হুন্ডিতে ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি

হুন্ডিতে ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি

হুন্ডির মাধ্যমে দেশ থেকে টাকা পাচারের বিরুদ্ধে কড়া অ্যাকশনে যাবে সরকার। ঢাকা, চট্টগ্রামসহ গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাচারের রয়েছে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দেশ থেকে প্রতি বছর টাকা পাচার হচ্ছে। গণমাধ্যমের খবরে প্রকাশ সরকারের দায়িত্বশীল অন্তত আটটি সংস্থার ব্যাপক নজরদারি, নিয়মিত অভিযান পরিচালনা, নানা প্রজ্ঞাপন জারির ব্যাংকিং লেনদেনে কড়াকড়ি আরোপ করেও নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না হুন্ডি বাণিজ্য। বরং বিদেশ গমন, চিকিৎসা ব্যয় মেটানো, ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা, বৈদেশিক কেনাকাটা থেকে শুরু করে জীবন-যাত্রার নানা ক্ষেত্র এখন হুন্ডির সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে গেছে। হুন্ডি সিন্ডিকেটকে চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পরিসংখ্যান অনুযায়ী হুন্ডির মাধ্যমে পাচারকৃত অর্থের পরিমাণ বছরে প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা। বছর দুয়েক আগে পিলে চমকানো তথ্য তুলে ধরা হয় ওয়াশিংটন ভিত্তিক সংস্থা গ্লোবাল ফাইন্যানসিয়াল ইন্টিগ্রিটির প্রতিবেদনে। এতে বলা হয় বাংলাদেশ থেকে গড়ে এক দশকে বিভিন্ন দেশে ৪ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে হুন্ডির মাধ্যমে। বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর যে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে তার একটি বড় মাধ্যম হুন্ডি। এর বাইরে বিদেশে টাকা পাচার হচ্ছে ব্যবসার নামে। আর এই টাকা যাচ্ছে বিভিন্ন দেশের ব্যাংকে। অন্য দেশের নাগরিকত্ব নিতেও বিনিয়োগ করা হচ্ছে পাচারের টাকা। অর্থ পাচারের এ ধারা দেশের অর্থনীতির জন্য সংকট ডেকে আনছে। বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থেই অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে সরকারকে কড়া হতে হবে। পাচারকারীদের বিরুদ্ধে গড়ে তুলতে হবে আইনি প্রতিরোধসহ কার্যকর ব্যবস্থা।