স্বাস্থ্য সেবা আরো উন্নত হোক

স্বাস্থ্য সেবা আরো উন্নত হোক

স্বাস্থ্য সেবা একটি জনগুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর ইস্যু হওয়া সত্বেও এ নিয়ে নৈরাজ্য হয়রানি, দুর্যোগ আর জটিলতার যেন শেষ নেই। যে দেশের সিংহ ভাগ মানুষ দারিদ্রপীড়িত। সে দেশের মানুষের মৌলিক অধিকারের বিষয়টি আরো বেশি গুরুত্বের সঙ্গেই সামনে আসে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে এ দেশের স্বাস্থ্যসেবার চিত্র বড় বেশি বিবর্ণ এবং দেশের সাধারণ মানুষের কাছে এক ভয়াবহ পীড়াদায়ক বিড়ম্বনার ক্ষেত্র। অতীত বা বর্তমান, সব আমলেই সরকারি হাসপাতালগুলোর সামগ্রিক প্রেক্ষাপট বড় বেশি ক্রমবিবর্ণ হচ্ছে। আর এর মাসুল গুণতে হয় সাধারণ দারিদ্রপীড়িত মানুষকে। বেসরকারি চিকিৎসাগুলোর চিত্র আরো হতাশাজনক। তথ্যানুযায়ী, দেশজুড়ে প্রায় চার হাজার সরকারিভাবে অনুমোদিত বেসরকারি হাসপাতাল ও ৮ হাজার প্যাথলজিক্যাল সেন্টার আছে। অবাক ব্যাপার, দেশজুড়ে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ক্লিনিক ও রোগ নির্ণয় কেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে কোন ধরনের লাইসেন্স ছাড়াই। এ ছাড়াও অবৈধ ব্লাডব্যাংক ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টার তো আছেই। রয়েছে নাম সর্বস্ব হাসপাতালও। কেবল তাই নয়, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে ভুয়া ডাক্তার গ্রেফতার করা হয়েছে। এবং বিভিন্ন রকম অনিয়মের জেরে অন্য বেশ কিছু স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানকে শোকজ নোটিশও পাঠানো হয়েছে। আমরা মনে করি এখানেই সরকার বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্তব্য শেষ নয়। স্বাস্থ্যখাতে যেসব জায়গায় অনিয়ম, দুর্নীতি, বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্য হচ্ছে সেসব জায়গায় সরকারকে আরো কঠোর হতে হবে। কারণ স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া নাগরিক অধিকার। নাগিরকের মৌলিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করার দায় রাষ্ট্রের। সরকার মানুষের কাছে এসব ব্যাপারে সাংবিধানিকভাবেই বাধ্য।