লেখাপড়া শিখে মানুষের মতো মানুষ হও

‘লেখাপড়া শিখে মানুষের মতো মানুষ হও’

‘লেখাপড়া শিখে মানুষের মতো মানুষ হও’

 আগামী দিনে জাতিকে নেতৃত্ব দিতে নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তুলতে শিশু-কিশোরদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘লেখাপড়া শিখে মানুষের মতো মানুষ হও’।

সোমবার (২৬ মার্চ) মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে জাতীয় শিশু-কিশোর সমাবেশে এ আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

শিশু-কিশোরদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, তোমরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তোমাদের মধ্যে থেকে আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী হবে, মন্ত্রী হবে, বিজ্ঞানী হবে। তোমরাই ভবিষ্যতে দেশ পরিচালনা করবে, দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

তিনি বলেন, তোমরা নিজেদের আগামী দিনের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবে। লেখাপড়া শিখে মানুষের মতো মানুষ হবে। শিক্ষক, বাবা-মায়ের কথা শুনবে। দেশকে গভীরভাবে ভালোবাসবে। দেশের ও মা-বাবার মুখ উজ্জ্বল করবে।

শেখ হাসিনা আরো বলেন, আমরা যেখানে রেখে যাবো তোমরা সেখান থেকে দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

অভিভাবকদের ছেলে-মেয়েদের প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাবা-মা, অভিভাবক, মসজিদের ইমাম, শিক্ষক সবাই সবসময় একটা বিষয় খেয়াল রাখবেন, ছেলেমেয়েরা যেন কোনোভাবেই সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদকাসক্তিতে আসক্ত না হয়। তারা যেন মন দিয়ে লেখাপড়া করে, মানুষের মতো মানুষ হয়। সেই চেষ্টা সবাইকে করতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন। আমাদের লক্ষ্য দেশকে বিশ্বসভায় মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করা। এরইমধ্যে আমরা স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছি। কারও কাছে হাত পেতে নয়, মাথা নত করে নয়, আমরা মর্যাদার সঙ্গে বিশ্বে চলবো।

তিনি বলেন, আমরা মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী জাতি। আর বিজয়ী জাতি হিসেবে ছোট্ট সোনামনিদের বলবো সবসময় নিজেদের সেভাবে চিন্তা করবে বিজয়ী জাতির উত্তরসুরি। তোমরাই এদেশকে গড়ে তুলবে, দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশের সব মানুষ উন্নত জীবন পাবে। ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গড়ে তোলা হবে। সে লক্ষ্যেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

শিশু-কিশোরদের প্রতি দোয়া, আর্শীবাদ ও ভালোবাসা জানান তিনি।

এর আগে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে শিশু-কিশোর সমাবেশে লাখো কণ্ঠে ধ্বনিত হয় জাতীয় সংগীত।

পরে তিনি পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে সমাবেশের উদ্বোধন করেন। শিশু-কিশোর সমাবেশ উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী মাঠ পরিদর্শন করেন।

মাঠ পরিদর্শন শেষে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের শিশু-কিশোরদের দেওয়া কুচকাওয়াজের সালাম গ্রহণ করেন। পরে শিশু-কিশোররা মনোজ্ঞ ডিসপ্লে প্রদর্শন করে।

অনুষ্ঠান মঞ্চে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রী ও ঢাকা জেলা প্রশাসক উপস্থিত ছিলেন।