১১ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়

১১ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়

কাজে ধীরগতিসহ নানা অনিয়মের কারণে ১১টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিট (সিপিটিইউ) থেকে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে এই তালিকা করা হয়েছে বলে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে- ইস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং, মেসার্স হাসান অ্যান্ড ব্রাদার্স, মেসার্স তাজুল ইসলাম, মেসার্স মশিউর রহমান, এস এস ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কোং, ডলি কনস্ট্রাকশন লিমিটেড, মেসার্স আমিন অ্যান্ড কোং, মেসার্স খন্দকার শাহীন, মেসার্স শামীমুর রহমান, ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স প্রাইভেট লিমিটেড এবং মেসার্স শহিদ ব্রাদার্স।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাঁধ নির্মাণ, তীর রক্ষা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সেচ ও পানি নিষ্কাশনের কাজ করে থাকে। পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় অধীন সংস্থাগুলোর বাস্তবায়নাধীন ৯৪টি প্রকল্পের অধিকাংশ প্রকল্পের অগ্রগতি সন্তোষজনক না হওয়ায় মন্ত্রণালয় কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।

পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে, ১১টি প্রতিষ্ঠানের হাতে মোট ৪১৬টি কাজ চলমান রয়েছে। এর মধ্যে ১১১টি কাজের অগগ্রতি ৩০ শতাংশেরও কম। ৩০ থেকে ৪৫ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে ৫৩টি কাজের, ৪৬ থেকে ৬৭ ভাগ হয়েছে ৪৭টি কাজ।

পানিসম্পদ সচিব কবির বিন আনোয়ার এ বিষয়ে  বলেন, ‘চলমান কাজ শেষ না করা পর্যন্ত নতুন করে কোনো কাজের জন্য টেন্ডারে অংশ নিতে পারবে না এই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো। সেভাবেই আমরা সবাইকে লিখেছি।’


তিনি আরও বলেন, ‘আগামী ১ মাসের মধ্যে যদি এই প্রতিষ্ঠানগুলো চলমান কাজের অন্তত ৩০ শতাংশ অগ্রগতি না দেখাতে পারে সেক্ষেত্রে আমরা তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত করতে বাধ্য হবো। কেননা এতে রাষ্ট্রীয় অর্থের ক্ষতি সাধিত তাদের কাজের অগ্রগতি একেবারেই সন্তোষজনক নয়। এছাড়া লাইসেন্স ভাড়া দেয়া, কাজ বিক্রয়, সাব কন্ট্রাক্টর নিয়োগ, কাজ হাতবদল, সময় মতো কাজ সমাপ্ত না করা ইত্যাদি বিষয়ে একাধিকবার সতর্ক করার পরেও এই প্রতিষ্ঠানগুলো আশাব্যঞ্জক কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি।’

পানিসম্পদ সচিব বলেন, ‘পিপিআর- ২০০৮ (সরকারি ক্রয় বিধিমালা) এ অবাধ প্রতিযোগিতা থাকলেও অভিজ্ঞতা ও বার্ষিক টার্নওভার নির্ণায়কের কারণে প্রকৃত অবাধ প্রতিযোগিতার সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। কতিপয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিন্ডিকেট করে মাত্রাতিরিক্ত কাজ নিচ্ছে। ওয়ার্ক লোড (কাজের চাপ) থাকায় সময় মতো প্রকল্প শেষ হচ্ছে না বিধায় প্রকল্পের উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘কাজের মান ও নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হলে সেটি পিপিএ-২০০৬ (সরকারি ক্রয় আইন) এবং পিপিআর-২০০৮ অনুযায়ী চুক্তির মৌলিক শর্ত লঙ্ঘন হয়। এ ধরনের ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা রয়েছে।’

কবির বিন আনেয়ার আরও বলেন, ‘যারা প্রকল্প মূল্যায়নের সঙ্গে জড়িত এবং সচেতনভাবে এ প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাপারে উদাসীনতা দেখিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধেও আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নিতে কার্পণ্য করব না। নতুন ও যোগ্য প্রতিষ্ঠান আসার সু্যোগ করে প্রকল্পগুলোকে মানসম্মত ও সঠিক সময়ে শেষ করতে আমাদের এই উদ্যোগ।’