রিয়ালের ত্রয়োদশ নাকি লিভারপুলের পঞ্চম?

রিয়ালের ত্রয়োদশ নাকি লিভারপুলের পঞ্চম?

১৯৫৫ সালে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ শুরু হয়। তখন এটার নাম ছিল ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন ক্লাব’স কাপ তথা ইউরোপিয়ান কাপ। ১৯৯২ সালে এটার নাম বদলে হয় উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ। চ্যাম্পিয়নস লিগের যুগ শুরু মূলত তখন থেকেই। 

১৯৯২ সালের পর লিভারপুল সবশেষ ২০০৫-০৬ মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা জিতেছে। তার আগে জিতেছে ১৯৭৬-৭৭, ১৯৭৭-৭৮, ১৯৮০-৮১ ও ১৯৮৩-৮৪। চ্যাম্পিয়নস লিগের আধুনিক যুগে একবারই তারা শিরোপা জিতেছে। তাও ১৩ বছর আগে। এবার তাদের সামনে আধুনিক যুগের দ্বিতীয় সব মিলিয়ে পঞ্চম শিরোপা জয়ের হাতছানি। 



কিন্তু কাজটা যে সহজ হবে না। তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে আছে চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি শিরোপা জেতা রিয়াল মাদ্রিদ। তারা ইউরোপিয়ান কাপ জিতেছে ছয়বার (১৯৫৫-৫৬, ১৯৫৬-৫৭, ১৯৫৭-৫৮, ১৯৫৮-৫৯, ১৯৫৯-৬০ ও ১৯৬৫-৬৬)। ১৯৯২ সালে চ্যাম্পিয়নসন লিগ নামকরণ হওয়ার পরও তারা জিতেছে ছয়বার (১৯৯৭-৯৮, ১৯৯৯-২০০০, ২০০১-০২, ২০১৩-১৪, ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭)। সবশেষ চার আসরে জিতেছে তিনবার। এবার হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের সুযোগ। সব মিলিয়ে ত্রয়োদশ শিরোপা জয়ের হাতছানি।

অভিজ্ঞতা, সামর্থ সব মিলিয়ে রিয়াল মাদ্রিদই ফেভারিট। কিন্তু কোয়ার্টার ফাইনাল ও সেমিফাইনালে লিভারপুল যেভাবে খেলে এসেছে তাতে রিয়াল মাদ্রিদকে হারিয়ে দেওয়ার সামর্থ তারা রাখে। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটিকে রীতিমতো উড়িয়ে দিয়ে সেমিফাইনালে আসে লিভারপুল। এরপর রোমাকে ৭-৬ গোলে হারিয়ে তারা ফাইনাল নিশ্চিত করে। অন্যদিকে রিয়াল মাদ্রিদ কোয়ার্টার ফাইনালে জুভেন্টাসকে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে ৪-৩ গোলে ও সেমিফাইনালে বায়ার্ন মিউনিখকে একই ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে নাম লেখায়।



আজ শনিবার বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১২টা ৪৫ মিনিটে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের অলিম্পিক স্টেডিয়ামে শুরু হবে ম্যাচটি। যা সরাসরি সম্প্রচার করবে সনি টেন-২। এই ভেন্যুতেই হয়েছিল ২০১২ ইউরোর ফাইনাল। এই স্টেডিয়ামেই ২০১২ সালে সার্জিও রামোস স্পেনের হয়ে ইউরো জিতেছিলেন।

এই ম্যাচকে সামনে রেখে জিনেদিন জিদান বলেন, ‘ফুটবল আসলেই সিম্পল। দুই দলের খেলা। তবে আপনাকে জানতে হবে যে প্রতিপক্ষ দল সুযোগ পেলেই আপনাকে আঘাত করবে। সেটাকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। আবার যখন আপনার কাছে বল থাকবে তখন আপনি আপনার পদ্ধতি দিয়ে প্রতিপক্ষকে আঘাত করার চেষ্টা করবেন। আমরা ফেভারিট নই। তারাও নয়। এটা আসলে ৫০-৫০। ফাইনাল সব সময় এমনই হয়। আমরা এখানে আসতে পেরে ও আরো একটি ফাইনাল খেলতে পেরে আনন্দিত। এমন সময় আমাদের জন্য আর আসবে না। হয়তো অন্যকোনো মুহূর্ত আসবে। কিন্তু আজ কিংবা আগামীকাল আর ফিরে আসবে না। সে কারণে আমাদের সুবিধা নিতে হবে। হয়তো চাপ থাকবে। আসলে এটাই তো জীবন। সেটাকে আরো উন্নত করতে হবে।’



ক্লপ বলেন, ‘যেকোনো হারের দায় আমার। যেকোনো জয়ের কৃতিত্ব খেলোয়াড়দের। এমনটাই আমার চুক্তি ছিল। সুতরাং আমাদের ছেলেদের হারানোর কিছু নেই। অভিজ্ঞতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমি নিশ্চিত রিয়াল মাদ্রিদ আমাদের চেয়ে বেশি আত্মবিশ্বাসী থাকবে। কিন্তু এটা ব্যাপার না। খেলা থেমে থাকবে না। আমাদের বিপক্ষে আগে তারা খেলেনি। আমরা লিভারপুল। আমরা শুধু একটি ভালো দলই নই, বড় কিছু পাওয়ার ও করার ডিএনএ আছে আমাদের মধ্যে।’