‘স্যার একটা অটোগ্রাফ দেন’

‘স্যার একটা অটোগ্রাফ দেন’

 গুরুদাসপুর(নাটোর)প্রতিনিধি:সিনেমার কোন বড় নায়ক নন, নন বড় কোন সেলেব্রেটি। বলছি নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো: তমাল হোসেনের কথা। তাকে হাতের কাছে পেয়ে যেন আনন্দের বন্যা বইছে শিক্ষার্থীদের মনে। কেউ তার নিজের হাত এগিয়ে দিয়ে অটোগ্রাফ চাইছে, কেউ বই হাতে অটোগ্রাফ চাইছে, কেউ বা আবার চাইছে মুঠোফোনে সেলফি তুলতে, আবার কেউবা চাইছে একবার হ্যান্ডশেক করতে। গত মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার পৌর সদরের বেগম রোকেয়া গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে বাল্যবিয়ে ও ইভটিজিং প্রতিরোধ করণীয় সভা ও পিঠা উৎসবে আসেন ইউএনও তমাল হোসেন। সভা শেষ হওয়ার সাথে সাথেই তাকে ঘিরে ধরেন শিক্ষার্থীরা।

হঠাৎ করেই অস্টম শ্রেণীতে পড়–য়া এক শিক্ষার্থী এসে ইউএনও তমাল হোসেনকে বললো, ‘স্যার একটা অটোগ্রাফ দেবেন প্লিজ’। কোমলমতি শিক্ষার্থীর আবদার রেখে তার হাতে অটোগ্রাফ দেন ইউএনও। এক শিক্ষার্থীকে দিতেই উপস্থিত সকল শিক্ষার্থী তাকে ঘিরে অটোগ্রাফ চায় এবং কেউ বা আবার হ্যান্ডশেক। ক্ষণিকের মধ্যেই শিক্ষার্থীরা আনন্দে মেথে উঠলো।প্রথম অটোগ্রাফ চাওয়া অস্টম শ্রেণীতে পড়–য়া শিক্ষার্থী মেহজাবীন তার অনুভুতি ব্যক্ত করে জানায়, অনেক দিনের ইচ্ছো ছিল স্যারের একটা অটোগ্রাফ নেব এবং স্যারের সাথে হ্যান্ডশেক করবো। আজ আমার সেই আশা পুরণ হয়েছে। বাল্যবিয়ে ও ইভটিজিং প্রতিরোধ করতে স্যারের বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ব্যতিক্রমী উদ্যোগের কারণে আজ আমরা নিরাপদে স্কুলে আসতে পারি। আগে অনেক বখাটে ছেলে বিরক্ত করতো এবং আমাদের অনেক বান্ধবীর বাল্যবিয়ে হয়ে যেতো। এখন আর সেই ভয় আমাদের নেই। কারণ বাল্যবিয়ে ও ইভটিজিংয়ের মত কোন ঘটনা ঘটার সাথে সাথেই আমরা স্যারকে সরাসরি ফোন করতে পারি এবং তা প্রতিরোধ করতে পারি।

ইউএনও তমাল হোসেন বলেন, বাল্যবিয়ে ও ইভটিজিং প্রতিরোধ করতে সবচেয়ে আগে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসতে হবে। এ জন্য আমি সব সময় ব্যতিক্রমী আয়োজন করে বাল্যবিয়ে ও ইভটিজিং প্রতিরোধে করণীয় সভা করছি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। এছাড়া নারীদের নিয়ে উঠান বৈঠক করা হচ্ছে। দেওয়া হয়েছে উপজেলার জনগুরুত্বপুর্ণ স্থানে বিলবোর্ড, লিফলেট, মাইকে প্রচার, করা হয়েছে শিক্ষার্থীদের নিয়ে নাটিকা। তারপরও শিক্ষার্থীদের নিয়ে বাল্যবিয়ে ও ইভটিজিং বিরোধী সভা চলাকালীন তাদের হাতে দেওয়া হচ্ছে হরেক রকম পিঠা। শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দিতেই আমার এই আয়োজন।