১-এমডিবি তহবিলের বেশিরভাগ হারান অর্থ ফিরিয়ে আনা সম্ভব : মাহাথির

১-এমডিবি তহবিলের বেশিরভাগ হারান অর্থ ফিরিয়ে আনা সম্ভব : মাহাথির

করতোয়া ডেস্ক : মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ তহবিল কেলেঙ্কারিতে হারানো অর্থের বেশিরভাগ অংশই ফেরত আনা সম্ভব বলে মনে করেন দেশটির নতুন নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নজিব রাজাক ওয়ানমালয়েশিয়ান ডেভেলপমেন্ট বেরহাদ (১-এমডিবি) নামের রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ তহবিল নিয়ে দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছিলেন। নির্বাচনে তার পরাজয়ের পেছনেও এই দুর্নীতির ভূমিকা ছিল। মাহাথির বলেন, আমরা বিশ্বাস করি ১-এমডিবি তহবিলের বেশিরভাগ অর্থ ফেরত আনতে পারব। এ খবর দিয়েছে বিবিসি।

খবরে বলা হয়, ১৫ বছরের ব্যবধান শেষে পুনরায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতায় এসেছেন মাহাথির। তার একসময়কার সহযোগী ও শিষ্য নজিব রাজাকের বিরোধী হিসেবে নির্বাচনে লড়েন মাহাথির। দুই বছর আগে নজিবের বিরুদ্ধে ১-এমডিবি তহবিল থেকে ৭০ কোটি মার্কিন ডলার সমপরিমাণ অর্থ নিজ পকেটে ভরার অভিযোগ ওঠে। উল্লেখ্য তহবিলটি গঠন করেছিলেন তিনি নিজেই। নজিব অবশ্য তার বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ও মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষের কাছে তিনি নির্দোষও প্রমাণিত হয়েছেন। তবে এখনো বেশ কয়েকটি দেশে তহবিলটি নিয়ে তদন্ত চলছে। বিবিসির খবরে আরো বলা হয়,  ২০০৯ সালে রাজধানী ১-এমডিবি তহবিল গঠন করা হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল কুয়ালালামপুরকে একটি অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও কৌশলগত বিনিয়োগের মাধ্যমে অর্থনীতির সমৃদ্ধি ঘটানো। কিন্ত ২০১৫ সালের দিকে তহবিলটির

অপব্যবহার শুরু হয়। তহবিল থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। বিভিন্ন ব্যাংক ও অংশীদারদের পাওনা ১ হাজাড় ১০০ কোটি ডলার সমপরিমাণ অর্থ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয় ১-এমডিবি। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল পত্রিকায় তৎকালীন সময়ে এ নিয়ে একটি প্রতিবেদনও প্রকাশ পায়। প্রতিবেদন অনুসারে, হারিয়ে যাওয়া অর্থের মধ্যে ৭০ কোটি ডলার নজিবের ব্যক্তিগত ব্যাংক একাউন্টে গেছে বলে দাবি করা হয়। গত বছরের শেষের দিকে মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল জেফ সেশন এই কেলেঙ্কারিটিকে কোন সরকারি নেতা তার ক্ষমতা ব্যবহার করে নিজের ব্যক্তিগত লাভের জন্য দেশের জনগণ ও  প্রাকৃতিক সম্পদের অপব্যবহার করার নিকৃষ্টতম ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেন। তার সরকার এমন সংস্থাগুলোতে কোন পরিবর্তন আনবে কিনা যেগুলোর বিরুদ্ধে নজিবের হয়ে কাজ করার অভিযোগ রয়েছে, এমন প্রশ্নের জবাবে মাহাথির বলেন, কিছু নির্দিষ্ট মাথার পতন ঘটতেই হবে। আমাদের প্রশাসনের ওপর বিনিয়োগকারীদের ভরসা বৃদ্ধি করতে হবে।