৯ জেলায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ১১ মাদক বিক্রেতা নিহত

৯ জেলায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ১১ মাদক বিক্রেতা নিহত

নয় জেলায় পুলিশ ও র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ১১ মাদক বিক্রেতা নিহত হয়েছেন। সোমবার (২১ মে) দিনগত মধ্যরাত থেকে মঙ্গলবার (২২ মে) ভোর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে এসব ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনা ঘটে।

কুমিল্লা: কুমিল্লা সদরের জগন্নাথপুর ইউনিয়নের বাজগড্ডা এলাকায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই মাদক বিক্রেতা নিহত হয়েছেন।

নিহতরা হলেন- কুমিল্লা সদরের শুভপুর এলাকার আলী মিয়ার ছেলে পেয়ার আলী (২৪) ও কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার চৌয়ারা এলাকার মহেশপুর গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে শরিফ (২৬)।

কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সালাম মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

চুয়াডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় রেল স্টেশনের অদূরে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ শীর্ষ মাদক বিক্রেতা কামরুজ্জামান সাদু (৩৮) নিহত হয়েছেন।

কামরুজ্জামান সাদু আলমডাঙ্গা উপজেলার হারদী গ্রামের মৃত ইমদাদুল হকের ছেলে।

আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জিহাদ ফকরুল আলম খাঁন  জানান, কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে আলমডাঙ্গা থানায় মাদক পাচারসহ ১২টি মামলা রয়েছে।

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ থানাধীন ডেবারপাড় এলাকায় র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ শুক্কুর আলী (৪৫) নামে এক মাদক বিক্রেতা নিহত হয়েছেন। র‌্যাব-৭ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মিমতানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নীলফামারী: নীলফামারীর সৈয়দপুরের গোলাহাট বধ্যভূমি এলাকায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই মাদক বিক্রেতা নিহত হয়েছে। নিহতরা হলেন শহরের নিচু কলোনি এলাকার জনী (৩৪) ও ইসলামবাগ এলাকার শাহিন (৩২)।

সৈয়দপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অশোক কুমার পাল জানান, আটক জনী ও শাহিনকে জিজ্ঞাসাবাদে করা হলে তারা জানায়, রাতে গোলাহাট বধ্যভূমি এলাকায় জসিয়ার রহমান জসি ও নূর বাবু নামে দুইজন মাদকের বড় চালান নিয়ে আসবেন। এরপর তাদের সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে গেলে মাদক বিক্রেতাদের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধ হয়। এতে জনী ও শাহিন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। এ ঘটনায় সৈয়দপুর থানার দারোগা ওয়াদুদ হোসেন ও কনস্টেবল মোকারম হোসেন আহত হয়েছেন।

নেত্রকোনা: নেত্রকোনা সদর উপজেলার মেদনী ইউনিয়নের বড়য়ারী এলাকায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’

আমজাদ হোসেন (৩২) নামে এক মাদক বিক্রেতা নিহত হয়েছেন। নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বোরহান উদ্দিন জানান, সোমবার রাতে আমজাদকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে নিয়ে বড়য়ারী এলাকায় অভিযান চালানোর সময় তার সহযোগীরা পুলিশের ওপর গুলি চালায়। এসময় পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছোঁড়ে। এতে আমজাদ হোসেন ‍গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।

নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ বাচ্চু খান নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। এসময় উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও বিদেশি অস্ত্র।

মঙ্গলবার (২২ মে) ভোরে আড়াইহাজারের শিমুলতলী এলাকায় এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।

নিহত বাচ্চু খান রাজধানী ঢাকার উত্তরার উত্তরখান এলাকার আশরাফ খানের ছেলে। এসময় মাদক ব্যবসার কাজে ব্যবহৃত একটি জিপও উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদক উদ্ধারের জন্য অভিযান পরিচালনা করার সময় বাচ্চুসহ তিন মাদক ব্যবসায়ী দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে ও র‌্যাব সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে। এসময় র‌্যাব সদস্যরাও পাল্টা গুলি ছুড়লে ঘটনাস্থলেই বাচ্চু নিহত হয় এবং বাকি দু’জন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

