে মানবেতর দিন অতিবাহিত করছে। অনেক পরিবার আবারও হামলার আশংকায় এখনো বাড়ি ঘরে ফিরে আসেনি। তবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাতে ক্ষতিগ্রস্ত হিন্দু পরিবারদের জন্য খিচুরী রান্না করে খাওয়ানো হয়েছে বলে জানা গেছে। গতকাল শনিবার সকালের বাড়ি ঘরে আগুন দেয়া স্থাপনায় আগুনের ধোঁয়া বেরুতে দেখা গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অনেকেই রাতে কোন খাবার পায়নি। সকালেও তাদের নাস্তা খাওয়া নেই। তারা জানায় হাঁড়ি পাতিল মালামাল লুট হয়ে যাওয়ায় তাদের সকালে নাস্তাও হয়নি।

এদিকে হামলা ও বাড়ি ঘরে আগুন দেয়াসহ সংঘর্ষেও ঘটনায় নিহত হামিদুলের লাশ এখনো রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিম ঘরে রাখা হয়েছে। অপরদিকে ঘটনা তদন্তে জেলা প্রশাসনের গঠিত ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গতকাল শনিবার থেকে কাজ শুরু করেছে বলে জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান জানিয়েছেন। তিনি জানান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু রাফা মোহাম্মদ আরিফকে প্রধান করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটিকে ৭ দিনের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।

ঘটনাস্থল হিন্দু পাড়া ঠাকুরবাড়ি গ্রামে এখনো আতংক অবস্থা বিরাজ করছে। সেখানে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। রংপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গতকাল সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তাদের বাড়ি ঘর নির্মাণ করে দেয়া হবে।

এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি বলেছেন, রামু আর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসির নগরে যেভাবে সাম্প্রদায়িক শক্তি দেশকে অস্থিতিশীল করতে তান্ডব চালিয়েছিলো একই কায়দায় রংপুরের পাগলাপীর ঠাকুরপাড়া গ্রামে তান্ডব চালানো হয়েছে। তবে এবার জনগণ তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে।

তিনি গতকাল শনিবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এসব কথা বলেন। এ সময় তার সাথে ছিলেন দিনাজপুরের সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপালসহ জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ। তিনি বলেন, ঠাকুরপাড়ার গ্রামে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর যে তান্ডব চালানো হয়েছে তা খুবই দুঃখজনক। তারা বাড়িঘর জ্বালিয়ে দিয়েছে। মালামাল লুট করেছে। তাদের উপর হামলা করে রক্তাক্ত করেছে। এটা মেনে নেয়া যায় না। প্রশাসন সন্ত্রাসীদের ধরতে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে।

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনার খবর পাবার পর আমাদের দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের আজ এখানে আসার কথা ছিলো কিন্তু তিনি অন্য একটি নির্ধারিত কর্মসূচির কারণে আসতে পারেননি। তিনি হিন্দু সম্প্রদায়কে আশ্বস্ত করে বলেন আওয়ামীলীগ সব সময় আপনাদের পাশে ছিলো এবং থাকবে। ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি ঘর নির্মাণ করে দেয়াসহ যা করণীয় সব করবে। পরে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ৫ হাজার করে টাকা প্রদান করেন। গত শুক্রবার রাতে পরিদর্শন করেছেন  স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা।  তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের বাড়িঘর পরিদর্শন করে দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার আশ^াস দেন।

এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে এসে রংপুরের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন,আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত ভাবে জামায়াত শিবিরের সন্ত্রাসীরা ঠাকুরপাড়া গ্রামে হামলা চালিয়ে তান্ডব চালিয়েছে। তিনি জানান, এপর্যন্ত ৫৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এরা সকলেই জামায়াত শিবিরের নেতা কর্মী।

উল্লেখ্য, রংপুরে মহানবীকে (সাঃ) নিয়ে ফেসবুকে কটূক্তি করার প্রতিবাদে বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুব্ধ মুসল্লিরা। এসময় পুলিশ বাধা দিতে গেলে মুসল্লিদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে  হামিদুল নামে ১ জন নিহতসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়।  

 

ফেসবুকে কথিত স্ট্যাটাস দেওয়া টিটু রায় ‘নিরক্ষর’, এলাকায় নেই ৭ বছর

রংপুর জেলা প্রতিনিধি : ফেসবুকে বিতর্কিত একটি স্ট্যাটাসের অভিযোগ তুলে রংপুর সদর উপজেলার হিন্দু অধ্যুষিত ঠাকুরপাড়া গ্রামে তাণ্ডব চালানো হয়েছে। প্রাণ গেছে একজনের। তবে যার বিরুদ্ধে কথিত এই স্ট্যাটাস দেওয়ার অভিযোগ সেই টিটু রায় ফেসবুক ব্যবহার তো দূরে থাক, কোনও পড়ালেখাই জানে না বলে দাবি করেছে তার পরিবার। স্বজনদের দাবি, টাকা-পয়সা ধার- দেনা করে প্রায় সাত বছর ধরে সে এলাকাছাড়া।

রংপুরের সদরের পাগলাপীর ঠাকুরপাড়া গ্রামে গত শুক্রবার (১০ নভেম্বর) এই হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ জানায়, ঠাকুরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা টিটু রায় নারায়ণগঞ্জে ফতুল্লায় একটি গার্মেন্ট কারখানায় কাজ করেন। তিনি থাকেনও সেখানেই। কয়েকদিন আগে টিটুর নামে একটি ফেসবুক আইডিতে আপত্তিকর এক স্ট্যাটাস দেওয়া হয় বলে অভিযোগ তোলেন গ্রামবাসী। এ কারণে পাগলাপীর, মমিনপুর, হাড়িয়াল কুঠিসহ আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর আশপাশের ৬-৭টি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ ঠাকুরপাড়া গ্রামে হামলা চালায়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে জনতার সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শত শত রাউন্ড টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পুলিশ। পরে পুলিশ গুলি চালালে আহত হন ছয় জন। তাদের রংপুর মেডিক্যাল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হলে হামিদুল ইসলাম নামে একজন মারা যান।

তবে এই সংঘর্ষের মধ্যেই ঠাকুরপাড়ার অন্তত ৩০টি বাড়িতে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়, ভাঙচুর করা হয় ২০টি বাড়ি। হামলাকারীরা বাড়িঘরের মালামাল, বাসনপত্র, গরু-ছাগলও লুট করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন গ্রামবাসী।  

ঠাকুরপাড়াবাসী ও স্বজনদের কাছ থেকে জানা যায়, এই গ্রামের মৃত খগিন্দ্র চন্দ্রের ছেলে টিটু রায়। সে লেখাপড়া করেনি, কোনোমতে নিজের নামটা শুধু স্বাক্ষর করতে জানে। টিটু রায়ের ছোট ভাই বিপুল চন্দ্র জানান, প্রায় সাত বছর আগে পাওনাদারের ভয়ে বাড়ি-ঘর ছেড়ে ঢাকায় চলে যায় টিটু। সে বিভিন্ন এনজিওর কাছে ঋণ নিয়ে টাকা পরিশোধ করতে পারেনি। পাওনাদারদের অত্যাচারে বাড়ি থেকে একাই পালিয়ে চলে যায়। এরপর সে কখনই তার বাড়িতে আসেনি। প্রায় পাঁচ বছর আগে তার স্ত্রী ও ছেলে-মেয়েদের ঢাকায় ডেকে নেয়। এখন সে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে স্ত্রীসহ কাজ করছে।

