সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে হবে

সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে হবে

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউট দুর্ঘটনার কারণ সংক্রান্ত পুলিশী প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে বলেছে, দেশে ৫৩ শতাংশ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর জন্য। আর চালকের বেপরোয়া মনোভাবের কারণে ঘটে ৩৭ শতাংশ দুর্ঘটনা। ইনস্টিটিউটের গবেষণায় বলা হয়েছে, সড়ক দুর্ঘটনার ৪৩ শতাংশই ঘটছে জাতীয় মহাসড়কগুলোয়। দেশে যানবাহন চালকদের প্রশিক্ষণের জন্য বিআরটিএ সারা দেশে ১০২টি চালক প্রশিক্ষণ স্কুলের নিবন্ধন দিলেও এগুলোর কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বস্তুত প্রায় প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু কিংবা আহত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। বিশ্বে সড়ক দুর্ঘটনার দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। আমাদের সড়ক ব্যবস্থাপনার চিত্র এক কথায় ভয়াবহ। এ থেকে মুক্তি পেতে দেশের মানুষ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা প্রত্যাশা করে। তবে শুধু কঠোর শাস্তির বিধান করে সড়ক দুর্ঘটনার হার কমিয়ে আনা সম্ভব নয়। শাস্তির পাশাপাশি আরও অনেকগুলো বিষয়ের প্রতি নজর দিতে হবে। অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন গাড়ি, রাস্তার ওপর ও ফুটপাতে দোকান পাট, খেয়ালখুশি মতো, যত্রতত্র পার্কি, রাস্তায় চাঁদাবাজি ইত্যাদি সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। পেশাদার চালকদের দক্ষতা সম্পর্কে প্রশ্ন না তুলেও বলা যায়, সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে হলে সড়ক চলাচলের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার বিষয়টিও জরুরি। এ জন্য দরকার নাগরিক সচেতনতাও। ঝুঁকিপূর্ণ সব চালক ও গাড়ি উচ্ছেদ করা গেলে, সড়কে প্রয়োজনীয় সংস্কার নিশ্চিত হলে, আইনের প্রয়োগ কঠোর হলে সড়কে নৈরাজ্য কমে আসবে।