যেন সেই মুমিনুল

যেন সেই মুমিনুল

ডাবল সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়েও ছুঁতে পারলেন না মুমিনুল হক। তবুও নিজের ব্যাটিংয়ের চ্যালেঞ্জকে স্বাগত জানিয়ে মুমিনুল ‘অসম্ভবকে করেছেন সম্ভব।’

মুমিনুল হকের ক্যারিয়ারের সাফল্যের সূর্য যখন মধ্যগগণে, ঠিক তখনই তেজ কমাতে হাথুরুসিংহের আগমন! সুখের বার্তা বয়ে আনার বদলে শিষ্যর ভুল-ভ্রান্তি খুঁজতেই ব্যস্ত কোচ। যখন পিঠ চাপড়ে আত্মবিশ্বাস দেওয়ার কথা, তখন হাতটাই সরিয়ে নিয়েছিলেন কোচ।

যেসব জায়গায় বিশ্বের সেরা ব্যাটসম্যানরাও খানিকটা নড়বড়ে, সেসব ভুলের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয় ছোট্ট কাঁধে। কোচের ছায়া হারিয়ে পথ ভুলতে বসলেন সেরা ক্রিকেটার। তাতেই নড়বড়ে হতে থাকে মানসিকতা। নিম্নমুখী হতে থাকে পারফরম্যান্সের সূচক।

চন্ডিকা হাথুরুসিংহে বাংলাদেশ দলের দায়িত্ব নেওয়ার আগে ১৩ ইনিংসে ৭৫.৫০ গড়ে মুমিনুল হকের রান ৭৫৫। ৩টি সেঞ্চুরির সঙ্গে ৩টি হাফ সেঞ্চুরি। আর হাথুরুসিংহে দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই গড় এক লাফে নেমে আসে ৩৩.৯০ তে। ৩৩ ইনিংসে রান মাত্র ১০৮৫। সেঞ্চুরি মাত্র ১টি, হাফ সেঞ্চুরি ৯টি।

 



সেই মুমিনুল ফিরলেন স্বরূপে। এমন ভাবেই ফিরলেন যে, পুরো ক্রিকেট বিশ্ব তাকিয়ে রইল অপার বিস্ময়ে। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে অতিমানবীয় ইনিংস খেলে মুমিনুল বুঝিয়ে দিয়েছেন, ছোট্ট মুমিনুল ফুরিয়ে যাননি!

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মাঠে নামার আগে বিসিএলে একটি ডাবল সেঞ্চুরি এবং একটি সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন মুমিনুল। ঘরোয়া ক্রিকেটের দুর্দান্ত ফর্ম টেনে নিয়ে এসেছেন আন্তর্জাতিক মঞ্চে।

যেভাবে মুমিনুলের ১৭৬

বল

রান

চার

ছয়

৫৯

৫০

-

৯৬

১০০

১৩

-

১৭০

১৫০

১৫

-

২১৪

১৭৬

১৬

 

৮২.২৪ স্ট্রাইক রেটে ১৭৬ রানের ইনিংসটি সাজিয়েছেন ওয়ানডে স্টাইলে। ব্যাটিংয়ে একটি মুহূর্তের জন্য মনে হয়নি তার কোথাও ছিল কোনো সমস্যা। প্রতিটি শটে আভিজাত্যের ছাপ, বুকভরা আত্মবিশ্বাস। প্রতিটি রান যেন প্রাক্তন কোচের প্রতি একেকটি বার্তা!

সাদা পোশাকে শুভ্রতা ছড়িয়ে মুমিনুল দুর্দান্ত এক ইনিংস উপহার দিয়েছেন। সেঞ্চুরিটি ডাবল সেঞ্চুরিতে রূপ পেলে নিশ্চিতভাবেই চট্টগ্রাম টেস্ট হয়ে উঠত উৎসবের বড় মঞ্চ। তবুও তার ব্যাটিং ফিরিয়ে এনেছে সেই মুমিনুলকে। এই মুমিনুল যেন সেই মুমিনুল।