২০২৫-এ হোম রোবট ১৪ শতাংশ, ৫-জি গ্রাহক হবে অর্ধেকের বেশি

২০২৫-এ হোম রোবট ১৪ শতাংশ, ৫-জি গ্রাহক হবে অর্ধেকের বেশি

২০২৫ সাল নাগাদ বৈশ্বিকভাবে হোম রোবটের ব্যবহার বাড়বে ১৪ শতাংশ। একইসঙ্গে বিশ্ব জনসংখ্যার প্রায় ৫৮ শতাংশ মানুষ ব্যবহার করবে পঞ্চম প্রজন্মের মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবা ফাইভ-জি। প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে এমনই পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বের অন্যতম প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে।


‘সম্প্রতি গ্লোবাল ইন্ডাস্ট্রি ভিশন (জিআইভি)’ শীর্ষক এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে চীনা প্রযুক্তি জায়ান্টটি। সেখানে উঠে এসেছে এমনই ১০টি ভবিষ্যৎ বাণী।
 
হুয়াওয়ে বলছে, ২০২৫ সাল নাগাদ বৈশ্বিকভাবে হোম রোবটের ব্যবহার হবে ১৪ শতাংশ। এছাড়াও ইন্ডাস্ট্রিয়াল ক্ষেত্রে এখনকার তুলনায় ভবিষ্যতে রোবটের সঙ্গে কাজ করার পরিধি আরও বৃদ্ধি পাবে। প্রতি ১০ হাজার কর্মীর জন্য শিল্পক্ষেত্রে ১০৩টি করে রোবট থাকবে।

অন্যদিকে, ২০২৫ সালের মধ্যে বিশ্ব জনসংখ্যার ৫৮ শতাংশ লোক ৫-জি ব্যবহার করবে। অগমেন্টেড ক্রিয়েটিভিটির জন্য জিআইভি পূর্বাভাস দিয়েছে যে, ২০২৫ সালের মধ্যে ৯৭ শতাংশ বড় বড় সংস্থা এআই মোতায়েন করবে। এআই এবং বিগ ডেটা অ্যানালিটিকস বিভিন্ন কোম্পানি ও তাদের গ্রাহকদের মধ্যে একটি বিরামবিহীন যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি করবে। একইসঙ্গে দূর করবে ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা। ফলে নিশ্চিত হবে একটি প্রতিবন্ধকতাহীন যোগাযোগ ব্যবস্থা। এছাড়াও জিআইভি ভবিষ্যদ্বাণী করে যে, বিশ্বব্যাপী বার্ষিক তথ্য দেওয়া-নেওয়ার পরিমাণ দাঁড়াবে ১৮০ জেডবি (১ জেডবি = ১ ট্রিলিয়ন জিবি) এবং এর জন্য প্রয়োজন হবে গ্লোবাল ডিজিটাল গভর্নেন্সের।
 
প্রতিবেদনে আরও উঠে আসে লিভিং উইথ বটস, সুপার সাইট, জিরো সার্চ, টেইলার্ড স্ট্রিটস, ওয়ার্কিং উইথ বটস, অগমেন্টেড ক্রিয়েটিভিটি, ফ্রিকশনলেস কমিউনিকেশন, সিম্বায়োটিক ইকোনমি-এর মতো বিষয়গুলো। মানুষের জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন আসবে উল্লেখ করে প্রতিবেদনে জানানো হয় যে, মানুষের জন্য তৈরি হবে নতুন সুযোগ, ব্যবসা এবং সংস্কৃতি। ভবিষ্যতের অনুসন্ধানগুলো হবে বাটন-ফ্রি; ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি করা যাবে অনায়াসেই এবং এর ফলে এই শিল্পটি ‘জিরো সার্চ মেইনটেনেন্স’-এর মাধ্যমে উপকৃত হবে। এরপরে থাকছে টেইলর্ড স্ট্রিটস, যেখানে ইনটেলিজেন্ট পরিবহন ব্যবস্থা, যা যানবাহন এবং অবকাঠামোর সঙ্গে মানুষকে সংযুক্ত করবে। ফলে থাকবে না যানজট, সম্ভব হবে জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত প্রতিক্রিয়া করা এবং অন্যান্য কার্যক্রম, যা জীবনকে সহজতর করে তুলবে।

প্রতিবেদন সম্পর্কে হুয়াওয়ে আইসিটি ইনফ্রাস্ট্রাকচারের সিএমও কেভিন ঝাং বলেন, মানুষের আবিষ্কারের নেশা কখনোই থামবে না। তাই আমাদের উচিত ভবিষ্যতের দিকে তাকানো এবং উদ্ভাবন থেকে বের হয়ে এসে আবিষ্কারের দিকে বেশি জোর দেওয়া। বর্তমানে প্রতিটি শিল্পক্ষেত্র এআই, ৫-জি, ক্লাউড কম্পিউটিং এবং অন্যান্য উদীয়মান প্রযুক্তি গ্রহণ করছে। এর ফলে আমরা জীবন, কাজ এবং সমাজে দ্রুত পরিবর্তন দেখছি। হুয়াওয়ে এমন একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যা প্রতিটি ক্ষেত্রের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করবে। আমাদের লক্ষ্য প্রতিটি ব্যক্তি, বাড়ি এবং সংস্থাকে এমন একটি বুদ্ধিমান ভবিষ্যৎ দেওয়া, যেখান থেকে তারা উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন ধরনের নতুন সুযোগ-সুবিধা পাবে।

এদিকে, গত বছর প্রথমবারের মতো এমন প্রতিবেদন প্রকাশ করে হুয়াওয়ে। এটি শিল্প উন্নয়নের প্রবণতা বিশ্লেষণ করতে এবং আইসিটির প্রসারে কৌশলগত ভূমিকা রাখতে কাজ করবে বলে মনে করে প্রতিষ্ঠানটি।