হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী ক্যারি লামকে সরিয়ে দেবে চীন!

হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী ক্যারি লামকে সরিয়ে দেবে চীন!

চীনের বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী ক্যারি লামকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নিতে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। অঞ্চলটিতে টানা বিক্ষোভের জেরে এমন সিদ্ধান্তের পথে পা বাড়াচ্ছে বেইজিং। যদিও এর আগে চলতি বছরের জুলাইয়ের দিকে লাম নিজ থেকে সরে দাঁড়াতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সেসময় ‘সবুজ সংকেত’ না মেলায় তার ইচ্ছে অপূর্ণ থেকে যায়।


বুধবার (২৩ অক্টোবর) ফিনান্সিয়াল টাইমসের বরাতে এ তথ্য জানায় আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলো।

খবরে বলা হয়, ক্যারি লামকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে চীন। তার পরিবর্তে অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান নির্বাহী হিসেবে অন্য কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। হংকংয়ে টানা আন্দোলন-সহিংসতার পর তাকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনার বিষয়টি সামনে এলো। এর মাধ্যমে চীন হংকংয়ের ওপর আরও বেশি কতৃত্ব জোরদার করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

যদি চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং লামকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি জানান তবেই বিষয়টি আলোর মুখ দেখবে। সেক্ষেত্রে আগামী বছরের মার্চে ‘অন্তর্বর্তীকালীন’ প্রধান নির্বাহীকে নিয়োগ দেওয়া হবে। ওই অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান নির্বাহী ২০২২ সাল পর্যন্ত অর্থাৎ ক্যারি লামের মেয়াদ পূর্ণ করবেন।

আন্দোলনের কারণে এর আগে চলতি বছরের জুলাইয়ে ক্যারি লাম বেইজিংয়ের কাছে পদত্যাগের আবেদন করেছিলেন। সেসময় কর্তৃপক্ষ তাকে স্বপদে বহাল থাকার জন্য চাপ দেয়। ফলে পদত্যাগের পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। পরে অবশ্য চীন এবং হংকংয়ের কর্তৃপক্ষ উভয়েই লামের পদত্যাগের ইচ্ছের বিষয়টি অস্বীকার করে।

এর আগে হংকংয়ে প্রথম চীনা প্রধান নির্বাহী তং চিয়ান হুয়া ২০০৫ সালে পদত্যাগ করলে তার পরিবর্তে ডোনাল্ড সাং মেয়াদ পূর্ণ করেছিলেন। পরে ২০০৭ সালে সাং প্রধান নির্বাহী হিসেবে পুনরায় নিয়োগ পান।

এদিকে লামের পরিবর্তে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তাদের মধ্যে অন্যতম একজন হচ্ছেন নরমান চান। যিনি এর আগে হংকংয়ের আর্থিক কর্তৃপক্ষের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব সামলেছেন।

নাম শোনা যাচ্ছে হেনরি থাঙ নামের অপর একজনেরও। যিনি এর আগে অঞ্চলটির ফিন্যান্সিয়াল সেক্রেটারি এবং প্রশাসনের চিফ সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

১৯৯৭ সালে ব্রিটিশ উপনিবেশ থেকে মুক্ত হয়ে ‘এক দেশ, দুই নীতি’ শর্তের আওতায় চীনের সঙ্গে যুক্ত হয় হংকং। সম্প্রতি চীনের পক্ষ থেকে অপরাধী প্রত্যর্পণ বিল চাপিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদ জানান হংকংয়ের বাসিন্দারা। পরে তা বিক্ষোভ, বিক্ষোভ থেকে আন্দোলনে রূপ নেয়। ছড়িয়ে পড়ে সহিংসতা। যদিও তীব্র বিক্ষোভ ও প্রতিরোধের মুখে বিলটি প্রত্যাহার করে নেয় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এতে একেবারে থেমে যায়নি আন্দোলন। বিক্ষোভকারীদের মুখোশ পরায় নিষেধাজ্ঞা জারির পর আবারও আন্দোলন করতে দেখা যায় চীনের বিশেষ প্রশাসনিক এ অঞ্চলের বাসিন্দাদের।