বিপুল বলেন, ‘তার (টিটু) সঙ্গে আমাদের পরিবারের কোনও যোগাযোগই নেই। বাবা অর্থের অভাবে আমাদের লেখাপড়া শেখাতে পারেননি। আমার বাবা ছোট একটি চায়ের দোকান করে কোনোরকমে সংসার চালাতেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘টিটু রায়ের নামে ফেসবুকে আপত্তিকর স্ট্যাটাস দেওয়া হয়েছে বলে আমরা কয়েকদিন আগে শুনেছি। কিন্তু আমার ভাই টিটু তো লেখাপড়া জানে না। সে ফেসবুক চালাবে কী করে?’ বিপুল দাবি করেন, ‘আমাদের ধারণা অন্য কেউ টিটু রায়ের নামে ফেসবুকে আইডি খুলে এই অপকর্ম করেছে। বিষয়টি তদন্ত করলেই আসল রহস্য বেরিয়ে আসবে।’

বিপুল বলেন, ‘কয়েকদিন আগে থেকে ঠাকুরপাড়া গ্রামের পাশেই সলেয়াসার এলাকায় কিছু লোক এই ফেসবুক স্ট্যাটাস নিয়ে নানা ধরনের অপপ্রচার শুরু করে। তারা ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ার জন্য টিটুকেই অভিযোগ করে এবং এ জন্য হিন্দু অধ্যুষিত ঠাকুরপাড়া গ্রামে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করে। এরই অংশ হিসেবে পরিকল্পিতভাবে তাণ্ডব চালানো হয়েছে। আমার ভাইকে ঘটনায় ফাঁসানো হয়েছে।’

এদিকে টিটু রায়ের মা অনিলা রানী বলেন, ‘সাত বছর ধরে আমার ছেলে বাড়িছাড়া। পাওনাদারের জ্বালায় সে বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছে। এরপর আর কখনই বাড়িতে আসেনি। আজ অবধি তার সঙ্গে কোনও কথাও হয়নি। দুই ছেলে-মেয়েকে নিয়ে অনেক কষ্টে আমার দিন গেছে।’ টিটুকে ফাঁসিয়ে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

গত শুক্রবার হামলাকারীরা টিটু রায়ের বাড়িতেও হামলা চালিয়ে আগুন দিয়েছে এবং মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে। এসময় পাশের কয়েকটি বাড়িতেও হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও মালামাল লুট করা হয়েছে। বিপিন চন্দ্র নামে বৃদ্ধ এক প্রতিবেশী বলেন, ‘যারাই এই হামলা চালিয়েছে তাদের চিহ্নিত করে শাস্তি দেওয়া হোক। আমাদের কী অপরাধ? আমাদের বাড়িঘরে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হলো, মালামাল লুট করা হলো কেন? এর বিচার না হলে আমাদের পক্ষে এখানে বসবাস করা সম্ভব না।’

তিনি আরও বলেন, ‘কতক্ষণ পুলিশ আমাদের পাহারা দেবে। আমরা এখনও হামলার আশঙ্কা করছি। দায়ীদের অবিলম্বে তাদের নেতাদেরসহ গ্রেফতার করা উচিত।’

রংপুরের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, ‘যে ফেসবুক স্ট্যাটাসের কথা বলে এই হামলা চালানো হলো তা এখনও আমাদের হাতে আসেনি। আমরা সেটা পাওয়ার চেষ্টা করছি। আমাদের টিম নারায়ণগঞ্জে টিটুকে আটকের জন্য গেছে। তাকে পাওয়া গেলে ঘটনার রহস্য জানা যাবে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নস্যাতের জন্য জামায়াত-শিবির হামলার এই ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে।’   

শনিবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে এসে রংপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের পাশাপাশি ফেসবুকে কারা স্ট্যাটাস দিলো, টিটু রায় আদৌ তা দিয়েছে কিনা সব বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

অপরদিকে জেলা প্রশাসক ওয়াহিদুজ্জামান জানান, ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে।

 

 

রংপুরে হিন্দুবাড়িতে হামলা-আগুন: গ্রেপ্তার ৩৩

রংপুরে ফেইসবুকে ‘ধর্ম অবমাননার’ অভিযোগ তুলে হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে আগুন দেওয়ার ঘটনায় ৩৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সদর  সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সাইফুর রহমান জানান, গঙ্গাচড়া, তারাগঞ্জ ও সদর উপজেলায় রাতভর অভিযান চালিয়ে পুলিশ ৩৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

এক হিন্দু যুবকের বিরুদ্ধে ফেইসবুকে ‘ধর্ম অবমাননার’ অভিযোগ ওঠার পর শুক্রবার বিকালে জেলার সদর উপজেলার ঠাকুরপাড়া গ্রামে কয়েক হাজার মানুষ হিন্দুবাড়িতে হামলা চালায়।

তাদের সঙ্গে পুলিশের  সংঘর্ষে হাবিবুর রহমান (৩০) নামে একজন মারা যান।আহত হন আরও অন্তত ১১ জন। সংঘর্ষের মধ্যেই কয়েকটি বাড়িতে আগুন দেয় হামলাকারীরা।

হামলার পর সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বিশেষ ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়াউর রহমান বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের তাৎক্ষণিকভাবে দুই বান্ডেল করে টিন ও তিন হাজার করে টাকা দেওয়া হয়েছে। আর বাড়িঘর তৈরির জন্য প্রশাসন সব খরচ বহন করবে।

রাতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের শুকনো খাবার দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। পুলিশ কর্মকর্তা সাইফুর রহমান বলেন, সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ অন্য দোষীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এসব ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

 

রংপুরের বাজারে সবজি ও মুরগির মূল্যে বাড়তি ভাব

রংপুর জেলা প্রতিনিধি : বাজারে সবজি ও মুরগির মূল্য কিছুটা বাড়তি। কদিন আগেও সবজির সাথে কিছু পণ্যের মূল্য কম থাকলেও এ সপ্তাহে মূল্য কিছুটা বেড়েছে। গত সপ্তাহের মতো এ সপ্তাহেও রয়েছে পেঁয়াজের ঝাঁজ। সবজি আর মাংসের মূল্য পাল্লা দিয়ে বেড়ে যাওয়ায় অনেকটাই বিরক্ত ক্রেতারা। বর্তমানে প্রতি কেজি শিমের দাম এখন ১২০ টাকা, আর সাদা ব্রয়লার মুরগির দাম কেজি প্রতি ১৩০ টাকা। সবজির দামের বৃদ্ধির কারণে কয়েক সপ্তাহ থেকে ব্রয়লার মুরগি সস্তায় মিলছিল কিছুদিন ধরে। এ সপ্তাহে বিধি বাম।

বাজার ঘুরে জানা গেছে, বাজারগুলোতে এ সপ্তাহে সব রকম সবজির দামই চড়া। গত শুক্রবার ৪০ টাকা দরে বিক্রি হওয়া পটোল, মুলা ও করলার দাম বেড়ে কয়েকদিনের ব্যবধানে বেড়ে ৫০ টাকা হয়েছে। পেঁয়াজ ও মরিচের দামও বেশ চড়া। ১২০ টাকা কেজি দরের নিচে নামছে না কাঁচামরিচ আর কমছে না দেশী পেঁয়াজের ঝাঁজ। বাজারগুলোতে পেঁয়াজের দাম বাড়তে বাড়তে বর্তমানে ৭০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। এছাড়া পেঁপে, মুলা, আলু, কচুর বই ও বিভিন্ন প্রকারের শাক ছাড়া এখন বাজারগুলোতে ৩০ টাকা কেজির নিচে কোনো সবজিই পাওয়া যাচ্ছে না। নগরীর সিটি, মিস্ত্রিপাড়া ও সিগারেট কোম্পানীসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে এবং ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

