রেফারিকে ‘খুনি’, ‘হৃদয়হীন’ বলায় অভিযুক্ত বুফন

রেফারিকে ‘খুনি’, ‘হৃদয়হীন’ বলায় অভিযুক্ত বুফন

ইংলিশ রেফারি মাইকেল অলিভেরকে ‘খুনি’, ‘হৃদয়হীন’ বলেছিলেন জুভেন্টাসের অধিনায়ক জিয়ানলুইজি বুফন।

উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে দ্বিতীয় লেগে যোগ করা সময়ে রিয়ালকে পেনাল্টি দেয় রেফারি। ততক্ষণ পর্যন্ত দুই লেগ মিলিয়ে ৩-৩ এ সমতা। রেফারির শেষ বাঁশির অপেক্ষায় ছিল জুভেন্টাস। তাহলেই সেমিফাইনাল নিশ্চিত তাদের। 

কিন্তু শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি পায় রিয়াল মাদ্রিদ। গোল করে রিয়ালকে সেমিফাইনালের টিকেট দেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ম্যাচের শেষ সময়ে পেনাল্টি দেওয়ায় রেফারির ওপর ক্ষিপ্ত হন বুফন। এরপর লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বুফন রেফারির সমালোচনা করেন এবং তাকে ‘খুনি’, ‘হৃদয়হীন’ বলতেও দ্বিধা করেননি।

বুফনের এমন আচরণে অসন্তুষ্ট উয়েফা। ‘অসদাচরণ’ অভিযোগে জুভেন্টাসের গোলরক্ষকে ইউরোপীয় ফুটবল গভর্নিং বডি উয়েফা অভিযুক্ত করেছে। এবং উয়েফা তদন্তে প্রমাণ পেয়েছে, বুফনের বক্তব্য,‘আচারণের সাধারণ নীতি’ লঙ্ঘন ছিল। তার বক্তব্যের ‘দৃঢ়ভাবে নিন্দা’ জানিয়েছে উয়েফা। ইউরোপীয়ান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি জানিয়েছে, আগামী ৩১ মে ডিসিপ্লিনারি প্যানেল নিজেদের তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করে বিচার আদেশ দেবেন।

বুফনের বক্তব্যের পর জুভেন্টাসের সমর্থকরা ক্ষোভে ফেটে পড়ে। অলিভার ও তার স্ত্রী লুচিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে টার্গেট করে। পাশাপাশি হুমকিও দেওয়া হয় তাদেরকে। এক পর্যায়ে পুলিশ রিপোর্ট করেন অলিভার এবং এ দম্পতিকে পুলিশ পাহাড়া দেওয়া হয়।

ইতালিকে বিশ্বকাপে উঠাতে ব্যর্থ হওয়ার পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরে যান বুফন। কিন্তু ধারণা করা হচ্ছে অবসর ভেঙে ফিরতে পারেন ইতালির জার্সিতে।
 


রেফারিকে উদ্দেশ্য করে যা বলেছিলেন বুফন:
‘এটি দশ ভাগের এক ভাগ পেনাল্টি ছিল। আমি জানি রেফারি দেখেছেন, এটি সন্দেহজনক ঘটনা ছিল। প্রথম লেগে যেখানে আমরা পরিষ্কার একটি পেনাল্টি পাইনি, সেখানে ৯৩ মিনিটে এমন সন্দেহজনক একটি ঘটনায় আপনি পেনাল্টি দিতে পারেন না।’

‘আপনার (রেফারি) বুকে হৃদয় নেই। এমন একটি স্টেডিয়ামের মাঠে হাঁটার মতো ব্যক্তিত্ব যদি আপনার না থাকে, তাহলে স্ত্রী-সন্তানদের সঙ্গে গ্যালারিতে বসে আপনার চিপস খাওয়া উচিত। আপনি একটি দলের স্বপ্ন ভাঙতে পারেন না। রেফারি শেষ যে দুটি সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, তিনি তো একজন খুনি’।