ফেব্রুয়ারিতে মহাকাশে যাচ্ছে ফ্যালকন হেভি

ফেব্রুয়ারিতে মহাকাশে যাচ্ছে ফ্যালকন হেভি

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রথমবারের মতো মহাকাশে যাচ্ছে ফ্যালকন হেভি, নিশ্চিত করেছে স্পেসএক্স।

এক টুইট বার্তায় মহাকাশযান নির্মাতা মার্কিন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান ইলন মাস্ক বলেন, “কেপ কেনেডি’র অ্যাপোলো লঞ্চপ্যাড ৩৯এ থেকে ৬ ফেব্রুয়ারি ফ্যালকন হেভি’র প্রথম ফ্লাইটের লক্ষ্যে এগোচ্ছি। বাইরের সড়ক থেকে এই উৎক্ষেপণ সহজেই দেখা যাবে।”

বুধবার প্রথমবারের মতো সফলভাবে এর ইঞ্জিন পরীক্ষা চালানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আইএএনএস। এর আগে কয়েকবার বিলম্বিত হয়েছে ইঞ্জিন পরীক্ষা।

ইঞ্জিন পরীক্ষার কিছু সময় পর এক টুইট বার্তায় মাস্ক বলেন, “এক সপ্তাহ বা তার কিছু দিনের মধ্যে” রকেটটি উৎক্ষেপণের জন্য প্রস্তুত।

তিনটি ফ্যালকন ৯ রকেট একসঙ্গে জুড়ে তৈরি করা হয়েছে ফ্যালকন হেভি।

রকেটটির প্রথম স্তরে নয়টি ইঞ্জিন কোরে ২৭টি মার্লিন ইঞ্জিন রয়েছে। এর ওজন ২৩ লাখ কেজি যা প্রায় ১৮টি বোয়িং ৭৪৭ প্লেনের সমান।

স্যাটার্ন ভি রকেটের পর এটিই হবে সবচেয়ে শক্তিশালী রকেট। চাঁদে অ্যাপোলো’র নভোচারীদের পাঠানো হয়েছিল স্যাটার্ন ভি দিয়ে। বর্তমানে সবচেয়ে শক্তিশালী যে রকেট কার্যকর রয়েছে তার চেয়েও দ্বিগুণ শক্তিশালী হবে নতুন ফ্যালকন হেভি।

রকেটটির প্রথম পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণে এতে লাল রঙের একটি টেসলা রোডস্টার গাড়ি মহাকাশে পাঠানোর কথা জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠান প্রধান ইলন মাস্ক।

রকেটটি দিয়ে বাণিজ্যিক মিশন শুরুর আগে বেশ কিছু পরীক্ষামূলক ফ্লাইট দেওয়া হবে।

রকেটটির প্রথম উৎক্ষেপণে সবকিছু ঠিকঠাক থাকবে এমন সম্ভাবনা প্রায় শূন্য। মাস্ক নিজেও বলেছেন উৎক্ষেপণের কিছু সময়ের মধ্যেই হয়তো ফ্যালকন হেভি বিস্ফোরিত হবে।

এর আগে এক টুইট বার্তায় মাস্ক বলেন, “অ্যাপোলো ১১ লঞ্চ প্যাড থেকে ফ্যালকন হেভি উৎক্ষেপণ করা হবে। এতে দ্বিগুণ থ্রাস্ট থাকবে। যেভাবেই দেখা হোক না কেন, এটি নিশ্চিতভাবেই উত্তেজনাপূর্ণ হবে।”

মাস্ক আরও বলেন, “এতে মালামাল হিসেবে থাকবে টেসলা রোডস্টার যা ‘স্পেস অডিটি’ পরিচালনা করবে এবং গন্তব্য হবে মঙ্গল কক্ষপথ। গভীর মহাকাশে এটি শত শত কোটি বছর থাকবে যদি তা উর্ধগমনের কারণে বিস্ফোরিত না হয়।”

স্পেসএক্স জানায়, মহাকাশে মানুষ পরিবহন এবং চাঁদ ও মঙ্গলগ্রহে নভোচারী পাঠানোর মিশন পরিচালনা করার লক্ষ্যেই ফ্যালকন হেভির নকশা করা হয়েছে।