কামালকাছনা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজার ও মানভেদে শিম বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে। আর সাধারণত সস্তায় পাওয়া লাল শাক, মাড়া শাক, লাউ শাক ও সবুজ শাকের আঁটি বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকা দরে। নতুন করে দাম বেড়েছে পটোল, ঝিঙা, করলা, ঢেঁড়শ ও বেগুনের। গত শুক্রবার ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হওয়া পটোল ও করলার দাম বেড়ে হয়েছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা। ঝিঙা ও চিচিঙ্গা বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজি দরে। বেগুন, ঢেঁড়শ, পাতাকপি, ফুলকপির দামও  কেজিতে বেড়ে বিক্রি হয়েছে হয়েছে ৭০ টাকা। শুধু বড় বাজারেই নয়, পাড়া-মহল্লার দোকান ও ভ্রাম্যমাণ  দোকানগুলোর সবজির দামের অবস্থা অনেকটাই ভয়াবহ। পাড়া-মহল্লায় ভ্যানে ফেরি করে সবজি বিক্রেতারা প্রতিটি সবজি বাজার মূল্যের চেয়ে কেজি প্রতি ৫ থেকে ৮ টাকা পর্যন্ত বেশি রাখছে।

বাজারে সবজি কিনতে আসা আমিনুল ইসলাম জানান, পরিবারের চাহিদা অনুযায়ী নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজি কিনতে এখন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের ত্রাহি অবস্থা। সবজির মূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, সবজি বাদ দিয়ে অনেকেই এখন বাধ্য হয়ে খাদ্য তালিকায় নিয়মিত ব্রয়লার মুরগি রাখছেন। আগে যেখানে মাঝে-মধ্যে শখ করে মাংস খাওয়া হতো, এখন এমন অনেক পরিবারকে সবজির বদলে মুরগির মাংস খেতে হচ্ছে। তবে অনেকে আবার এ তালিকায় মাছ রেখেছেন।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা এরশাদ হোসেন ও বিশ্বনাথ বাবু বলেন, দিনের পর দিন সব পণ্যের দাম বাড়ছে। দাম কমানোর বিষয়ে কারও মাথাব্যথা নেই। দাম কমানোর দায়িত্ব যাদের, তাদের তো দাম বাড়লেও সমস্যা নেই। সমস্যা যত আমাদের মতো নিম্নআয়ের মানুষের। বাজার করতে আসা গৃহিণী তামান্না বেগম জানান, অবস্থা যা দাঁড়িয়েছে সবজি খাওয়াই  ছেড়ে দিতে হবে। ডাল, ভর্তা, ভাত আর মাঝে-মধ্যে ব্রয়লার মুরগি আলু দিয়ে ঝোল করে খেতে হবে। মাঝে মধ্যে মাছ খাওয়া যেতে পারে। ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, শীতের সবজি হিসেবে পরিচিত ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, লাউ বাজারে এসেছে বেশ আগেই। সম্প্রতি বাজারে এসব সবজির সরবরাহও বেড়েছে। সাধারণত শীতকালীন সবজির সরবারহ শুরু হলে বাজারে সবজির দাম কমে আসে, কিন্তু এবার শীতকালীন সবজির দামও বেশ চড়া।

তবে হঠাৎ করে দাম বেড়ে যাওয়া কাঁচমরিচের দাম এখন অনেকটাই স্থির। তবে তা ১০০ টাকার নিচে মিলছে না। মরিচের পাশাপাশি গত সপ্তাহ থেকে বাড়তে থাকা  পেঁয়াজের দাম কিছুটা স্থির রয়েছে। প্রতি কেজি দেশী পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা কেজি দরে। আর আমদানি করা পেঁয়াজ ছিল ৭০ টাকা কেজি।
ভ্রাম্যমাণ সবজি বিক্রেতা কামাল হোসেন বলেন, দু’দিন ধরে সব সবজির দাম আবারও বেড়েছে। আড়তে মাল আনতে গেলে ব্যবসায়ীরা জানান বৃষ্টিতে সবজি নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে সরবরাহ কম, দামও বাড়তি। বেশি দামে সবজি কিনে আনার কারণে আমাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
মুরগি বিক্রেতা মাসুম মিয়া জানান, গত সপ্তাহের চেয়ে এ সপ্তাহে মুরগি প্রতি ১০ টাকা বেড়েছে।  ব্রয়লার ১৩০ টাকা, লেয়ার ১৯০ ও দেশী মুরগি ২৬৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

খায়রুল আলম, সারিয়াকান্দি (বগুড়া) : যমুনার চরাঞ্চলে কৃষকরা শসা চাষে বিপ্লব ঘটিয়েছে। শসা চাষ করে লাভবান হওয়ায় শসা চাষে ঝুঁকে পড়ছে কৃষক। প্রমত্তা যমুনা নদী এখন অনেকটা শান্ত। নদীর বুকে এখন নতুন নতুন চর জাগতে শুরু করেছে। সারিয়াকান্দি সদরের কালিতলা ঘাট হতে শ্যালো চালিত নৌকায় নদী পাড়ি দিয়ে চরে পা রাখলেই দেখা যাবে সবুজ ফসলের মাঠ। চরের উর্বর জমিতে কৃষক নানা ফসলের চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করে। চাষিরা নানা ফসলের ক্ষেতে কাজে ব্যস্ত সময় পার করছে। যমুনার পূর্ব পাড়ে বিস্তীর্ণ চরগ্রামগুলোতে লক্ষাধিক মানুষের বাস। তাদের জীবন-জীবিকা কৃষির উপর নির্ভরশীল। দিগন্ত বিস্তৃত বিভিন্ন ফসলের পাশাপাশি শসার ক্ষেত চোখে পড়বে। ক্ষেতে পুরুষের পাশাপাশি নারী বৃদ্ধ ও শিশুরা কাজে সহায়তা করছে। শসা দুই মাসের ফসল।

শসা বিক্রির পর ওই জমিতে অন্য ফসল চাষ করা যাবে। ফলে কৃষক লাভবান হয় বেশি। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ২৮০ হেক্টর জমিতে শসা চাষ হয়েছে। এর মধ্যে যমুনার চরেই ২৫০ হেক্টর জমিতে শসা চাষ হয়েছে। সবচেয়ে বেশি শসার চাষ হয়েছে কাজলা ইউনিয়নের বেড়াপাঁচবাড়িয়া, জামথল এবং টেংরাকুড়া চরে। এসব চরের সাথে জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার পাকা সড়ক সংযোগ রয়েছে। ঢাকা হতে পাইকারি ব্যবসায়ীরা মাদারগঞ্জ হতে ট্রাক যোগে চরে উৎপাদিত কাঁচা তরকারি ক্রয় করে সহজেই ঢাকায় নিয়ে যেতে পারে। নদী পারাপার না থাকায় পরিবহন খরচ অনেক কম পড়ে।

ক্ষেত হতে শসা তোলার পর বস্তায় ঘোড়ার গাড়ি, ব্যাটারি চালিত অটোতে করে সহজেই বাজারজাত করা যায়। ফলে চরে উৎপাদিত যে কোন ফসলের ভাল দাম পাওয়া যায়। টেংরাকুড়া চরের চাষি মোজাম শেখ দুই বিঘা জমিতে শসার চাষ করেছেন। ভাদ্র অথবা আশ্বিন মাসে জমিতে বীজ বপন করতে হয়। বীজ বপনের ৪০ দিন পর হতেই জমি হতে শসা উঠানোর উপযোগী হয়। প্রতি বিঘায় শসা চাষে খরচ হয় ২০/২৫ হাজার টাকা। ভাল ফলন পাওয়া গেলে দুই আড়াই শ’ মণ শসা পাওয়া যায়। প্রতি বিঘা জমি হতে দেড় দুই লাখ টাকার বেশি শসা বিক্রি করা যাবে বলে তিনি আশা করছেন। জামথল চরের শোনাহার শেখ দুই বিঘায়, দুলাল শেখ দেড় বিঘায়, বেড়াপাঁচবাড়িয়া চরগ্রামের

কফিল শেখ, রাশেল মিয়া জানান, ৮/১০ বছর আগে থেকে চরের জমিতে হাতে গোনা কয়েক জন কৃষক শসা চাষ শুরু করে। তাদের দেখাদেখি এখন অনেকেই শসা চাষ শুরু করেছে। আগে শসা চাষ কেউ করতে চাইতো না। বন্যায় শাকসবজি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এ বছর শসার দাম ভাল। জমিতে পাইকারি ব্যবসায়ীরা এসে দরদাম ঠিক করে যান। কৃষক জমি হতে শসা উঠানোর পর বস্তায় ভরে ঘোড়ার গাড়ি অথবা ব্যাটারি চালিত অটোতে করে মাদারগঞ্জে মহাজনের আড়তে পৌঁছে দেন। বর্তমানে প্রতি মণ শসা ৭শ’ ৮শ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে চাষিরা লাভবান হচ্ছে। শসা চাষ লাভজনক ফসল হওয়ায় চরগ্রামের কৃষক শসা চাষে দিনদিন আগ্রহী হয়ে উঠছে। উপজেলা কৃষি অফিসার মো.শাহাদুজ্জামান বলেন, শসা চাষ অনেক লাভজনক ফসল। প্রতিবছর চরাঞ্চলে শসার চাষ বাড়ছে। কৃষি বিভাগের প্ক্ষ থেকে চাষিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

 

রসিক নির্বাচন : আসনটি নিজের দখলে রাখতে মরিয়া বিএনপি

রংপুর জেলা প্রতিনিধি : চলতি বছরের ডিসেম্বরে রংপুর সিটি করপোরেশন (রসিক) নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য প্রস্তুত নির্বাচন কমিশন। দলীয় প্রতীকে প্রথমবারের মতো রসিক নির্বাচন হতে যাওয়ায় জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে কাজ করছে রংপুর জেলা ও মহানগর বিএনপি। এ জন্য রংপুর মহানগরীর ৩৩টি ওয়ার্ডের প্রতিটি গ্রাম-পাড়া-মহল্লায় বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতারা গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক, পেশাজীবী, পারিবারিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে ভোট ও দোয়া প্রার্থনা করছেন বিএনপির নেতারা।

বিএনপি ও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে লড়তে  বিএনপি ও অঙ্গদলের নেতারা আগ্রহ প্রকাশ করে বিভিন্ন ভাবে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপিতে চলছে চমকের প্রচেষ্টা। সেই তালিকায় রয়েছেন রংপুর মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রনেতা শহিদুল ইসলাম মিজু, মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি ও সমাজসেবক সুলতান আলম বুলবুল, শিল্পপতি ও এ্যাজাক্স জুট মিলের চেয়ারম্যান কাওছার জামান বাবলা, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম, জেলা যুবদল সভাপতি নাজমুল আলম নাজু। মনোনয়ন পেলে ধানের শীষের বিজয় ছিনিয়ে আনতে দলের সকলকে সাথে নিয়ে কাজ করতে চান সকল প্রার্থী।

সূত্র মতে, রংপুর সিটি করপোরেশনে বর্তমানে ভোটার রয়েছে ৩ লাখ ৮৮ হাজার ৪২১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৯৬ হাজার ৬৫৯ এবং নারী ১ লাখ ৯১ হাজার ৭৬২ জন। সম্ভাব্য ভোট কেন্দ্র ১৯৬টি, ভোট কক্ষ ১ হাজার ১৭৭টি। ২০১২ সালে ভোটার ছিল ৩ লাখ ৫৭ হাজার ৭৪২ জন। মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি সুলতান আলম বুলবুল জানান, দীর্ঘদিন দলের সাথে আছি। তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করেছি। দল যদি চায় তাহলে মেয়র পদে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত আছি। দল যাকে নমিনেশন দেবে তার পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করব। রংপুর মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মিজু জানান, আগের চেয়ে রংপুর মহানগর বিএনপি এখন অনেক শক্তিশালী ও সুসংগঠিত। ইতিমধ্যে রংপুর মহানগরীর ৩৩টি ওয়ার্ডে বিএনপির বিপুল সংখ্যক সদস্য সংগ্রহ করা হয়েছে। দল চাইলে আমি মেয়র পদে নির্বাচন করতে প্রস্তুত আছি।

 

ডিবি পুলিশের নির্যাতনে কাউনিয়ায় যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ

কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি : রংপুরের ডিবি পুলিশের নির্যাতনে রাসেল (২৫) নামের কাউনিয়ার এক যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের অভিযোগ দাবিকৃত ১ লাখ টাকা না দেয়ায় তাকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। তবে ডিবি পুলিশ দাবি করছে হিরোইন সেবনের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।
নিহত রাসেলের ছোট বোন সোহানা জানিয়েছেন, গত শনিবার রাত ১০ টার দিকে হলদিবাড়ি বাজার থেকে আমার ভাই রাসেলকে গ্রেফতার করে ডিবির একটি দল। রাত ১টার দিকে শফি নামের ডিবি পুলিশ মোবাইল থেকে ফোন করে আমাদের কাছে ১ লাখ টাকা দাবি করে। আমরা টাকা দিতে না পারায় তাকে ব্যাপক নির্যাতন করা হয়। এতে আমার ভাই অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে পুলিশ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। গত রোববার দুপুরে সে মারা যায়।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। আমার ভাই কোন নেশা করতো না। সে পাটের ব্যবসার সাথে জড়িত। তার দুটি সন্তান আছে। তবে রংপুর ডিবির ওসি নর্থ শরিফুল ইসলাম জানান, রাসেল হিরোইন সেবি ছিলো। সে অতিরিক্ত হিরোইন খাওয়ার কারণেই হিরোইন পয়জোনিংয়ের কারনে তার মৃত্যু হয়েছে। তাকে কোন নির্যাতন করা হয়নি।

 

রংপুরে জেডিসি পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যা

রংপুর জেলা প্রতিনিধি : মাদ্রাসায় কোচিংয়ের টাকা দিতে না পারায় অভিমান করে গলায় রশি দিয়ে মুন্না নামে এক জেডিসি পরীক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত রোববার সন্ধ্যায় রংপুর মহানগরীর ১৩নং ওয়ার্ডের পূর্ব পীরজাবাদ এলাকায়।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, পূর্ব পীরজাবাদ এলাকার ইউনুস আলীর ছেলে মুন্না মিয়া (১৪) সম্মানীপুর হাজী আব্দুল জব্বার দাখিল মাদ্রাসা থেকে অনুষ্ঠিতব্য জেডিসির পরীক্ষার্থী ছিল। রোববার সকালে প্রবেশপত্র নিতে গেলে মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট মাওলানা হোসাইন মুন্নার কাছে কোচিং এর টাকা চায় ও অভিভাবকে মাদ্রাসায় আসতে বলেন। মুন্না প্রবেশ পত্র না নিয়ে বাড়িতে ফিরে আসে। পরে মুন্না তার মাকে সঙ্গে নিয়ে মাদ্রাসায় প্রবেশপত্র নিতে যায়।

