মার্করামের সেঞ্চুরির পর অস্ট্রেলিয়ার ফেরা

মার্করামের সেঞ্চুরির পর অস্ট্রেলিয়ার ফেরা

জোহানেসবার্গ টেস্টের প্রথম দিন দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি করেছেন এইডেন মার্করাম। দক্ষিণ আফ্রিকার ওপেনার খেলেছেন ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস। দিনের প্রথম দুই সেশনে উইকেটের জন্য হাপিত্যেশ করা অস্ট্রেলিয়া শেষ সেশনে দারুণ বোলিংয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

আগের ক্যারিয়ার সেরা ১৪৩ রান ছাড়িয়ে মার্করাম করেছেন ১৫২। সিরিজের শেষ টেস্টের প্রথম দিন শেষে দক্ষিণ আফ্রিকার সংগ্রহ ৬ উইকেটে ৩১৩ রান। প্রথম দুই সেশনে অস্ট্রেলিয়ার বোলাররা নিতে পেরেছিল মাত্র ২ উইকেট। সেখানে শেষ সেশনে তুলে নিয়েছে ৪ উইকেট। 

আগের টেস্টে বল টেম্পারিংয়ের ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেটকে। স্টিভ স্মিথ ও ডেভিড ওয়ার্নারকে ছাড়া অস্ট্রেলিয়া সবশেষ কোনো টেস্ট খেলেছিল ২০১১ সালে, জোহানেসবার্গে। কাকতালীয়ভাবে সাত বছর পর সেই একই মাঠে এই দুজনকে ছাড়া আজ আরেকটি টেস্ট খেলতে নামে অস্ট্রেলিয়া।

কেপ টাউন টেস্টের চতুর্থ দিন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়কত্ব করেছিলেন টিম পেইন। আজ পাকাপাকিভাবে অস্ট্রেলিয়ার ৪৬তম টেস্ট অধিনায়ক হয়েছেন উইকেটকিপার এই ব্যাটসম্যান। কিন্তু প্রথম টস-ভাগ্যে জিততে পারেননি অস্ট্রেলিয়ার নতুন অধিনায়ক। জোহানেসবার্গের নিউ ওয়ান্ডারার্স স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাটিং নেন দক্ষিণ আফ্রিকা অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসি।

১৯৭০ সালের পর প্রথমবারের মতো ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নামা দক্ষিণ আফ্রিকার শুরুটা হয় ধীরগতির। ১৭তম ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকা স্পর্শ করে দলীয় পঞ্চাশ। পরের ওভারেই ভাঙে ৫৩ রানের উদ্বোধনী জুটি। কেপ টাউন টেস্টে ইনিংস জুড়ে ‘ব্যাট ক্যারি’ করা ডিন এলগার এবার ফিরেছেন ১৯ রান করেই। বোলার ছিলেন নাথান লায়ন।

এলগার ফিরলেও লাঞ্চের আগেই মার্করাম পেয়ে যান ফিফটি। দ্বিতীয় উইকেটে মার্করাম হাশিম আমলার সঙ্গে গড়েন ৮৯ রানের জুটি। চা বিরতির আগে এই জুটি ভাঙেন প্যাট কামিন্স। ২৭ রান করে পিটার হ্যান্ডসকম্বকে ক্যাচ দেন আমলা। চা বিরতির আগে মার্করাম পেয়ে যান ক্যারিয়ারের চতুর্থ সেঞ্চুরি, ১৫২ বলে।

পরে সেঞ্চুরিকে দেড়শতে রূপান্তর করেন। এরপর আর ইনিংস বড় করতে পারেননি। কামিন্সের বল কিছুটা দেরিতে কাট করতে গিয়ে ক্যাচ দেন মিচেল মার্শকে। ২১৬ বলে ১৭ চার ও এক ছক্কায় মার্করাম সাজান ১৫২ রানের ইনিংস। তার বিদায়ে ভাঙে ডি ভিলিয়ার্সের সঙ্গে ১০৫ রানের তৃতীয় উইকেট জুটি। কামিন্সের পরের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন অধিনায়ক ডু প্লেসিও। স্কোর ২৪৭ রেখেই দক্ষিণ আফ্রিকা হারায় তৃতীয় ও চতুর্থ উইকেট।

দিনের শেষ দিকে নতুন বলে আরো একবার জোড়া ধাক্কা খায় দক্ষিণ আফ্রিকা। অভিষিক্ত পেসার চ্যাড সায়ার্সের প্রথম টেস্ট উইকেট পেতে লেগেছে ১৪০ বল। দ্বিতীয় উইকেটের জন্য দুই বলের বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি তাকে! ৬৯ রান করে উইকেটকিপার পেইনকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ডি ভিলিয়ার্স। কাগিসো রাবাদা মেরেছেন ডাক। স্কোর ২৯৯ রেখে সাজঘরে ফেরেন দুই ব্যাটসম্যান। দিনের বাকি সময়টুকু কাটিয়ে দেন টেম্বা বাভুমা (২৫*) ও কুইন্টন ডি কক (৭*)।