ইংল্যান্ডের পরবর্তী প্রজন্মকে ‘বিশ্বাস যোগানো’ জয়

ইংল্যান্ডের পরবর্তী প্রজন্মকে ‘বিশ্বাস যোগানো’ জয়

বিশ্বকাপে টাইব্রেকারে আগের তিন ম্যাচের সবগুলোতেই হারা ইংল্যান্ড অবশেষে চলতি আসরের শেষ ষোলোয় কলম্বিয়ার বিপক্ষে ভাগ্য পরীক্ষায় জয় পাওয়ায় স্বস্তিতে ইংলিশ কোচ গ্যারেথ সাউথগেট। তিনি মনে করেন এই জয় পরবর্তী প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় হবে।

মঙ্গলবার মস্কোর স্পার্তাক স্টেডিয়ামে দ্বিতীয়ার্ধে পেনাল্টি থেকে হ্যারি কেইনের গোলে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। যোগ করা সময়ে দুর্দান্ত হেডে সমতা ফেরান কলম্বিয়ার ইয়েরি মিনা। অতিরিক্ত সময়ে কোনো গোল না হওয়ায় খেলার গড়ায় টাইব্রেকারে। তাতে ৪-৩ গোলে জিতে উচ্ছ্বাসে ভাসে ইংল্যান্ড।

বিশ্বকাপ ছাড়া অন্য বড় প্রতিযোগিতায়ও পেনাল্টি শুট আউটের ইতিহাস ভালো নয় ইংল্যান্ডের। কলম্বিয়ার বিপক্ষে জয়ের আগে টাইব্রেকারে গড়ানো সাত ম্যাচের ছয়টিতেই হেরেছে ইংলিশরা।

খেলোয়াড়ী জীবনে নিজে গুরুত্বপুর্ণ সময়ে পেনাল্টি শুট আউটে ব্যর্থ হয়েছিলেন সাউথগেট। ১৯৯৬ সালে ইউরোর সেমি-ফাইনালে জার্মানির বিপক্ষে টাইব্রেকারে তার ব্যর্থতায় বিদায় নেয় ইংল্যান্ড। কলম্বিয়ার বিপক্ষে শিষ্যদের সাফল্যকে দেশের জন্য বাঁক বদলের মুহূর্ত বলে মনে করেন তিনি।

“আমাদের দারুণ সব সমর্থক আছে যারা দশকের পর দশক হতাশার পরও আমাদের পাশে থেকেছে। এটা (কলম্বিয়ার বিপক্ষে জয়) সত্যি আমাদের দেশের জন্য একটি বিশেষ মুহূর্ত। আজকের দিনটা পরবর্তী প্রজন্মকে আত্মবিশ্বাস যোগাবে এবং তারা ইতিহাস ও প্রত্যাশার চাপে পিছিয়ে যাবে না।”

“সত্যি বলতে খেলোয়াড়রা পেনাল্টি শুট আউটে সবকিছু অসাধারণভাবে বাস্তবায়ন করেছে। … এটা আমাদের জন্য একটা বিশেষ মুহূর্ত।”

অতীতের ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে শিষ্যদের আগে থেকে পেনাল্টির অনুশীলন করানো হয়েছিল জানান সাউথগেট। গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডকে পেনাল্টি শট নেওয়া সব কলম্বিয়ান খেলোয়াড়ের সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়। এছাড়া প্রত্যেক ইংলিশ খেলোয়াড়ই জানতেন টাইব্রেকারে কার পরে কে শট নেবেন।

“শেষ পর্যন্ত আমরা যা কিছু করেছি তাতে আমাদের পুরোপুরি বিশ্বাস ছিল। গোলরক্ষক ও পেনাল্টি শট নেওয়া খেলোয়াড়দের ওপর আমার প্রকৃত বিশ্বাস ছিল।”

কোচের সঙ্গে একমত টাইব্রেকারে কার্লোস বাক্কার শট ঠেকিয়ে দলকে শেষ আটে তোলা পিকফোর্ড।

“আমরা জানতাম, ম্যাচটা আমাদেরই ছিল, এমনকি যদি এটা পেনাল্টিতেও যায়। আমরা জানতাম যে আমরা জয়ী হতে সক্ষম।”

কলম্বিয়ার বিপক্ষে পাওয়া জয় নিয়ে সামনে এগোতে চান ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি কেইন।বলেন, “এটা আমাদের অনেক আত্মবিশ্বাস দিবে। এখনও অনেকটা পথ বাকি। কিন্তু এটা আমাদের ও সমর্থকদের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি বিশ্বাস যোগাবে। আমরা ও সমর্থকরা এটা উপভোগ করছি।”

আগামী শনিবার সামারা অ্যারেনায় সুইডেনের বিপক্ষে সেমি-ফাইনালের ওঠার লড়াইয়ে নামবে ইংল্যান্ড