রাত ১১:৪৯, শুক্রবার, ১৫ই ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং
/ রাজশাহী

নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি : অবহেলা ও অযতেœ পড়ে আছে বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার বামন গ্রামের বধ্যভূমি। বছরের পর বছর পেরিয়ে যাচ্ছে, তবুও বামন গ্রামের যুদ্ধকালীন সময়ের নির্মম হত্যাযজ্ঞের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে নেয়া হয়নি  কোনো পদক্ষেপ। সংরক্ষণের অভাবে অরক্ষিত ও অবহেলিত অবস্থায় পড়ে আছে বধ্যভূমি। মাতৃভাষা দিবস, স্বাধীনতা দিবস এবং বিজয় দিবসে বামন গ্রামের বধ্যভূমিতে শ্রদ্ধার কোনও লেশ চোখে পড়ে না বলে জানান স্থানীয়রা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নন্দীগ্রাম উপজেলা সদর থেকে কালিগঞ্জ সড়কের সিমলা বাজার পেরিয়েই বামন গ্রাম। উপজেলার একটি মাত্র এই গ্রামের বধ্যভূমি সংস্কার না করায় এলাকার লোকজন খড়ের পালা দিয়ে ঘিরে রেখেছে চারপাশ। সেখানে বাঁধা রয়েছে গরু-ছাগল। গড়ে উঠেছে জঙ্গল। বধ্যভূমির পাশেই সাধারন মানুষের চলাচলের মেঠো পথ। এ কারণে সেখানকার বধ্যভুমির স্মৃতি প্রায় মুছে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। অনেকেই ভূলে গেছেন এই বধ্যভূমির কথা। সরকারিভাবে সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহন করা না হলে, মুছে যাবে বধ্যভূমির স্মৃতি- এমন মন্তব্য করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মোসলেম উদ্দিন ও মোজাম্মেল হক।

বধ্যভূমির গাছের সাথে অস্পষ্ট একটি সাইনবোর্ড ঝুলছে, ওই সাইনর্বোড এর তথ্য থেকে জানা যায়, স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন সময়ে ১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল গভীর রাতে পাক-হানাদার বাহিনীর সদস্যরা বামন গ্রামে হানা দেয়। তারা বাড়ি বাড়ি থেকে উঠিয়ে নিয়ে বামন গ্রামের সুখ দুঃখ পুকুর পাড়ে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করে হিন্দু সম্প্রদায়ের নয়জনকে গুলি করে হত্যা করে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মির্জাপুর গ্রামের ইসমাইল হোসেন বলেন, ঘটনার দিন ভোরে কোলাহল শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি অনেক লোকজনের রক্ত মাখা লাশ গর্তের মধ্যে পড়ে আছে। মর্মান্তিক ঘটনার খবর শুনে বামন গ্রামের সুখ-দুখ পুকুরপাড়ে ছুটে আসেন আশপাশ এলাকার শতশত মানুষ। এই দৃশ্য দেখে প্রায় সকলেরই হৃদয় কেঁপে ওঠে, সকলের চোখের মায়াভরা পানি ঝরে পড়েছিল। একই রাতে উপজেলার হাটকড়ই হিন্দুপাড়ায় হানা দিয়ে সুরেশ চন্দ্র, বুজেশ্বর চন্দ্র, সুরেস প্রামানিক ও অধির চন্দ্রকে হাটকড়ই হাইস্কুল মাঠে গুলি করে হত্যা করে পাক-বাহিনী। পরে তাদের স্থানীয় মহাশ্মশানেই সমাধি করা হয়। সেই জায়গাটি বাশের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে।

 

রাণীনগরে গভীর নলকূপের ৫টি ট্রান্সফরমার চুরি

রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি : নওগাঁর রাণীনগরে একই রাতে গভীর নলকূপের ৫টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। গত বুধবার রাতে উপজেলার একডালা ইউপির শিয়ালা গ্রামে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আওতায় দু’টি গভীর নলকূপের ট্রান্সফরমার চুরি করে নিয়ে যায় চোরেরা। শিয়ালা গ্রামের ওই মাঠে বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষের ৪টি গভীর নলকূপ রয়েছে, এর মধ্যে একটি নলকূপের দু’টি এবং অপর নলকূপের তিনটি ট্রান্সফরার চুরি হয়। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩ লক্ষাধিক টাকা। তবে চুরি যাওয়া নলকূপ দু’টিতে কোন পাহারাদার ছিল না বলে নলকূপ ম্যানেজার  স্বপন চন্দ্র জানান।
এব্যাপারে রাণীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ এএসএম সিদ্দিকুর রহমান জানান, ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনাটি শুনেছি তবে এখনো কেউ কোন অভিযোগ করেনি। তারপরেও বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে ।

 

বড়াইগ্রামে স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা

বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি : নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলায় স্কুলছাত্রী  সাদিয়া খাতুন (১২) আত্মহত্যা করেছে। সে বড়াইগ্রাম উপজেলার মাড়িয়া গ্রামের সাইফুল ইসলামের মেয়ে এবং পার্শবর্তী গুরুদাসপুর উপজেলার সোনাবাজু উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী।

বড়াইগ্রাম ইউপি সদস্য আফজাল হোসেন সাবু বলেন, গত বুধবার স্কুলে যাওয়ার সময় বাবার কাছে টাকা চায় সে। বাবা টাকা দেওয়ার কথা ভুলে গিয়ে জালশুকা বাজারে যায়। স্কুল থেকে বাড়িতে ফিরে এসে সাদিয়া খাতুন বাবার সাথে অভিমান করে নিশ্চুপ বসে থাকায় মার বকাবকিতে  সে নিজ ঘরের তীরের সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁসি দেয়। মায়ের চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা  মোহা. শাহরিয়ার খাঁন বলেন,  মেয়েটির বাবা সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে থানায় জিডি করেছে। নিহতের লাশ ময়না তদন্তের জন্য  নাটোর হাসপাতাল মর্গে  প্রেরণ করা হয়েছে। পোস্ট মর্টেমের রিপোর্ট প্রাপ্তির পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

ঘরের বারান্দায় স্ত্রীর, গাছে স্বামীর লাশ

রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় এক বাড়ির বারান্দা থেকে এক গৃহবধূ এবং বাড়ির পাশের এক গাছ থেকে তার স্বামীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক ধারণা থেকে পুলিশ বলছে, স্ত্রীকে হত্যার পর স্বামী আত্মাহত্যা করেছেন বলে তাদের মনে হয়েছে।

বাঘা থানার ওসি সেলিম রেজা জানান, বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার পাকুড়িয়া ইউনিয়নের মালিথাপাড়া থেকে ওই দুইজনের লাশ উদ্ধার করেন তারা।

নিহতরা হলেন – ওই গ্রামের আব্দুল মান্নান (৪৫) ও তার স্ত্রী কাজলি বেগম রুনি (৩৮)। তাদের ১৩ বছরের ছেলের বরাত দিয়ে ওসি জানান, রাত ৩টার দিকে ছেলেটি তার দাদির সঙ্গে ঘর থেকে বেরিয়ে বারান্দায় মায়ের লাশ পড়ে থাকতে দেখে।

পরে সকালে গ্রামের লোকজন বাড়ি থেকে প্রায় ৩০০ গজ দূরে একটি বাগানে লিচুগাছে ঝুলন্ত অবস্থায় মান্নানের লাশ পায়। ওই দম্পতির মধ্যে পারিবারিক কোনো জটিলতা চলছিল কি না, গত কয়েক দিনে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়েছিল কি না- সে বিষয়ে পুলিশকে কোনো তথ্য দিতে পারেনি ছেলেটি।

ওসি সেলিম বলেন, “রুনির শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, স্ত্রীকে খুন করার পর স্বামী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মাহত্যা করে থাকতে পারেন।”

ময়নাতদন্তের জন্য তাদের লাশ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে বলে জানান সেলিম।

 

রাজশাহীতে অস্ত্রসহ ২ যুবক গ্রেপ্তার

রাজশাহীর পুঠিয়ায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্রসহ দুই যুবককে আটক করা হয়েছে; যাদের সন্ত্রাসী বলছে র‌্যাব।  র‌্যাব-৫ ক্যাম্প কমান্ডার মেজর আশরাফুল ইসলাম জানান, উপজেলার নামাজ গ্রাম এলাকা থেকে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

এরা হলেন- উপজেলার ঝলমলিয়া গ্রামের তোফায়েল হোসেনের ছেলে মাহমুদুল হাসান রান্টু (৩১) ও একই এলাকার শাহ আলমের ছেলে আমজাদ হোসেন (৩২)।

আশরাফুল বলেন, কয়েকজন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীর অবস্থানের খবর পেয়ে র‌্যাব সদস্যরা অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন দুইজনকে আটক করে।

“পরে তাদের শরীরে তল্লাশি চালানো হলে রান্টুর কোমরে একটি বিদেশী পিস্তল ও দুই রাউন্ড গুলি পাওয়া যায়।” তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা করে পুঠিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে র‌্যাবের এ কর্মকর্তা জানান।

 

গোদাগাড়ীতে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে যাত্রীবাহী দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৫ জন। নিহতরা হলেন- নওগাঁর পোরশা উপজেলার সৈকত হোসেন ছেলে বাসের হেলপার শুভ (২৪), নওগাঁর সাপাহার উপজেলার টিলাদিঘি গ্রামের যাত্রী হারুনুর রশিদ (৬০) ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার সোনামসলা গ্রামের আছিয়া বেগম (৬০)।

বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে গোদাগাড়ীর মাটিকাটা আদর্শ ডিগ্রি কলেজের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বুধবার সকালে ঘনকুয়াশার কারণে দেখতে না পেয়ে মাটিকাটা আদর্শ ডিগ্রি কলেজের সামনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আসা যাত্রীবাহী একতা পরিবহনের সঙ্গে রাজশাহী থেকে আসা হৃদয় ট্রাভেলসের একটি লোকাল বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

এতে ঘটনাস্থলেই হৃদয় ট্রাভেলসের হেলপার শুভ মারা যান। এছাড়া গুরুতর আহতাবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নেওয়ায় পথে যাত্রী হারুনুর রশিদের মৃত্যু হয়। এবং হাসপাতালে নেওয়ার পরে আহত আছিয়া বেগমের (৬০) মারা যান।

