হালাল পণ্যের সম্ভাবনার কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী

হালাল পণ্যের সম্ভাবনার কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী
হালাল পণ্যের সম্ভাবনার কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী

বিশ্বজুড়ে হালাল পণ্য ও সেবার বাজার সম্প্রসারণের বিশাল সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে এ বিষয়ে ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) পর্যটন মন্ত্রীদের দশম সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইসলামিক সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, “ইসলামিক পণ্য ও সেবার বিশ্বব্যাপী সার্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা এবং বিশাল ভোক্তা থাকায় বিশ্বাস-ভিত্তিক পণ্য ও সেবার সম্প্রসারণের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে।” বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম মুসলিম দেশের সরকারপ্রধান হাসিনা বলেন, অনেক দেশের কাছে ইসলামী অর্থনীতির ধারণা একটি নতুন বিষয় হলেও এর বিকাশ অব্যাহত থাকবে এবং মুসলমানদের মাধ্যমেই এটি পরিচালিত হবে।

বর্তমানে অমুসলিমদের কাছেও ইসলামিক পণ্য ও সেবা জনপ্রিয় হয়ে উঠছে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। ঢাকার একটি পাঁচ তারকা হোটেলে আয়োজিত এই সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা বলেন, ইসলামিক পণ্য ও সেবার একটি বড় অংশজুড়ে রয়েছে ভ্রমণ ও পর্যটন। হালাল খাদ্য, ইসলামিক অর্থনীতি, হালাল ওষুধ ও প্রসাধনী এবং হালাল পর্যটন ইসলামিক অর্থনীতির বর্ধিষ্ণু খাতগুলোর মধ্যে অন্যতম।

এ অর্থনীতি ও হালাল পর্যটনের উন্নয়নে ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব জোরদার করার আহ্বান জানান শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে পরস্পরের কাছে আসা এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের ক্ষেত্রে এ সম্মেলন নতুন দিগন্তের উন্মোচন করবে বলে তিনি আশা করছেন।

রোহিঙ্গা সঙ্কটের সমাধানে ওআইসিসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশ দৃঢ়ভাবে সমর্থন দেওয়ায় আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন বাংলাদেশের সরকারপ্রধান। মিয়ানমারে জাতিগত নিধনের মুখে পালিয়ে আসা বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে মানবিক কারণে আশ্রয় দেওয়ার কথা তুলে শেখ হাসিনা।

এ বিষয়ে ওআইসির বহুমাত্রিক ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, “সারা বিশ্বের মুসলমানদের মিলিত কণ্ঠস্বর হিসেবে ওআইসির সকল সদস্য রাষ্ট্রের প্রতি সমর্থন ও সহযোগিতা মুসলিম বিশ্বের স্বার্থরক্ষায় সহায়ক হচ্ছে।” মুসলিম উম্মাহর কল্যাণে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে ওআইসির সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস, বোঝাপড়া ও সহযোগিতার ভিত্তিতে সম্পর্কের ওপর গুরুত্বারোপ করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

পর্যটন শিল্পের বিকাশে মুসলিম দেশগুলোর একসঙ্গে কাজ করার বড় সুযোগ রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। বাংলাদেশের পর্যটন খাত নিয়ে আলোচনায় কক্সবাজার, সুন্দরবন, কুয়াকাটা ও সিলেটের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, “আমাদের রয়েছে সুদীর্ঘ মেরিন ড্রাইভসহ বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ ও নিরবচ্ছিন্ন সমুদ্র সৈকত, কক্সবাজার। বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল এবং রয়েল বেঙ্গল টাইগারের আবাসস্থল সুন্দরবন বাংলাদেশে অবস্থিত। সাগরকন্যা কুয়াকাটা অপার সৌন্দর্যের লীলাভূমি।

“দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে শত শত সবুজ চা বাগান আপনাকে দেবে অবকাশ যাপনের চোখ জুড়ানো মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ।” তিনি বলেন, দেশজুড়ে জালের মতো ছড়িয়ে থাকা শত শত নদী বাংলাদেশকে ‘ছবির মতো সুন্দর’ করে তুলেছে।

এছাড়া হাজার বছরের ইতিহাস ও প্রত্নসমৃদ্ধ বিভিন্ন স্থান, বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি এবং প্রাকৃতিক ঐতিহ্য আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছে ‘অত্যন্ত আকর্ষণীয়’ বলে মন্তব্য করেন তিনি। বাংলাদেশের মানুষের বন্ধুভাবাপন্নতা ও আতিথেয়তার কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

স্বাধীনতাযুদ্ধে আত্মোৎসর্গের ইতিহাস পর্যটকদের জন্য স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পকে অর্থনৈতিক খাত হিসেবে উন্নত করতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা তুলে ধরে ‘জাতীয় পর্যটন নীতি ২০১০’ প্রণয়নের কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ‘আকর্ষণীয়’ প্রণোদনা ও সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার কথাও তুলে ধরেন তিনি। নির্মাণাধীন পদ্মা সেতুর কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, এটি ঢাকার সঙ্গে সুন্দরবনসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ স্থাপন করবে।

কক্সবাজারে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণ এবং এই জেলাকে রেলওয়ে নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা পর্যটকদের জন্য অবকাঠামোগত সম্প্রসারণ এবং বিনোদনের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছি। এছাড়াও বেসরকারি খাতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিশ্বমানের সুযোগ-সুবিধা নির্মাণ করা হচ্ছে।”

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পর্যটনমন্ত্রী এ কে এম শাহজাহান কামালের কাছে আগামী দুই বছরের জন্য সভাপতির দায়িত্ব হস্তান্তর করেন নাইজেরিয়ার পর্যটনমন্ত্রী বোতো আহমেত। অনুষ্ঠানে ওআইসির মহাসচিব ইউসেফ বিন আহমাদ আল-ওথাইমিন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ফারুক খান এবং জাতিসংঘের বিশ্ব পর্যটন সংস্থার (ইউএনডাব্লিওটিও) প্রতিনিধি হা গুক হাং অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

স্বাগত বক্তব্য দেন বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব এস এম গোলাম ফারুক।