সড়ক নিরাপদ হতেই হবে

সড়ক নিরাপদ হতেই হবে

গত বছর রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী বাস চাপায় নিহত হওয়ার পর নিরাপদ সড়কের দাবিতে যে আন্দোলন গড়ে উঠেছিল, সে আন্দোলনে সোচ্চার ছিলেন আবরার। চেয়েছিলেন দেশের সব সড়ক হোক নিরাপদ। কিন্তু প্রায় এক বছরের ব্যবধানে নিজের প্রাণ দিয়ে তিনি জানিয়ে গেলেন বৃথা ছিল সেই আন্দোলন, সড়কগুলো মোটেও নিরাপদ হয়নি। রাজধানীর রাজপথে গত মঙ্গলবার সকালে বেপরোয়া গতির বাস কেড়ে নিয়েছে মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার আহমেদ চৌধুরীর প্রাণ। ২০ বছর বয়সী এ তরুণ বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালের (বিইউপি) ছাত্র ছিলেন। আবরারের মৃত্যু দুর্ঘটনায় নয়, তাকে খুন করা হয়েছে দাবি করে এরপর তার সহপাঠিরা রাস্তায় নেমে আসে। ‘আবরার তোর স্মরণে ভয় পাই না মরণে’ ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ -শিক্ষার্থীদের এমন শ্লোগানে এখন উত্তাল ঢাকার রাজপথ।

রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) চলা ট্রাফিক সপ্তাহের তৃতীয় দিনে এ ঘটনা ঘটলো। গত মঙ্গলবার দেশের ১০ জেলার সড়ক দুর্ঘটনায় ১৩ জনের প্রাণহানি ঘটে। এর মধ্যে সিলেটে ট্রাকের ধাক্কায় মা-ছেলের মৃত্যুর ঘটনাও রয়েছে। রাজধানীতে ছাত্র বিক্ষোভের কারণে ব্যস্ততম সড়কগুলো কার্যত অচল ছিল। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন পথ চলতি মানুষ ও যাত্রীরা। সাধারণ শিক্ষার্থীরা নিরাপদ সড়কের ৮ দফা এখন রাজপথে অবস্থান করছে। সড়ক দুর্ঘটনা এক জাতীয় দুর্বিপাকের নাম। বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতি বছর কয়েক হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। যথাযথ প্রশিক্ষণ ছাড়া এমনকি লাইসেন্স ছাড়াই গাড়ি চালানো, ফিটনেসহীন গাড়ি, গাড়ি চালকদের পাল্লাপাল্লি সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে দরকার সমন্বিত প্রয়াস। প্রয়োজন চালক, যাত্রী, পথচারী, সবার সচেতনতা। আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল মনোভাবও প্রাসঙ্গিকতার দাবিদার। সড়ক শৃঙ্খলা ফেরাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আন্তরিকতার কোনো বিকল্প নেই। নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠায় জাতির জাগ্রত বিবেক অবদান রাখবে।