তারা আরো জানান, দুর্ঘটনায় ঢাকাগামী একতা ট্রাভেলসের আংশিক ক্ষতি হয়েছে। তবে হৃদয় পরিবহনের বাসটির সামনের অংশ দুমড়ে মুচড়ে গেছে। ওই বাসেরই বেশি যাত্রী হতাহত হয়েছেন।

আহতদের মধ্যে ১০ জনকে গোদাগাড়ীর ৩১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া হৃদয় ট্রাভেলস বাসের চালক সাইফুল ইসলাম ও সুপারভাইজার মুকুলসহ অন্যদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে আরও একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে নিশ্চিত করেছেন কর্তব্যরত চিকিৎসকরা।

রাজশাহীর গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিপজুর আলম মুন্সি  জানান, বর্তমানে দুর্ঘটনা কবলিত বাস দুইটি উদ্ধারের কাজ চলছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন ওসি হিপজুর আলম মুন্সি।

আদমদীঘিতে সাজাপ্রাপ্তসহ ৩ আসামি গ্রেফতার

আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি : আদমদীঘি থানা পুলিশ গত রোববার রাতে ব্যাংক চেক প্রত্যাখ্যান মামলায় সাজাপ্রাপ্ত এক বৃদ্ধসহ ওয়ারেন্টমূলে ৩ আসামীকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশ জানায়, বগুড়া যুগ্ম দায়রা জজ আদালত-৩ কর্তৃক ব্যাংক চেক প্রত্যাখ্যান মামলায় ৪ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড ও ৬ লাখ টাকা জরিমানা সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামী আদমদীঘির করজবাড়ী গ্রামের মেহের আলীর ছেলে ইসরাইল (৮০), নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন মামলায় দত্তবাড়ীয়া গ্রামের জালাল উদ্দিনের ছেলে শফিকুল ইসলাম ও মাদক মামলায় আদালতের গ্রেফতারী পরোয়ানামূলে চা-বাগান এলাকার আব্দুল লতিফের ছেলে শফিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরন করা হয়।

রাজশাহীতে পুলিশের সদস্যের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা

রাজশাহীর তানোরে ‘বিয়ের প্রলোভনে’ তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে এক পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। সোমবার তানোর থানার ওসি রেজাউল ইসলাম এ কথা জানান।

কনস্টেবল রাজ কুমার পাল তানোর পৌরসভার হাবিবনগর পালপাড়া গ্রামের মনোরঞ্জন পালের ছেলে। তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ লাইনে কর্মরত। ওসি রেজাউল বলেন, “রাজ কুমার নিজেকে মুসলিম পরিবারের সন্তান ও রাজ নামে পরিচয় দিয়ে দেড় বছর আগে প্রেমের সম্পর্ক জড়ান তানোরের এক মুসলিম তরুণীর সঙ্গে।

“রাজ গত শনিবার ছুটিতে এসে তরুণীকে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ করেন। এ ঘটনার পর তরুণী কনস্টেবলের প্রকৃত পরিচয় জানতে পারলে তিনি পালিয়ে যান।”

এ নিয়ে রোববার গভীররাতে ওই মেয়েটি কনস্টেবল রাজের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন বলে জানান তিনি। মঙ্গলবার রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেয়েটির ডাক্তারি পরীক্ষা করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

নওগাঁয় নব্য জেএমবির দুই ‘সদস্য’ আটক

নওগাঁর আত্রাইয়ে জিহাদি বইসহ নব্য জেএমবির দুই সন্দেহভাজন সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। এরা হলেন, উপজেলার নওদুলি গ্রামের রবিউল ইসলাম রিপন (৩২) ভরতেতুলিয়া গ্রামের পারভেজ গাদ্দাফি (২১)।

সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার কাশিয়াবাড়ি স্লুইসগেট এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয় বলে আত্রাই থানার ওসি মোবারক হোসেন জানান।

তিনি বলেন, “রাতে নব্য জেএমবির সদস্যরা একটি মাঠে গোপন বৈঠক করছে এমন সংবাদে অভিযানে যায় পুলিশ। এ সময় কয়েকজন পালিয়ে গেলেও পুলিশ শতাধিক জিহাদি বইসহ ওই দুজনকে আটক করে।”

আটকদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান ওসি মোবারক।

 

বাগমারায় যুবলীগ নেতার ওপর হামলা

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় মুখোশধারীরা যুবলীগ নেতার ওপর হামলা চালিয়ে আহত করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আহত হাফিজুল ইসলাম উপজেলার হামিরকুৎসা ইউনিয়নের অর্জনপাড়া গ্রামের আজাহার উদ্দিনের ছেলে।

ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি শাহরেজা আলম ইমন বলেন, ইউনিয়ন যুবলীগের সংগঠনিক সম্পাদক হাফিজুল ইসলাম সোমবার রাত ৯টার দিকে রায়াপুর বাজারে অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্র দিতে যাচ্ছিলেন।

“পথে চার-পাঁচজন মুখোশধারী সন্ত্রাসী মোটরসাইকেলের গতি রোধ করে। তারা হাফিজুলকে লোহার রড ও পাইপ দিয়ে পিটিয়ে জখম করে চলে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বাগমারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়।”

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বাগমারা থানার ওসি নাছিম আহমেদ বলেন, হামলাকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

 

ট্রাক চালকের স্বীকারোক্তি সরকারি চাল পাচারে খাদ্যগুদাম কর্মকর্তারা জড়িত

রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহীতে সরকারি খাদ্যগুদাম থেকে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল পাচারের চেষ্টায় গুদামের কর্মকর্তারা জড়িত বলে সাক্ষী হিসেবে আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন গ্রেফতার ট্রাক চালক ফিরোজ আহম্মেদ। সোমবার বিকেলে রাজশাহীর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ এর বিচারক মাহবুবর রহমান তার জবানবন্দী গ্রহণ করেন।

জবানবন্দীতে ট্রাক চালক ফিরোজ আহম্মেদ জানান, গত রোববার সকালে নগরীর রহরমপুর এলাকার কাইয়ুম নামের এক ব্যক্তি তার ট্রাকটি ভাড়া করেন। তাকে কাইয়ুম বলেন, সরকারি খাদ্যগুদাম ও বহরমপুর এলাকা থেকে আরাও কিছু চাল নিয়ে তানোর উপজেলার কালিগঞ্জে যাওয়ার চুক্তি হয়। কাইয়ুমের কথা অনুযায়ী রোববার সকালে তিনি ট্রাক নিয়ে খাদ্যগুদামে যান। সেখানে কাইয়ুম ও গুদামের দুই কর্মকর্তার উপস্থিতিতে শ্রমিকরা ১৭৬ বস্তা চাল ট্রাকে তুলে দেন। তবে গুদাম থেকে বের হতেই পুলিশ তাকে ধাওয়া দেয়। পরে তাকে আটক করে চালগুলো জব্দ করে।

বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমান উল্লাহ জানান, গ্রেফতার ট্রাক চালককে সাক্ষী হিসেবে আদালতে উপস্থিত করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী নেয়া হয়েছে। রাজশাহীর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ এর বিচারক মাহবুবর রহমান তার জবানবন্দী গ্রহণ করেন। জবানবন্দীতে ফিরোজ আহম্মেদ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন।
আর আগে রোববার রাতে বিশেষ ক্ষমতা আইনে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেন। থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) গোলাম মোস্তফা বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছেন। মামলায় আটক ট্রাক চালক ছাড়াও চার-পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিরা খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তা।

রোববার দুপুরে রাজশাহী সদর খাদ্যগুদাম থেকে সামান্য কিছুটা দূরে নগরীর শালবাগান এলাকা থেকে চালসহ ট্রাকটি জব্দ করে পুলিশ। দুপুরে পুলিশ খবর পায় খাদ্যগুদাম থেকে সরকারি চাল পাচার করা হচ্ছে। এ তথ্যের ভিত্তিতেই ট্রাকটি আটক করা হয়। এ সময় চালের সাথে চালানের কাগজ দেখাতে না পারায় ট্রাকসহ চালগুলো জব্দ করে থানায় নেয়া হয়। আটক করা হয় ট্রাকের চালক ফিরোজ আহমেদকেও। ফিরোজ নগরীর হেতেমখাঁ এলাকার আফসার আলী মন্ডলের ছেলে। দুপুরে চালগুলো জব্দ করা হলেও চালানের কাগজের জন্য সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করা হয়। কিন্তু খবর পাঠানোর পরও খাদ্যগুদামের কোনো কর্মকর্তা কাগজপত্র নিয়ে থানায় যাননি। আবার কোনো ডিলারও চালের মালিকানা দাবি করেননি। তাই চালগুলো পাচার হচ্ছিল ধরে নিয়েই মামলা করে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, ট্রাকে মোট ১৭৬টি চালের বস্তা পাওয়া গেছে। প্রতিটি বস্তায় চাল আছে ৩০ কেজি। বস্তার গায়ে লেখা আছে- ‘শেখ হাসিনার বাংলাদেশ- ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ’। বস্তার গায়ে ‘খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি’ এবং খাদ্য অধিদপ্তরের নামও লেখা আছে।

এনিয়ে নড়েচড়ে বসেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তারা বোয়ালিয়া মডেল থানায় গিয়ে চালগুলো পরিদর্শন করেছেন। চাল পাচারের ঘটনায় দায়ের করা মামলাটিরও তদারকি করেছে দুদক। মামলাটির তদন্তও করবে সংস্থাটি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের রাজশাহী বিভাগীয় পরিচালক আবদুল আজিজ।

 

 

রাজশাহীর পদ্মায় অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার

রাজশাহী মহানগরীর বড়কুঠি এলাকার পদ্মা নদীর পাড় থেকে অজ্ঞাতপরিচয় (৪০) এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সোমবার (১১ ডিসেম্বর) সকালে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমান উল্লাহ জানান, সকালে বড়কুঠি পদ্মাপাড়ের লোকজন নদীতে মরদেহটি ভাসতে দেখে থানায় খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। ধারণা করা হচ্ছে, নদীর স্রোতের সঙ্গে দূরে কোথাও থেকে মরদেহটি ভেসে এসেছে। তার পরনে কালো ফুলহাতা টি-শার্ট ও টাউজার রয়েছে।

মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

অজ্ঞাতপরিচয় ওই ব্যক্তির নাম-পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। পরিচয় না পাওয়া গেলে ময়নাতদন্ত শেষে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে বেওয়ারিশ হিসেবেই মরদেহটি দাফন করা হবে। এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা হবে বলেও জানান ওসি আমান উল্লাহ।

