সড়কে মৃত্যুর মিছিল থামছেই না

সড়কে মৃত্যুর মিছিল থামছেই না

সড়ক-মহাসড়কে থামছেই না বেপরোয়া মৃত্যুর মিছিল। একেকটি আলোচিত ঘটনার পর অন্য একটি বড় দুর্ঘটনা ঢেকে দেয় আগের আলোচনা। কোনো কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না দুর্ঘটনা নামের এই মৃত্যুর মিছিল। গত বৃহস্পতিবার দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় অসংখ্য প্রাণ গেছে। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসহ বিভিন্ন পেশাজীবী রাস্তায় বেরিয়ে নিরাপদে ঘরে ফিরতে পারবেন কিনা তার নিশ্চয়তা মিলছে না কোথাও। সড়কেই প্রতি বছর হাজারো স্বপ্নের অপমৃত্যু ঘটছে। বর্তমানে দেশের সড়ক-মহাসড়কে চলাচলের জন্য রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন ধরনের ৩৮ লাখ গাড়ির। কিন্তু সরকারি সংস্থা বিআরটিএ এ পর্যন্ত ড্রাইভিং লাইসেন্স দিয়েছে প্রায় ১১ লাখ চালককে। সেই হিসেবে প্রায় ১৬ লাখ চালক কোনো লাইসেন্স ছাড়াই গাড়ি চালাচ্ছেন। পাশাপাশি বৈধ রুট পারমিট নেই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক যানবাহনের। ফিটনেস তো নেই লাখ লাখ যানবাহনের। বিদ্যমান এই পরিস্থিতিতে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা দুরূহ বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহণ বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, ফিটনেসবিহীন গাড়ি এবং অবৈধ-অদক্ষ ও অপ্রশিক্ষিত চালকরাই মূলত সড়ক দুর্ঘটনার জন্য দায়ী। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির তথ্য মতে, গত বছর ৫ হাজার ৫১৪ দুর্ঘটনায় সড়কে নিহত হয়েছেন ৭ হাজার ২২১ জন। আগের বছর ৪ হাজার ৯৭৯ দুর্ঘটনায় সড়কে ঝরেছিল ৭ হাজার ৩৯৭ প্রাণ। সংখ্যাটি উদ্বেগজনক এই কারণে যে, সড়ক দুর্ঘটনায় কার কোথায় মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। আমরা মনে করি, দেশ বিস্তৃত সড়ক পথকে নিরাপদ করে মৃত্যুর মিছিল থামাতে হলে সার্বিক সতর্কতা ও নজরদারি নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ পাশাপাশি বিআরটিএসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিটি পক্ষের দায়িত্বশীলতা ও জনসচেতনতা বাড়ানোর মধ্য দিয়ে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে তৎপর হওয়া এখন সময়ের দাবি।