২টি আসন নিয়েই মেঘালয়েও বাজিমাতের পথে বিজেপি!

২টি আসন নিয়েই মেঘালয়েও বাজিমাতের পথে বিজেপি!

করতোয়া ডেস্ক : সর্বোচ্চ সংখ্যক ২১টি আসন নিশ্চিত করলেও মেঘালয়ে কংগ্রেসের সরকার গঠনের সম্ভাবনা ফিকে হয়ে আসছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো খবর দিয়েছে, ২টি আসন নিয়েই বিজেপি সেখানে বাজিমাতের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এরইমধ্যে 'কংগ্রেস ঠেকাও সরকার' গঠনের ঘোষণা এসেছে, বিজেপিসহ চারটি দল ও এক নির্দলীয় বিধায়কের জোট গঠনের মধ্য দিয়ে। গত রবিবার (৪ মার্চ) রাজ্যপাল গঙ্গা প্রসাদের সঙ্গে দেখা করে সরকার গঠনের দাবি জানান ন্যাশনাল পিপল’স পার্টি-এনপিপি নেতা কনরাড সাংমা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, আজ মঙ্গলবার (৬ মার্চ) মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে এই কনরাড সাংমার শপথগ্রহণের কথা রয়েছে। এই ঘোষণা সত্ত্বেও সরকার গঠনে আশাবাদী কংগ্রেস। বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সরকার গঠন করতে তিনি আবারও ফিরবেন। ত্রিপুরা, নাগাল্যান্ডে বিজেপির সরকার গঠন নিশ্চিত হয়ে গেছে। মেঘালয়ের দিকে নজর ছিল সবার। ৬০ আসনের মধ্যে সেখানে নির্বাচন হয়েছে ৫৯টিতে। একটি আসন ফাঁকা থাকায় ৫৯ আসনের বিধানসভায় সরকার গঠন নিশ্চিত করতে দরকার ৩০টি আসন। সর্বোচ্চ ২১টি আসন পেয়েছে কংগ্রেস। জোট সরকার গঠনে তাদের দরকার মাত্র ৯টি আসন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৯ আসন পাওয়া এনপিপির দরকার আরও ১১টি আসন। তবে এই দলটিই রবিবার সরকার গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। সরকার গঠনের জন্য ৩৪ জন আইনপ্রণেতার সমর্থন রয়েছে তাদের সঙ্গে, যা প্রয়োজনীয় ৩১টি আসনের চেয়ে আরও ৩টি আসন বেশি।

কংগ্রেস সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখলেও একক সরকার গঠন করার মতো আসন পায়নি। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে ১০টি আসন কম রয়েছে কংগ্রেসের। তবে সমমনা দলগুলোর সমর্থন নিয়ে আবারও দলটি সরকার গঠন করতে পারে মনে করা হচ্ছিলো। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মুকুল সাংমাইকেই আবারও মুখ্যমন্ত্রী পদে বসানো হবে বলে ধারণা করা হচ্ছিলো। রবিবার এনপিপির ঘোষণায় পাল্টে যায় দৃশ্যপট। আর সেখানে বিজেপিকে দেখা যায় অন্যতম ক্রীড়নকের ভূমিকায়। মাত্র ২টি আসন নিয়েও তারাই ৪টি দল এবং একজন স্বতন্ত্র বিধায়ক সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় আসনের চেয়ে ৪টি বেশি আসন নিশ্চিত থাকার কথা জানায়। বিজেপি নেতা হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানান, ‘কনরাডই মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন। এই সরকারে উপ-মুখ্যমন্ত্রীর পদে কেউ থাকবেন না। এখন আমাদের কাছে ৩৪ জন বিধায়কের সমর্থন আছে। এনপিপি-র ১৯, বিজেপি-র ২, ইউডিপি-র ৬, এইচএসপিডিপি-র ২, পিডিএফ-এর ৪ ও একজন নির্দল বিধায়ক জোট করেছেন। এই জোটে আরও কয়েকজন বিধায়ক যোগ দিতে পারেন।’ রবিবার রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করার পর কনরাড সাংমা বলেছেন, ‘জোট সরকার চালানো সহজ নয়। তবে আমার আশা, যে বিধায়করা আমাদের সঙ্গে আছেন তারা রাজ্য ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ। আমরা সবাই মিলে রাজ্যের উন্নতির জন্য কাজ করব। বুধবার বর্তমান বিধানসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে। তার আগে ২-৩ দিন খুব গুরুত্বপূর্ণ।

বুধবারের মধ্যেই যা করার করে নিতে হবে। আগামীকালের মধ্যেই সরকার গঠনের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যাবে।’ গত রবিবার এনপিপি-র পাশাপাশি ইউডিপি, বিজেপি ও এইচএসপিডিপি বিধায়করাও রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করেন। এরপরেই অ-কংগ্রেসি সরকার গঠনের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায়। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে মন্তব্য করা হয়েছে, এনপিপি-বিজেপি জোটের ঘোষিত সরকার টিকবে না। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মুকুল সাংমাই বলেছেন, ‘এই জোটের চূড়ান্ত গন্তব্য হলো একটি অভ্যন্তরীণ কোন্দল। তিনি মনে করেন, অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জোট ভাঙলে কংগ্রেস তখন জোট সরকার গঠনের পথে এগিয়ে যাবে। এনপিপি নেতৃত্বাধীন জোটের  সম্ভাব্য সরকার বিজেপি-আরএসএস মতাদর্শ বাস্তবায়ন করতে গেলে তাদের কঠোর বাধার মুখে পড়তে বাধ্য হবে বলেও হুঁশিয়ার করেন তিনি।