র‌্যাব-১ এর কোম্পানি কমান্ডার আনোয়ার হোসেন ও আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এ হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

দিনাজপুর: দিনাজপুর জেলার বিরামপুর উপজেলার ভবানিপুর সীমান্ত এলাকায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ প্রবাল হোসেন (৪০) নামের এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। এসময় খুরশিদ আলম নামের পুলিশের এক উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও রামচন্দ্র নামের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (২২ মে) ভোরে উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।  নিহত প্রবাল উপজেলার বাসুপাড়া গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে।

বিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোকলেছুর রহমান  জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদক ব্যবসায়ী প্রবালকে আটক করতে গেলে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এসময় পুলিশ পাল্টা গুলি চালালে প্রবাল গুলিবিদ্ধ হয়। আহত অবস্থায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, পাঁচ রাউন্ড গুলি, ৫টি হাত বোমা ও দু’টি ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত প্রবাল পুলিশের তালিকাভুক্ত মাদক সম্রাট। তার বিরুদ্ধে মাদকের ৮টি মামলা রয়েছে বলেও জানান ওসি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ধন মিয়া (৩৫) নামে এক শীর্ষ মাদক বিক্রেতা নিহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার ভোরে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার সোনারামপুর এলাকায় এ ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনা ঘটে। ধন মিয়া উপজেলার মরিচাকান্দি গ্রামের হোসেন মিয়ার ছেলে। তার বিরুদ্ধে বাঞ্ছারামপুর থানায় চারটি মাদক মামলা রয়েছে।

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-১০ এর এডিশনাল এসপি মহিউদ্দিন ফারুকী জানান, ভোরের দিকে ধন মিয়া ও তার স্ত্রী মাদকের চালান নিয়ে সোনারামপুর এলাকা হয়ে কোথাও যাবেন-এমন খবর পেয়ে র‌্যাবের একটি আভিযানিক দল ভোরে সোনারামপুর এলাকায় অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে মাদকের চালানসহ স্ত্রীকে নিয়ে প্রাইভেটকারে করে ধন মিয়া সেখানে পৌঁছে র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে যান। এ সময় ধন মিয়া র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি করলে র‌্যাবও পাল্টা গুলি ছোড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন ধন মিয়া। এ সময় ওই প্রাইভেটকারে তল্লাশি চালিয়ে ১১ হাজার ৭শ’ পিস ইয়াবা, নগদ ৪৮ হাজার ৭শ’ টাকা ও একটি পিস্তল জব্দ করা হয়। এ সময় তার স্ত্রী আরজিনা বেগমকে আটক করা হয়েছে।

ফেনী: র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু (৪৯) নামে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর লেমুয়া এলাকায় সোমবার (২২ মে) দিনগত গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মঞ্জু চট্টগ্রামের সাতকানিয়া এলাকার ইয়াবা গড়ফাদার হিসেবে পরিচিত।

র‌্যাব জানান, সোমবার রাতে র‌্যাব ফেনী ক্যাম্পের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ফেনীর লেমুয়ায় অভিযান চালায়। এ সময় মঞ্জুরুল আলমের নেতৃত্বে একদল মাদক ব্যবসায়ী চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা যাওয়ার পথে লেমুয়া এলাকায় পৌঁছালে র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে র‌্যাব সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। র‌্যাব সদস্যরা আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছুড়লে মঞ্জু গুলিবিদ্ধ হয়।

পরে ঘটনাস্থল থেকে কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী ও ইয়াবা গডফাদার মঞ্জুর গুলিবিদ্ধ দেহ, দশ হাজার পিস ইয়াবা, একটি বিদেশি পিস্তল, ৭ রাউন্ড গুলি ও গুলির ৫টি খালি খোসা উদ্ধার করে র‍্যাব।

র‍্যাব আরো জানায়, মঞ্জুর বিরুদ্ধে ডাকাতি, মাদকসহ অসংখ্য মামলা নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানায় রয়েছে।