বগুড়ায় কিশোর অপরাধীদের ভয়ংকর উত্থান জড়িয়ে পড়ছে খুনসহ নানা অপকর্মে

বগুড়ায় ভয়ংকর হয়ে উঠেছে কিশোর অপরাধিরা। চুরি, ছিনতাইসহ চাকু মারামারি এমনকি খুন পর্যন্ত করতে দ্বিধা করছে না তারা। তাদের এমন ভয়ংকর উত্থানে শংকিত শহরবাসি, চিন্তিত পুলিশ প্রশাসনও।

বগুড়া শহরে যে অপরাধ সংঘটিত হয় তার সিংহভাগ ঘটায় কিশোর বা উঠতি বয়সী যুবকরা। চুরি-ছিনতাই, মাদক কেনাবেচা, নারী উত্ত্যক্ত ও নৃশংস খুনসহ সব ধরনের অপরাধে তারা জড়িয়ে পড়েছে।

পুলিশের এক পরিসংখ্যান থেকে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। মাত্র ক’দিন আগে শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথার অদূরে সাতানি বাড়ির উত্তর পাশে আলতাফুন্নেছার খেলার মাঠে যাওয়ার গলিতে সাব্বির নামে নওগাঁর একজন কলেজছাত্র খুন হন। সেই হত্যাকান্ডে কিশোরদের একটি গ্রুপ জড়িত। ইতিমধ্যে পুলিশ ওই কিশোর গ্যাং এর সদস্য শাকিলকে গ্রেফতার করেছে। শাকিল এই হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দিও দিয়েছে। স্বীকারোক্তিতে সে বলেছে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে সাব্বিরকে হত্যার পর তারা তার মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নেয়। এ হত্যাকান্ডে সে সহ তার ১০-১২জন বন্ধু জড়িত।

বগুড়া সদর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মোঃ আছলাম আলী জানিয়েছেন শুধু এই খুন নয়, একাধিক হত্যাকান্ডে কিশোর গ্রুপ জড়িত তদন্তে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। কিশোর ও উঠতি বয়সী যুবকরা চুরি-ছিনতাই ও চাকু মারামারির ঘটনাও বেশি ঘটাচ্ছে।

বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও পুলিশের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা সনাতন চক্রবর্তী বলেন পারিবারিক মূল্যবোধের অভাব ও পারিবারিক অবক্ষয়ের কারণে কিশোররা অপরাধের দিকে পা বাড়াচ্ছে। এখন আর মা-বাবা সন্তানদের শাসন করতে চান না। শাসন করলেই কিশোর-তরুণরা  বেপরোয়া হয়ে ওঠে, কেউ কেউ আত্মহত্যার হুমকি দেয়। মা-বাবা এক রকম উঠতি বয়সী সন্তানদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন, তাই কেউ সন্তানদের তেমন  শাসন করেন না। যে কারণে তারা খারাপ বন্ধুদের সাথে মিশে অপরাধ জগতে ঢুকে পড়ছে।

বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজের মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহকারি অধ্যাপক মোঃ আবু সায়েম বলেন সুষ্ঠু বিনোদনের অভাবসহ পারিবারিক বন্ধন না থাকায় কিশোররা বিপথগামী হচ্ছে। কিশোরদের মধ্যে অনুসরণ করার প্রবণতা বেশি থাকে। এই বয়সে তাদের মনে একটা অ্যাডভেঞ্চার কাজ করে। যে কাজ করে আনন্দ পায়, তারা সেই কাজটিই দ্রুত করে। সামাজিক ও পারিবারিক জায়গা দুর্বল হলে তা কিশোরদের অপরাধী বানায়। তিনি আরও বলেন এখনকার শিশু কিশোররা মাঠে গিয়ে তেমন খেলাধূলা করে না। বাড়িতেই এক রকম চার দেয়ালের মাঝে বন্দি থেকে মোবাইলে ভিডিও গেম, ইন্টারনেট, ফেসবুক ও টিভি সিরিয়ালে বুঁদ হয়ে থাকে। তারা প্রযুক্তির ভালো দিকের চেয়ে খারাপ দিকটাই বেশি গ্রহণ করে। টিভিতে ক্রাইম পেট্রোলের মত সিরিয়াল দেখে কিশোররা অপরাধ করার কৌশল শেখে এবং বাস্তব জীবনে এর প্রতিফলন ঘটায়। তাদের মধ্যে এক ধরনের হিরোইজম তৈরি হয়। দলে-দলে ভাগ হয়ে তারা চাকু মারামারি  এমনকি  খুন পর্যন্ত করে। এরা পরিবারের কারও কথা মানতে চায়না। পরিবার থেকে এরা বিচ্ছিন্ন হয়ে এক সময় মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে নিষ্ঠুরতা দেখায়। যা ইচ্ছা তাই করে। মাদকের টাকা সংগ্রহের জন্য  ছিনতাই করে। তবে হতাশ হলে চলবে না। তাদের সংশোধন করতে হবে। ্এ ক্ষেত্রে পরিবারকে এগিয়ে আসতে হবে। অভিভাবকদেরকেই দায়িত¦ নিতে হবে। সন্তানদের সময় দিতে হবে।

 

শাজাহানপুরে দুর্বৃত্তদের হাতে এক ব্যক্তি খুন

শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার শাজাহানপুরে দুর্বৃত্তদের হাতে মকবুল হোসেন (৫৮) নামে এক ব্যক্তি খুন হয়েছেন। তিনি উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নের সোনাইদিঘী মধ্যপাড়া গ্রামের মৃত কমর উদ্দিনের পুত্র।  রোববার সকালে সোনাইদিঘী দক্ষিণপাড়ায় দ্বিতীয় স্ত্রীর বাড়ির পাশ থেকে মকবুলের লাশ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ।  সন্ধ্যায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত শাজাহানপুর থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন নিহতের বড় ছেলে আনোয়ার হোসেন।

নিহতের স্বজনরা জানিয়েছেন, ৪-৫ বছর আগে কৃষক মকবুল হোসেন প্রতিবেশী মৃত হোলা সাকিদারের মেয়ে শিউলীকে (৩০) দ্বিতীয় বিয়ে করেন। বিয়ের পর একই গ্রামের দক্ষিণপাড়ায় বাড়ি নির্মাণ করে সেখানে দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন। অপরদিকে প্রথম স্ত্রী তার ২ ছেলে ও ২ মেয়েকে নিয়ে স্বামীর পুরাতন বাড়িতেই বসবাস করছিলেন। নিহতের ছেলে আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, দ্বিতীয় স্ত্র্রীকে নিয়ে বাবা অন্য বাড়িতে থাকতেন। তাই নিয়মিতভাবে তার খোঁজ-খবর নেয়া সম্ভব হতো না।  রোববার সকালে বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বাবার লাশ দেখতে পাই এবং পুলিশকে খবর দেই। তার বাবার সাথে এলাকার কোন ব্যক্তির দ্বন্দ্ব-কলহ ছিল না। শাজাহানপুর থানার ওসি জিয়া লতিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, স্বজনদের মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে  সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। সুরত হালে  দেখা গেছে লাশের মাথার উপরের অংশে লোহার রড জাতীয় কিছু একটা ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছিল। হত্যার কারণ অনুসন্ধানে পুলিশি কার্যক্রম অব্যাহত আছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

 

রাজশাহীতে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১৭৬ বস্তা চাল জব্দ

রাজশাহী প্রতিনিধি : রাজশাহীতে হতদরিদ্রদের ‘খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির’ পাঁচ টন চাল জব্দ করেছে পুলিশ। রোববার দুপুরে রাজশাহী মহানগরীর শালবাগান এলাকা থেকে ট্রাকভর্তি এই চালগুলো জব্দ করা হয়। চালগুলো রাজশাহী সদর খাদ্য গুদাম থেকে বের করে নগরীর বহরমপুর এলাকার দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।

নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমান উল্লাহ জানান, চালের চালানের সময় কোনো কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। তাই ট্রাকসহ চালগুলো জব্দ করে থানায় নেয়া হয়েছে। একইসঙ্গে আটক করা হয়েছে ট্রাকের চালককেও। তার নাম ফিরোজ আহমেদ।

ওসি জানান, ট্রাকে মোট ১৭৬টি চালের বস্তা পাওয়া গেছে। প্রতিটি বস্তায় চাল আছে ৩০ কেজি। বস্তার গায়ে লেখা আছে- ‘শেখ হাসিনার বাংলাদেশ- ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ’। বস্তার গায়ে ‘খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি’ এবং খাদ্য অধিদফতরের নামও লেখা আছে। ওসি আমান উল্লাহ বলেন, তাদের কাছে খবর আসে- খাদ্য গুদাম থেকে এক ট্রাক চাল পাচার করা হচ্ছে। এই সংবাদের ভিত্তিতেই ট্রাকসহ চালগুলো জব্দ করা হয়েছে। বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারলে থানায় মামলা হবে। মামলায় ট্রাক চালককে গ্রেফতার দেখানো হবে। চালগুলো কোথায় যাচ্ছিল, জানতে চাইলে সদর খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুস সালাম মুঠোফোনে বলেন, তিনি নওগাঁয় আছেন। তাই চালের বিষয়ে কিছু বলতে পারবেন না। তিনি জেলার অতিরিক্ত খাদ্য নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। অতিরিক্ত খাদ্য নিয়ন্ত্রক শফিকুল ইসলামও চালগুলোর ব্যাপারে কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন। তিনি সদর খাদ্য গুদামের ইনচার্জ আবদুর রহিমের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।

তিনি গুদাম ইনচার্জের মুঠোফোনের একটি নম্বরও দেন। তবে সেই নম্বরে সংযোগ পাওয়া যায়নি। তাই চালগুলোর ব্যাপারে খাদ্য বিভাগের স্পষ্ট কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, প্রতি বছর এপ্রিল ও মার্চ এবং সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে বাজারে চালের দাম বাড়তির দিকে থাকে। তাই এই পাঁচ মাস হতদরিদ্রদের ১০ টাকা দরে মাথাপিঁছু ৩০ কেজি করে চাল দিতে ‘খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি’ চালু করে সরকার। নির্ধারিত মেয়াদ শেষে রাজশাহীতে এই কর্মসূচিরই চাল জব্দ করা হলো।

 

