হাজারো ঘর পুড়িয়ে থামল মিরপুর বস্তির আগুন

হাজারো ঘর পুড়িয়ে থামল মিরপুর বস্তির আগুন
হাজারো ঘর পুড়িয়ে থামল মিরপুর বস্তির আগুন
হাজারো ঘর পুড়িয়ে থামল মিরপুর বস্তির আগুন
হাজারো ঘর পুড়িয়ে থামল মিরপুর বস্তির আগুন
হাজারো ঘর পুড়িয়ে থামল মিরপুর বস্তির আগুন

রাজধানীর মিরপুর ১২ নম্বর সেকশনে ইলিয়াস মোল্লা বস্তিতে ভয়াবহ আগুনে পুড়ে গেছে চার হাজারের বেশি ঘর। ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কর্মকর্তা  মাহফুজুর রহমান জানান, সোমবার ভোর ৪টার দিকে ওই বস্তিতে আগুন লাগে। তাদের ২১টি ইউনিট সাড়ে তিন ঘণ্টার চেষ্টায় সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

তবে সকাল সাড়ে ৯টার সময়ও পুরো এলাকা ছিল ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন। ডাম্পিংয়ের কাজ শেষ হতে আরও সময় লাগবে বলে অগ্নি নির্বাপক বাহিনীর কর্মীরা জানান।  

ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশনস) মেজর শাকিল নেওয়াজ ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের বলেন, তাদের কাছে যে তথ্য আছে, তাতে ওই বস্তিতে আট হাজারের মত ঘর ছিল। আগুনে তার ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশই পুড়ে গেছে।

প্রায় ৭০ বিঘা জমির ওপর ওই বস্তিতে ঢোকার রাস্তাগুলো সংকীর্ণ হওয়ায় ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পৌঁছাতে এবং কাছাকাছি পানির উৎস না থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হয় বলে জানান তিনি।

সাংবাদিকদের প্রশ্নে শাকিল নেওয়াজ বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে কারও নিহত হওয়ার খবর তারা পাননি। তবে আহত একজন নারীকে ভর্তি করা হয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

ইলিয়াস মোল্লা বস্তিতে প্রায় ২৫ হাজার মানুষের বসবাস, যাদের বেশিরভাগই নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষ। তাদের একটি বড় অংশ কাজ করেন মিরপুরের বিভিন্ন পোশাক কারখানায়।

বস্তির অনেক ঘরে ঝুট কাপড়ের মজুদ ছিল জানিয়ে স্থানীয় একজন বলেন, এ কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

এলাকাবাসী জানায়, বস্তির প্রবেশ পথে বেশ কিছু রিকশা ভ্যান দাঁড় করিয়ে রাখা ছিল। এছাড়া নির্মাণ কাজের জন্য বেশ কিছু ইট স্তুপ করে রাখা ছিল। ফলে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পরও ঢুকতে দেরি হয়।

বস্তির উত্তর অংশে আগুনের সূত্রপাত হওয়ার পর বাতাসে তা দ্রুত দক্ষিণ অংশে ছড়িয়ে পড়ে। গায়ে গায়ে লাগোয়া বস্তির ঘরগুলো থেকে আতঙ্কিত মানুষ প্রাণ নিয়ে বেরিয়ে আসতে পারলেও তাদের সর্বস্ব পুড়ে যায়।

স্থানীয় সংসদ সদস্য ইলিয়াস আলী মোল্লা ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের বলেন, যারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের সহায়তা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে।