১০২৮ ক্রসিংয়ে গেটকিপার নেই, অথচ মেয়াদ শেষ প্রকল্পের

১০২৮ ক্রসিংয়ে গেটকিপার নেই, অথচ মেয়াদ শেষ প্রকল্পের

বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলে এখনও এক হাজার ২৮টি লেভেলক্রসিংয়ে কোনো গেটকিপার নেই। এমনকি গেটকিপার নিয়োগেও কোনো বিজ্ঞপ্তি জারি করেনি সংশ্লিষ্ট বিভাগ। এতে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।


অরক্ষিত রেলক্রসিং পুনর্বাসন ও গেটকিপার নিয়োগে কাজ চার বছর আগে শুরু হলেও অগ্রগতি এখন পর্যন্ত ৭৭ শতাংশ। অথচ প্রকল্পের নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষ হয়েছে প্রায় চার মাস আগে।

রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ‘বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের লেভেলক্রসিং গেটগুলোর পুনর্বাসন ও মান উন্নয়ন’ প্রকল্পটি শুরু হয় ২০১৫ সালের জুনে। ২০১৯ সালের জুনে প্রকল্পটি সম্পন্ন হওয়ার কথা। কিন্তু মেয়াদ শেষে চার মাস পেরিয়ে গেলেও কাজের অগ্রগতি ৭৭ শতাংশ।

প্রকল্পটির মোট ব্যয় ৪৭ কোটি ৮৪ লাখ। অথচ প্রকল্পের অন্যতম কাজ গেটের পুনর্বাসন এখনও সম্পন্ন হয়নি। এমনকি গেটকিপার নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তিও জারি করেনি সংশ্লিষ্ট বিভাগ। এছাড়া বৈধ ২৭৩টি রেলক্রসিং পুনর্বাসন কাজও সম্পন্ন হয়নি।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা  বলেন, প্রকল্পের আওতায় সব গেটের বাস্তব কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া বৈধ গেটকিপার নিয়োগের জন্য দ্রুত বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে।

রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, পশ্চিমাঞ্চলে ৯৭৮টি অনুমোদিত এবং ২৭১টি অননুমোদিত লেভেলক্রসিং গেট রয়েছে। মোট লেভেলক্রসিং গেট এক হাজার ২৪৯টি। অথচ এসব গেটের মধ্যে মাত্র ২২১টিতে গেটকিপার আছে। বাকি এক হাজার ২৮টি গেট এখনও অরক্ষিত। ফলে প্রতিনিয়তই ঘটছে নানা ধরনের দুর্ঘটনা। বাড়ছে প্রাণহানি।

প্রকল্পটির পরিচালক ছিলেন বাংলাদেশ রেলওয়ের এক্সেচেইন (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বদলি হয়ে গেছেন। বর্তমানে এই পদের দায়িত্ব পালন করছেন রেলওয়ের এক্সচেইন নাজিব কাইসার। প্রকল্পের ধীর অগ্রগতি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নাজিব কাইসার  বলেন, আমি পিডি (প্রকল্প পরিচালক) না। পিডি বদলি হয়ে গেছেন। আমি এই প্রকল্পের অগ্রগতি বলতে পারব না। আর সাংবাদিকদের অগ্রগতি জেনেই লাভ কী?

রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্র আরও জানায়, রেলওয়ে অ্যাক্ট-১৮৯০ এবং রেলওয়ে ম্যানুয়াল অনুসারে গেটকিপার নিয়োগে জটিলতা দেখা দিয়েছে। সড়ক বিভাগসহ অন্য ডিপার্টমেন্টের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে গেটকিপার নিয়োগের বিধান রয়েছে। এ বিধান এখনও বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। ফলে এসব লেভেলক্রসিং যথাযথভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা যাচ্ছে না। আর প্রয়োজনীয় গেটকিপার না থাকায় প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।

বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক (পশ্চিম) মিহির কান্তি গুহ  বলেন, গেটকিপার নিয়োগের কাজ চলছে। আমরা অস্থায়ী গেটকিপার স্থায়ীকরণের জন্য কাজ করছি। তবে অবৈধ রেলক্রসিংয়ে গেটকিপার দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। অবৈধভাবে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) নিজেদের প্রয়োজনে রেলক্রসিং করেছে। এসব অবৈধ ক্রসিংয়ে গেটকিপার দেওয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব না।

রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্র এও জানায়, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ২৭৩টি বৈধ লেভেলক্রসিং দ্রুত মেরামত এবং আপগ্রেডেশন করা জরুরি। একইসঙ্গে দ্রুত সময়ে গেটকিপার নিয়োগ দেওয়া জরুরি। এছাড়া অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ৫৩টি অননুমোদিত লেভেলক্রসিং দ্রুত মেরামত এবং আপগ্রেডেশন করা জরুরি। একইসঙ্গে দ্রুত সময়ে গেটকিপার নিয়োগও জরুরি। যদিও বর্তমানে রেলপথ মন্ত্রণালয়ে প্রয়োজনীয় জনবল নেই। কাজ চার বছর আগে শুরু হলেও এখনও অধরাই রয়ে গেছে অনেককিছু।