সিরাজগঞ্জে বাসচাপায় মোটরসাইকেলের ২ আরোহী নিহত

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে বাসচাপায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও এক আরোহী। রোববার (১০ ডিসেম্বর) বিকেল সোয়া তিনটার দিকে বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কে উপজেলার ঝাঐল ইউনিয়নের ঝাঐল ওভার ব্রিজের পূর্বপাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তবে হতাহতদের নাম পরিচয় জানা যায়নি।

বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ দাউদ জানান, একটি মোটরসাইকেলে করে তিন আরোহী কড্ডা থেকে উত্তরবঙ্গের দিকে যাচ্ছিলেন। তারা ঝাঐল ওভার ব্রিজের পূর্বপাশে পৌঁছালে একই দিক থেকে আসা হানিফ পরিবহনের একটি বাস তাদের বহনকারী মোটরসাইকেলটিকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়।

এতে ঘটনাস্থলেই এক নারী ও পুরুষ আরোহী মারা যান। অপর পুরুষ আরোহী গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের উদ্ধার করে। আহত ব্যক্তিকে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

গোদাগাড়ী সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ২ বাংলাদেশি নিহত

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। গোদাগাড়ী থানার ওসি হিপজুল আলম মুন্সি জানান, উপজেলার চর আষাড়াদহ ইউনিয়নের চর ভুবনপাড়া সীমান্তে শনিবার রাত পৌনে ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- ওই গ্রামের চর ভুবনপাড়া গ্রামের আলাউদ্দিনের ছেলে এসারুল হক মিশু (৩০) ও একই এলাকার জালাল উদ্দিনের ছেলে নাশরাফ আলী আবু (২৯)।

ওসি হিপজুল বলেন, “মিশু ও আবুসহ কয়েকজন ব্যক্তি শনিবার রাতে ভারতীয় সীমান্তে গরু আনতে যায়। ভারতের প্রবেশের পর সেখানে টহলরত বিএসএফের সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি চলালে ভারতীয় সীমান্তেই আলীর মৃত্যু হয়। আর মিশুর মৃত্যু হয় বাংলাদেশ সীমান্তে এসে।”

পরে অন্য গরু ব্যবসায়ীরা মিশুর লাশ উদ্ধার করে তার বাড়ির সামনে রেখে যায়। আবুর লাশ ফেরত আনতে বিজিবি প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে এ পুলিশ কর্মকর্তা জানান।

চর আষাড়াদহ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সানাউল্লাহ বলেন,“মিশু ও আবু দুইজনেই গরু ব্যবসায়ী ছিলেন। গরু পাচার করে আনতে তারা ভরতীয় সীমান্তে গিয়েছিল। এর আগেও তারা ওই সীমান্ত দিয়ে গরু নিয়ে এসেছে।”

 

ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখার দাবি চলনবিলাঞ্চলে বাউত উৎসবে হাজারো মানুষের ঢল

পাবনা জেলা প্রতিনিধি : কারো হাতে মাছ ধরার উপকরণ পলো, কারো হাতে নানারকম জাল। কি শিশু, কি বৃদ্ধ, সবার চোখে মুখে খুশির ঝিলিক। এরপর দল বেধে হাজারো মানুষ বিলে নেমে মাছ ধরার ধুম। আঞ্চলিক ভাষায় দল বেধে মাছ শিকারের এই আয়োজনের নাম দেয়া হয়েছে ‘বাউত উৎসব’। আর গ্রামীণ ঐতিহ্য হিসেবে এখনও পাবনার চলনবিল অঞ্চলে প্রতি বছর চলে আসছে ‘বাউত উৎসবে’ মাছ শিকার। তবে দিন দিন জলাশয় ও বিলের আয়তন কমে যাওয়ায় কমে গেছে মাছ, ভাটা পড়েছে উৎসবের রঙে। সরকারের কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে গ্রাম-বাংলার এই ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখার দাবি চলনবিল অঞ্চলের মানুষের।

‘ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই বিল অভিমুখে মানুষের ঢল। কারো কাঁধে পলো, আবার কারো হাতে  ঠেলা জাল, বাদাই জাল সহ মাছ ধরার নানান উপকরণ। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ জড়ো হচ্ছে এক স্থানে। শিশু থেকে বৃদ্ধ, সববয়সী মানুষের উপস্থিতিতে বিলপাড়ে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। এরপর দল বেঁধে বিলের পানিতে নেমে মাছ শিকারের আনন্দে মেতে ওঠেন তারা। গত মঙ্গলবার সকালে পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার রুহুল বিলে গিয়ে দেখা মেলে এমন দৃশ্যের।’

আঞ্চলিক ভাষায় দল বেধে মাছ শিকারের এই আয়োজনের নাম ‘বাউত উৎসব’। আর এখন এই উৎসবে মেতেছেন চলনবিলের মানুষ। প্রতি বছরের অগ্রহায়ন মাসের শেষের দিকে সপ্তাহে দুইদিন চলে এই মাছ শিকার। পাবনার বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও আশপাশের জেলার মানুষও যোগ দেন বাউত উৎসবে। হাজারো মানুষের পদচারনায় বিলপাড়ে তৈরী হয় উৎসব মুখর পরিবেশ। দীর্ঘদিন ধরে গ্রামীণ ঐতিহ্য হিসেবে চলে আসছে বাউত উৎসব। শুধু রহুল বিলেই নয়, পাবনার খলিশাগাড়ি বিল, আফরার বিল, ডিকশীর বিল, চলনবিলসহ বিভিন্ন বিল ও জলাশয়ে এই মৌসুমে দল বেধে চলে মাছ শিকারের এই মহোৎসব।

অনেকটা শখের বসে মানুষ বাউত উৎসবে আসেন মাছ শিকার করতে।  কেউ মাছ পায়, কেউ ফেরেন খালি হাতে। কিন্তু এ নিয়ে আক্ষেপ নেই কারো। সবার সাথে মাছ ধরার আনন্দ তারা ভাগাভাগি করে নেন। কিন্তু দিন দিন ছোট হয়ে আসছে খাল-বিল। প্রভাবশালীদের দখলে চলে যাচ্ছে মাছের অভয়াশ্রম। সবার দাবি, বিল-জলাশয় খনন করে বাড়ানো হোক মাছের অভয়াশ্রম।

গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্য হিসেবে বাউত উৎসবকে টিকিয়ে রাখতে নানা উদ্যোগ গ্রহণের কথা জানালেন উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ। ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আরিফুজ্জামান জানান, গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অংশ এই বাউত উৎসব। এটাকে টিকিয়ে রাখতে উদ্যোগ নেয়া হবে। বিল, জলাশয় খনন করে পরিধি বাড়ানোর চেষ্টা করা হবে। ভাঙ্গুড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুল মতীন জানান, যেসব জলাশয় অবৈধ দখলে রয়েছে সেগুলো উদ্ধার করা হবে। প্রকল্পের মাধ্যমে জলাশয় খনন করে মাছের উৎপাদন বাড়াতে সরকার কাজ করছে। আমরাও বর্ষা মৌসুমে বিলে মাছের পোনা অবমুক্ত করি। সব মিলিয়ে সব মানুষের মনের যে খোরাক মাছ ধরা উৎসব সেটাকে ধরে রাখতে কাজ করছে মৎস বিভাগ।

কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে খাল-বিল ও জলাশয় খনন করে মাছের প্রাকৃতিক অভয়াশ্রম গড়ে তুলবে সরকার-এমনটাই প্রত্যাশা চলনবিলবাসীর।

পুঠিয়ায় ট্রাক-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ৩

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার ঝলমলিয়ায় ট্রাক ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখী সংঘর্ষের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে তিনজনে দাঁড়িয়েছে। নিহত অপর দু’জন হলেন- ঠাকুরগাঁও সদরের মফিজ উদ্দিনের ছেলে মাইক্রোবাসের চালক মনসুর রহমান (৩৫) ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে মাইক্রোবাসের আরেক যাত্রী আল-আমিন (৩০)।

এর আগে শনিবার (৯ ডিসেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে পুঠিয়া উপজেলার ঝলমলিয়ায় এলাকার ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে ট্রাক ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখী সংঘর্ষে মিরা বেগম (৩৮) নামে এক নারী যাত্রী ঘটনাস্থলেই মারা যান।

এ ঘটনায় আরও চারজন আহত হন। তাদেরকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পর চালক মনসুর ও যাত্রী আল-আমিনের মৃত্যু হয়। বর্তমানে নিহত মিরা বেগমের স্বামী গোলাম কিবরিয়া ও তার ছেলে মাহমুদুল ইসলাম রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনাস্থলে নিহত মিরা বেগম চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার বালুটঙ্গি গ্রামের গোলাম কিবরিয়ার স্ত্রী। হতাহতরা মিরা বেগমের ভাসুরের দাফনে অংশ নিয়ে ঢাকা থেকে ভোলাহাট ফেরার পথে দুর্ঘটনায় পড়েন।

রাজশাহীর পবা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) হাবিবুর রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করে  বলেন, বৃষ্টির কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে মাইক্রোবাসে থাকা ওই নারী যাত্রী ঘটনাস্থলেই মারা যান। আহত হন আরও চার যাত্রী। আহতদের উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

রাজশাহীর পুঠিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জিয়াউর রহমান বলেন, প্রথমে আহতদের এখানে আনা হলেও উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের রামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

রাজশাহীর পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সায়েদুর রহমান খান ভুঁইয়া  বলেন, দুর্ঘটনা কবলিত গাড়ি দু’টি সড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া ময়নাতদন্তের পর ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ ব্যাপারে থানায় মামলা করা হবে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

বগুড়ায় নব্য জেএমবি’র উত্তরবঙ্গের সামরিক প্রধানসহ ৪ জঙ্গি গ্রেফতার : অস্ত্র-গুলি উদ্ধার

