৫০ বছরে একসঙ্গে এত বড় হিমশৈল সমুদ্রে পড়েনি

৫০ বছরে একসঙ্গে এত বড় হিমশৈল সমুদ্রে পড়েনি

বরফে ঢাকা মহাদেশ অ্যান্টার্কটিকার দ্য অ্যামেরি আইস শেল্ফ থেকে একসঙ্গে ৩১ হাজার ৫০০ কোটি টন ওজনের একটি বরফখন্ড সমুদ্রে পড়েছে। গত ৫০ বছরে এত বড় বরফখন্ড একসঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়নি। যে বরফখন্ডটি সমুদ্রে পড়েছে তা ১ হাজার ৬৩৬ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে ছিল।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যদি ওই বরফখন্ডটির সঙ্গে তুলনা করা হয় তাহলে তার আয়তন প্রায় স্কটল্যান্ডের সমান। বিচ্ছিন্ন হওয়া এত বড় হিমশৈলের অবস্থান ও গতিপথ যদি পর্যবেক্ষণ করা না হয় তাহলে তা জাহাজ চলাচলের জন্য বড় বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
 

দ্য অ্যামেরি আইস শেল্ফ ১৯৬০ এর দশক থেকে সবচেয়ে বড় হিমশৈলগুলোর একটি। মোট ৯ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে অবস্থিত অ্যামেরি বর্তমানে অ্যান্টার্কটিকার তৃতীয় বৃহত্তম আইস শেল্ফ। এছাড়া এটি বরফাচ্ছাদিত মহাদশটির পূর্বাঞ্চলের মূল নিষ্কাশন চ্যানেল।

তৃতীয় বৃহত্তম ওই আইস শেল্ফটির মাধ্যমে বেশ কিছু হিমবাহ সমুদ্রে প্রবাহিত হয়। তুষারস্তুপগুলো সমুদ্রে ভেঙে পড়ার কারণে কীভাবে বরফ প্রবাহের গতিপথ ভাটি এবং উজানের মধ্যে সমতা আনবে সেটি এখন বড় চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিজ্ঞানীরা জানতেন যে এমন সময় আসবে। তবে সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো প্রকৃতপক্ষে অ্যান্টার্কটিকার এই পূর্ব অংশটিতে গবেষক ও বিজ্ঞানীরা সবচেয়ে বেশি মনযোগ দিলেও এখন এটাই সবচেয়ে বেশি ভেঙে কিংবা বিচ্ছিন্ন হয়ে সমুদ্রে পড়ছে।

অ্যামেরির এই হিমশৈলটিকে আদর করে অনেকে একে দাঁতের সঙ্গে তুলনা করতো। কেননা যেসব স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশিত হয়েছে তাতে দেখা যায়, হিমশৈলটির গঠন অনেকটা ছোট বাচ্চার দাঁতের মতো। তাই অনেকে এখন এটাকে বলেছে ‘দাঁত হারানো’ বলে অভিহিত করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক সমুদ্রবিজ্ঞান বিষয়ক প্রতিষ্ঠান স্ক্রিপস ইনস্টিটিউশন অব ওশানোগ্রাফির অধ্যাপক হেলেন ফ্লিকার বিবিসিকে বলেন, ‘একটা শিশু যে দাঁত দিয়ে চিবানোর কাজ করে এটাকে তার সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে।’

২০০২ সালেই অধ্যাপক ফ্লিকার এ বিষয়ে সতর্ক করে বলেছিলেন, আগামী ২০১০ সাল থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে এটি সমুদ্রে হারিয়ে যাবে। তিনি এখন বলছেন, ‘আমি এতদিন এটা দেখার জন্য মুখিয়ে ছিলাম। আমরা জানতাম যেকোনো সময় এটা হতে পারে কিন্তু আমাদের কোনোভাবেই এটা হতে দেয়া যাবে না।’

অবশ্য স্ক্রিপস ইনস্টিটিউশন অব ওশানোগ্রাফির গবেষকরা জোর দিয়ে বলছেন, এটার সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের কোনো সম্পর্ক নেই। ১৯৯০ সাল থেকে স্যাটেলাইট তথ্যের বরাতে তারা বলছেন, যদিও গ্রীষ্মকালে এটির অনেক অংশ গলে যাচ্ছিল তথাপি অ্যমারির সঙ্গে আশপাশের ভারসাম্য কমছিল।

অধ্যাপক ফ্লিকার আরও জানালেন, ‘যদিও অ্যান্টার্কটিকার অনেক বেশি উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো ব্যাপার আছে কিন্তু বিশেষ করে এই আইস শেল্ফ নিয়ে সতর্ক কিংবা আতঙ্কিত হওয়ার মতো কোনো কারণ নেই।’

যদি অ্যামেরি কোনো ধরনের প্রতিক্রিয়া শুরু হয় তাই এই আইস শেল্ফটিকে খুব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণে রেখেছে দ্যা অস্ট্রেলিয়ান অ্যান্টার্কটিক বিভাগ। সংস্থাটির বিজ্ঞানীরা এই পর্যবেক্ষণ কাজের জন্য ওই অঞ্চলে নানা ধরনের যন্ত্রপাতি বসিয়েছে।