শুভ জন্মদিন মিস্টার ৩৬০°

শুভ জন্মদিন মিস্টার ৩৬০°

ওয়ানডেতে দ্রুততম ফিফটি (১৬ বল)‚ দ্রুততম সেঞ্চুরি (৩১ বল)‚ দ্রুততম দেড় শতাধিক (৬৪ বল)! কী নেই তার ঝুলিতে? রেকর্ড গড়তেই যেন এই পৃথিবীতে তার জন্ম! বলছি প্রোটিয়া ক্রিকেটার এবি ডি ভিলিয়ার্সের কথা। বাউন্সার থেকে ইয়র্কার‚ তার ব্যাটে সব বলেরই গন্তব্য যেন ওই একটাই, বাউন্ডারি। তাই কেউ ক্রিকেট বুঝুক আর নাই বুঝুক যে কোনো দর্শক তার খেলা দেখে মুগ্ধ হতে এক প্রকার বাধ্য। সামনে-পিছনে‚ ডানে-বামে সবদিকই যেন তার কমফোর্ট জোন। তাই তো ক্রিকেট বিশ্বে তিনি মিস্টার থ্রি সিক্সটি ডিগ্রি বলেই পরিচিত। আজ তার জন্মদিন।

ডি ভিলিয়ার্সের শৈশব : ১৯৮৪ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ আফ্রিকার ওয়ার্মবাদে জন্মগ্রহণ করেন এবি। তার হাইস্কুল জীবন কাটে প্রিটোরিয়ায়। আর সেখানে এবি’র সাথে পরিচয় হয় টিমমেট ফাফ ডু প্লেসির। বাবা ডাক্তার ছিলেন তবে যুবক বয়সে তিনি রাগবি ইউনিয়নে ছিলেন। তাই সন্তানকেও খেলাধুলা করতে বেশ উৎসাহ দিতেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেটের প্রতি ঝোঁক ছিল এবি’র। তবে পেশায় ক্রিকেটার হলেও শৈশব থেকেই গলফ‚ রাগবি আর টেনিস খেলাতেও পারদর্শী ছিলেন ডি ভিলিয়ার্স।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ডি ভিলিয়ার্স : দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরোয়া ক্রিকেটে টাইটান্সের হয়ে দুর্দান্ত পারফর্ম করায় ২০০৪ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টে অভিষেক হয় এই ক্রিকেটারের। টেস্টে অভিষেকের পরের বছরই ২০০৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি সেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষেই ওয়ানডেতেও অভিষেক হয় তার। টেস্ট এবং ওয়ানডেতে ইংলিশদের বিপক্ষে অভিষেক হলেও ২০০৬ সালে টি-টোয়েন্টি অভিষেক হয় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে নিচের দিকে ব্যাটিং করলেও ধীরে ধীরে ভরসাযোগ্য মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান হয়ে ওঠেন তিনি। শুধু তাই নয় বেশ কয়েকবার তাকে ওপেনার হিসেবেও দেখা গিয়েছে।

ব্যাটিংটা যেমন দারুণ বোঝেন এই ক্রিকেটার তেমনি ফিল্ডিং এও কম যান না। ২০১২ সালে মার্ক বাউচারের অবসরের পর দলে নিয়মিত উইকেটরক্ষক ছিলেন ডি ভিলিয়ার্স। তবে ২০১৬ সালে উইকেটরক্ষকের দায়িত্ব কুইন্টন ডি ককের হাতে তুলে দিয়ে ফিল্ডার হিসেবেই মাঠে থাকছেন তিনি।
 


সাদা পোশাকে ডি ভিলিয়ার্স : ২০০৪ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এবি’র অভিষেকের পর থেকে এখন পর্যন্ত সাদা পোষাকে ১১০টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। ৪৯.৩৩ গড়ে এখন পর্যন্ত টেস্টে তার মোট রানসংখ্যা ৮৩৩৮। টেস্টে এখন পর্যন্ত এক ইনিংসে তার ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রান ২৭৮*। এখন পর্যন্ত ২১টি শতক এবং ৪২টি অর্ধশতক জমা হয়েছে তার টেস্ট ক্যারিয়ারের ঝুলিতে।

ওয়ানডেতে ডি ভিলিয়ার্স : ক্রিকেটের অন্যান্য ফরম্যাটের তুলনায় ওয়ানডেতেই বেশি সফল ডি ভিলিয়ার্স। ২০০৫ সালে ইংলিশদের বিরুদ্ধে অভিষেকের পর থেকে এখন পর্যন্ত ২২৮টি ওয়ানডে খেলে ফেললেও ব্যাটিং গড় পঞ্চাশের উপরে (৫৩.৫০)। ইতিমধ্যেই ২৫টি সেঞ্চুরি এবং ৫৩টি অর্ধশতকে নয় হাজার রানের কোটা পার করেছেন এই ক্রিকেটার (৯৫৭৭)।

ডি ভিলিয়ার্সের যত রেকর্ড : অভিষেক থেকেই যেন পণ করেছিলেন রেকর্ড গড়ার জাদুকর হবেন। তাই তো দুর্নিবার গতিতে অনন্য সব রেকর্ডে ভাগ বসাচ্ছেন এই ৩৪ বছর বয়সী ক্রিকেটার।

# টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসে ডি ভিলিয়ার্সই একমাত্র খেলোয়াড় যিনি কি না অভিষেকের পর থেকে টানা ৭৮ ইনিংস শূন্যরানে আউট হয়নি। তবে ২০০৮ সালে নভেম্বরে ৭৯তম ইনিংসে বাংলাদেশের বিপক্ষে সর্বপ্রথম শূন্যরানে আউট হন তিনি।

# দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে টেস্টে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের ইনিংসটি ডি ভিলিয়ার্সের ( ২৭৮)।

# দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে টেস্টে সবচেয়ে কমবয়সী খেলোয়াড় হয়ে ১০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করার কৃতিত্ব এখন পর্যন্ত তার দখলেই রয়েছে। অন্যদিকে দ্রুততম ১০০০ রান তোলার ক্ষেত্রে সবার মাঝে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন তিনি।

# প্রথম আফ্রিকান হিসেবে ডি ভিলিয়ার্সই সর্বপ্রথম টেস্টে এক ইনিংসে ২০০ করার গৌরব অর্জন করেন (২১৭)।

# ওয়ানডেতে দ্রুততম পঞ্চাশ (১৬ বল) এবং দ্রুততম ১০০ (৩১ বল) করার রেকর্ড গড়েন তিনি।

# ওয়ানডেতে এক ম্যাচে সবচেয়ে বেশি ছয় (১৬) মারার রেকর্ডটিও তার দখলেই। ২০১৫ সালের ১৮ জানুয়ারি এই রেকর্ড গড়েন তিনি।

# এক বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ছয় মারার রেকর্ডও গড়েছেন তিনি (৩৭)।

# ২০০৭ এ এক ওয়ানডে সিরিজে ৪ বার শূন্যরানে আউট হয়ে এক সিরিজে সর্বোচ্চ ডাক মারার রেকর্ডও গড়েছেন তিনি।