নব্য জেএমবির উত্তরবঙ্গের ১৬ জেলার সামরিক প্রধান বাবুল আক্তার ওরফে  বাবুল মাস্টার ও শুরা সদস্য দেলোয়ার মিস্ত্রিসহ চার জঙ্গিকে  অস্ত্রসহ গ্রেফতার করা হয়েছে। গত বুধবার রাতে পুলিশ সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও বগুড়া জেলা পুলিশের একটি দল মোকামতলা বাজারের কাছে জয়পুরহাট রাস্তার মোড় থেকে তাদের গ্রেফতার করে। এসময় তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশী  নাইন এম এম পিস্তল, একটি ম্যাগজিন,  পনের রাউন্ড গুলি, চারটি বার্মিজ চাকু ও একটি চাপাতি উদ্ধার করা হয়। এরা রাজধানীতে বড় ধরনের হামলার ছক এঁকেছিল। সে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য এরা ঢাকা যাওয়ার প্রস্তুতিও নিয়েছিল। কিন্তু তার আগেই তাদের গ্রেফতার করে রাজধানীতে বড় ধরনের হামলা প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে।  দুপুরে জেলা পুলিশ অফিসে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিং করে পুলিশ সুপার (সদ্য পদোন্নতি পাওয়া অতিরিক্ত ডিআইজি) মোঃ আসাদুজ্জামান বিপিএম এ তথ্য জানান।  

গ্রেফতারকৃত বাবুল মাস্টার (৪৫)  দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার কসবা সাগরপুর জালেপাড়ার মৃত শফিকুল ইসলাম ওরফে শফু দর্জ্জির ছেলে। এছাড়া দেলোয়ার মিস্ত্রি ওরফে মিজানুর রহমান (৩৯) নওগাঁর মান্দা উপজেলার পারইল আছির হাজি পাড়ার মৃত লোকমান আলির ছেলে। এছাড়া অপর  দু’জঙ্গি  হলো সাতক্ষিরার তলোইগাছার মৃত আব্দুল করিমের ছেলে আলমগীর হোসেন আরিফ (২৮)। সে ২০১৬ সালে শীর্ষ জঙ্গি নেতা সাগরের মাধ্যমে হিজরত করে এবং আফজাল হোসেন লিমন (৩২) গাজিপুরের কাপাসিয়ার আড়াল গ্রামের আহম্মদ আলির ছেলে। সেও ২০১৬ সালে গোবিন্দগঞ্জের নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিক্রি করে শীর্ষ জঙ্গি রাজিব গান্ধির মাধ্যমে হিজরত করে জেএমবিতে যোগদান করে ।

কে এই বাবুল মাস্টার :
প্রেস বিফ্রিংকালে জানানো হয় বাবুল মাস্টার ২০০৩ সালে জেএমবিতে যোগদান এবং ২০১৩ সাল পর্যন্ত জেএমবিতে অবস্থান করে উত্তরাঞ্চলে দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালনা করে। এরপর ২০১৪ সালে নব্য জেএমবিতে যোগদান করে। সাংগঠনিক কাজে অত্যন্ত দক্ষ হওয়ায় ২০১৭ সালের প্রথম দিকে নব্য জেএমবির উত্তরবঙ্গের সামরিক প্রধান হিসেবে দায়িত্ব লাভ করে বাবুল মাস্টার। এরপর একই বছরের মে মাসে সে নব্য জেএমবির শুরা সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পায়। সে রংপুরের কাউনিয়ায় খাদেম রহমত আলী হত্যা মামলার অন্যতম চার্জসীটভুক্ত আসামিও। সে ২০১৬ সালের ২৫ মে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জ বাজারের জুতা ব্যবসায়ি দেবেশ চন্দ্র প্রামানিক হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল সরবরাহ করে। বর্তমানে সে উত্তরবঙ্গের ১৬টি জেলার নব্য জেএমবি‘র সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিল। এছাড়া সংগঠনের জন্য নতুন সদস্য সংগ্রহ, অর্থ সংগ্রহ এবং হামলার টার্গেট, ব্যক্তি ও স্থান নির্ধারণ করার দায়িত্বেও নিয়োজিত ছিল সে।  

দেলোয়ার মিস্ত্রির জঙ্গি জীবন :
দেলোয়ার মিস্ত্রি ২০০৫ সালে তার বড় ভাই ইউসুফ হাজীর মাধ্যমে জেএমবিতে যোগদান এবং ২০১২ সাল পর্যন্ত জেএমবিতে অবস্থান করে নওগাঁ, নাটোর, রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালনা করে। এরপর ২০১৩ সালে নতুন জঙ্গি সংগঠন জুনুদ আত তাওহীদ আল খিলাফাহ এ যোগদান করে। এরপর ২০১৪ সালে নব্য জেএমবিতে যোগদান এবং নওগাঁ, জয়পুরহাট, নাটোর, সিরাজগঞ্জ ও বগুড়া জেলার দায়িত্বশীল নেতা হিসেবে কার্যক্রম শুরু করে। ২০১৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার আহম্মদীয়া মসজিদে বাংলাদেশে প্রথম আত্মঘাতী হামলার প্রধান পরিকল্পনাকারী সে। এ হামলায় অভিযুক্ত তার ছোট ভাই আনোয়ার হোসেন ওরফে নাঈম ২০১৬ সালে রাজশাহীতে পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। দেলোয়ার মিস্ত্রির পরিবারের প্রায় সকলেই নব্য জেএমবির সক্রিয় সদস্য। সে ২০১৫ সালে শেষের দিকে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার গাড়িদহ ইউনিয়নের জোয়ানপুর কুঠিরভিটা গ্রামে উত্তরবঙ্গের নব্য জেএমবির সর্ববৃহৎ আস্তানাও গড়ে তোলে।

শেরপুরের জঙ্গি আস্তানায় যেসব কার্যক্রম পরিচালিত হত :
পুলিশ সুপার জানান দেলোয়ার সিএনজি চালক হিসেবে বগুড়ার শেরপুরের গাড়ীদহ ইউনিয়নের জোয়ানপুর কুঠিরভিটা গ্রামের পলি আক্তারের বাসা ভাড়া নিয়ে বৃহৎ জঙ্গি আস্তানা গড়ে তোলে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত থেকে ইউরো বিস্ফোরক জেল, আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ সংগ্রহ করে সে এ আস্তানায় এনে মজুদ করত। হ্যান্ড গ্রেনেড তৈরির যাবতীয় সামগ্রি দেলোয়ার হোসেন নিজে বগুড়া শহরের বিআরটিসি মার্কেটের বিভিন্ন দোকান থেকে কিনে ওই আস্তানায় নিয়ে যেত। পরবর্তীতে জুয়েল, ফারদিন (উভয়ে শেরপুরে বিস্ফোরণে নিহত) এবং সে নিজে হ্যান্ড গ্রেনেড তৈরি করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অন্যান্য জঙ্গি আস্তানায় সরবরাহ করত। পাশাপাশি হিজরতকারী অনেক জঙ্গি সদস্যদের শারীরিক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হত এ আস্তানায়।

উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ এ জঙ্গি আস্তানায় নব্য জেএমবির প্রথম সারির নেতা তামিম চৌধুরী, মারজান, সাগর, রাজীব গান্ধী, বাবুল মাস্টার, রিপন, কাওছার, ওসমান, মমিন ও রজবসহ অনেকে নিয়মিতভাবে আসা-যাওয়া করত। এ আস্তানা থেকেই ২০১৫-১৬ সালে উত্তরবঙ্গে সংগঠিত বিভিন্ন টার্গেট কিলিং’র পরিকল্পনা করা হতো। উল্লেখ্য যে, ২০১৫ সালের ২৬ নভেম্বর বগুড়া জেলার শিবগঞ্জে শিয়া মসজিদে হামলায় ব্যবহৃত একটি একে ২২ রাইফেল ও একটি বিদেশি পিস্তল এ আস্তানা থেকেই সরবরাহ করা হয়েছিল। পরে পুলিশ তা উদ্ধার করে।  

শেরপুরে বিস্ফোরণের দিন যা ঘটেছিল :
প্রেস বিফ্রিংকালে পুলিশ সুপার আরও জানান নব্য জেএমবির শুরা সদস্য দেলোয়ার বগুড়ার শেরপুরের গাড়ীদহ ইউনিয়নের জোয়ানপুর কুঠিরভিটা গ্রামে জঙ্গি আস্তানায় ২০১৬ সালের ৩ এপ্রিল সন্ধ্যায় জঙ্গি জুয়েল ও ফারদিন গ্রেনেড তৈরির কাজ করছিল। একটি গ্রেনেড তৈরি শেষে কালো টেপ দিয়ে পেঁচিয়ে জুয়েল হাতে নিয়ে নাড়া-চাড়া করছিল এবং দেলোয়ার মিস্ত্রি ও ফারদিনসহ আরো কয়েকজন বসে ওই সময় রুমের মধ্যে গল্প করছিল। এমন সময় বিদ্যুৎ চলে গেলে দেলোয়ার মোমবাতি জ্বালানোর জন্য রুম হতে বের হয়। কিন্তু সে বের হওয়া মাত্রই রাত সাড়ে আটটার দিকে ওই আস্তানায় বিকট শব্দে ১টি গ্রেনেড বিস্ফোরিত হয়। এতে জুয়েল ও ফারদিন গুরুতর আহত হয়। পরে জুয়েল ও ফারদিনকে আহত অবস্থায় রেখে দেলোয়ার মিস্ত্রি ১টি একে ২২ রাইফেল, ১টি বিদেশি পিস্তল ও কিছু গোলাবারুদ ১টি ব্যাগে ভরে দ্রুত পিছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে গিয়েছিল।

এদিকে আমাদের কোর্ট রিপোর্টার জানান  গ্রেফতার করা এই চার জঙ্গিকে বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ শরিফুল ইসলামের আদালতে হাজির করা হয়। শুনানী শেষে আদালত বাবুল মাস্টার, আলমগীর হোসেন ও আফজল হোসেনকে পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এছাড়া জঙ্গি দেলোয়ার মিস্ত্রি, শেরপুরের জোয়ানপুরের জঙ্গি আস্তানায় বোমা তৈরি ও বিষ্ফোরণের দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দীও দিয়েছে। ডিবি কার্যালয়ে এনে বাবুল মাস্টার, আলমগীর হোসেন ও আফজল হোসেনকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।  

 

বগুড়ায় এবার জয়িতা যারা

বগুড়ায় এবার নির্বাচিত জয়িতারা হচ্ছেন বগুড়ার শেরপুরের শামসুন নাহার পারুল, শিবগঞ্জের ববিতা আক্তার, ধুনটের জাহানারা বেগম, দুপচাঁচিয়ার মোছাঃ সম্পা এবং শেরপুরের শাহানাজ পারভীন। আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও বেগম রোকেয়া দিবস উদ্যাপন উপলক্ষে ‘জয়িতা অšে¦ষণে বাংলাদেশ’ শীর্ষক কার্যক্রমের আওতায় স্ব স্ব ক্ষেত্রে অবদানের জন্য এই পাঁচ নারীকে নির্বাচিত করা হয়েছে। আগামিকাল এই নারীদের মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উদ্যোগে ও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় সম্মাননা জানানো হবে।

অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী নারী হিসেবে এবার জয়িতা সম্মাননা পাচ্ছেন শেরপুরের গাড়িদহ ইউনিয়নের মহিপুর গ্রামের শামসুন নাহার পারুল। কম বয়সে বিয়ে ও সাংসারিক চাপে পড়ালেখার তেমন সুযোগ তার হয়নি। তবে প্রথমে চাকরি এবং পরবর্তীতে ব্যবসা করে তিনি এখন সফল উদ্যোক্তা। ১৯৭৭ সালে এসএসসি পাশের পর শামসুন নাহারের বিয়ে হয়ে যায়। এরপর তেমন কিছু করার সুযোগ তার না মেললেও সংসারের প্রয়োজনে অনেক বছর পর ২০০১ সালে তিনি একটি ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে মাঠকর্মি হিসেবে যোগ দেন। পাশাপাশি বাড়ির পরিত্যক্ত জমিতে সব্জি চাষ ও গাভি পালন শুরু করেন। পরবর্তীতে ‘মহিলা উন্নয়ন সমিতি’ নামে একটি সংস্থা প্রতিষ্ঠা করে দল গঠনের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে কার্যক্রম শুরু করেন। ওই সমিতির মাধ্যমে নারীদের সেলাই ও ব্লকবাটিক প্রদান করেন। বর্তমানে তার পুঁজি প্রায় ৫০ লাখ টাকা।

প্রাথমিকের পাঠ শেষ হতেই অভাবের তাড়নায় পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যায় ববিতা আক্তারের। বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার আমতলী ইউনিয়নের পূর্ব জাহাঙ্গীরাবাদ গ্রামের অদম্য এই নারীর প্রবল ইচ্ছেশক্তি ও প্রচেষ্টায় তাকে লেখাপড়ার অনুপ্রেরণা যোগায়। সাত ভাই-বোনের অভাবের সংসারে পড়ালেখার খরচ চালানোর সামর্থ ছিল না তার বাবা-মা’র। তাই মাধ্যমিক শ্রেণীতে ভর্তি হয়ে নিজের পড়ালেখার খরচ চালানোর জন্য ওই বয়সেই শুরু করেন পাশাপাশি হাঁস-মুরগি পালন। এভাবে এসএসসি ও এইচএসসি পাশ করে ইসলামের ইতিহাসে অনার্সে ভর্তি হোন। অনার্সের পড়া অবস্থায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার চাকরি পান। চাকরিরত অবস্থায় অনার্স ও মাস্টার্স পাশ করেন। এবার ববিতা আক্তারকে দেওয়া হচ্ছে শিক্ষা ও চাকরি ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী জয়িতার সম্মাননা।

সফল জননী হিসেবে এবার জয়িতার সম্মাননা পাচ্ছেন ধুনট উপজেলার কালেরপাড়া ইউনিয়নের সরুগ্রামের মরহুম ফজলুল হক মন্ডলের স্ত্রী জাহানারা বেগম। কৈশোর না পেরোতেই তার বিয়ে হয়ে যায়। স্বামীর তেমন আর্থিক সচ্ছলতা ছিল না। জাহানারা ফজলুল দম্পতি একটি পুত্র সন্তানের আশায় পর পর চারটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সন্তানরা ছোট থাকতেই তার স্বামী মারা যান। এরপর গাভী পালন ও সবজি চাষ করে মেয়েদের শিক্ষিত করে তোলেন। তার চার মেয়ের মধ্যে বড় মেয়ে বিএ পাশ করে একটি টেকনিক্যাল কলেজে শিক্ষকতা করছেন, দ্বিতীয় ও তৃতীয় মেয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি শেষ করে দু’জনই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। আর ছোট মেয়ে মাস্টার্সে পড়ালেখা করছেন।

নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যোমে জীবন শুরু করেছেন যে নারী সেই নারী হিসেবে এবার জয়িতার সম্মাননা পাচ্ছেন দুপচাঁচিয়া উপজেলার সুখানগাড়ি গ্রামের ছামিদুল ইসলামের কন্যা মোছাঃ সম্পা। বাল্য বিয়ের শিকার সম্পার স্বামী যৌতুকের কারণে কেরোসিন ঢেলে তার শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। এরপর সে সুস্থ হওয়ার পর স্বাবলম্বী হতে লেখাপড়া শুরু করে। বর্তমানে সম্পা স্থানীয় একটি স্কুলে দশম শ্রেণীতে পড়ছে।

সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখার জন্য জয়িতা সম্মাননা পাচ্ছেন শেরপুরের শান্তিনগর এলাকার শাহানাজ পারভীন। প্রতিকূল পরিবেশে বেড়ে ওঠা এই নারীর অল্প বয়সেই বিয়ে হয়। ১৯৯১ সালে বিয়ের পর থেমে না গিয়ে পড়ালেখা শুরু করেন। শেষ করেন স্নাতক ডিগ্রি। অধ্যয়নকালে তিনি সামাজিক উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়েন। ২০১০ সালে সুবিধাবঞ্চিত পথশিশুদের এবং কিশোর শ্রমিকদের পাঠদান শুরু করেন। ২০১৫ সালে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে শেরপুর কল্যাণ প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন।

২০১৬ সালে ওই বিদ্যালয়টি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শিশু কল্যাণ ট্রাস্টের আওতাভূক্ত হয়। ওই স্কুলে শিক্ষার যাবতীয় উপকরণ, পরীক্ষার ফি ও বিনামূল্যে টিফিন দেওয়া হয়। এছাড়া তিনি শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে ‘সোসাইটি ফর সিগনেচার বাই শাহনাজ পারভীন’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়েন। ওই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা ২শ’ নারীকে হস্তশিল্পের প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মমুখি করেছেন। স্ব প্রচেষ্টায় তিনি ১২টি বাল্য বিয়ে প্রতিরোধ ও ১০জন নারীকে নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচান। তিনি সামাজিক বনায়ন সৃষ্টির মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও রাস্তার পাশে বৃক্ষরোপণ কর্মসুচি বাস্তবায়ন করছেন।

এছাড়া শাহানাজের রচনায় তিনটি বই প্রকাশিত হয়েছে। সুবিধাবঞ্চিত ১শ’ মানুষকে বিনামূল্যে ওষুধ ও স্বাস্থ্যসেবা এবং দেড়শ’ পরিবারকে স্যানিটেশন সুবিধা দিয়েছেন। ২০১৩ সালে তিনি জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হোন। জঙ্গিমুক্ত ও সুস্থ সমাজ গঠনে স্কাউটিংএ ভূমিকা রাখায় ৫ বার উপজেলার শ্রেষ্ঠ কাব লিডার নির্বাচিত হয়েছেন। ব্যতিক্রম সমাজ উন্নয়নে ভূমিকা রাখায় বিশ্বের সেরা শিক্ষকের স্বীকৃতি স্বরূপ ‘গ্লোবাল টিচার প্রাইজ-২০১৭’ সম্মান তিনি অর্জন করেছেন।

ছাত্রীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলায় রাজশাহীর আইএইচটি বন্ধ

নিরাপত্তার দাবিতে আন্দোলনরত রাজশাহী ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজির ছাত্রীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার পর ইনস্টিটিউট বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।

ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলাম জানান, বুধবার বেলা ১১টার দিকে হলের সামনে ‘অপ্রীতিকর ঘটনার’ পর অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সভা ডেকে ইনস্টিটিউ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ’ ঘোষণা করা হয়।

একইসঙ্গে বেলা ১টার মধ্যে ছাত্রদের এবং ৩টার মধ্যে ছাত্রীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। কী কারণে কী ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে সে বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি।

তিনি বলেন, “বিভিন্ন দাবি নিয়ে ছাত্রীরা আমার কাছে এসেছিল। দাবি মানার আশ্বাস দিয়ে ছাত্রীদের হলে পাঠানো হয়। কিন্তু হলের সামনে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে।”

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বহিরাগতসহ ছাত্রলীগের নেতাদের উৎপাত ও নিরাপত্তার দাবিতে আইএইচটির ছাত্রীরা বেলা সাড়ে ১০টার দিকে অধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ শুরু করে। এতে নেতৃত্ব দেয় ইনস্টিটিউট ছাত্রলীগের নারী কর্মীরা।

পরে পুলিশ গিয়ে আন্দোলনরত ছাত্রীদের অধ্যক্ষের কক্ষ থেকে বের করে দিলে তারা ছাত্রী হলের সামনে অবস্থান নেয়। এ সময় ইনস্টিটিউট ছাত্রলীগ সভাপতি জাহিদ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক তুহিনের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে আন্দোলনরত ছাত্রীদের মারধর করা হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

এ হামলায় অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছে; যাদের মধ্যে তিনজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রাজপাড়া থানার ওসি হাফিজুর রহমান হাফিজ বলেন, আন্দোলনরত ছাত্রীদের ওপর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালানোর চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ গিয়ে তাদের প্রতিহত করে।

“পুলিশের ধাওয়া খেয়ে তারা ক্যাম্পাস ছেড়ে পালিয়ে যায়। পরে পরিস্থিতি শান্ত হয়। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।”

তবে আন্দোলনরত ছাত্রী ছাত্রলীগকর্মী নাদিরা বলেন, গত গত ৩ নভেম্বর ছাত্রলীগের নারী কর্মীরা ইনস্টিটিউটের কর্মসূচিতে না গিয়ে নগর ছাত্রলীগের কর্মসূচিতে যাচ্ছিল। এ সময় ইনস্টিটিউট ছাত্রলীগের সভাপতি জাহিদ ও সাধারণ সম্পাদক তুহিন ছাত্রী হলের গেইটে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে দেয়।

“তারা দুই নারী ছাত্রলীগ কর্মীকে মারধর করে এবং হলের সাধারণ ছাত্রীসহ নারী ছাত্রলীগ কর্মীদের বিভিন্নভাবে নিপীড়ন করতে থাকে। এর প্রতিবাদে তারা অধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করছিল।”

 

ঈশ্বরদীতে যুবকের মরদেহ উদ্ধার

পাবনা প্রতিনিধি : নিখোঁজ হওয়ার ২ দিন পর ঈশ্বরদীর দাশুরিয়া তেঁতুলতলা থেকে ওয়ারেজ আলী সরদার (৩০) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। তিনি পাবনার ফরিদপুর উপজেলার নেচড়াপাড়া গ্রামের মৃত মফিজ উদ্দিন সরদারের ছেলে।

