সড়ক দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু

সড়ক দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু

সড়ক দুর্ঘটনায় গড়ে এদেশে প্রতিদিন শতাধিক মানুষ হতাহত হচ্ছে। দুনিয়ার যে সব দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনা বেশি বাংলাদেশ তার মধ্যে অন্যতম। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউট দুর্ঘটনার কারণ সংক্রান্ত পুলিশি প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে বলেছে দেশে ৫৩ শতাংশ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর জন্য। আর চালকদের বেপরোয়া মনোভাবের কারণে ঘটে ৩৭ শতাংশ দুর্ঘটনা। যাত্রী কল্যাণ সমিতির হিসাবে সড়ক দুর্ঘটনায় বছরে প্রায় ৮ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে প্রাণহানির সংখ্যা ২১ হাজার। সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের চেয়ে আহতদের সংখ্যা কয়েকগুণ বেশি হওয়ারই কথা। যাদের একাংশকে সারাজীবন পঙ্গুত্বের অভিশাপে ভুগতে হয়। এ জন্য প্রতি বছর গড়ে যে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয় তার পরিমাণ ৩৪ হাজার কোটি টাকা।

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ২০১৫ সালের অক্টোবরে জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের বৈঠকে বাসের সর্বোচ্চ গতি ঘন্টায় ৮০ কিলোমিটার নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোনো অগ্রগতি নেই বললেই চলে। অদক্ষ চালকদের দ্বারা যানবাহন চালানো হয়। একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটছে। দেশে যানবাহনের সংখ্যা যে ক্ষেত্রে ২৭ লাখের বেশি সে ক্ষেত্রে লাইসেন্সধারী চালকের সংখ্যা ১৭ হাজার। বেসরকারি সংগঠন নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির নিয়মিত মাসিক জরিপ ও পর্যবেক্ষণে দুর্ঘটনারোধে কিছু সুপারিশ করা হয় টার্মিনাল সহ সড়ক-মহাসড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ, সম্ভাব্য স্বল্প সময়ের মধ্যে সব সড়ক সংস্কার, জাতীয় মহাসড়ক ও আন্তঃজেলা সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক চিহ্নিতকরণ, ত্রুটিপূর্ণ গাড়ি চলাচল বন্ধ ও জাল লাইসেন্সধারী চালকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, শ্রমিক-কর্মচারিদের নিয়োগ পত্র ও সাপ্তাহিক ছুটি প্রদান, বেতন-ভাতা বৃদ্ধি ও দৈনিক কর্মঘন্টা নির্ধারণ, চালক ও সহকারীদের সচেতনতা মূলক প্রশিক্ষণ প্রদান এবং বিদ্যমান মোটর যান চলাচল আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ।