হারিয়ে গেছে অনেক নদী

হারিয়ে গেছে অনেক নদী

এখন আর নদীতে পাল তোলা নৌকার বহর দেখা যায় না। কিলোমিটারের পর কিলোমিটারের পানি শূন্য নদীর কোথাও কোথাও চলে চাষাবাস। খনন না করা ও দখলদারদের থাবায় নদীর নাব্যতা যেমন কমছে, ঠিক একইভাবে কমছে নদীর সংখ্যাও। নদী গবেষকরা বলছেন, ষাটের দশকে সাড়ে সাতশ নদী ছিল বাংলাদেশে। বর্তমানে এ সংখ্যা কমে মাত্র ২৩০টিতে দাঁড়িয়েছে। ৫০ বছরে হারিয়ে গেছে, ৫২০টি নদী। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রবাহিত ২৩০ নদীর মধ্যে ৫৯টি আন্তর্জাতিক। তবে সরকারি হিসেবে দেশে নদীর সংখ্যা ৪০৫। শুকনো মৌসুমে এসব নদীতে পর্যাপ্ত পানি থাকে না। ফলে বদলে যাচ্ছে নদীগুলোর গতিপথ, শুকিয়ে মরে যেতে যেতে দেশের মানচিত্র থেকেই হারিয়ে যাচ্ছে একের পর এক নদী। বাংলাদেশের প্রধান নদ-নদীগুলোর বাইরে স্থানীয় ছোট নদীগুলোকে চিহ্নিত করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। উইকিপিডিয়ায় দেখা গেছে, প্রধান নদীগুলোর বাইরে বর্তমানে পানি উন্নয়ন বোর্ড চিহ্নিত স্থানীয় নদীর সংখ্যা ৪০৫টি। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এসব নদীর বেশির ভাগই শুস্ক মৌসুমে শুকিয়ে যায়। ফলে নাব্যতা হারাতে হারাতে এখন সরু খাল। বাংলাদেশের বিভিন্ন নদ-নদীর এই দুর্দশার জন্য একদিকে প্রতিবেশি দেশ ভারতের এক তরফা পানি প্রত্যাহারকে দায়ী করা হয়। এ ছাড়াও জবর দখল ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণও সমানভাবে দায়ী। আমাদের কূটনৈতিক চাপ বাড়াতে হবে ভারতের ওপর যেন তারা আমাদের পানির ন্যায্য হিস্যা প্রদানে গড়িমসি না করে। তাছাড়া নদী রক্ষা এবং নদী খননে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে জোর দিতে হবে। প্রয়োজন নদী দূষণ রোধ করা। সারা দেশের নদী ও খালগুলো উদ্ধার করে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা গেলে এসব উৎসের পানি সেচ কাজেও ব্যবহার করা যাবে। দখলদারদের কবল থেকে উদ্ধার করে এসব নদ-নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে হবে।