স্মিথ কেবল প্রতারণা স্বীকার করেনি, পরিকল্পনাও করছে

স্মিথ কেবল প্রতারণা স্বীকার করেনি, পরিকল্পনাও করছে

ক্যামেরন ব্যানক্রফটের বল টেম্পারিংয়ের ঘটনায় পুরো ক্রিকেট বিশ্ব স্তব্ধ। মাত্র আট টেস্ট খেলা ব্যানক্রফটের পক্ষে কি করে সম্ভব হলো বল টেম্পারিং করা। শুধু তাই নয়, অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ কিভাবে পারলেন তরুণ ক্রিকেটারকে দিয়ে বল টেম্পারিং করাতে?

কেপটাউনে দক্ষিণ আফ্রিকা-অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার তৃতীয় টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে স্মিথ ও ব্যানক্রফট বল টেম্পারিংয়ের ঘটনা স্বীকার করেছেন। বিভিন্ন গণমাধ্যম বলছে শিরিষ-কাগজ দিয়ে বলের আকৃতি এবং সিম নষ্ট করতে চেয়েছিল তারা।

এমন ঘটনায় বেশ সমালোচিত হচ্ছেন খেলোয়াড়রা। কোচ ড্যারেন লেম্যানকে নিয়েও উঠছে কথা। পুরো ক্রিকেট বিশ্বের সমালোচনায় বিদ্ধ তারা। 

ইংল্যান্ডের প্রাক্তন ওপেনার মাইকেল ভন টুইট করেছেন,‘স্টিভ স্মিথ, তার দল এবং পুরো ম্যানেজম্যান্টকে স্বীকার করা উচিত তারা তাদের পুরো ক্যারিয়ারে আর কি কি ঘটনা ঘটিয়েছে। খেলায় প্রতারণা করার চেষ্টায় তারা সব সময় পরিচিত থাকবে।’  পাশাপাশি ফেসবুকে একটি ছবি পোস্ট করে লিখেন,‘এগুলো হচ্ছে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল কিট। ক্যাপ, বল ও শিরিষ-কাগজ।’

ইংল্যান্ডের প্রাক্তন স্পিনার ফিল টাফনেল লিখেছেন,‘স্যান্ড-পেপার ইন দ্য ওল্ড জকস্ট্রাপ। কঠিন জায়গায় জিনিসটা রেখেছিল। ওহহহহহ!’

বিবিসির ক্রিকেট প্রতিবেদক জনাথ অ্যাগনিউ লিখেছেন,‘ক্রিকেটের নিয়ম অনুযায়ী,‘‘খেলা ভালোভাবে পরিচালনার মূল দায়িত্বটা হচ্ছে অধিনায়কের’’ স্মিথ কেবল প্রতারণা স্বীকার করেনি কিন্তু প্রতারণার পরিকল্পনা করছে। অসম্পূর্ণ এ সিরিজে এই জিনিসটি সবথেকে আলাদা। নিজের কারণে অধিনায়ক হিসেবে স্মিথের অবস্থান অসম্ভব।’

ফক্স স্পোর্টসের ক্রিকেট সংবাদিক টম মরিস বলেন,‘আমি এখনও নিশ্চিত হতে পারছি না কিভাবে সম্ভব? অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় দলের অধিনায়ক কিভাবে জনসম্মুখে প্রতারণার কথা স্বীকার করল। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার অবশ্যই শক্ত হতে হবে। যদিও এটা তাদেরকে কষ্ট দিবে।’

ভারতের সংবাদ পাঠক রাজদ্বীপ সারডেসাই বলেছেন,‘সময় এসেছে ক্রিকেটে রেড কার্ড ব্যবহার করার। ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি, কিন্তু ব্যানক্রফট এবং স্মিথকে অবশ্যই মাঠ থেকে বের করে দেওয়া উচিত ছিল। অস্ট্রেলিয়ার বাকি টেস্ট ৯ ক্রিকেটারকে নিয়ে খেলবে। লেম্যানকে বহিস্কার করতেই হবে। এখন আর কোনো কিছু বাকি নেই।’



অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন লেগ স্পিনার শেন ওয়ার্ন স্কাই স্পোর্টসকে বলেছেন,‘আপনি এটা ম্যাচে করতে পারেন না। কারো সাথে আমার ব্যক্তিগত কোনো খারাপ সম্পর্ক নেই। চুইংগাম এবং মুখের লালা ব্যবহারে যদি কেউ বহিস্কার হয়ে থাকেন তাহলে এবারের ঘটনার জন্য আরও কঠোর কিছু করতে হবে।’

ভারতীয় সংবাদিক হার্শা ভোগলে লিখেছেন,‘অধীর আগ্রহ নিয়ে বসে আছি। ম্যাচ রেফারি কিভাবে ব্যানক্রফটের বিষয়টি দেখছে। যদি সে শিরিষ-কাগজ লুকাতে চেয়ে থাকে তাহলে সে বড় ভুল করেছে। পাশাপাশি টিম ম্যানেজম্যান্টও তার উপরে কি সিদ্ধান্ত নেয় সেটাও দেখার।’

ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটার মোহাম্মদ কাইফ টুইট করেছেন,‘ওহ নো! ব্যানক্রফট। খুবই বিরক্তিকর। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো বিষয়টি বিরক্তিকর। দীর্ঘসময় ধরে এতো বড় ঘটনা দেখিনি। ক্রিকেট অনেক বড় কিন্তু এটা…’

চ্যানেল নাইনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মাইকেল ক্লার্ক বলেছেন,‘মর্যাদাহানিকর, প্রতারণা, প্রতারণা এবং প্রতারণা। আমি নিশ্চিত দল চিন্তা করেছে তারা প্রতারণা করবে এবং সেই প্রতারণায় তারা উপকৃত হবে। হয়তো ম্যাচটি জিতবে। আমি বুঝতে পারছি না কিভাবে এটা চিন্তা করাও সম্ভব।’