হামলা নিয়ে মিথ্যাচার করছে যুক্তরাজ্য বিএনপি: হাই কমিশন

হামলা নিয়ে মিথ্যাচার করছে যুক্তরাজ্য বিএনপি: হাই কমিশন

করতোয়া ডেস্ক : লন্ডন হাই কমিশনে হামলা-ভাংচুরের কারণ হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হাই কমিশনারের ‘অসৌজন্যমূলক আচরণের’ যে অভিযোগ যুক্তরাজ্য বিএনপি করেছে, তা সত্য নয় বলে হাই কমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে। বুধবার বিজ্ঞপ্তিতে হাই কমিশন বলেছে, ‘উক্ত ঘটনার দিন হাই কমিশনের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী বিক্ষোভকারীদের সাথে কোন ধরনের অসৌজন্যমূলক আচরণ করে নাই।

বিক্ষোভকারীরা হাই কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ্য করে আক্রমণাত্মক বক্তব্য ও হুমকি প্রদান সত্ত্বেও হাই কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ পেশাদারিত্ব এবং ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে।’ জিয়া এতিমখানা দুর্নীতি মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের আদালত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর কারাদন্ড দেয়। রায়ের আগের দিন লন্ডনে বিক্ষোভ দেখায় যুক্তরাজ্য বিএনপি। এরপর বাংলাদেশ হাই কমিশনে স্মারকলিপি দিতে গিয়ে ভাংচুর চালানো হয়। ওই হামলা-ভাংচুরের জন্য দুঃপ্রকাশ করে যুক্তরাজ্য বিএনপির এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘কর্মসূচির দিন বিএনপির নেতৃবৃন্দ হাই কমিশনে একটি স্মারকলিপি প্রদান করতে চাইলে দায়িত্বপ্রাপ্ত হাই কমিশনার চরম অসৌজন্যমূলক আচরণের মাধ্যমে তা গ্রহণ করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। অসৌজন্যমূলক আচরণের খবর বাইরে অবস্থানরত ব্রিটিশ বাংলাদেশি কমিউনিটি ও বিএনপির কর্মীরা জানতে পারলে তাদের মনে অসন্তোষ ও ক্ষোভের সঞ্চার হয়। এরই একপর্যায়ে বাংলাদেশ হাই কমিশনে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটে, যা ছিল অনাকাঙিক্ষত ও অনভিপ্রেত।’

তাদের এই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে হাই কমিশন বলেছে, ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটানোর পরও সেটাকে একটি ‘মিথ্যা’ বিবৃতি দিয়ে ঘটনার জন্য হাই কমিশনকে দায়ী করার ‘অপপ্রয়াস’ দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। ঘটনার বিবরণ দিয়ে তাদের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘হাই কমিশন কর্তৃক স্মারকলিপি গ্রহণ একটি নিয়মিত এবং নিয়মতান্ত্রিক বিষয়। উক্ত দিনেও নিয়মতান্ত্রিকভাবেই হাই কমিশনের নির্ধারিত কর্মকর্তার নিকট স্বারকলিপি হস্তান্তরের জন্য কর্তব্যরত পুলিশের মাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের অনুরোধ করা হয়। পরবর্তীতে বিক্ষোভকারী কর্তৃক ন্যক্কারজনক ও সহিংস কার্যক্রম থেকে প্রতীয়মান হয় যে স্মারকলিপি প্রদানের বিষয়টি হাই কমিশনে আক্রমণের অজুহাত ছিল মাত্র। বিক্ষোভ সমাবেশের শুরুতেই কোনো কারণ ছাড়া বিক্ষোভের শীর্ষ নেতৃত্বসহ কতিপয় বিক্ষোভকারী হাই কমিশনের এক কর্মচারীকে শারীরিকভাবে আক্রমণ করে। সুতরাং, হাই কমিশনের কোনো কর্মচারীর ‘অসৌজন্যমূলক আচরণের’ কারণে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় বলে যে দাবি করা হয়েছে তা ভিত্তিহীন।’ ‘পূর্বপরিকল্পিত’ এই হামলা এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি অবমাননার জন্য ঘটনার নির্দেশদাতা ও দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নিতে যুক্তরাজ্য সরকারের কাছে দাবি জানানো হয়েছে বলেও হাই কমিশনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।