হলি আর্টিজান মামলার রায়

হলি আর্টিজান মামলার রায়

তিন বছর আগে ঢাকার কূটনীতিক পাড়া গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে নজিরবিহীন জঙ্গি হামলায় ২০ জনকে হত্যার দায়ে নব্য জেএমবির সাত সদস্যের ফাঁসি দিয়েছে আদালত। ঢাকার সন্ত্রাস বিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমান বুধবার জনাকীর্ণ আদালতে আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন তবে অপরাধে সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত না হওয়ায় রায়ে একজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে। ২০১৬ সালের ১ জুলাইয়ের এই ঘটনার প্রভাব সমকালীন বাংলাদেশের ইতিহাসে ২০০১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর টুইন টাওয়ার হামলার যে প্রভাব পড়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে অনেকটা সে রকম। এতে যে ২০ জন মারা গেছেন তাদের মধ্যে ৭ জন জাপানি, ৯ জন ইতালীয় এবং ১ জন ভারতীয় থাকায় সরকার এবং বিশ্ববাসীর জন্য এটি ছিল এক অশনি সংকেত।  বাংলাদেশে জঙ্গিবাদী তৎপরতার ইতিহাসে হলি আর্টিজান হামলা ভিন্নমাত্রা যোগ করেছে। আদালত তার পর্যবেক্ষণে বলেছেন মধ্যপ্রাচ্য ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট গোষ্ঠীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা এবং জনমনে ভর তৈরির জন্যই হামলা চালানো হয়েছিল। এ ছাড়াও বিদেশি নাগরিকদের হত্যা করে নৃশংসতার প্রকাশ ঘটানো এবং দেশ-বিদেশের গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করা হয়। তবে আশার কথা হলো, হামলার পর সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কঠোর অবস্থান এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একের পর এক অভিযানে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় জঙ্গিদের অনেক আস্তানা গুঁড়িয়ে দেয়া সম্ভব হয়েছিল। হলি আর্টিজান মামলায় মোট অভিযুক্ত ছিল ২১ জন, যাদের মধ্যে ৫ জন ঘটনার সময় নিহত হয় এবং ৮ জন পরবর্তী সময়ে পুলিশ- র‌্যাবের অভিযানে নিহত হয়েছে। বাকি ৮ জন রায়ের সময় আদালতে উপস্থিত ছিল। একটি কথা আমাদের বিশেষভাবে মনে রাখতে হবে, জঙ্গিবাদ নির্মূল করা একা সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়। এ জন্য যে যার অবস্থান থেকে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। এ রায় প্রমাণ করে, অন্যায় করলে তার সাজা পেতেই হয়।