হজযাত্রায় অনিয়ম

হজযাত্রায় অনিয়ম

হজযাত্রা নিয়ে অনিয়ম ও হয়রানির ঘটনা প্রতি বছরই ঘটেছে। আল্লাহর মেহমানদের সঙ্গে এক শ্রেণির অসাধু হজ এজেন্টের অসঙ্গতি ভূমিকা প্রতি বছরই সংকট ডেকে আনছে। হজ ব্যবস্থাপনা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে সরকারের আন্তরিকতা ও অঙ্গীকারের অভাব না থাকলেও এজেন্সিগুলোর একাংশের দায়িত্বহীন আচরণের কারণে প্রতি বছর কিছু হজযাত্রী মারাত্মক দুর্ভোগের মুখে পড়েন। আসন্ন পবিত্র হজ পালনে গত সোমবার পর্যন্ত সৌদি আরব পৌঁছেছেন এক লাখের বেশি হজযাত্রী। চলতি বছর সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় মোট হজযাত্রীর সংখ্যা ১ লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ জন। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে এ বছর হজ অনুষ্ঠিত হতে পারে ১০ আগস্ট। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় অনুমোদিত হজ এজেন্সির সংখ্যা ৫৯৮টি।

সরকারের কড়া নজরদারি ও কঠোর নিয়ম -বিধির পরও হজযাত্রীদের সঙ্গে অসাধু হজ এজেন্ট এবং দালালদের প্রতারণা থামছে না। হজের টাকা হাতিয়ে নিয়ে ভিসা করছেনা তারা। এ ছাড়া কোনো এজেন্ট যাত্রীদের টিকিট কাটছে না। এমন কি মক্কায় ও মদিনায় বাড়ি ভাড়ার ‘মোফা’ সংগ্রহ নিয়েও প্রতারণার আশ্রয় নিচ্ছে তারা। কোনো কোনো হজযাত্রী কাফেলাকে আশকোনার হজক্যাম্পে আনার পর লাপাত্তা হয়ে যাচ্ছেন এজেন্টরা। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে তাদের। গত মঙ্গলবার ৭০ জন হজযাত্রীর টাকা মেরে পালাতে গিয়ে ধরা পড়ে এক এজেন্সির মালিক। গত সোমবার গোয়েন্দা পুলিশ তাকে আটক করে। এজেন্সিগুলো যদি বিড়ম্বনা সৃষ্টির প্রবণতা জিইয়ে রাখে, তাহলে সরকারকে ভাবতে হবে তাদের মাধ্যমে হজযাত্রী পাঠাবে কিনা। প্রয়োজনীয় সব কাজ তারা যথাযথভাবে করছে কিনা সেদিকে কড়া নজর রাখা দরকার। হজযাত্রা নির্বিঘœ করার জন্য সরকারকে আরো কঠোর হতে হবে।