সাকিবের সঙ্গে ওই জুটিটা সিরিজ জয়ে বড় প্রভাব ফেলেছে: তামিম

সাকিবের সঙ্গে ওই জুটিটা সিরিজ জয়ে বড় প্রভাব ফেলেছে: তামিম

মাশরাফি, তামিম, সাকিব, মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহ- এ পাঁচ ক্রিকেটার যেন বাংলাদেশ দলের নিউক্লিয়াস। বিশেষ করে রঙিন পোশাকে চোখে আঙুল দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন তাদের ব্যতিত পুরো দলই ছন্নছড়া!

ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে বাংলাদেশ যে রান করেছে, তার ৭১ ভাগ রান এসেছে তামিম, সাকিব, মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহর ব্যাট থেকে। এদের মধ্যে আবার তামিম ও সাকিবের রানকে আলাদা করে বলতে হবে। ওয়ানডেতে তামিম-সাকিবের তিনটি অসাধারণ জু্টি বাংলাদেশকে দিয়েছে জয়ের ভিত। প্রথম ওয়ানডেতে দুজনের জুটি থেকে আসে ২০৭ রান। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৯৭ রান এবং সবশেষ ওয়ানডেতে ৮১ রান। একটি ডাবল সেঞ্চুরি ও দুটি হাফ সেঞ্চুরির জুটি বাংলাদেশকে পৌঁছে দেয় চালকের আসনে।

তিনটি জুটি গুরুত্বপূর্ণ হলেও প্রথম ওয়ানডের ২০৭ রানের জুটিটাই মোমেনটাম গড়ে দিয়েছে বলে মনে করছেন তামিম ইকবাল। প্রথম ওয়ানডেতে দ্বিতীয় ওভারে হোল্ডারের বলে আউট হন এনামুল হক বিজয়। সেখান থেকে ৪৫তম ওভার পর ব্যাটিং করেন দুজন। তামিম সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে ম্যাচটাকে স্মরণীয় করে রাখলেও সাকিব মাত্র ৩ রানের আক্ষেপে পুড়েন। ৯৭ রানে সাকিব যখন আউট হন তখন বাংলাদেশ বেশ নিরাপদ অবস্থানে। আর শেষ দিকে তামিমের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ পৌঁছে যায় চালকের আসনে। তামিম ইকবালের ব্যাট থেকে আসে ১৩০ রান।



২০৭ রানের ম্যারাথন জুটি ওয়ানডেতে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ম্যারাথন এ জুটি নিয়ে তামিম বলেছেন,‘জুটিটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিল, আমরা টেস্ট সিরিজ থেকে ফিরে আসার জন্য। ওই উইকেটে ব্যাট করা কোনভাবেই সহজ ছিল না। সেই সময় যদি আমি অথবা সাকিব উইকেটটা ছুঁড়ে ফেলতাম, তাহলে বিষয়টা আরও কঠিন হত। কারণ অনেক ডট বল হচ্ছিল। আমাদের মনোযোগ ঠিক ছিল, আমরা জানতাম এই উইকেটে স্কোর বোর্ডের দিকে না তাকিয়ে টিকে থাকাই রান করার একমাত্র উপায়। আমাদের কেউ একজন যদি আউট হয়ে যেতাম, তাহলে ওই জুটিটাও হত না আর আমাদের রানটাও বাড়ত না। তখন ম্যাচের গতিপথ ভিন্ন হতে পারত। এই জুটিটা সিরিজ জয় ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ে বড় প্রভাব ফেলেছিল।’

ম্যাচে সাকিব-তামিম দুজনই সতর্ক ব্যাটিং করেন। সাকিব ১২১ বলে করেন ৯৭ রান। আর তামিম ১৬০ বলে করেন ১৩০ রান। দুজনের ধীর গতির ব্যাটিং বাংলাদেশকে নিজেদের লক্ষ্যে পৌঁছে দিয়েছিল ভালোভাবেই। শেষ দিকে মুশফিকের ১১ বলে ৩০ রানের জুটি বাংলাদেশের প্রত্যাশা পূরণ করে। ধীর গতিতে ব্যাটিং হলেও তামিম নিজের সেঞ্চুরি ও সাকিবের ৯৭ রানের ইনিংসটিকে বড় করে মার্ক করছেন।

পাশাপাশি সাকিবের সঙ্গও বেশ উপভোগ করছেন বলে জানান তামিম। সাকিব তিনে ব্যাটিং করায় দুই বন্ধু একসঙ্গে দীর্ঘক্ষণ ব্যাটিংয়ের সুযোগ পাচ্ছে। ওয়ানডেতে এখন পর্যন্ত দুজন ৩৩ ইনিংসে ব্যাটিং করেছেন। ৩৩ ইনিংসে দুজনের রান ১৫৭৯। ৩টি শতকের সঙ্গে রয়েছে ৯টি অর্ধশত রানের জুটির ইনিংস।