ইসকো: ঝলমলে তারার ভিন্ন দুই রূপ

ইসকো: ঝলমলে তারার ভিন্ন দুই রূপ

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেছেন স্পেনের ইসকো। এর আগে ইতালির বিপক্ষে দূর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছেন ২৫ বছর বয়সি রিয়াল মাদ্রিদের এ তারকা।

শেষ সপ্তাহে তার অসাধারণ পারফরম্যান্সে ফুটবল বিশ্ব একটি প্রশ্ন বেশ জোরেশরেই তুলছে,রিয়াল মাদ্রিদ এই ইসকো কোথায় লুকিয়ে থাকেন! বলার অপেক্ষা রাখে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মঙ্গলবার রাতে ইসকো যেভাবে খেলেছেন তাতে মন্ত্রমুগ্ধ হওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই। হ্যাটট্রিক করে দলের জয়ে রেখেছেন বড় ভূমিকা। অথচ রিয়াল মাদ্রিদে পাওয়া যায় না স্পেনের ইসকোকে!

স্পেনের কোচ জুলেন লোপেতেগি ধারণা দিলেন, রিয়াল মাদ্রিদে ইসকো হচ্ছেন ‘সেকেন্ড অপশন।’ বিশেষ করে রিয়াল বস জিনেদিন জিদানের কাছে ইসকো ‘সেকেন্ড অপশন।’ প্রশ্ন উঠছে আরেকটি জায়গায়ও। স্পেনের হয়ে ইসকো যেই স্বাধীনতা, আত্মবিশ্বাস এবং স্টাইলে খেলেন সেটা কি রিয়াল মাদ্রিদে পারেন? অনেকেই মনে করেন, নামে ইসকো একজন হলেও দুই জায়গায় তার দুই রূপ। ‘ইসকো হচ্ছে দুজন, একজন স্পেনের আরেকজন রিয়াল মাদ্রিদের। ঝলমলে তারার ভিন্ন দুই রূপ।’

নিজ মুখেই ইসকো বিষয়টি স্বীকার করেছেন। রিয়ালের জার্সিতে তার আত্মবিশ্বাসের যথেস্ট ঘাটতি আছে,‘জাতীয় দলে আমি যেই আত্মবিশ্বাস নিয়ে খেলি সেটা রিয়াল মাদ্রিদে পারি না। হয়তো আমার কারণেই হয়েছে। আমি ওই আত্মবিশ্বাস অর্জন করতে পারিনি।’ যে আত্মবিশ্বাসের কথা বলা হচ্ছে সেই আত্মবিশ্বাস যে জিনেদিন জিদান দিতে পারছেন না তা স্পষ্ট। 

চলতি মৌসুমে ইসকো খেলেছেন ৪০ ম্যাচ। রিয়াল মাদ্রিদে বিশ্বাস এবং ভরসার জায়গাটা দখল করে নিয়েছেন বড় তারকারা। ইসকো মনে করেন মাদ্রিদে তার অবস্থান নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন। দল হারলে তার পারফরম্যান্স নিয়ে সমালোচনা করা হয়। পাশাপাশি দল হারলে বাদ দেওয়া হয় তাকে।

চলতি মৌসুমে দারুণ শুরুর পরও ২৩ ডিসেম্বর তাকে বাদ দেওয়া হয়। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে পিএসজির বিপক্ষে ৩-১ ব্যবধানে জয়ের পরও ফিরতি লেগে তার জায়গা হয়নি। এস্পানিওলের বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানে হারের ম্যাচে ইসকো মাঠে নেমেছিলেন ৬৯ মিনিটে। কিন্তু দলের হারের দায় নিতে হয় তাকে।

স্পেনে ঘটছে পুরো উল্টো ঘটনা। তাকে ঘিরেই তৈরি করা হয় পরিকল্পনা। পূর্ণ স্বাধীনতার পাশাপাশি কোচের আস্থাও পাচ্ছেন ইসকো। ইতালির বিপক্ষে জোড়া গোল এবং আর্জেন্টিনার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক বলছে সেই কথা। বলার অপেক্ষা রাখে না রাশিয়া বিশ্বকাপে তার উপরই নির্ভর করছে স্পেনের সাফল্য।
 


তবে একটি জায়গায় লোপেতেগি অবশ্য মনে করেন আত্মবিশ্বাস কোচ নয়, খেলোয়াড়রা কোচকে দিয়ে থাকেন। তার ভাষ্য,‘বিষয়টি এমন নয় যে কোচ (জিদান) ইসকোকে আত্মবিশ্বাস দিবে। খেলোয়াড় কোচকে আত্মবিশ্বাস দিবে যে সে পারবে। আমার মনে হয় ইসকোর ওই জায়গাটায় দূর্বলতা আছে।’

লোপেতেগির সময়ে ইসকো ১৩ ম্যাচ খেলেছেন। গোল করেছেন ৯টি। অন্যদিকে রিয়াল মাদ্রিদে ১০৫ ম্যাচে ২০ গোল করেছেন স্পেনের ২৫ বছর বয়সি এ মিডফিল্ডার। শেষ দুই মৌসুমেই করেছেন ১৮ গোল।

রিয়াল মাদ্রিদে রয়েছে বড় নামের খেলোয়াড়। ফরোয়ার্ড ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, করিম বেনজামা খেলছেন দীর্ঘদিন ধরেই। জায়গাটা দুজন প্রায় কিনেই নিয়েছেন! মিডফিল্ডে কাসিমেরো, লুকা মডরিচ এবং টনি ক্রসও রয়েছেন। একাদশের ১০টি জায়গা জিদানের প্রায় সব ম্যাচেই নিশ্চিত। একটি জায়গার প্রতিদ্বন্দ্বী অনেক। অ্যাসেনসিও, বেল, লুকাস এবং ইসকো খেলছেন একই জায়গায়।

কাকে রেখে কাকে খেলাবেন জিদান? সামনেই কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন। জুভেন্টাসের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগের আগে ইসকো রয়েছেন দারুণ ফর্মে। এছাড়া পিএসজির বিপক্ষে দ্বিতীয় লেগে অসাধারণ খেলেছেন অ্যাসেনসিও ও লুকাস।