৭ জেলায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ৯ মাদক বিক্রেতা নিহত

৭ জেলায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ৯ মাদক বিক্রেতা নিহত

দেশব্যাপী চলমান মাদকবিরোধী অভিযান চলাকালে  ‘বন্দুকযুদ্ধে’ সাত জেলায় নয়জন নিহত হয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, নিহত সবাই চিহ্নিত মাদক বিক্রেতা।

শুক্রবার (২৫ মে) দিনগত রাত ১২ থেকে শনিবার ভোরের মধ্যে এসব ‘বন্দুকযুদ্ধ’ হয়। এর মধ্যে কুমিল্লায় দু’জন, জয়পুরহাটে একজন, দিনাজপুরে দু’জন, চাঁদপুরে একজন, ময়মনসিংহে একজন, পাবনায় একজন ও ঠাকুরগাঁওয়ে একজন নিহত হন।

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে বাবুল (৪০) ও আলমাস (৩৫) নামে দুই মাদক বিক্রেতা নিহত হয়েছেন।

শুক্রবার রাত ২টার দিকে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বাগড়া এলাকায় এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। এসময় ঘটনাস্থল থেকে ৪০ কেজি গাঁজা ও এক রাউন্ড বুলেটসহ একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। নিহত বাবুল উপজেলার আশাবাড়ি ও আলমাস উত্তর তেতাভূমি এলাকার বাসিন্দা।

ব্রাহ্মণপাড়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজাহান কবির জানান, বাবুলের
বিরুদ্ধে ১৬টি ও আলমাসের বিরুদ্ধে আটটি মামলা রয়েছে।

জয়পুরহাট ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট শহীদুল ইসলাম সবুজ জানান, জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার ভিমপুর এলাকায় র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে রেন্টু নামের এক মাদক বিক্রেতা নিহত হয়েছেন। শুক্রবার দিনগত রাত ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।  

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-৫ জয়পুরহাট ক্যাম্প কমান্ডার শামীম হোসেন জানান, মাদকের একটি বড় চালান কেনাবেচা হচ্ছে- এমন খবর পেয়ে র‌্যাবের একটি দল রাতে ভিমপুর এলাকায় যায়। টের পেয়ে মাদক বিক্রেতারা র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এ সময় র‌্যাবও পাল্টা গুলি ছুড়লে ওই মাদক বিক্রেতা গুলিবিদ্ধ হন এবং বাকি তিন/চারজন পালিয়ে যান। পরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ওই ব্যক্তিকে পাঁচবিবি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনাস্থল থেকে ফেনসিডিল, এক নলা বন্দুক ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ময়মনসিংহের সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট আব্দুল্লাহ আল মামুন খান জানান, ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যদের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে শাহজাহান (৩০) নামে শীর্ষ এক মাদক বিক্রেতা নিহত হয়েছেন।

শুক্রবার দিনগত রাত দেড়টার দিকে জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আঠারবাড়ী ইউনিয়নের তেলওয়ারী গন্ডিমোড়ে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শাহজাহানের বিরুদ্ধে মাদক আইনে আটটি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

জেলা ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিকুর রহমান জানান, রাতে ওই এলাকায় মাদক বিক্রেতারা মাদক ভাগাভাগি করছেন। খবর পেয়ে জেলা ডিবি ও ঈশ্বরগঞ্জ থানা পুলিশ যৌথভাবে সেখানে অভিযান চালায়। এ সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে মাদক বিক্রেতারা ইট, পাটকেল ও গুলি ছুড়লে পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। দু’পক্ষের মধ্যে গুলি বিনিময়ের একপর্যায়ে অন্যরা পালিয়ে গেলেও শাহজাহান গুলিবিদ্ধ হন। এ অবস্থায় শাহজাহানকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

জেলা ডিবি পুলিশের ওসি আশিকুর রহমান আরো জানান বন্দুকযুদ্ধে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি বদরুল আলম খান, আঠারবাড়ী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক (এসআই) খন্দকার মামুন ও সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মোজাহারুল আহত হয়েছেন। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ২০০ গ্রাম হেরোইন, পাঁচটি গুলির খোসা, একটি রামদা ও একটি কিরিচ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।

 দিনাজপুরের  বীরগঞ্জ উপজেলায় র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ একজন ও সদর উপজেলার রামসাগরে দুই দল মাদক বিক্রেতার মধ্যে গুলি বিনিময়ে আরো একজন মাদক বিক্রেতা নিহত হয়েছেন।

শুক্রবার (২৫ মে) রাত ৩টা দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন-বীরগঞ্জ উপজেলার চিহ্নিত মাদক বিক্রেতা সাবদারুল ইসলাম (৪২) ও সদর উপজেলার রামসাগর আব্দুস সালাম (৪৭)।