এলাকাবাসী জানান, এ ঘটনায় মুন্নার মা মুন্নি বেগম তাকে বকাবকি করে। সন্ধ্যায় বাড়িতে কেউ না থাকায় মুন্না তার শয়ন ঘরের তীরে গলায় রশি টাঙ্গিয়ে ফাঁস দেয়। পরে মুন্নাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কতর্ব্যরত চিকিৎসক থাকে মৃত ঘোষনা করেন। মুন্নার মা মুন্নি বেগম জানান, মাদ্রাসার কোচিং এর টাকা ও নির্বাচনী পরীক্ষায় ভালো ফলাফল না করার জন্য আমি মুন্নার সঙ্গে বকাবকি করি কিন্তু বুঝতে পারেনি ছেলে আমার আত্মহত্যা করবে। মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট মাওলানা হোসাইন বলেন, মুন্না প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষায় বেশ কয়েকটি বিষয়ে ফেল করেছে। এছাড়াও পরীক্ষার্থীদের মাদ্রাসায় নিয়মিত কোচিং করানো হয়েছে। এই কোচিং এ মুন্না নিয়মিত আসতো না।

সৈয়দপুরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে মাঠে নামছে সওজ

নীলফামারী প্রতিনিধি: নীলফামারীর সৈয়দপুরে সড়কের দু’পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে মাঠে নামছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ)। গতকাল শনিবার থেকে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে বিধি মোতাবেক এসব স্থাপনা সরিয়ে নেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন ওই মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব মো. গোলাম জিলানী। না হলে উচ্ছেদ অভিযানে নামবে সওজ। এর আগে সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বজলুর রশীদের নেতৃত্বে শহরের ফুটপাথ দখলমুক্ত করা হয়। সূত্র জানায়, জাতীয় মহাসড়ক (এন-৫) সৈয়দপুর পৌর এলাকার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে তুলশীরাম সড়ক হয়ে খড়খড়িয়া ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার সড়কের উভয় পাশে গড়ে উঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের উদ্যোগ নিয়েছে সওজ।

 ১০ কার্যদিবসের মধ্যে এসব স্থাপনা সরিয়ে না নিলে অভিযানে নামবে তারা।  এদিকে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সম্পত্তি শাখা থেকে এ রকম নির্দেশনার একটি চিঠি সৈয়দপুরে এসে পৌঁছায় ব্যবসায়ীরা উচ্ছেদ আতঙ্কে রয়েছেন। সৈয়দপুর পৌরসভার মেয়র মো. আমজাদ হোসেন সরকার  জানান, মহাসড়কের রংপুর সড়ক থেকে দিনাজপুর সড়ক পর্যন্ত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। খুব শিগগিরই তারা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ নিয়ে উচ্ছেদ অভিযানে নামবে বলে জানান তিনি।

 

এই বিভাগের আরো খবর

প্রধানমন্ত্রীর কাছে শিশু মাওয়ার আকুতি

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি : ঠাকুরগাঁওয়ের আলোচিত স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আব্দুল মান্নান হত্যাকান্ডের অভিযুক্তদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। অভিযুক্ত মূলহোতারা বর্তমানে জেল হাজতে। কিন্তু হত্যাকান্ডের সঠিক বিচার নিয়ে সংশয়ে রয়েছে আব্দুল মান্নানের পরিবার।সম্প্রতি আব্দুল মান্নানের শিশু কন্যা তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া মাওয়া আক্তার বাবার হত্যাকারীদের সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে একটি লিখিত আবেদন করেছেন। যা ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল  হয়ে পড়েছে।

 

রহিঙ্গাদের নির্মম নির্যাতন ও হত্যার প্রতিবাদে ডোমারে মানববন্ধন

ডোমার (নীলফামারী) প্রতিনিধি : মিয়ানমারের রহিঙ্গা মুসলমানদের উপর নির্মম নির্যাতন ও গণহত্যার প্রতিবাদে নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় মানববন্ধন করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার  বেলা ১১টায় রেলঘুন্টি মোড়ে যৌথভাবে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন করে ডোমার উপজেলা শাখা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ।

জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি গোড়াচাঁদ অধিকারীর সভাপতিত্বে এ সময় পৌরসভা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. ময়নুল হক মনু, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন কমিটির উপজেলা আহবায়ক রামনিবাস আগোরওয়ালা, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি মনোরঞ্জন রায়, সম্পাদক নিখিল চন্দ্র সাহা প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। বক্তরা রহিঙ্গাদের উপর নির্যাতন বন্ধ ও বাংলাদেশে অনুপ্রবেশকারী সকল রহিঙ্গাদের নিজ দেশে সম্মানের সাথে ফিরিয়ে নেওয়ার আহবান জানান।

 

রংপুরে বাসের ধাক্কায় ২ বাইক-আরোহী নিহত

রংপুর শহরে বাসের ধাক্কায় দুই মোটরসাইকেল-আরোহীর মৃত্যু হয়েছে। কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আজিজুল ইসলাম জানান, শহরের হাজীরহাট মুচির মোড়ে শনিবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে রংপুর-দিনাজপুর সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত বুলবুল (৪০) ও আনছারুল (৪২) নীলফামারীর ডোমার এলাকার বাসিন্দা বলে জানালেও তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ তাদের পূর্ণ পরিচয় বলতে পারেনি।

পরিদর্শক আজিজুল প্রত্যক্ষদর্শীর বরাতে বলেন, বুলবুল ও আনছারুল মোটরসাইকেলে করে রংপুর শহরে আসছিলেন। মুচির মোড়ে পৌঁছালে রংপুর থেকে সৈয়দপুরগামী একটি বাস তাদের ধাক্কা দিয়ে চলে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তারা মারা যান।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা প্রায় আধাঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখে জানিয়ে তিনি বলেন, পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পর সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়।

লাশ ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসাপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

 

ডোমারে গৃহকর্তাকে হত্যা করে ডাকাতি

ডোমার (নীলফামারী) প্রতিনিধি : নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় অতুল চন্দ্র রায় (৬০) নামের এক বৃদ্ধ গৃহকর্তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে তার বাড়িতে ডাকাতি করেছে দুর্বৃত্তরা। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার বোগাড়াড়ি ইউনিয়নের নয়ানী বাগডোগড়া মাস্টারপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অতুল চন্দ্র ওই এলাকার বিষ্টু রাম রায়ের ছেলে। এ ঘটনায় তার স্ত্রী দেব বালা বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

অতুল চন্দ্র রায়ের মেয়ে দিপালি রানীর ছেলে (নাতি) সুমন চন্দ্র রায় (১৫) বলেছে, দুপুরে আমার মামিকে আনতে তার বাবার বাড়ি ডিমলা উপজেলার ডালিয়ায় যায় নানী। দুপুর হতে নানা বাসায় একা ছিল। আমি সন্ধ্যা সাতটার সময় নানার সাথে ঘুমানোর জন্য সেখানে যাই। নানা বাড়ির বাইরের দরজা বন্ধ দেখে নানাকে ডাকাডাকি করি। কিন্তু কোন সাড়া না পেয়ে বাড়ির দেওয়াল পেরিয়ে ভিতরে ঢুকে দেখি বাইরের সব চেয়ার-টেবিল ছড়ানো-ছিটানো। ঘরের ভিতরে প্রবেশ করে দেখি মুখে টেপ ও হাত শাড়ি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় আমার নানা মেঝেতে পড়ে আছে।

