অশ্বিনে এলোমেলো ইংল্যান্ড

অশ্বিনে এলোমেলো ইংল্যান্ড

ইতিহাসের প্রথম দল হিসেবে খেলছে হাজারতম টেস্ট। মাইলফলকের টেস্টের প্রথম দিনে অবশ্য খুব একটা স্বস্তিতে নেই ইংল্যান্ড। রবিচন্দ্রন অশ্বিনের অসাধারণ বোলিংয়ে প্রথম দিনে উজ্জ্বল ভারত।

বুধবার এজবাস্টন টেস্টের প্রথম দিন শেষে ইংল্যান্ডের সংগ্রহ ৯ উইকেটে ২৮৫ রান। অথচ একটা সময় ইংলিশদের স্কোর ছিল ৩ উইকেটে ২১৬। শেষ সেশনে মাত্র ৬৯ রান তুলতেই হারিয়েছে ৬ উইকেট!

অশ্বিন ৬০ রানে নিয়েছেন ৪ উইকেট। ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়া মিলিয়ে তার সেরা বোলিং এটিই। শেষ উইকেটটা নিতে পারলে ২০০২ সালের পর প্রথম ভারতীয় স্পিনার হিসেবে ইংল্যান্ডের মাটিতে গড়বেন পাঁচ উইকেট কীর্তি।

প্রথম দিনের সবচেয়ে আলোচিত উইকেটটা অবশ্য কোনো বোলারের নয়। ১১২ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর চতুর্থ উইকেটে জনি বেয়ারস্টোর সঙ্গে শতরানের জুটি গড়ে ফেলেছিলেন জো রুট। এই টেস্টসহ ভারতের বিপক্ষে খেলা ১২ টেস্টেই পঞ্চাশ ছুঁয়ে সেঞ্চুরি দিকে এগোচ্ছিলেন ইংলিশ অধিনায়ক। তবে ৮০ রানে রুটকে সরাসরি থ্রোয়ে রান আউট করেন ভারতীয় অধিনায়ক বিরাট কোহলি।



এদিন টস জিতে ব্যাটিং নিয়েছিলেন রুট। ইংল্যান্ডের উইকেটে পেসারদের ওপরই ভরসা রাখেন অধিনায়করা। দুই দলের একাদশেই স্পিনার তাই মাত্র একজন। সপ্তম ওভারে প্রথমবার বোলিং পরিবর্তনে দলের একমাত্র স্পিনার অশ্বিনকে আক্রমণে আনেন কোহলি। অশ্বিন সাফল্য এনে দেন তার দ্বিতীয় ওভারেই। অফ স্পিনারের দারুণ এক ডেলিভারিতে বোল্ড অ্যালিস্টার কুক (১৩)।

এর আগেই অবশ্য উইকেট পেতে পারতেন ইশান্ত শর্মা। কিন্তু তার বলে চতুর্থ স্লিপে কেটন জেনিংসের ক্যাচ ফেলেন অজিঙ্কা রাহানে। জেনিংস তখন ৯ রানে। তাকে নিয়েই প্রথম সেশনটা পার করে দেন রুট। তাতে ১ উইকেটে ৮৩ রান তুলে প্রথম সেশনটা নিজেদেরই করে নেয় ইংল্যান্ড।

দ্বিতীয় সেশনে জেনিংসকে (৪২) বোল্ড করে ৭২ রানের জুটি ভাঙেন মোহাম্মদ শামি। চারে নামা ডেভিড মালান টিকতে পারেননি বেশিক্ষণ। তিনিও শামির শিকার দলীয় ১১২ রানে, ব্যক্তিগত ৮ রানে।

এরপরই বেয়ারস্টো-রুটের লড়াই শুরু। চা বিরতির আগে আর কোনো উইকেট হারাতে দেননি দুজন। এগিয়ে নেন দলকে। ইংল্যান্ড তখন রান তুলছিল অনায়াসেই। জুটির শতরান আসে ১৩৭ বলে। রক্ষণাত্মক ফিল্ডিং সাজিয়েও রান থামাতে পারছিল না ভারত।



ফিফটি করার পথে অভিষেকের পর সবচেয়ে কম সময়ে ৬ হাজার রান করার রেকর্ড গড়েন রুট। এগিয়ে যাচ্ছিলেন সেঞ্চুরির দিকেই। কিন্তু ৬৩তম ওভারে দুই রান নিতে গিয়ে কোহলির দারুণ এক থ্রোয়ে রান আউট ইংলিশ অধিনায়ক (৮০)। ম্যাচের মোমেন্টাম ঘুরে যায় সেখানেই।

পরের ২৫ বলে ৮ রান তুলতেই ইংল্যান্ড হারায় আরো ২ উইকেট। রুটের বিদায়ের পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি বেয়ারস্টোও (৭০)। তাকে বোল্ড করেন উমেশ যাদব। অশ্বিনের বলে এলবিডব্লিউ জস বাটলার (০)। পরে এসে ফিরতি ক্যাচে বেন স্টোকসকেও (২১) ফিরিয়েছেন অশ্বিন। ইংল্যান্ডের স্কোর তখন ৭ উইকেটে ২৪৩।

অষ্টম উইকেটে ৩৫ রানের একটা জুটি গড়েছিলেন আদিল রশিদ ও স্যাম কুরান। রশিদকে (১৩) এলবিডব্লিউ করে এ জুটি ভাঙেন ইশান্ত। স্টুয়ার্ট ব্রডকে (১) এলবিডব্লিউ করে চার উইকেট পূর্ণ করেন অশ্বিন।

দিনের শেষ ওভারে শামির বলে দিনেশ কার্তিক কুরানের ক্যাচ না ছাড়লে ইংল্যান্ড অলআউটও হয়ে যেতে পারত প্রথম দিনেই। কুরান ২৪ ও জেমস অ্যান্ডারসন অপরাজিত আছে শূন্য রানে।