বোল্ট-সাউদি-উইলিয়ামসন ভোগালেন ইংল্যান্ডকে

বোল্ট-সাউদি-উইলিয়ামসন ভোগালেন ইংল্যান্ডকে

শুরুটা করেছিলেন ট্রেন্ট বোল্ট ও টিম সাউদি। নিউজিল্যান্ডের দুই পেসার দুর্দান্ত বোলিংয়ে ইংল্যান্ডকে অলআউট করেন মাত্র ৫৮ রানে। পরে ব্যাটিংয়ে প্রতিপক্ষের হতাশাটা দ্বিগুণ করলেন অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন।

নিউজিল্যান্ডের মাটিতে প্রথম দিবারাত্রির টেস্টের প্রথম দিনটা স্বপ্নের মতো কেটেছে স্বাগতিকদের। অকল্যান্ড টেস্টের প্রথম দিনে ইংল্যান্ডকে ৫৮ রানে অলআউট করার পর ৩ উইকেটে ১৭৫ রান তুলেছে নিউজিল্যান্ড। কিউইদের লিড ১১৭ রানের।

ক্যারিয়ারের ১৮তম সেঞ্চুরির অপেক্ষায় আছেন উইলিয়ামসন। বৃহস্পতিবার প্রথম দিন শেষে তিনি অপরাজিত আছেন ৯১ রানে। দ্বিতীয় দিনে আর ৯ রান করলেই মার্টিন ক্রো ও রস টেলরকে ছাড়িয়ে নিউজিল্যান্ডের হয়ে সবচেয়ে সেঞ্চুরির রেকর্ডটা একার করে নেবেন উইলিয়ামসন। তিনজনেরই সেঞ্চুরি এখন ১৭টি করে। ২৪ রানে অপরাজিত আছেন হেনরি নিকোলস।



অস্ট্রেলিয়ায় ৪-০ ব্যবধানে অ্যাশেজ হারের পর এটিই ইংল্যান্ডের প্রথম টেস্ট। অ্যাশেজে খেলতে না পারা বেন স্টোকস ফেরায় ভালো কিছুর স্বপ্ন দেখছিল জো রুটের দল। কিন্তু ইডেন পার্কে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে একটা পর্যায়ে ২৩ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে সর্বনিম্ন রানের বিশ্ব রেকর্ডের শঙ্কায় পড়ে যায় ইংলিশরা।

সর্বনিম্ন রানের বিশ্ব রেকর্ড (২৬ রান) ও নিজেদের রেকর্ড (৪৫ রান) দুটিই শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ড এড়াতে পেরেছে নয় নম্বরে নামা ক্রেইগ ওভারটনের ২৫ বলে ৩৩* রানে সুবাদে। এদিনের ৫৮ রান ইংল্যান্ডের ষষ্ঠ সর্বনিম্ন। জেমস অ্যান্ডারসনের সঙ্গে ওভারটনের শেষ উইকেট জুটি ৩১ রানের। বাকি ৯ উইকেট জুটিতে এসেছে মাত্র ২৭!

ইংল্যান্ডের ইনিংসে ওভারটন ছাড়া দুই অঙ্ক ছুঁয়েছেন মাত্র একজন- মার্ক স্টোনম্যান (১১)। ডাক মেরেছেন পাঁচজন! ২৫ বলে ৫ চার ও এক ছক্কায় ৩৩ রানে অপরাজিত ছিলেন ওভারটন। ইংল্যান্ডের ২০.৪ ওভারের ইনিংস টিকেছে এক ঘণ্টা ৩৪ মিনিট!

বোল্ট সুইং বোলিংয়ের অনুপম এক প্রদর্শনীতে ৩২ রানে ৬ উইকেট নিয়ে ধ্বংস করে দিয়েছেন ইংল্যান্ডকে। এটি বোল্টের ক্যারিয়ার সেরা বোলিং। তাকে দারুণ সঙ্গ দিয়ে ২৫ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন আরেক পেসার সাউদি। নিউজিল্যান্ডের তৃতীয় বোলারের প্রয়োজনই হয়নি। টেস্ট ইতিহাসে এই নিয়ে মাত্র ১৫ বারের মতো দুজন বোলার গুটিয়ে দিলেন গোটা প্রতিপক্ষকে।



জবাবে নিউজিল্যান্ডের শুরুটা ভালো হয়নি। ৮ রানেই জেমস অ্যান্ডারসনের বলে উইকেটকিপার জনি বেয়ারস্টোকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন জিত রাভাল (৩)। তিনে নেমে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন উইলিয়ামসন। দারুণ সব শটে তুলতে থাকেন রান। তার সঙ্গী টম ল্যাথাম ব্যাটিং করেছেন উইলিয়ামসনের পুরো বিপরীত।

ল্যাথাম ১১২ বলে ২৬ রান করে ফিরলে ভাঙে ৮৪ রানের দ্বিতীয় উইকেট জুটি। ল্যাথামকে ফিরিয়েই টেস্টে ৪০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন স্টুয়ার্ট ব্রড। বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি রস টেলর (২০)। নিউজিল্যান্ডের স্কোর তখন ৩ উইকেটে ১২৩।

নিকোলস সঙ্গে নিয়ে দিনের বাকি সময়টায় ইংল্যান্ডের বোলারদের হতাশ উপহার দেন অধিনায়ক উইলিয়ামসন। চতুর্থ উইকেটে ৫২ রানের জুটিতে অবিচ্ছিন্ন আছে নেই দুজন।