হাতিরঝিলে চক্রাকার বাসে পানি ছুড়ে মারছে কারা?

হাতিরঝিলে চক্রাকার বাসে পানি ছুড়ে মারছে কারা?

চলন্ত ট্রেনে পাথর ছুড়ে মারার ঘটনা কিছুটা কমলেও একই কায়দায় হাতিরঝিলের চক্রাকার বাসে পানি ছুড়ে মারার অভিযোগ পাওয়া গেছে। হাতিরঝিলে রাতে বাসে চলার সময় এমন ঘটনা প্রায়ই ঘটছে বলে জানিয়েছেন নিয়মিত চলাচলকারী যাত্রীরা।

একাধিক যাত্রী বলেছেন, রাতের বেলায় বাসগুলো চলার সময় বিশেষ করে কিছুটা অন্ধকার পথে এমন ঘটনা ঘটছে। কারা এমন কাজ করছে, প্রশ্ন যাত্রীদের।


পাশপাশি নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন বাসচালক বলেছেন, এমন ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। তারা বলছেন, হয়তাবা নিছক মজার ছলে এমন কাজ করছে দুষ্টু ছেলেরা।

এতে করে বিড়ম্বনায় পড়ছেন রাতের হাতিরঝিলে নিয়মিত যাতায়াত করা যাত্রীরা।

শুক্রবার রাতের এমন এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটানার শিকার হন সংবাদকর্মী সাখাওয়াত হোসেন সুজন। সঙ্গে সঙ্গে তিনি ৯৯৯ নম্বরে কল করে বিষয়টি জানান। পরবর্তীতে স্থানীয় থানাতেও কল করে এ বিষয়ে জানান তিনি। থানায় কর্তব্যরত ডিউটি অফিসার জানান বিষয়টি তারা দেখবেন।

যাত্রীদের এমন অভিযোগের বিষয়টি জানাতে হাতিরঝিল প্রকল্প পরিচালক (রাজউক) এ এস এম রায়হানুল ফেরদৌসকে কল করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।


সংবাদকর্মী সাখাওয়াত হোসেন সুজন পরে পুরো ঘটানার বর্ণনা দিয়ে তার ফেসবুক ওয়ালে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি ‘হাতিরঝিলের বাসে দুর্বৃত্তদের পানি হামলার শিকার হলাম’ শিরোনামে লেখেন, ‘রেলে পাথর ছুড়ে মারা দুর্বৃত্তদের নির্মমতার খবর অনেক পড়েছি। আজ বাসে তেমনই হামলার শিকার হলাম। পাথর না পানি হামলার শিকার! হাতিরঝিলের চক্রকার বাস সার্ভিসে (ঢাকা মেট্রো স-১১০৪৯২) এফডিসি হয়ে রামপুরা বরাবর আসছিলাম। যাত্রা শুরুর কিছুক্ষণ পরেই হঠাৎ একটা প্রচণ্ড ঝাপটা লাগলো। এরপর দু-চার মিনিট তব্দা লেগে ছিলাম। বুঝতেই পারিনি কী হয়েছে! সম্বিৎ ফিরে পেয়ে জানলাম- জানালা দিয়ে পানি ছুড়ে মারা হয়েছে। যাত্রীদের চিৎকারেও বাস থামালো না চালক! এটা হরতাল অবরোধের সময় না...তারা বললো; এমনটা এখন নাকি প্রায়ই হয়।’

‘সবই শুনছিলাম বিধ্বস্ত আমি। পাশের একজন টিস্যু এগিয়ে দিলেন। আশপাশের লোকজনকে জিজ্ঞেস করলাম কোন জায়গায় ঘটনাটা ঘটেছে। কারণ, আমি সম্পূর্ণ একটা ঘোরের মধ্যে পড়েছিলাম। হঠাৎ দুর্ঘটনা ঘটলে যা হয়! তারা বললেন, মধুবাগ মোড়ে।’


 
‘এরপর মেরুলের কোণায় বাস থেকে নেমে যাত্রী ছাউনিতে স্থির হয়ে বসে ৯৯৯ এ ফোন দিলাম। তারা থানায় যেতে বললো। আমি বললাম, এটাতো সম্ভব না! তবে কাকে বললে এর একটা প্রতিকার পাবো? যেন অন্য মানুষ এর জন্য বড় ক্ষতির শিকার না হয়। তারা হাতিরঝিল থানায় ফোন দিতে বললো এবং ডিউটি অফিসারের ফোন নম্বর এসএমএস করলো।’

‘ফোন দিয়ে ডিউটি অফিসার আরিফকে পেলাম। উনাকে ঘটনাটা বললাম। উনি বিষয়টি দেখবেন বলে জানালেন।এরপর আমার এক সহকর্মীকে বিষয়টি জানালাম হাতিরঝিল কর্তৃপক্ষকে জানাতে।’

‘আপাত দৃষ্টিতে বিষয়টা ছোট মনে হতে পারে কিন্তু পানি ছুড়ে না মেরে যদি একটা পানির বোতল কিংবা পাথরের টুকরো ছুড়ে মারতো তাহলে আজ আমাকে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতো। পানির ঝাপটার তেজের রেশ এখনও কাটেনি অথচ ঘটনাটা এক ঘণ্টা আগের (রাত সাড়ে ৮টা)। পানিটা সরাসরি আমার মুখে লাগে ও পাশের দুয়েকজনকে ভিজিয়ে দেয়!’

‘সবাইকে সতর্ক ও সচেতন হওয়ার অনুরোধ জানাবো। সংশ্লিষ্ট এলাকার লোকদের বলবো, আশপাশে এমন পরিস্থিতি নজরে পড়লে অবশ্যই এর প্রতিকার করবেন। যারা এমন কাজ করছে তাদের বিরত রাখা জরুরি, সেটা বুঝিয়ে সুজিয়ে হোক আর আইনের মাধ্যমেই হোক...’

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর হাতিরঝিল প্রকল্প এলাকায় চক্রাকার বাস সার্ভিস চালু হয়। সেসময় যাত্রী ওঠা-নামার জন্য প্রকল্প এলাকার ১০টি জায়গা নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে রামপুরা, মধুবাগ, এফডিসি মোড়, বৌবাজার, শুটিং ক্লাব ও মেরুল বাড্ডার ছয়টি কাউন্টারে টিকিট পাওয়া যায়।