সড়ক নিরাপদ হতেই হবে

সড়ক নিরাপদ হতেই হবে

সড়ক দুর্ঘটনা আমাদের দেশে প্রতিদিনই ঘটছে এবং বছরে এতে হতাহত হচ্ছে ২০ সহস্রাধিক মানুষ। গত সোমবার দেশের ছয় জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৫ জন। গাজীপুরে বাস-লেগুনা সংঘর্ষে পাঁচ যাত্রী নিহত হয়েছে। ফেনীতে বাস-অটোরিক্সা সংঘর্ষে নিহত হয়েছে চারজন। এ ছাড়া নোয়াখালীর সেনা বাগ, পটুয়াখালীর গলাচিপা, কুড়িগ্রামের রৌমারী ও ফরিদপুরে আলাদা সড়ক দুর্ঘটনায় আরো ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া রাজধানীর বিজয় সরণি মোড়ে পথ দুর্ঘটনায় এক নারী ডাক্তার নিহত হয়েছেন, তার নাম আক্তার জাহান রুম্পা। গতকাল ভোরে তাকে বহনকারী সিএনজি অটোরিক্সাকে একটি বাস মুখোমুখি ধাক্কা দিলে হাসপাতালে নেওয়ার পর তিনি প্রাণ হারান। রুম্পার আকদ হয়েছিল। এই শীতেই তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল।

সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের তথ্য-উপাত্তের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সংস্থার হিসাবে পার্থক্য থাকলেও বাংলাদেশ যে বিশ্বের অন্যতম সড়ক দুর্ঘটনার দেশ এ সম্পর্কে কোনো দ্বিমত নেই। আমরা জানি, গত কয়েক দশকে সড়ক নেটওয়ার্ক দেশের আনাচে কানাচে বিস্তৃত হয়েছে। দিনের পর দিন বাড়ছে যানবাহনের সংখ্যা এবং নাগরিকদের চলাচল, কিন্তু সেই অনুপাতে সড়ক পথের নিরাপত্তা যে বাড়ানো সম্ভব হয়নি, তার প্রমাণ প্রায় প্রতিদিনই পেতে হচ্ছে মূল্যবান জানমালের বিনিময়ে। সড়ক নিরাপত্তাহীনতার এই সার্বিক চিত্রের কারণ সাধারণভাবে যানবাহনের বেপরোয়া গতি, লেন না মানা, বিপজ্জনক ওভারটেকিং ত্রুটিযুক্ত যানবাহন এবং কোন কোন ক্ষেত্রে সড়কের বিপজ্জনক বাঁক বা খানাখন্দ দায়ী থাকে। সড়ক দুর্ঘটনার সিংহভাগই ঘটছে চালক এবং পথচারীদের বেপরোয়া মনোভাবের কারণে। ট্রাফিক আইন না মানা যেন জাতীয় ঐতিহ্যের অংশে পরিণত হয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে হলে এসব অব্যবস্থার রশি টেনে ধরার পাশাপাশি পথচারী ও যাত্রীদের সচেতনতাও বাড়াতে হবে।