প্যারিসেও রোনালদো, রিয়ালের রাত

প্যারিসেও রোনালদো, রিয়ালের রাত

ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন নিয়ে নিজেদের মাঠে খেলতে নেমেছিল প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)। কিন্তু স্বপ্নটাকে তারা বাস্তবের মাটিতে নামিয়ে আনতে পারল কই! ফরাসি ক্লাবটিকে শেষ ষোলোর দুই লেগেই হারিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গেল রিয়াল মাদ্রিদ।

সান্তিয়াগো বার্নব্যুতে প্রথম লেগে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর জোড়া গোলে ৩-১ ব্যবধানে জিতেছিল রিয়াল। প্যারিসে ফিরতি লেগেও গোল পেয়েছেন পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড। এবার জিনেদিন জিদানের দল জিতেছে ২-১ গোলে। দুই লেগ মিলিয়ে ৫-২ গোলের অগ্রগামিতায় টানা অষ্টমবারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ আটে উঠল রিয়াল মাদ্রিদ। অন্যদিকে টানা দুই মৌসুমে পিএসজির যাত্রা থামল শেষ ষোলোতেই।

 



পিএসজির মাঠ পার্ক ডেস প্রিন্সেসে মঙ্গলবার রাতে প্রথমার্ধ কেটেছে গোলশূন্যতায়। ১৮ মিনিটে এগিয়ে যেতে পারত রিয়াল মাদ্রিদ। কিন্তু তাদের এগিয়ে যাওয়ার পথে বাধার দেয়াল হয়ে দাঁড়ান পিএসজির গোলরক্ষক আলফুঁস আরিওলা। লুকাস ভাসকেজের ক্রসে খুব কাছ থেকে শট নিয়েছিলেন রিয়াল অধিনায়ক সার্জিও রামোস। কিন্তু দারুণ ক্ষিপ্রতায় ঝাঁপিয়ে পড়ে বল ঠেকান স্বাগতিক গোলরক্ষক। ৩৮ মিনিটে গোলরক্ষককে একা পেয়েও গোল করতে ব্যর্থ হন করিম বেনজেমা।

প্রথমার্ধের শেষ পাঁচ মিনিটে পিএসজিও দুটি ভালো সুযোগ পেয়েছিল। প্রথমে আর্জেন্টাইন উইঙ্গার আঙ্গেল ডি মারিয়ার একটি শট ঠেকিয়ে দেন রিয়াল গোলরক্ষক কেইলর নাভাস। এরপর গোলরক্ষককে বল মেরে সুযোগ নষ্ট করেন কাইলিয়ান এমবাপে। অথচ তিনি শট না নিয়ে গোলমুখের সামনে ফাঁকায় চলে আসা থাকা এডিনসন কাভানিকে বল দিলেই গোল হয়ে যায়!



দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে পিএসজি সমর্থকদের আতশ বাজির ধোঁয়ায় ছেয়ে যায় পুরো স্টেডিয়াম। এমনকি কিছুক্ষণের জন্য খেলা থামিয়ে দিতে বাধ্য হন রেফারি। কিন্তু পিএসজি সমর্থকরা যেন থামছিল না। থিয়াগো সিলভার অনুরোধে অবশ্য তারা থামে। কিন্তু রোনালদোকে থামাবে কে? ৫১ মিনিটে ভাসকেজের ক্রসে লাফিয়ে উঠে হেড করলেন রোনালদো, বল খুঁজে নিল জাল; এগিয়ে গেল রিয়াল।

চ্যাম্পিয়নস লিগে এটি রোনালদোর ১১৭তম গোল। পাঁচবারের ফিফা বর্ষসেরা এই খেলোয়াড় এবারের আসরে আট ম্যাচের প্রতিটিতেই গোল করলেন। গোলসংখ্যা? এক ডজন, ১২টি।



গোল হজমের পর ৬৬ মিনিটে আরেকটি বড় ধাক্কা খায় পিএসজি। দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন মার্কো ভেরেত্তি। ১০ জনের দলে পরিণত হয়ে পিএসজির আশাও তখন ফিকে হয়ে এসেছে অনেকটাই। ৭১ মিনিটে কাভানি গোল করে যদিও কিছুটা আশার আলো ফেরান। বক্সে ডি মারিয়ার ক্রসে হাভিয়ের পাস্তোরের হেড কাসেমিরোর পায়ে লেগে ফেরে। কিন্তু ফেরার মুহূর্তে বল কাভানির হাঁটুতে লেগে জালে জড়ায়।

পিএসজি তখনো যদি আশায় বুক বেঁধে থাকে, তাহলে ৮০ মিনিটে তাদের সব আশা ধুলোয় মিশিয়ে দেন কাসেমিরো। তার গোলে জয় দিয়েই শেষ আটের টিকিট নিশ্চিত করে রিয়াল মাদ্রিদ।