টেস্টে আলোচিত কয়েকটি বল টেম্পারিংয়ের ঘটনা

টেস্টে আলোচিত কয়েকটি বল টেম্পারিংয়ের ঘটনা

অস্ট্রেলিয়ার উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান ক্যামেরন ব্যানক্রফটের বল টেম্পারিংয়ের ঘটনা নিয়ে ক্রিকেট বিশ্বে তোলপাড় চলছে। মাঠে আম্পায়ারদের কাছে বল টেম্পারিংয়ের বিষয়টা অস্বীকার করলেও ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে স্বীকার করেছেন। ক্যামেরন যে এমনটি করবেন সেটা আগে থেকেই জানতেন স্মিথ। অর্থাৎ সিদ্ধান্তটা আগেই নেওয়া হয়েছিল। এমন ঘটনার নিন্দা জানিয়ে অনেকে স্টিভেন স্মিথের পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন। তবে এই ঘটনায় যে ব্যানক্রফট ও স্মিথের জরিমানা কিংবা শাস্তি হচ্ছে সেটা নিশ্চিত। এমন সময় চলুন চোখ বুলিয়ে আসা যাক। অতীতে টেস্টে ঘটে যাওয়া আলোচিত কয়েকটি বল টেম্পারিংয়ের ঘটনায়।



১. ইংল্যান্ডের মাইক আথারটন, ১৯৯৪ :
১৯৯৪ সালে সংবাদ পত্রের শিরোনাম হয়েছিলেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক মাইক আথারটন। তবে অসাধারণ কিছু করে নয়, বল টেম্পারিংয়ের অভিযোগে। সেবার লর্ডসে দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হয়েছিল ইংল্যান্ড। আথারটনের বিরুদ্ধে বল টেম্পারিংয়ের অভিযোগ আনা হয়। সেই অভিযোগের বিষয়ে আথারটন বলেছিলেন যে তিনি তার পকেটে ধুলো রেখেছিলেন যাতে সেটা দিয়ে তার হাত শুকনো রাখা যায়। তারপরও ২ হাজার পাউন্ড জরিমানা হয়েছিল তার।



২. শচীন টেন্ডুলকার, ২০০১ :
বল টেম্পারিংয়ের অভিযোগে সেবার শচীন টেন্ডুলকারকে এক ম্যাচ নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। পোর্ট এলিজাবেথে সেবার মুখোমুখি হয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা ও ভারত। দ্বিতীয় টেস্টের ভিডিও ফুটেজে দেখা যায় শচীন বল টেম্পারিং করার চেষ্টা করছেন। পরে শচীন বলেছিলেন যে তিনি বলের গায়ে লেগে থাকা ঘাস পরিস্কার করেছেন। কিন্তু আইসিসি তাকে দোষী সাব্যস্ত করে এই বলে যে আম্পায়ারের অনুমতি না নিয়ে তিনি কেন বল পরিস্কার করেছেন। দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় তাকে ইংলিশ ম্যাচ রেফারি মাইক ডেনিস এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেন। শচীনকে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় তৃতীয় টেস্টে মাইক ডেনিসকে আর ম্যাচ রেফারি হিসেবে না রাখার আর্জি জানাায় ভারতের ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ড। সে অনুসারে আইসিসি পরের টেস্টে তাকে ম্যাচ রেফারি হিসেবে রাখেনি।



৩. পাকিস্তান বানম ইংল্যান্ড, ২০০৬ :
সেবার ওভালে মুখোমুখি হয়েছিল ইংল্যান্ড ও পাকিস্তান। ম্যাচের এক পর্যায়ে আম্পায়ার ড্যারেল হেয়ার ও বিলি ডক্ট্রোভ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বল টেম্পারিংয়ের অভিযোগ আনেন। পাশাপাশি সেই অভিযোগের ভিত্তিতে ইংল্যান্ডকে ৫টি পেনাল্টি রান উপহার দেন। এই ঘটনায় মধ্যাহ্ন বিরতির পর পাকিস্তান মাঠে নামতে অস্বীকৃতি জানায়। তাতে ম্যাচটি বাজেয়াপ্ত হয়। যা ছিল ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বাজেয়াপ্ত হওয়া ম্যাচ। পরে অধিনায়ক ইনজামাম-উল-হক বল টেম্পারিং করার বিষয়টি আইসিসির ট্রাইব্যুনালে পরিস্কার করেন। তারপরও তাকে চার ম্যাচ নিষিদ্ধ করা হয়। কারণ, তিনি খেলতে কেন অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তবে ওই ম্যাচটিকে প্রথমে ড্র ঘোষণা করা হলেও পরবর্তীতে ইংল্যান্ডকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।

৪. ফাফ ডু প্লেসিস, ২০১৩ :
২০১৩ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে দুবাই টেস্টে একটি বিদেশি বস্তু দিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার ফাফ ডু প্লেসিসকে বল ঘষতে দেখা যায়। সেই বস্তুটি তিনি ট্রাউজারের পকেটের জিপের সঙ্গে রেখেছিলেন। বল টেম্পারিং করার অভিযোগে তাকে ম্যাচ ফির ৫০ শতাংশ জরিমানা করা হয়। ২০১৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার পেসার ভারনন ফিলান্ডার আঙ্গুল দিয়ে বল টেম্পারিং করে আলোচনায় উঠে এসেছিলেন।



৫. ফাফ ডু প্লেসিস, ২০১৬ :
২০১৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে বল টেম্পারিংয়ের চেষ্টা করেন ফাফ ডু প্লেসিস। অবশ্য অস্ট্রেলিয়া তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনেনি। কিন্তু ভিডিও ফুজেট বিশ্লেষণ করার পর তিনি দোষী সাব্যস্ত হন। তার ম্যাচ ফি এর শতভাগ জরিমানা করা হয়। অবশ্য জরিমানা দিয়ে তিনি নিষেধাজ্ঞার হাত থেকে রেহাই পান।