৩১১ রানে থামলো ইংলিশ ঝড়

৩১১ রানে থামলো ইংলিশ ঝড়

এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে বিধ্বংসী ব্যাটিং লাইনআপ ইংল্যান্ডের। শুরুটাও সেভাবেই করেছিল। কিন্তু শেষটায় প্রোটিয়া বোলারদের ফিরে আসায় রানের চাকায় হালকা বাঁধ পড়ে যায়। স্কোরটাও তাই ঠিক মানানসই হলো না। তবু জেসন রয়, জনি বেয়ারস্টো, ইয়ন মরগ্যান ও বেন স্টোকসের দুর্দান্ত ফিফটিতে ভর করে পাওয়া ৩১১ রানের সংগ্রহও কম নয়। জিততে হলে বিশ্বকাপের ইতিহাসের চতুর্থ সর্বোচ্চ রান তাড়ার রেকর্ড গড়তে হবে দক্ষিণ আফ্রিকাকে।

এই ম্যাচ খেলতে নেমে ইতিহাসে নাম লিখিয়ে ফেলেছেন মরগ্যানও। ইংল্যান্ডের হয়ে সবচেয়ে বেশি ওয়ানডে ম্যাচ খেলার রেকর্ড এখন তার দখলে। এর আগে ১৯৭ ম্যাচ নিয়ে রেকর্ড ছিল সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক পল কলিংউডের দখলে। ইংল্যান্ডের জার্সিতে প্রথম ২০০ ম্যাচ খেলার কীর্তির মালিকও এখন মরগ্যান। বাকি ২৩ ম্যাচ তিনি আইরিশদের জার্সিতে খেলেছেন।

লন্ডনের ওভালে বৃহস্পতিবার (৩০ মে) ২০১৯ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে স্বাগতিক ইংল্যান্ড ও আফ্রিকান জায়ান্ট দক্ষিণ আফ্রিকা। টসে জিতে ফিল্ডিংয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রোটিয়া অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসিস।

ম্যাচের প্রথম ওভারেই লেগ স্পিনার ইমরান তাহিরের হাতে বল তুলে দেন প্রোটিয়া অধিনায়ক । বল হাতে নিয়েই ইতিহাসে নাম লিখিয়ে ফেলেছেন তাহির। কোনো বিশ্বকাপের প্রথম ওভারেই বল করতে আসা প্রথম স্পিনার এখন তিনি।

ম্যাচের দ্বিতীয় বলেই ইংল্যান্ড ওপেনার জনি বেয়ারস্টোকে তুলে নেন তাহির। উইকেটের উদযাপনে তাহিরের সেই চিরচেনা ‘১০০ মিটার’ দৌড়। দলীয় মাত্র ১ রান ও ব্যক্তিগত শূন্য রানেই ফেরেন বেয়ারস্টো। এবারের বিশ্বকাপে প্রথম উইকেট নিজের নামে লিখিয়ে নিলেন তাহির।

প্রথম উইকেট হারানোর পর রয় ও রুটের ব্যাটে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় ইংল্যান্ড। দুজনে মিলে গড়েন ১০৬ রানের জুটি। দুজনেই দেখা পেয়েছেন ফিফটির দেখা। কিন্তু দলীয় ১০৭ রানে প্রোটিয়া পেসার আন্দিলে ফেহলুকাইয়োর বলে ডু প্লেসিসের হাতে ক্যাচ রয়’র (৫৪) বিদায় নেন। এরপর ৪ রান যোগ হতেই কাগিসো রাবাদার বলে বিদায় নেন রুট (৫১)।

১১১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলা ইংলিশরা ফের ঘুরে দাঁড়িয়েছে মরগ্যান ও স্টোকসের জুটিতে। দুজনে ১০০ রানের বেশি রান যোগ করেন। দুজনেই তুলে নেনে ফিফটি। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৪৬তম ফিফটি তুলে নিতে ৫০ বল খেলেছেন মরগ্যান, চার ৪টি, ছক্কার মার ৩টি। স্টোকসের ফিফটি ৪৫ বলে, চার ৬টি।

এই ফিফটি করার পথে ৭০০০ ওয়ানডে রানের মাইলফলক ছুঁয়েছেন মরগ্যান। তবে এর মধ্যে ৭৪৪ রান অবশ্য তার আগের দল আয়ারল্যান্ডের হয়ে। আর ইংলিশদের হয়ে তার রান প্রায় ৬ হাজার ৩৫০।

ইমরান তাহিরের দ্বিতীয় শিকার হওয়ার আগে মরগ্যানের ব্যাট থেকে আসে ৫৭ রানের ইনিংস। তার বিদায়ের পর রান তোলার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন স্টোকস। খেলেন ৮৯ রানের ঝলমলে এক ইনিংস। ৭৯ বলের ইনিংসটি ৯টি চারে সাজানো। তবে এরপরের ৫ ব্যাটসম্যানের ব্যাটে রানের ঝলক থামিয়ে দেন রাবাদারা। ফলে রানের সংগ্রহ পাহাড়ে তুলতে পারেনি ইংল্যান্ড।

বল হাতে ১০ ওভারে ৬৬ রান খরচে ৩ উইকেট তুলে নিয়েছেন প্রোটিয়া পেসার লুঙ্গি এনগিডি। ২টি করে উইকেট ঝুলিতে পুরেছেন ইমরান তাহির ও রাবাদা। বাকি ১ উইকেট গেছে আন্দিলে ফেহলুকাইয়োর দখলে।