থানা সূত্র প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকালে উপজেলার দাশুরিয়া ইউনিয়নের তেঁতুলতলা পাকা রাস্তার পাশে স্থানীয়রা ওই যুবকের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত ওয়ারেজের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

এদিকে পাবনার চাটমোহর উপজেলার দোলং গ্রামের স্থানীয় মেম্বার সাদেক আলী জানান, দুইদিন আগে তিনি ট্রাক নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) রুহুল আমিন জানান, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
তার নামে নাটোর গুরুদাসপুর, বড়াইগ্রাম, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর, পাবনা সদর থানায় গরুচুরি ও মাদক আইনে কয়েকটি মামলা রয়েছে।

 

সাগরপুর-সন্ন্যাতলা সড়ক বদলগাছীতে কাজ না করেই বিল উত্তেলন করলেন ঠিকাদার

বদলগাছী (নওগাঁ) প্রতিনিধি : নওগাঁর বদলগাছীতে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) কৃষিপণ্য বাজারজাত করণে গ্রামীণ যোগাযোগ প্রকল্পের আওতায় নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার সাগরপুর-সন্ন্যাসতলা পর্যন্ত সড়ক পাকাকরণ কাজে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। কাজ না করেই সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে বিল দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি পাকাকরণ না হওয়ায় লোকজন চলাচলের চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, সড়কটির পাশে একটি সাইনর্বোড লাগানো আছে। ওই সাইনর্বোডে লেখা রয়েছে, প্রকল্পের নামঃ কৃষিপণ্য বাজারজাত করণে গ্রামীণ যোগাযোগ উন্নয়ন প্রকল্প। সাগরপুর পাকা রাস্তা হতে সন্ন্যাসতলা পর্যন্ত। সড়কের দৈর্ঘ্য : পরিমাণ উঠিয়ে ফেলা হয়েছে। নির্মাণ সন : ২০১৫-২০১৬। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান : এস,এস বিল্ডার্স হাতেম খাঁ, রাজশাহী। বাস্তবায়নকারী সংস্থার নাম : বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। সাইনবোর্ডের পিছন থেকে পুরো সড়কটিই মাটির। এই  সড়কটি এতটায় খারাপ যে যাত্রীবাহী যানবাহন তো দূরের কথা মানুষ পায়ে হেঁটে চলাচল করাও দুষ্কর।

সাগরপুর গ্রামের ১০-১২ জন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে সাইনবোর্ডটি লাগানো হয়। এরপর ঠিকাদারের লোকজন এসে সড়কের পাশে কয়েকটি ইটের খোয়া স্তূপ করে রাখেন। পরে তারা সড়কের কিছু জায়গায় খোয়া  ফেলে যান। এরপর সড়কে আর কোন কাজই হয়নি। এখন সড়কটি শুধুই সাইনবোর্ড সবর্স্ব। দীর্ঘদিন পাকাকরণের কাজ না হওয়ায় সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভেঙে গেছে। শুষ্ক মৌসুমে সড়কে ধুলা-বালুতে পায়ে হেঁটে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়ে আর বর্ষার মৌসুমে কাঁদা-মাটিতে একাকার হয়ে যায়। দীর্ঘদিন ধরে পাকাকরণ না হওয়ায় লোকজন চলাচলের ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

 সাগরপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস ছামাদ বলেন, সড়কটি পাকাকরণ করা হয়নি। শুধু সড়ক পাকাকরণের সাইনর্বোড ঝুলানো হয়েছে।  সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় আমরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছি। জানতে চাইলে বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বদলগাছী কার্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলী হারুন অর রশিদ বলেন, সাগরপুর-সন্ন্যাসতলা পর্যন্ত সড়ক পাকাকরণ কাজ শুরু করেছিলেন। কিন্তু এখনো কাজটি শেষ করতে পারেননি। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল।  শিগগিরই সড়কটি পাকাকরণের কাজ শুরু করবেন বলে  জানিয়েছেন। ঠিকাদার কত টাকা বিল উত্তোলন করেছে তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, কাজ অসমাপ্ত রয়েছে। তাই ঠিকাদারকে পাঁচ লাখ টাকা বিল  দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) বদলগাছীর সহকারী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে থাকা নথিপত্র ঘেঁটে প্রকৌশলীর বক্তব্যের সঙ্গে বিল উত্তোলনের গরমিল পাওয়া গেছে।

নথিতে দেখা যায়, ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে কৃষিপণ্য বাজারজাত করণে গ্রামীণ যোগাযোগ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় একটি প্যাকেজে সাগরপুরÑসন্ন্যাসতলা পর্যন্ত ০.৮৫ কিলোমিটার ও ভেরেন্ডি গন্ধর্বপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের পাকা সড়কের শেষ মাথা থেকে নুনুজহাট খোলা পর্যন্ত ০.৩০ কিলোমিটার সড়কপাকা করণ কাজের দরপত্র আহবান করা হয়। এস,এস বিল্ডার্স, ৩৫ হেতেম খাঁ, রাজশাহীর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি কাজটি পায়। ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নামে গত ২০/১২/২০১৫ সালে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি গত ২০১৬ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ১৫ লাখ ১৫ হাজার টাকার ওপরে বিল উত্তোলন করেছে।  কাজের প্রাক্কলিত অর্থ কত তা নথিতে উল্লেখ  নেই।

সহকারী প্রকৌশলীর কার্যালয়ের একটি সূত্র জানায়, সাগরপুর-সন্ন্যাসতলা পর্যন্ত ০.৮৫ ও গর্ন্ধবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাকার মাথা থেকে নুনুজহাটখোলা পর্যন্ত সড়ক পাকাকরণে মোট ৫৯ লাখ টাকা বরাদ্দ ছিল। এরমধ্যে সাববেজে ১৯ লাখ ৫৮ হাজার ৯৯ টাকা ধরা ছিল। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি সাববেজের ভ্যাটসহ ১৫ লাখ ১৫ হাজার টাকা উত্তোলন করেছে। এরপর ঠিকাদার আর কাজ করতে আসেননি। এ কারণে সড়কটি দুই বছর ধরে পড়ে আছে।

এস,এস বিল্ডার্সের প্যাডে থাকা মোবাইলফোনে যোগাযোগ করা হলে একব্যক্তি নিজেকে শিমুল পরিচয় দিয়ে বলেন, আমি এস,এস বিল্ডার্সের মালিকের ছেলে। আমরা সাগরপুর-সন্ন্যাসতলা পর্যন্ত সড়ক পাকাকরণের কাজটি পেয়েছিলাম। আমরা তাপস নামে রাজশাহীর এক ঠিকাদারের কাছে কাজটি বিক্রি দিয়েছি। আমাদের ঠিকাদারী লাইসেন্সে ঠিকাদার তাপস কাজটি করেছেন। আপনি বদলগাছীর বরেন্দ্র কার্যালয়ে যাওয়ার পর মোবাইল ফোনে আমাদের কাজটি শুরু করার তাগাদা দেওয়া হয়েছে। যেহেতু আপনাদের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নামে কার্যাদেশ দেওয়া সেহেতু দায়ভার আপনাদের প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আমরা কাজটি করিনি সেটি বরেন্দ্র অফিস জানে। তিনি ঠিকাদার তাপসের মোবাইল নম্বর দিয়ে তার সঙ্গে কথা বলতে বলেন। ওই  মোবাইল  ফোনে যোগাযোগ করা হলে ঠিকাদার তাপস বলেন, আমি এস,এস বিল্ডার্সের কাছে কাজটি কিনেছি। প্রথম দফায় সাববেসের কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছিল। নুনুজহাটখোলা ০.৩০ কিলোমিটার কাজটি করতে গিয়ে সেখানকার জনগণের বাধায় কাজটি করা যায়নি। তাহলে বিল উত্তোলন করলেন কেন এমন প্রশ্নের তিনি বলেন, আমরা শিগগিরই কাজটি শুরু কবর। তিনি এ বিষয়ে পত্রিকায় খবর প্রকাশ না করতে অনুরোধ করেন।

 

পাবনা-সুজানগর প্রধান সড়ক অবৈধ ভটভটির দখলে

সুজানগর (পাবনা) প্রতিনিধি : পাবনা-সুজানগর প্রধান সড়ক লাইসেন্সবিহীন অবৈধ ভটভটি গাড়ি দখল করে নিয়েছে। এ সব গাড়ির কারণে মাঝে মধ্যেই ওই সড়কে দুর্ঘটনা ঘটছে। পাশাপাশি অবৈধ ওই ভটভটির কারণে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।

জানা যায়, সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে স্থানীয়ভাবে স্যালো মেশিনের ইঞ্জিন দিয়ে ওই সকল ভটভটি গাড়ি তৈরি করা হয়। এ সব গাড়ি প্রথম দিকে উপজেলার অভ্যন্তরীণ সড়কে চলাচল করতো। সে সময় ওই সকল গাড়িতে মালা-মাল পরিবহন ছাড়া কোন যাত্রী পরিবহন করা হতো না। কিন্তু ইদানিং ওই সকল ভটভটি গাড়ি পাবনা-সুজানগর প্রধান সড়ক দখল করে অবাধে যাত্রী ও মালামাল পরিবহন করছে। এ সব গাড়ির কোন প্রকার ব্যাকগিয়ার বা হ্যাবি ব্রেক নেই। তাছাড়া গাড়ির অধিকাংশ চালক আনাড়ি এবং অপ্রাপ্ত বয়স্ক। সে কারণে ওই সকল গাড়ি প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা কবলিত হয়ে হতাহতের ঘটনা ঘটছে। তাছাড়া ওই সব গাড়ির কারণে মাঝে মধ্যেই সুজানগর পৌর বাজার সংলগ্ন পাবনা-সুজানগর প্রধান সড়কে যানজট সৃষ্টি হয়। এ সময় বাজারের ক্রেতা-বিক্রেতাদের পাশাপাশি পথচারীদের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়। ভুক্তভোগী মহল লাইসেন্সবিহীন অবৈধ ওই গাড়ির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

 

 

ঈশ্বরদীতে ২ শিশু ধর্ষিত

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি : চকলেট খাওয়ার প্রলোভন দিয়ে ৬ বছর বয়সী দুই শিশুকে এক সঙ্গে ধর্ষণের ঘটনা ঘটিয়েছে ইয়াকুব আলী (৩৬) নামের এক লম্পট। প্রচুর রক্ত ক্ষরণে আহত ওই দুই শিশুকে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লে¬ক্সে দুইদিন ভর্তি রেখে চিকিৎসা প্রদান করা হয়। স্থানীয় হবি মন্ডল ও মকবুল হোসেন নামের দুই মেম্বার ঘটনাটি জানাজানি না করে ঘরোয়াভাবে মীমাংসা করার জোর চেষ্টা চালিয়ে শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। গত ২৭ নভেম্বর ঈশ্বরদী বেনারসী পল্ল¬ীর সীমানাবর্তী শ্রীরামগাড়ী ঝাড়পাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে গত ১ ডিসেম্বর লোমহর্ষক এই ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এ বিষয়ে লালপুর থানার ওসি আবু ওবায়েদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, ওই দুই শিশুর প্রতি পাশবিক অত্যাচার করা হয়েছে যা সত্যিই দুঃখজনক। আসামিকে ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে। অচিরেই তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হবে বলেও জানান তিনি।

 

২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম ছাত্রলীগের নাটোরে ছাত্রলীগ-বিএনপি সংঘর্ষ : গুলিবিদ্ধ ২

নাটোর প্রতিনিধি : দলীয় কর্মসূচিতে যোগদানকে কেন্দ্র করে নাটোরে ছাত্রলীগ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম রুবেলসহ (২৪) দুইজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। অপর গুলিবিদ্ধ হলেন, সোহেল রানা (৩৫) নামের এক পথচারী। তাদের নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রোববার বেলা সাড়ে ১১টার সময় শহরের আলাইপুর (হাফরাস্তা) এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এই ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। খবর পেয়ে পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। ফের সংঘর্ষ এড়াতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। রবিউল ইসলাম রুবেল সদর উপজেলার বাগরোম গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে। অপর আহত পথচারী সোহেল রানা রাঙামাটি আনসার ব্যাটালিয়ানে কর্মরত এবং বাগাতিপাড়া উপজেলার তমালতলার ক্ষিদ্র মালঞ্চি গ্রামের ইয়াছিন আলীর ছেলে। সোহেল রানা পিঠে এবং রুবেল বাঁ পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এই ঘটনায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি একে অপরকে দোষারোপ করছে। আর ছাত্রলীগ নেতা কর্মীদের ওপর বিএনপির হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে দোষীদের আটক করার আল্টিমেটাম দিয়েছে ছাত্রলীগ।

নাটোর সদর উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি সোহানুর রহমান সুরুজ জানান, রোববার সকালে তাদের পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী তারা শহরে একটি মিছিল বের করেন। তারা মিছিলটি নিয়ে আলাইপুর (হাফরাস্তা) বিএনপি কার্যালয় অতিক্রম করার সময় সেখানে অপেক্ষমাণ বিএনপি কর্মীদের সাথে সাইড দেওয়াকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তারা ছাত্রলীগের মিছিলে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করে। তিনি অভিযোগ করেন, ছাত্রলীগের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি বানচাল করতে বিএনপি নেতাকর্মীরা ইচ্ছেকৃতভাবে হামলা চালিয়েছে।

জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মর্তুজা আলী বাবলুও একই অভিযোগ করে বলেন, ছাত্রলীগের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিকে পরিকল্পিতভাবে উস্কে দিয়েছে বিএনপি। তারাই ছাত্রলীগ কর্মীদের ওপর হামলা ও গুলি চালিয়েছে। তাদের ছোড়া গুলিতে উপজেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক রবিউলসহ দুইজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের গ্রেফতার পূর্বক শাস্তি দাবি করেছেন তিনি।

অপরদিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সাবিনা ইয়াসমিন ছবি এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সিংড়ায় তাদের দলীয় কর্মসূচিতে যোগদানের উদ্দেশ্যে বের হচ্ছিলেন। এ সময় গেটের সামনে দাঁড়ানো অবস্থায় ছাত্রলীগ কর্মীরা অতর্কিতভাবে দলীয় কার্যালয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও হামলা চালায়। এতে বাড়ির সামনের কয়েকটি কাঁচ ভেঙে যায়। গুলিবর্ষণের ঘটনায় বিএনপির কোন নেতাকর্মী জড়িত নয়। বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক উপমন্ত্রী রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, গত শনিবার রাতে পুলিশ দলীয় কর্মসূচি পালনে নিষেধ করেছেন।  রোববার সকালে পুলিশের উপস্থিতিতেই দলীয় কার্যালয়ে ছাত্রলীগ কর্মীরা ন্যক্কারজনক হামলা চালিয়েছে।

নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিকদার মশিউর রহমান এতথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাটি বিস্তারিতভাবে জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। তদন্ত করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে। এদিকে ছাত্রলীগ নেতা কর্মীদের ওপর বিএনপির হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে দোষীদের আটক করার আল্টিমেটাম দিয়েছে ছাত্রলীগ। পরে দুপুরে নাটোর প্রেস ক্লাবের সম্মেলন কক্ষে জেলা ছাত্রলীগ এক সংবাদ সম্মেলনে এই আল্টিমেটাম দেয়।

লিখিত বক্তব্যে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম বলেন, বিএনপির বিক্ষোভ কর্মসূচির প্রতিবাদে নবাব সিরাজ উদ দৌলা সরকারি কলেজে একটি মানববন্ধনের আয়োজন করে ছাত্রলীগ। সেখানে যোগ দেয়ার জন্য একটি মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় আলাইপুরের দুলুর বাড়ি অতিক্রম করলে তারা এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করে। এঘটনায় উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলামসহ এক পথচারী গুলিবিদ্ধ হয়। উস্কানিমূলক হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে দোষীদের দ্রুত আটকের দাবি জানান তারা। এসময় ছাত্রলীগের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম জেমসসহ নেতা কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

 

নওগাঁয় নিখোঁজ তরুণীর গলিত লাশ উদ্ধার

নওগাঁর নিয়ামতপুরে নিখোঁজের দেড় মাস পর তরুণীর বস্তাবন্দি গলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার উপজেলার উত্তরবাড়ীর পুকুর পাড়ে পুঁতে রাখা লাশটি উদ্ধার করা হয় বলে নিয়ামতপুর থানার ওসি রফিকুল ইসলাম খান জানান।

নিহত আলেমা (১৯) একই গ্রামের আবুল হোসেনের মেয়ে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। পরিবারের বরাত দিয়ে ওসি জানান, আড়াই মাস আগে একই এলাকার রাশেদ মেনন রুমির ছেলে শাহরিয়ার শাওন ও আলেমা পালিয়ে বিয়ে করে ঢাকাতে অবস্থান করে। পরে দুজনেই বাড়ি ফিরে আসার কয়েক দিন পর হঠাৎ আলেমা নিখোঁজ হয়।

“আলেমাকে তার পরিবার কোথাও খুঁজে না পেয়ে থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ উত্তরবাড়ীর উত্তর দিকের গোরস্থানের পাশের একটি পুকুরের পাড় থেকে পুঁতে রাখা বস্তাবন্দি গলিত লাশ উদ্ধার করে।”

এ ঘটনায় পুলিশ শাহরিয়ার শাওন, তার বাবা রাশেদ মেনন রুমি, মা সুলতানা রাজিয়া ও চাচা নাহিদ রেজা রুবেলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে।

 

অজ্ঞাতনামা ৮ জনকে আসামি করে র‌্যাবের মামলা : ছেড়ে দেয়া হয়েছে এক নারীকে

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি : চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলার চরআলাতুলি ইউনিয়নের মধ্যচরে জঙ্গি আস্তানায় র‌্যাবের অভিযানে ৩ জঙ্গি নিহত হওয়ার ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ৭/৮ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছে র‌্যাব। রাজশাহী র‌্যাব-৫ এর এসআই মো: সোহেল রানা বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন। এদিকে মঙ্গলবারের এই অভিযানের পর চালানো র‌্যাবের তল্লাশি অভিযান  বিকেলে শেষ হয়েছে।

রাজশাহী র‌্যাব-৫ এর উপ-অধিনায়ক মেজর আশরাফ জানান, আলাতুলির দুর্গম মধ্যচরে গত দু’দিন ধরে চালানো তাদের তল্লাশি অভিযান বৃহস্পতিবার বিকেলে শেষ হয়েছে। তিনি জানান, মঙ্গলবার অভিযান চলাকালে সেখানে গ্রেনেড বিস্ফোরণ ঘটছে। তাই বিস্ফোরণের অংশ বিশেষ সেখানে ছড়িয়ে ছিঁটিয়ে আছে কিনা তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য গত বুধবার সকাল থেকে র‌্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থলের আশপাশে তল্লাশি অভিযান শুরু করে। অভিযান শেষে  বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন সদস্যরা। তবে এই অভিযানে সেখান থেকে নতুন কোন অস্ত্র বা বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি। তিনি আরো জানান, ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক তিনজনের মধ্যে বাড়ির মালিক রাশিকুল ইসলামের শাশুড়ি মিনারা বেগমকে  সকালে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়েছে। তবে রাশিকুলের স্ত্রী নাজমা বেগম ও শ্বশুর খোরশেদ আলীকে তাদের হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করছে র‌্যাব।  

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি (তদন্ত) আতিকুল ইসলাম জানান, জঙ্গি আস্তানায় অভিযানে তিন জঙ্গি নিহত হওয়ার ঘটনায়  সন্ধ্যায় র‌্যাবের পক্ষ থেকে অজ্ঞাতনামা ৮ জনকে আসামি করে ২০০৯ সালের সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্তবর্তী পদ্মানদী বেষ্টিত দুর্গম চরাঞ্চল চরআলাতুলি ইউনিয়নের মধ্যচরে একটি জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালায় র‌্যাব। এসময় ওই বাড়ির ভেতরে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণে তিন জঙ্গি নিহত হন। নিহতরা সবাই নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির সক্রিয় সদস্য বলে জানান র‌্যাবের মিডিয়া সেলের পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান। অভিযান চলাকালে ঘটনাস্থল থেকে থেকে ২টি পিস্তল, ২টি ম্যাগজিন, তিনটি হাতবোমা, ১২টি পাওয়ার জেল ও ৭ টি ডেটোনেটর উদ্ধার করা হয়।

 



Go Top