৫৭ ধারার বদলে ৩২ আরো ভয়ঙ্কর

৫৭ ধারার বদলে ৩২ আরো ভয়ঙ্কর

তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারার উদ্দেশ্যে যাই হোক, এতে সারা দেশেই সাংবাদিকরা ব্যাপকভাবে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। পরিবেশিত কোনো সংবাদ প্রভাবশালী বা ক্ষমতাসীনদের কারো অপছন্দ হলেই মামলা ঠুকে দেওয়া হচ্ছে। হাজিরার জন্য দেশের  বিভিন্ন প্রান্তে থাকা আদালতে ছুটে যেতে হচ্ছে। ফলে ৫৭ ধারার অপপ্রয়োগ নিয়ে সাংবাদিকদের মধ্যে এক ধরনের ভীতি তৈরি হয়েছে। কিন্তু ৫৭ ধারা বিলুপ্ত হচ্ছে না। অন্য আকারে থাকছে। বহু বিতর্কিত তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, ২০০৬- এর ৫৭ ধারা বিলুপ্ত করে সংশ্লিষ্ট অপরাধগুলো ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের চারটি ধারায় অভিযুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী যে ধরনের ঘটনায় ৫৭ ধারার অপপ্রয়োগ চলছিল সেগুলোকে ছাড় দেওয়া হয়নি। গত সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে শাস্তির বিধান পুনর্বিন্যাস করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এর খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

এ ছাড়া নতুন আরো কয়েকটি ধারার কারণে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের খসড়াটি আরো কঠোর রূপ ধারণ করেছে। ৩২ ধারাটিতে বলা হয়েছে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্বশাসিত বা সংবিধিবদ্ধ কোনো সংস্থার গোপনীয় বা অতি গোপনীয় তথ্য-উপাত্ত ইলেকট্রনিক মাধ্যমে কেউ ধারণ করলে তা হবে ডিজিটাল গুপ্তচর বৃত্তির শামিল। আইনটির ৩২ ধারা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এ ধারায় ডিজিটাল অপরাধের বদলে গুপ্তচর বৃত্তির সাজার বিধান রাখা হয়েছে। এর জন্য ১৪ বছরের জেল এবং ২০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। আমরা আশা করি, সরকার এমন কিছু করবে না, যা গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করে। গণতন্ত্র প্রিয়, স্বাধীনতা প্রিয় প্রতিটি মানুষ এসব ধারার অপপ্রয়োগ নিয়ে শংকিত, ক্ষুব্ধ। খসড়া আইনটি সংশোধিত হোক।