 আমি চিৎকার করলে আশপাশের সবাই এসে মুখের টেপ ও হাতের বাঁধন খুলে স্থানীয় একটি চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে গেলে ডাক্তার নানার মৃত্যু ঘোষণা দেন।রাতেই জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অশোক চন্দ্র রায় ও থানার অফিসার্স ইনচার্জ মো: মোকছেদ আলী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, লাশ জেলা মর্গে পাঠানো হয়েছে। দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনা হবে।

এই বিভাগের আরো খবর

রংপুরে বাস খাদে পড়ে নিহত ২

রংপুরে একটি বাস খাদে পড়ে সুপারভাইজার ও এক যাত্রীর প্রাণ গেছে; আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন।  পীরগঞ্জ উপজেলার বিশমাইল কলাবাড়ান এলাকার ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে বড়দরগাহ হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির এসআই হাফিজুর রহমান জানান।

নিহতরা হলেন সুপারভাইজার রাজা মিয়া (৩৫) ও যাত্রী মফিদুল ইসলাম (৩০)।  

আহতদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। হতাহতদের বাড়ি নীলফামারী জেলায় বলে পুলিশ জানিয়েছে।        

এসআই হাফিজুর রহমান বলেন, সকালে আল-রিয়াদ পরিবহনের একটি বাস যাত্রী নিয়ে ঢাকা থেকে নীলফামারীর দিকে যাচ্ছিল। “পথে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে বাসটি রাস্তার পাশের একটি খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই দুইজনের মৃত্যু হয়।”   

লাশ উদ্ধার করে পুলিশ ফাঁড়িতে রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।

এই বিভাগের আরো খবর

বদরগঞ্জে কমছে বন্যার পানি রেখে গেছে গভীর ক্ষত

বদরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি : খায়রুল মীর (৪২) ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে আছেন আমন ক্ষেতের দিকে। সবুজ আমনক্ষেত কাদা লেগে হয়ে গেছে বিবর্ণ। আর সেই ক্ষেত থেকে বাতাসে ভেসে আসছে পঁচা দুর্গন্ধ। এ অবস্থায়ও তিনি আইলে বসে তাকিয়ে দেখছেন নিজ হাতে লাগানো আমন চারার বিবর্ণ চেহারার দিকে। সেই চারা বন্যার পানিতে ডুবে পুরোপুরি পঁচে গেছে। আর সেখান থেকে বের হচ্ছে শুধুই দুর্গন্ধ। তার সাথে কথা বলতে চাইলে প্রথমে তিনি কথা বলতে পারেননি। তার দু’চোখের কোণ দিয়ে শুধুই গড়িয়ে পড়ছিল পানি।

এক পর্যায়ে কথা বলেন। তিনি জানান, তার সাত সদস্যের সংসারে তিনিই একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। বাড়িভিটার কয়েক শতক জমি ছাড়া তার কোন সম্পদ নেই। তাই জীবন বাঁচাতে তিনি সাড়ে তিন বিঘা জমি বর্গা নিয়ে আমন চারা রোপণ করেছিলেন। কিন্তু সেই চারা রোপণের কয়েকদিন পরই প্রবল বন্যায় তা’ তলিয়ে পুরোপুরি নষ্ট হয়েছে। এখন ওই জমিতে নতুন চারা রোপণের মত সামর্থ্য তার আর নেই। কিন্তু জমিতে ধান না ফলালে জীবন বাঁচবে কিভাবে- সেই চিন্তায়ই তার ঘুম হারাম হয়েছে।

খায়রুলের বাড়ি উপজেলার রামনাথপুর ইউনিয়নের কিসমত ঘাটাবিল এলাকার মীরাপাড়ায়। শনিবার সকালে এলাকা পরিদর্শনকালে তার সাথে কথা হয়। শুধু খায়রুল নন বন্যার পানিতে ওই এলাকার সকল কৃষকের আমনক্ষেত পুরোপুরি নষ্ট হয়েছে। তবে যাদের ঘরে কিছু সম্পদ রয়েছে তারা সেই সম্পদ বিক্রি করে নতুন করে বীজতলা তৈরি করছেন। আর যারা খায়রুলের মত বর্গচাষি তাদের মাঝে বিরাজ করছে শুধুই হতাশা। এ দৃশ্য শুধু রামনাথপুর ইউনিয়নের কিসমত ঘাটাবিলের নয় গোটা উপজেলার ১০ ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় একই চিত্র দেখা দিয়েছে।

উপজেলা কৃষি অধিদফতরের হিসেব মতে, এবারের মওসুমে মোট ১৯ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে আমনচারা রোপণ করেছিলেন চাষিরা। যার মধ্যে ৯ হাজার ৮৮০ হেক্টর আমনক্ষেত পুরোপুরি বন্যার পানিতে ডুবে যায়। ফলে খায়রুলের মত ৫২ হাজার আমন চাষির ঘুম হারাম হয়ে যায়। কৃষি অফিসের দাবি- আমনক্ষেত থেকে পঁচা দুর্গন্ধ ভেসে আসলেও পানিতে ডুবে যাওয়া সকল আমনক্ষেত যে ক্ষতিগ্রস্ত হবে তা নয়। কিছু কিছু আমনক্ষেত হয়তোবা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

উপজেলা কৃষি অফিসার মাহবুবর রহমান বলেন, বন্যার পানি নামতে শুরু করলেও এখনো অনেক আমনক্ষেত পানিতে তলিয়ে আছে। একারণে ক্ষতির পরিমাণ এখনই নিরূপণ করা সম্ভব নয়। তবে দু’চার দিনের মধ্যে আমনক্ষেতের ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা সম্ভব হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, উর্ধতন কৃষি কর্মকর্তারা এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তারাও স্বীকার করেছেন বদরগঞ্জ উপজেলায় আমনক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতির কথা।

এই বিভাগের আরো খবর

কিশোরগঞ্জে শিশুকে গলা কেটে হত্যা

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় আট বছরের এক শিশুর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার কিশোরগঞ্জ-ঢাকা আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে ভরাদিয়া এলাকায় কাজল চৌধুরী (৮) নামের শিশুটির লাশ পাওয়া যায়। কাজল কটিয়াদীর লোহাজুরী ঝিরারপাড়ের আসাদ চৌধুরীর ছেলে।
কটিয়াদি মডেল থানার ওসি গোলাম রাব্বানী জানান, বৃহস্পতিবার রাত ৮টার পর থেকে কাজল নিখোঁজ ছিল।

রাতে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাওয়া যায়নি। সকালে কিশোরগঞ্জ-ঢাকা আঞ্চলিক মহাসড়কের পশ্চিম পাশে ভরাদিয়া এলাকায় লাশ দেখে এলাকাবাসী পুলিশে খবর দেয়। কটিয়াদি থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। ওসি জানান, তাৎক্ষণিকভাবে হত্যার কারণ জানা যায়নি। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সহকারী পুলিশ সুপার জামাল উদ্দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বলে জানান ওসি।

তারাগঞ্জে নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে যুবকের মৃত্যু

তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি : তারাগঞ্জে পাকজাল দিয়ে ভরা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে সবুজ মিয়া (৩২) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। জানা গেছে, গত বুধবার সন্ধ্যার পর উপজেলার খারুয়াবাদ গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নানের পুত্র সবুজ মিয়া তার চাচাত ভাই তহির এর সঙ্গে সন্ধ্যার পর ভরা খাঁরভাজ নদীতে পাকজাল দিয়ে মাছ ধরতে যায়। একসময় সবুজ পাকজালটি মধ্য নদীতে ছাপিয়ে নদীর এপার হয়ে ডুবে ওপরে গিয়ে জাল উঠানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু নদীর স্রোতে না পেরে নদীতে ডুব দেয়। অনেক সময় হওয়ার পর ও সবুজ নদী থেকে না উঠায় চাচাত ভাই তহির চিৎকার করতে থাকে। এ সময় লোকজন এসে নদীতে অনেক খোঁজা-খোঁজির প্রায় ৩ ঘন্টা পর ওই এলাকার সামাদ মেম্বারের ঘাট এলাকায় মৃত অবস্থায় সবুজকে লোকজন উদ্ধার করে। ওই এলাকার ইউপি সদস্য আজম মিয়া ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। 

এই বিভাগের আরো খবর

রংপুরের ৫ উপজেলায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে

রংপুর প্রতিনিধি : উজান থেকে নেমে আসা পাহাডি ঢল  টানা বর্ষণে পাøবিত  হয়েছে তিস্তা আববাহিকায় ১৫২ কিলোমিটার এলাকার চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চল।

তিস্তা-ঘাগট যমুনেশ্বরী নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রংপুরের সদর, পীরগাছা, কাউনিয়া, পীরগঞ্জ ও মিঠাপুকুর উপজেলার ৮৫টি গ্রামসহ পানির নিচে তলিয়ে গেছে রোপা আমনসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষেত। লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

গঙ্গাচড়া উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের ৪০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। উপজেলার নোহালী, আলমবিদিতর, কোলকোন্দ, লক্ষ্মীটারী, গজঘন্টা ও মর্ণেয়া ইউনিয়নের পানিবন্দী হয়ে পড়েছে অত ৩৫ হাজার মানুষ। তিস্তার ডান তীরে বাঁধের বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দেওয়ায় শহর রক্ষা বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। প্রবল স্রোতে মুটুকপুর আর চল্লিশের চরের ২০টি বাড়ি ভেসে গেছে। কাউনিয়া উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের বন্যা দেখা দেওয়ায় প্রায় ২০ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।  ভেঙ্গেগেছে রাস্তাঘাট, তলিয়ে গেছে আমন ধান ও মাছের খামার।

পীরগাছা উপজেলার ৩টি ইউনিয়নের ২০টি গ্রামের প্রায় ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। উপজেলার ছাওলা ইউনিয়নের গাবুড়া, শিবদেবচর, আমিনপাড়া, চরছাওলা কামারের হাট, রামসিং, জুয়ানের চরসহ প্রায় ১০টি গ্রাম বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। ৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয় পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় তা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়াও তাম্বুলপুর ইউনিয়নের চর তাম্বুলপুর, নামাচর, চররহমতসহ ৬টি ও কান্দি ইউনিয়নের সতন্ত্ররা, দোয়ানি মনিরাম, তেয়ানি মনিরাম এবং দীঘটারি গ্রাম বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে।

এই বিভাগের আরো খবর

বদরগঞ্জে ইয়াবাসহ আটক ১

বদরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি : রংপুরের বদরগঞ্জে ইয়াবা বিক্রির সময় মহবুল ইসলাম (২২) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। সে রংপুর সদর উপজেলার মমিনপুর ইউনিয়নের মোক্তারপাড়ার আজহারুল ইসলামের ছেলে। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বদরগঞ্জ থানা পুলিশ ইয়াবা বিক্রির সময় শহরের মীর মার্কেট এলাকা থেকে তাকে আটক করে।

এ সময় পুলিশ তার  মোটরসাইকেলে তল্লাশি চালিয়ে পাঁচ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।বদরগঞ্জ থানার ওসি আখতারুজ্জামান প্রধান বলেন, মহবুলের বিরুদ্ধে মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে। একই সাথে তার ব্যবহৃত রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়েছে।

 

রংপুরের অর্থনৈতিক চাকা ঘুরিয়ে দিতে পারে শুঁটকি মাছ ব্যবসায়ীরা

রংপুর জেলা প্রতিনিধি : রংপুরের দর্শনা ঘাঘট পাড়ার শুঁটকি হাটে ক্রেতাদের ভিড় আগের মত দেখা মিলছে না। শুঁটকি হাটে কেনাবেচা নেই বললেই চলে। আগের মত ক্রেতারা আসছে না সেখানে শুঁটকি কিনতে। আগে শুঁটকির হাটে দিনে ২০ লাখ টাকার শুঁটকি কেনা বেচা হলেও বর্তমানে এর পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকায়। এরপরেও আশার আলো দেখছেন শুটকি মাছ ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সঠিক ভাবে ব্যাংক থেকে ঋণ পেলে পূর্বের ধারদেনা পরিশোধ করাসহ ব্যবসার মন্দা ভাব কাটবে।

জানা গেছে, পাইকারী শুঁটকি ব্যবসায়ীরা খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে বাকিতে শুঁটকি মাছ বিক্রি করায় সময় মতো পাওনা টাকা উত্তোলন করতে না পেয়ে অনেক ব্যবসায়ী  ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন। এতে করে তারা তাদের বাপ দাদার পেশা বদলাতে বাধ্য হচ্ছেন। শুটকি ব্যবসায়ীদের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য গঠিত কমিটির কোন কার্যক্রম না থাকায় প্রতিনিয়ত সাধারণ শুঁটকি ব্যবসায়ীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন। ফলে দর্শনার মোড়ে প্রায় ২৮ বছর আগে গড়ে ওঠা সম্ভাবনাময়ী শুঁটকির আড়ত রংপুর এলাকায় কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতেও ব্যর্থ হচ্ছে।

শুঁটকি আড়ত সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮০ সালে প্রায় দেড় একর জমিতে শুঁটকি মাছের আড়তটি গড়ে ওঠে। শুরুর দিকে আড়তে প্রায় ৫০ জনব্যবসায়ী থাকলেও এখন ব্যবসায়ী রয়েছে মাত্র ২২ জন। বাকিতে শুঁটকি মাছ বিক্রির টাকা তুলতে না পারায় পুঁজি হারিয়ে অনেক ব্যবসায়ী পথে বসেছেন। শুঁটকি ব্যবসায়ী ইব্রাহিম এবং ফজলু মিয়া ব্যাংকের ঋণ নিয়ে পরিশোধ করতে না পারায় তারা ব্যবসা গুটিয়ে সটকে পড়েছেন বলে অনেক ব্যবসায়ীরা জানান। অপরদিকে কাব্ব ট্রেডার্সের ম্যানেজার সুজয় দাস বলেন, শুঁটকি ব্যবসায়ীরা সঠিকভাবে ঋণ পেলে তাদের ভাগ্য বদলাতে পারবে। তবে সে জন্য দরকার ব্যাংকিং ঋণের সুযোগ সুবিধা।
আড়ত ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে দেশি মাছের শুঁটকির মৌসুম না থাকায় আড়তে সামুদ্রিক শুঁটকি মাছে ভরে গেছে। এখানে দেশি মাছের শুঁটকি খুব একটা দেখা য়ায় না। শুটকি ব্যবসায়ী  মো. আজিজ, আব্দুল হাকিম, আজগার আলী জানান, বছরের সব সময় শুঁটকি মাছের চাহিদা থাকে। তবে বৈশাখ থেকে জ্যৈষ্ঠ মাস পর্যন্ত শুঁটকির চাহিদা সবচাইতে বেশি।

সামুদ্রিক শুঁটকির বৃহৎ অংশ আসে চট্টগ্রাম, খুলনা, পটুয়াখালী, বরিশাল ও রাজশাহীর চলন বিলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে। ভারতীয় (এলসি) শুঁটকি মাছ সরাসরি না এলেও নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর শুঁটকি আড়ত হয়ে রংপুরের আড়তে প্রবেশ করে।
আড়তে সামুদ্রিক শুঁটকি মাছের মধ্যে ফেসা, কইড়া, লটকি, বালিয়া, মিতি চকলেট, কাচকি, পাতা, চেলা অন্যতম। মাছের আকার এবং সংরক্ষণের প্রকারভেদে একই মাছের শুঁটকির দামের মধ্যে বেশ তারতম্য দেখা যায়। চেলার কেজি ২৫০ থেকে ৩৮০ টাকা, কাচকি ১৬০ থেকে ২২০ টাকা, ফেসা ১০০ থেকে ৩০০ টাকা, ধঞ্চা ৪০ থেকে ১০০ টাকা, লটকি ১৬০ থেকে ৩০০ টাকা, মিতি চকলেট ১০০ থেকে ১৩০ টাকা ও বালিয়া ৯০ থেকে ১২০ টাকা। তবে এলসি শুঁটকি মাছ দেশি সামুদ্রিক মাছের চেয়ে সব সময় কেজিতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত কমে বিক্রি হচ্ছে। শুঁটকি ব্যবসায়ী আনসারুল হক ট্রেডার্সের মালিক রেজাউল করিম বলেন, প্রতিদিন রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে ব্যবসায়ীরা আড়তে এসে শুঁকটি মাছ কিনে নিয়ে তারা বিক্রি করে থাকেন।

শুটকি ব্যবসায়ী সুনীল দাস বলেন, তিনি দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে শুঁটকি মাছের ব্যবসার সাথে জড়িত আছেন। মৌসুমের সময় তিনি প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকার শুঁটকি মাছ বিক্রি করেন। বর্তমানে  শুঁটকি মাছের ভরা মৌসুম হওয়ায় প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকার শুঁটকি মাছ বিক্রি হচ্ছে। ব্যাংকগুলো সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা করলে আড়তে ব্যবসায়ীর সংখ্যার বৃদ্ধির পাশাপাশি ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। বর্তমানে প্রত্যেক ব্যবসায়ীর অধীনে ৩ থেকে ৫ জন শ্রমিক কাজ করছে। তাদের প্রত্যেকের মজুরি ৩শ’ টাকা করে।

রাসায়নিক দ্রব্য শুঁটকি মাছে ব্যবহার করা হয় কি না বিষয়ে জানতে চাইলে শুটকি ব্যবসায়ী কার্তিক দাস বলেন, এটা আমদানীকারকরাই ভালো বলতে পারবেন। দেশীয় শুঁটকিতে কোন রাসায়নিক দ্রব্য দেয়া হয় না। রংপুর প্রাইম ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট রেজাউল করিম জানান, সব ব্যবসায়ীরাই ব্যাংক ঋণের জন্য আবেদন করতে পারে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ নিয়ম মেনেই ঋণ দিতে পারে।

 

এই বিভাগের আরো খবর

রংপুরে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে স্কুলছাত্রের আত্মহত্যা

রংপুর জেলা প্রতিনিধি : রংপুরে বিলাস নামে এক স্কুলছাত্র ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। বুধবার সকালে নগরীর ১৪নং ওয়ার্ডের ৩৩নং সিঙ্গিমারী ব্রিজের পাশে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে। বিলাস ওই ওয়ার্ডের বড়বাড়ি হিন্দুপাড়া এলাকার দুবাই প্রবাসী বাবলু রায়ের ছেলে এবং বড়বাড়ি বয়েজ উদ্দিন উচ্চ বিদালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্র।

এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য রবীন চন্দ্র বলেন, বিলাশের মা গীতার বাড়িতে প্রায়ই অপরিচিত লোকজন যাতায়াত করতেন বলে শুনেছি। বিষয়টি বিলাস মেনে নিতে পারতো না। এ নিয়ে ছেলে বিলাসের সাথে প্রায়ই মা গীতার ঝগড়া হতো।

বিলাসের মা গীতা রানী বলেন, সকালে কাউকে কিছু না জানিয়ে বিলাস বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। পরে লোকমুখে তার মৃত্যুর খবর শুনি।
 কোতয়ালী থানা পুলিশের অফিসার্স ইনচার্জ এবিএম জাহিদুল ইসলাম বলেন, ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে এক স্কুলছাত্রের মৃত্যুর খবরটি শুনেছি। ট্রেনের নিচে আত্মহত্যা করায় রেলওয়ে পুলিশ এটির ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

এই বিভাগের আরো খবর

ডোমারে বৃদ্ধার আত্মহত্যা

ডোমার (নীলফামারী) প্রতিনিধি : নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় ফুলছড়ি রায় (৫৫) নামের এক বৃদ্ধা গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার বামুনিয়া ইউনিয়নের খামার বামুনিয়া ঢেপিরপাড় গ্রামের নিজ শোয়ার ঘরের তীরে গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা করে। ফুলছড়ি ওই এলাকার হরিপদ রায়ের স্ত্রী।

উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সন্ধ্যা রানী রায় বলেন, রাতে ফুলছড়ি তার মেয়ের সাথে এক ঘরে ঘুমায়। ভোরে তার মেয়ে ঘুম থেকে উঠে দেখে ওই ঘরের তীরে গলায় রশি লাগা অবস্থায় তার মা ঝুলে আছে। এ সময় তার চিৎকারে আমরা এলাকাবাসী ওই ঘরে ঢুকে ফুলছড়ির ঝুলন্ত লাশ দেখতে পাই। ডোমার থানার অফিসার্স ইনচার্জ মো. মোকছেদ আলী জানান, লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

 

পীরগাছায় পলাতক দুই আসামি গ্রেফতার

পীরগাছা (রংপুর) প্রতিনিধি : রংপুরের পীরগাছায় পৃথক স্থানে অভিযান চালিয়ে ২ জন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার রাতে ও শুক্রবার ভোরে অভিযান চালিয়ে উপজেলার ইটাকুমারী ইউনিয়নের গঙ্গা নারায়ন গ্রামের মৃত্যু গোল্লা রবিদাশের ছেলে চাঁন রবিদাশ ও উপজেলার কান্দি ইউনিয়নের দাদন গ্রামের জয়নাল মিয়ার স্ত্রী রওশনারা বেগমকে গ্রেফতার করে।

 পৃথক ঘটনায় রংপুরের বিচারিক আদালত চাঁন রবিদাশকে তিন বছর ও রওশনারাকে দুই বছরের সাজা দেন। উপ-পরিদর্শক (এসআই) জুয়েল মিয়া জানান, সাজাপ্রাপ্ত ২ আসামি দীর্ঘদিন থেকে পলাতক ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একাধিক স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। ওসি জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, গতকাল শুক্রবার দুপুরে গ্রেফতারকৃত আসামিদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

 



Go Top