৪ দিনেও সন্ধান মেলেনি সাগরে ফেলে দেয়া দুই জেলের

৪ দিনেও সন্ধান মেলেনি সাগরে ফেলে দেয়া দুই জেলের

 দস্যুরা গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার সময় একটি ট্রলারের রিয়াজ ও আ. মান্নান নামে দুই জেলেকে হাত-পা বেঁধে মারধর করে সাগরে ফেলে দেওয়ার চার দিনেও তাদের কোনো সন্ধান মেলেনি। ইঞ্জিন বিকল করে দেওয়া ট্রলারটি নিয়েই ১০ জেলে চারদিন ধরে বঙ্গোপসাগরের বঙ্গবন্ধু চরে অবস্থান করছেন। সেখানে পানির গভীরতা কম থাকায় বড় জাহাজ পাঠানোও সম্ভব হচ্ছে না। 


মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) সকাল পর্যন্ত ওই দুই জেলের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। রিয়াজের বাড়ি বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলার ফুলহাতা এলাকায় ও মান্নানের বাড়ি পাথরঘাটা উপজেলার রুহিতা গ্রামে।

গত শনিবার (২৪ আগস্ট) ভোর ৩টার দিকে গভীর সমুদ্রের চালনা বয়া এলাকায় ‘এফবি খাজা আজমীর’ নামে ওই ট্রলারে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এসময় দুর্বৃত্তরা ওই ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল করে ১০ জেলেকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে ট্রলারে থাকা প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ইলিশ মাছ লুটে নিয়ে যায় এবং দুই জেলেকে মারপিট করে সাগরে ফেলে দেয়। তবে কোন বাহিনী এ দস্যুতা চালিয়েছে তা জানাতে পারেননি জেলেরা।  

বরগুনা জেলা ফিশিং ট্রলার শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক দুলাল মিয়া বলেন, বঙ্গোপসাগরের চালনা বয়া এলাকায় মাছ শিকার করছিলেন জেলেরা। হঠাৎ ১০-১৫ জন দস্যু ওই ট্রলারে উঠে প্রথমে ইঞ্জিন বিকল করে। পরে ওই ট্রলারে থাকা প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ইলিশ মাছ লুটে নেয়। এসময় ওই ট্রলারের জেলেরা বাধা দিলে তাদের পিটিয়ে গুরুতর আহত করে এবং রিয়াজ ও মান্নানকে জাল দিয়ে হাত-পা বেঁধে সাগরে ফেলে দেয়।

কোস্টগার্ড মোংলার স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট ইমতিয়াজ আহমেদ  বলেন, ডাকাতি হওয়া ট্রলারের ১০ জেলে বঙ্গোপসাগরের বঙ্গবন্ধুর চরে আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের ট্রলার বিকল করে দিয়েছে দস্যুরা। কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে আটকে থাকা জেলেদের খাবার ও পানি দেওয়া হয়েছে। উত্তাল সাগর শান্ত হলে জেলেদের সুন্দরবনের হিরণ পয়েন্টে নিয়ে আসা হবে। ঘটনাস্থল রায়মঙ্গল নদীর বাংলাদেশ জলসীমায়। কোস্টগার্ড নিখোঁজ দু’জনের খোঁজেও সন্ধান চালাচ্ছে। সেখানে পানির গভীরতা কম থাকায় বড় জাহাজ পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না।