পারলেন না উইলিয়ামসন, ইংল্যান্ডের রোমাঞ্চকর জয়

পারলেন না উইলিয়ামসন, ইংল্যান্ডের রোমাঞ্চকর জয়

চোটের কারণে আগের ম্যাচে খেলতে পারেননি। আজ ফিরেই করলেন দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি। কিন্তু সেঞ্চুরিটা জয়ে রাঙাতে পারলেন না কেন উইলিয়ামসন। নিউজিল্যান্ড অধিনায়কের সেঞ্চুরি ম্লান করে তৃতীয় ওয়ানডেতে ৪ রানের রোমাঞ্চকর জয় পেয়েছে ইংল্যান্ড।

ওয়েলিংটনের ওয়েস্টপ্যাক স্টেডিয়ামে ক্ষণে ক্ষণে রঙ বদলেছে ম্যাচের। জয়ের পাল্লা কখনো ভারী হয়েছে ইংল্যান্ডের, আবার কখনো বা নিউজিল্যান্ডের।

২৩৫ রান তাড়ায় একটা সময় নিউজিল্যান্ডের স্কোর ছিল ১ উইকেটে ৮০। কলিন মানরোর (৪৯) বিদায়ে ৬৮ রানের দ্বিতীয় উইকেট জুটি ভাঙতেই  ছন্দপতন। মঈন আলী ও আদিল রশিদের স্পিনে নাটকীয় ব্যাটিং ধসে দ্রুতই কিউদের স্কোর হয়ে যায় ৬ উইকেটে ১০৩! মাত্র ২৩ রানেই নেই ৫ উইকেট!

ইংল্যান্ড তখন জয়ের প্রহর গুনছে। কিন্তু সপ্তম উইকেটে মিচেল স্যান্টনারকে সঙ্গে নিয়ে ২১ ওভারে ৯৬ রানের বড় জুটি গড়ে নিউজিল্যান্ডকে ম্যাচে ফেরান উইলিয়ামসন।

 



শেষ ৫ ওভারে নিউজিল্যান্ডের প্রয়োজন ছিল ৩৬ রান। ৪৬তম ওভারে দুর্ভাগ্যজনকভাবে রান আউট হয়ে যান স্যান্টনার। ক্রিস ওকসের ফুল লেংথ বল স্ট্রেইট ড্রাইভ করেছিলেন উইলিয়ামসন। বল ওকসের হাতে লেগে ভেঙে দেয় নন স্ট্রাইক প্রান্তের স্টাম্প, স্যান্টনার রান আউট ব্যক্তিগত ৪১ রানে।

নতুন ব্যাটসম্যান হিসেবে উইকেট আসা টিম সাউদি একটি ছক্কা হাঁকালেও টিকতে পারেননি। ওকসের বল পুল করতে করতে গিয়ে টপ এজ হয়ে ডিপ স্কয়ার লেগে ক্যাচ দেন বেন স্টোকসকে। একপ্রান্ত আগলে রাখা উইলিয়াসন পূর্ণ করেন সেঞ্চুরি। টম কুরানকে চার হাঁকিয়ে ১৩৩ বলে তুলে নেন ক্যারিয়ারের ১১তম সেঞ্চুরি।

শেষ ওভারে নিউজিল্যান্ডের প্রয়োজন ছিল ১৫ রান। ওকসের প্রথম বলে উইলিয়ামসন নিতে পারেননি কোনো রান। অফ স্টাম্পের অনেক বাইরের পরের বলটা স্কুপ করে নেন ২ রান। পরের বলটা ডিপ স্কয়ার লেগ দিয়ে ছক্কা।

৩ বলে চাই ৭। তবে শেষ তিন বলে আর কোনো বাউন্ডারি খাননি ওকস। চতুর্থ বলে উইলিয়ামসন নিয়েছিলেন ২। ওকস পঞ্চম বলটা দিয়েছিলেন ফুলটস, সরাসরি মিড অফ ফিল্ডারের কাছে খেলেন উইলিয়ামসন। কিউই অধিনায়ক শেষ বলটা ব্যাটেই লাগাতে পারেননি।



৩৬ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হয়েছেন মঈন। ওকস ও রশিদ নিয়েছেন ২টি করে উইকেট।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শেষ বলে অলআউট হওয়ার আগে ২৩৪ রানের পুঁজি পেয়েছিল ইংল্যান্ড। সর্বোচ্চ ৪৮ রান আসে অধিনায়ক এউইন মরগানের ব্যাট থেকে। বেন স্টোকস ৩৯ ও জস বাটলার করেন ২৯ রান।

সব ছাপিয়ে নায়ক হতে পারতেন উইলিয়ামসন। কিন্তু দারুণ এক সেঞ্চুরি করেও মাঠ ছাড়লেন হতাশা নিয়ে। ১৪৩ বলে ১১২ রানের ইনিংসটি খেলার পথে ওয়ানডেতে পাঁচ হাজার রানের মাইলফলকও ছুঁয়েছেন উইলিয়ামসন।

ওয়েস্টপ্যাক স্টেডিয়ামে এই প্রথম কোনো ওয়ানডে ম্যাচ জিতল ইংল্যান্ড। পাঁচ ম্যাচ সিরিজে ইংলিশরা এগিয়ে গেল ২-১ ব্যবধানে। আগামী বুধবার ডানেডিনে চতুর্থ ম্যাচটা জিতলে সিরিজও নিজেদের করে নেবে সফরকারীরা।