ইনিংস জয়ে এগিয়ে গেল নিউজিল্যান্ড

ইনিংস জয়ে এগিয়ে গেল নিউজিল্যান্ড

এবার ম্যাট প্রিয়র হতে পারলেন না বেন স্টোকস কিংবা ক্রিস ওকস। ২০১৩ সালে অকল্যান্ডের ইডেন পার্কে প্রিয়রের দারুণ এক সেঞ্চুরিতে পুরো শেষ দিন ব্যাট করে ম্যাচ বাঁচিয়েছিল ইংল্যান্ড। দিনটা ছিল ২৬ মার্চ।

পাঁচ বছর পর আরেকটি ২৬ মার্চে সেই একই মাঠে আজ আরেকটি টেস্ট বাঁচানোর চ্যালেঞ্জ নিয়ে শেষ দিনে ব্যাটিংয়ে নেমেছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু এবার ম্যাচ বাঁচাতে পারেনি ইংলিশরা। দিবারাত্রির এই টেস্টে ইনিংস ও ৪৯ রানে জিতে দুই ম্যাচ সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে নিউজিল্যান্ড।

২০১৩ সালে ৬ উইকেট হাতে নিয়ে পুরো শেষ দিন ব্যাট করে ম্যাচ বাঁচিয়েছিল ইংল্যান্ড। এবার শেষ দিনে তাদের হাতে ছিল ৭ উইকেট। ইনিংস হার এড়াতে প্রয়োজন ছিল ২৩৭ রান।

প্রথম সেশনেই তিন উইকেট হারানোয় কঠিন চ্যালেঞ্জটা কঠিনতর হয়ে যায়। চতুর্থ দিনের শেষ বলে আউট হয়েছিলেন অধিনায়ক জো রুট। নতুন ব্যাটসম্যান স্টোকসকে নিয়ে শেষ দিন শুরু করেন ডেভিড মালান।

আগের দিনের ১৯ রানের সঙ্গে আজ আর ৪ রান যোগ করতেই ফিরেছেন মালান। টিম সাউদির বলে এজ হয়ে ক্যাচ দিয়েছেন দ্বিতীয় স্লিপে টম ল্যাথামের হাতে। এরপর শুরু স্টোকসের লড়াই। প্রথমে পঞ্চম উইকেটে জনি বেয়ারস্টোর (২৬) সঙ্গে ৩৯ ও ষষ্ঠ উইকেটে মঈন আলীর (২৮) সঙ্গে গড়েন ৩৬ রানের দুটি জুটি।

সপ্তম উইকেটে ওকসের সঙ্গে ৮৩ রানের আরেকটি ভালো জুটি গড়ে ফেলেছিলেন স্টোকস। নিজে তুলে নিয়েছিলেন ফিফটি। স্টোকসের মাঝেই শেষ আশা দেখছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু সেই আশা শেষ হয়ে যায় ‘ডিনারের’ আগে। দ্বিতীয় সেশনের শেষ ওভারে নেইল ওয়াগনারের বলে সাউদিকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন স্টোকস (১৮৮ বলে ৬৬)।

 



২০১৩ সালে দ্বিতীয় সেশনের শেষ বলে সপ্তম ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হয়েছিলেন ইয়ান বেল। ক্যাচ নিয়েছিলেন সাউদি, বোলার ছিলেন ওয়াগনার। আজ দ্বিতীয় সেশনের শেষ বলে সপ্তম ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হলেন স্টোকস। এবারও ক্যাচ নিলেন সাউদি, বোলার ওই ওয়াগনার। আগেরবার ম্যাচ বাঁচাতে পারলেও এবার আর পরল না ইংল্যান্ড।

শেষ সেশনে বাকি ৩ উইকেট তুলে নিতে এক ঘণ্টাও লাগেনি নিউজিল্যান্ডের। এর মাঝে ফিফটি তুলে নেন ওকস। ওয়াগনারের বাউন্সারে শর্ট লেগে হেনরি নিকোলসকে ক্যাচ দেওয়ার আগে ১১৮ বলে ৫২ রান করেন ওকস। এর আগে-পরে ক্রেইগ ওভারটন ও জেমস অ্যান্ডারসনের উইকেট নেন অ্যাস্টল।

প্রথম ইনিংসে ৫৮ রানে অলআউট হওয়ার পর একটা দলের ম্যাচ বাঁচানোর আশা খুব একটা থাকে না। তবুও চেষ্টা করেছে ইংল্যান্ড। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং করেছে ১২৬.১ ওভার। রান করেছে ৩২০। তৃতীয় দিনে বৃষ্টিতে খেলা হয়েছিল মাত্র ১৭ বল, তা নাহলে অবশ্য ম্যাচ শেষ হয়ে যেত আরো আগেই!

প্রথম ইনিংসে ক্যারিয়ার সেরা ৩২ রানে ৬ উইকেট আর দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৭ রানে ৩ উইকেট- ম্যাচে ৯ উইকেট নিয়ে ‘ম্যান অব দ্য ম্যাচ’ হয়েছেন ট্রেন্ট বোল্ট।

সংক্ষিপ্ত স্কোর :
ইংল্যান্ড ১ম ইনিংস : ৫৮ ও ২য় ইনিংস : ৩২০
নিউজিল্যান্ড ১ম ইনিংস : ৪২৭/৮ ডিক্লে.

ফল : নিউজিল্যান্ড ইনিংস ও ৪৯ রানে জয়ী

ম্যান অব দ্য ম্যাচ : ট্রেন্ট বোল্ট।