৩.১৫ কিলোমিটার দৃশ্যমান পদ্মাসেতু

৩.১৫ কিলোমিটার দৃশ্যমান পদ্মাসেতু

পদ্মাসেতু আর স্বপ্নে আটকে নেই। এর নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলছে। সম্প্রতি পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জানা গেল, স্বপ্নের পদ্মা সেতুর ২১তম স্প্যান সেতুর ৩২ ও ৩৩ নম্বর পিলারের ওপর বসানোর মাধ্যমে দৃশ্যমান হলো ৩ হাজার ১৫০ মিটার (৩.১৫ কি. মি)। সেতুর ৪২টি পিলারের মধ্যে ৩৬ পিলারের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি ৬টি পিলারের কাজ শেষ হতে পারে জুন মাসের মধ্যে। কাজের গতিকে স্বাভাবিক রাখতে, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে কাজ সম্পন্ন করতে চেষ্টার কমতি নেই দেশি-বিদেশি প্রকৌশলীদের। পদ্মা সেতু নির্মিত হলে এটি হবে বাংলাদেশের বৃহত্তম সেতু ও দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম সেতু। দুনিয়ার দীর্ঘতম সেতুগুলোর একটি। প্রমত্ত পদ্মাকে শাসন করে সেতু নির্মাণ সত্যিকার অর্থেই একটি কঠিন কাজ। শুধু নদী প্রান্তেই পদ্মা সেতুর দৈর্ঘ্য হবে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার। দ্বিতল বিশিষ্ট এ সেতুর খুঁটির ওপর ইস্পাতের যে স্প্যান বসানো হচ্ছে তার ভেতর দিয়ে চলবে ট্রেন।

আর ওপর দিয়ে চলবে যানবাহন। ২০০১ সালে পদ্মা সেতুর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি বছরের মধ্যেই পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হবে। পদ্মা সেতু দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীসহ অন্যান্য অংশের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত করবে। এই সেতু দেশের দক্ষিণাঞ্চলের চেহারা পাল্টে দেবে। সেতু চালু হলে দেশের আর্থিক প্রবৃদ্ধি ১.২৩ শতাংশ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। আমরা বিশ্বাস করি, এই সেতু কেবল দেশের যোগাযোগ, অর্থনীতি ও উন্নয়নের পথে মাইলফলক হয়ে থাকবে না, আমাদের সামর্থ্যরে উচ্চ মাপকাঠি হিসেবেও প্রমত্ত পদ্মার বুকে সগৌরবে মাথা উচু করে থাকবে। সবচেয়ে বড় কথা, দেশের সামর্থ্য ও যোগ্যতার একটি উদাহরণ সৃষ্টি হবে পদ্মাসেতুর মধ্য দিয়ে। স্বপ্নের এ সেতুর নির্মাণ কাজ দ্রুত সম্পন্ন হবে এমনটিই আশা করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ।