সড়কে ফিটনেসবিহীন গাড়ি

সড়কে ফিটনেসবিহীন গাড়ি

সড়কে মৃত্যুর মিছিল থামছে না, বরং পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। একটি পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশে প্রতি বছর সড়ক দুর্ঘটনায় ১২ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে অনেক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথা নিয়মিতই উচ্চারিত হয়। বড় দুর্ঘটনায় অনেক বেশি প্রাণহানি এক সঙ্গে ঘটলে তখন হৈ চৈ পড়ে যায়, কর্তৃপক্ষ তখন নড়ে চড়ে বসে। তারপর আবার সড়ক-মহাসড়কগুলোতে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি আসে। সারা দেশে ফিটনেস সার্টিফিকেট ছাড়াই ৪ লাখ ৭৯ হাজার ৩২০টি যানবাহন চলাচল করছে উল্লেখ করে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কাছে। এই যানবাহনগুলির নিবন্ধন থাকলেও সেগুলোর মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। হাইকোর্টের দেওয়া আদেশের প্রেক্ষিতে বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ গত ২৩ জুলাই এ প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। বিআরটিএ’র প্রতিবেদন অনুসারে, এই যানবাহন গুলির মধ্যে রয়েছে ঢাকা বিভাগে ২ লাখ ৬১ হাজার ১১৩টি, চট্টগ্রাম বিভাগে ১ লাখ ১৯ হাজার ৫৮৮টি। রাজশাহী বিভাগে ২৬ হাজার ২৪০টি, রংপুর বিভাগে ৬ হাজার ৫৮৮টি।

খুলনা বিভাগে ১৫ হাজার ৬৬৮টি, সিলেট বিভাগে ৪৪ হাজার ৮০৫টি এবং বরিশাল বিভাগে ৫ হাজার ৩৩৮টি। আমরা বলতে চাই, পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে প্রতিনিয়তই সড়ক দুর্ঘটনার যে চিত্র পরিলক্ষিত হয়, তাতে এটা স্পষ্ট যে দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। এ ধরনের ঘটনা বারবার, কেন ঘটছে সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। হাইকোর্টে এই উদ্দেশ্যেই কেউ রিট করেছে যাতে আদালতের নির্দেশে সড়ক নিরাপদ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা নেয়। আমরা বলতে চাই দক্ষ চালক নিশ্চিত করার পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনা যে সব কারণে ঘটছে সেগুলোকে সামনে রেখে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি। গাড়ির ফিটনেস, সড়ক-মহাসড়কের পরিস্থিতি, যত্রতত্র ওভারটেকিংসহ সামগ্রিক বিষয়গুলোকে আমলে নিয়েই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ সব চালক ও গাড়ি উচ্ছেদ করা গেলে, সড়কে প্রয়োজনীয় সংস্কার নিশ্চিত হলে, আইনের প্রয়োগ কঠোর হলে সড়কে নৈরাজ্য কমে আসবে।