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন ১৩ দিনাজপুর ক্যাম্পের অধিনায়ক (সিও) মেজর তালুকদার নাজমুছ সাকিব জানান, ভোরে বীরগঞ্জে বিপুল মাদক পাচারের খবর পেয়ে র‌্যাব অভিযান চালায়। এসময় র‌্যাবকে লক্ষ্য করে সাবদারুল গুলি ছুড়লে র‌্যাবও পাল্টা গুলি ছোড়ে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন। পরে তার কাছে একটি বিদেশি পিস্তল, চার রাউন্ড তাজা গুলি, এক রাউন্ড গুলির খোসা, প্রায় দুই কেজি গাঁজা ও ১০০ বোতল ফেনসিডিল পাওয়া যায়। এ ঘটনায় আহত হন দুই র‌্যাব সদস্য।

এ ঘটনায় র‌্যাবের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্ততি চলছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে সদর উপজেলার ছয় নম্বর আউলিয়াপুর ইউনিয়নের রামসাগর এলাকায় দুই দল মাদক বিক্রেতার মধ্যে গুলি বিনিময়ে আব্দুস সালাম (৪৭) নামে এক মাদক বিক্রেতা নিহত হয়েছেন।

শুক্রবার (২৫ মে) দিনগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে রামসাগর পশ্চিম দেয়াল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আব্দুস সালাম ওই এলাকার মৃত আব্দুস সামাদের ছেলে।

দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেদওয়ানুর রহিম জানান, রাতে রামসাগর এলাকায় দুই দল মাদক বিক্রেতার মধ্যে গুলি বিনিময় হয়। খবর পেয়ে পুলিশের একটি টহল সেখানে গেলে আব্দুস সালামকে  গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে।  এ অবস্থায় আব্দুস সালামকে উদ্ধার করে এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।  

তিনি আরো জানান, ঘটনাস্থল থেকে ফেনসিডিল, চারটি হাত বোমা, একটি পিস্তল ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

চাঁদপুরের ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট মহম্মদ মাসুদ আলম জানান, চাঁদপুর জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও কচুয়া থানা পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ শীর্ষ মাদক বিক্রেতা বাবলু (৩৫) নিহত হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে কচুয়া থানায় পাঁচটি মাদক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শুক্রবার (২৫ মে) দিনগত রাত ৩টার দিকে চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার ১০ নম্বর আশরাফপুর ইউনিয়নের বনরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এসময় তার বাড়ি থেকে ১১০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

নিহত বাবলু ওই গ্রামের সুলতার মিয়ার ছেলে।

কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা ডিবি ও কচুয়া থানা পুলিশ বাবলুর বাড়িতে যৌথ অভিযান চালায়। এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে তিনি গুলি ছুড়লে পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। এতে গুলিবিদ্ধ হন বাবলু। এ অবস্থায় বাবলুকে উদ্ধার করে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মরদেহ কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে। মরদেহ সকালে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে।

পাবনার জেলা করেসপন্ডেন্ট মোস্তাফিজুর রহমান রাসেল জানান, পাবনায় মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ আব্দুর রহমান শেখ (৪৫) নামে এক মাদক বিক্রেতা নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছে তিন পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে ইয়াবা, বন্দুক ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস (আপরাধ)  জানান, মাদকের লেনদেন করা হচ্ছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার ভোরে পাবনা সদর উপজেলার মহেন্দ্রপুর বাস টারমিনাল এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে পুলিশের একটি দল। এসময় আব্দুর রহমান ও তার সহযোগীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও গুলি ছোড়ে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হয় আব্দুর রহমান।
 
ঘটনাস্থল থেকে দুইশ’ পিস ইয়াবা, একটি দেশি তৈরি শাটারগান, বন্দুকের তিনটি তাজা গুলি, গুলির খোসা ও ৫শ’ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

নিহত আব্দুর রহমান শেখ পাবনা সদর উপজেলার মালঞ্চি ইউনিয়নের কবিরপুর গ্রামের মৃত আছের উদ্দিন শেখের ছেলে। তার নামে পাবনা সদর থানায় বিভিন্ন ধরনের একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানায় পুলিশ।

ঠাকুরগাঁও জেলা করেসপন্ডেন্ট শারিফুল ইসলাম জানান, ঠাকুরগাঁওয়ে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মোবারক হোসেন কুট্টি (৪৪) নামে এক মাদক বিক্রেতা নিহত হয়েছেন।

শনিবার (২৬ মে) ভোর রাতে এ ‘বন্দুকযুদ্ধে’র ঘটনা ঘটে। মোবারক হোসেন সদর উপজেলার ছিট চিলারং গ্রামের মৃত শফির উদ্দিনের ছেলে।

ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপার ফরহাদ আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান তার বিরুদ্ধে সদর থানায় ১৫টি মামলা রয়েছে।