মুরালির ‘৮০০’ ছোঁয়ার দিন

মুরালির ‘৮০০’ ছোঁয়ার দিন

মুত্তিয়া মুরালিধরনের বলে প্রজ্ঞান ওঝার ব্যাটের কানা ছুঁয়ে বল জমা পড়ল প্রথম স্লিপে মাহেলা জয়াবর্ধনের হাতে। মুরালি উঠে গেলেন চূড়ায়, ছুঁলেন টেস্টে ৮০০ উইকেটের মাইলফলক।

ঘটনাটা আজ থেকে আট বছর আগে, আজকের এই দিনেই, ২০১০ সালের ২২ জুলাই। সেই ম্যাচ খেলেই টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় বলেছিলেন শ্রীলঙ্কান কিংবদন্তি।

বিদায়ের ঘোষণাটা দিয়েছিলেই আগেই। ৭ জুলাই কলম্বোয় সংবাদ সম্মেলনে মুরালি ঘোষণা দেন, ভারতের বিপক্ষে ১৮ জুলাই শুরু প্রথম টেস্টই হবে তার শেষ ম্যাচ।


মুরালি বিদায়ী টেস্ট ম্যাচে ৭৯২ উইকেট নিয়ে মাঠে নেমেছিলেন। গল আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে ভারতের প্রথম ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিয়ে মাইলফলক ছোঁয়ার পথে এগিয়ে যান। 

ভারতের দ্বিতীয় ইনিংসে যুবরাজ সিংকে ফিরিয়ে ৭৯৮ উইকেট নিয়ে চতুর্থ দিন শেষ করেন মুরালি। মাইলফলক ছুঁতে শেষ দিনে চাই দুই উইকেট, ভারতের বাকি পাঁচ উইকেট।

হরভজন সিংকে এলবিডব্লিউ করে মুরালি উইকেটসংখ্যা নিয়ে যান ৭৯৯-এ। ভারতের শেষ তিন উইকেটের একটি নিতে পারলেই পৌঁছে যাবেন আটশর ঠিকানায়।

 


কিন্তু অভিষিক্ত অভিমন্যু মিঠুনকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন ভিভিএস লক্ষ্মণ। মিঠুনের বিদায়ে ভাঙে প্রায় ১৮ ওভার স্থায়ী জুটি। তবে মিঠুনের উইকেটটা নেন লাসিথ মালিঙ্গা। আরো প্রায় ১৯ ওভার পর লক্ষ্মণ ফেরেন রান আউটে। মাইলফলক ছুঁতে ভারতের শেষ উইকেটটা মুরালির নিতেই হবে।

কিন্তু কিছুতেই যেন কিছু হচ্ছিল না। কেটে যায় এক ঘণ্টারও বেশি সময়। তবুও ভারতের শেষ উইকেট জুটিটা ভাঙছিল না। দীর্ঘ অপেক্ষার পর আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ওঝাকে আউট করে শেষ পর্যন্ত মুরালি স্পর্শ করেন ৮০০ উইকেটের মাইলফলক, ক্যারিয়ারের শেষ বলে।


বিদয়ী ম্যাচে মুরালিকে দারুণ এক জয়ও উপহার দিয়েছিলেন সতীর্থরা। লঙ্কানরা ম্যাচ জিতেছিল ১০ উইকেটে।